Same-Sex
Where same‑sex love is made killable

Where same‑sex love is made killable

বাংলাদেশের ইসলামী সমাজঃ যেখানে সমপ্রেমীদের হত্যার বৈধতা উৎপাদন করা হয়!

মাঝে মাঝে এমন অনেক সংবাদ চোখের সামনে ভেসে আসে যা খুবই হৃদয় বিদারক। বাংলাদেশে এই মেয়েগুলো খুবই অসহায়, তাদের নানাভেব নাজেহাল করে হত্যাযোগ্য করে তোলা হয় বা সমাজই তাদের আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এই কিশোরী মেয়ে দুইটির অসহায় মুখগুলো দেখেন! ক্যামেরাগুলো তাদের ফেস দেখানোর জন্য হন্নে হয়ে উঠে – এতে তাদের ভিউ বাড়ে। আমিও দুঃখিত, এই ভিডিও দিতে হচ্ছে আমাকে, অলরেডি যেহেতু ভাইরাল, নতুন করে আর ঢেকে রেখে কী হবে? পুরুষেরা একসঙ্গে থাকলে কেউ তেমন সন্দেহ করে না, কিন্তু নারীদের এই প্রেম খুবই রিস্কি, জীবন হারানোর ভয়ের সঙ্গে যুক্ত।

সমপ্রেমকে বাংলাদেশে কঠোর অপরাধ হিসাবে ধরা হয়। রাষ্ট্রীয় কঠোর আইন ও ইসলামের নির্মম হত্যার শাস্তি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের এই মানুষগুলোর ব্যক্তি জীবনকে নরকে পরিনত করা হয়। ইসলামী বক্তারা তো বটেই, সার্জিস আলমের মতো প্রভাবশালী ধুরন্ধর রাজনীতিবিদেরাও মনে করে সমপ্রেম কোন বায়োলজিক্যাল বিষয় নয়, এটা মানুষের কুরুচির ব্যাপার। এই সার্জিস আলম নামের তথাকথিত ঢাবি শিক্ষিত প্রতারকের একটি ফটোকার্ড দেখলাম সংবাদে। . আচ্ছা বলেন তো আমরা যারা হেটারোসেক্সুয়াল, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হই বা যারা সেপিওসেক্সুয়াল বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতার প্রতি আকৃষ্ট হই তাদের কোটি টাকা দিলেও সমলিঙ্গের কারো সঙ্গে সেক্সে রাজি হবো? সেটা সম্ভব? চিন্তা করলেও তো গা গুলায়। সমপ্রেমীদের কাছেও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ধারনাটা ঠিক তেমনই! এটা প্রকৃতির অন্য দশটা ব্যতিক্রম খেয়লের মতোই একটি। মায়ের পেটে জন্ম শুরু হওয়ার পর্যায়ে মিউটেশন ও জেনেটিক পরিবর্তনের ফলে এই মানুষগুলো এভাবেই পৃথিবীতে আসে। এতে তাদের কোন হাত নেই, শিশু বয়স থেকেই তাদের মাঝে এই বৈশিষ্ট্যগুলো দৃশ্যমান থাকে, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারনে সেগুলো ধরা পড়ে না।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে সমপ্রেমী হওয়া কোনো পছন্দের বিষয় নয়; বরং এটি একটি জটিল, স্বাভাবিক ও স্থায়ী বৈশিষ্ট্য, যা কোনো একক “গে জিন”-এর কারণে নয়, বরং জেনেটিক, হরমোনজনিত ও পরিবেশগত উপাদানের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়। এটি মানব যৌনতার একটি জন্মগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাপকভাবে বোঝা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে কিছুটা পরিবর্তনশীলও হতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞানে উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশ আরো প্রায় এক শতাব্দী আগে থেকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে শুরু করেছে।

১৯৯১ – মস্তিষ্কের গঠন (সাইমন লেভে): স্নায়ুবিজ্ঞানী সাইমন লেভে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দেখান যে হাইপোথ্যালামাসের একটি নির্দিষ্ট অংশ (INAH3 অঞ্চল) সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌন (হেটেরোসেক্সুয়াল) পুরুষদের তুলনায় ছোট ছিল। এটি ছিল যৌন অভিমুখিতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কে জৈবিক পার্থক্যের প্রথম বড় প্রমাণগুলোর একটি।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনসহ প্রধান স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় যে যৌন অভিমুখিতা কোনো পছন্দের বিষয় নয়, এবং এটিকে পরিবর্তন করতে পারে—এমন কোনো থেরাপির কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনো প্রমাণ নেই।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতের সুপ্রিম কোর্টও ২০১৮ সালে ৩৭৭ ধারা বাতিল করে সমপ্রেমকে বৈধতা দেয়। নেপাল, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কাও LGBTQ+ অধিকার নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই পথে হাঁটেনি। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে LGBTQ+ ব্যক্তিরা আইনি সুরক্ষা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন, যেখানে বাংলাদেশে তারা এখনো “অদৃশ্য” নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কারো পরিচয় প্রকাশ পেলে তাকে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেয়া হয়, তার জীবনও হুমকির মুখে পড়ে যায়।

সমকামিতা শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির নানা প্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান। এটি কোনো অস্বাভাবিকতা নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। মানুষ যেহেতু বুদ্ধিমান প্রাণী, তাই তার উচিত এই বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা। সমকামীদের অপমান, অত্যাচার বা বৈষম্য করা মানবিকতার পরিপন্থী। সভ্য সমাজে সমকামিতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, কারণ তারা জানে এটি প্রকৃতির অংশ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো পশ্চাৎপদ ইসলামী ধর্মান্ধ সমাজে এখনো সমকামীদের নিয়ে রসালো সমালোচনা হয়। কে কার সঙ্গে প্রেম করে, শুয়ে খুশি হবে সেগুলো যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, এখানে অন্যরা হস্তক্ষেপ করতে পারে না – সভ্যতার এই নূন্যতম কমন সেন্সগুলোই তাদের নেই। . যেহেতু বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পিছনে হাঁটলে সব প্রাণীর উৎপত্তি এক সোর্স থেকে সেহেতু এই সমপ্রেম অন্য অনেক প্রানী প্রজাতিতেও দেখা যায়। যেমন – (এই তালিকার বাইরেও আছে অনেক)

সমকামী প্রাণীদের তালিকা

স্তন্যপায়ী প্রাণী

🐬 ডলফিন – ৩–৫টি ভিন্ন লিঙ্গের ডলফিন একসাথে যৌনতা করে, উভকামী আচরণ
🦬 বাইসন – পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের মধ্যে সমকামিতা
🦇 বাদুড় – অন্তত ২০টি প্রজাতিতে পুরুষ সমকামিতা
🐘 হাতি – এশিয়া ও আফ্রিকার হাতি উভয়ের মধ্যেই পুরুষ সমকামিতা
🦒 জিরাফ – পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে সমকামিতা, প্রায় ৩০% জিরাফ সমকামী
🐿️ মারমোট – নারী সমকামিতা
🦁 সিংহ – পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে সমকামিতা, প্রায় ৮%
🦡 পোল্কাট – ইউরোপের ক্ষুদ্র কুকুরজাতীয় প্রাণী, পুরুষ সমকামিতা
🐑 ভেড়া – প্রায় ১৮–২২% ভেড়া উভকামী
🐆 হায়েনা – নারী সমকামিতা

পাখি

🦢 কালো রাজহাঁস – প্রায় ২৫% পুরুষ সমকামী
🐦 আলবাট্রস – প্রায় ৩১% নারী সমকামী
🪶 ইবিস – পুরুষ সমকামিতা
🦆 মালার্ড হাঁস – প্রায় ১৯% পুরুষ সমকামী
🐧 পেঙ্গুইন – সমকামী জুটি অন্য পেঙ্গুইনের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা লালন-পালন করেছে
🦅 শকুন – সমকামিতা ও উভকামিতা
🕊️ পায়রা – নারী সমকামিতা, ডিম দেয় কিন্তু তা থেকে বাচ্চা হয় না

বানর প্রজাতি

🐒 বনোবো – নারীতান্ত্রিক সমাজ, প্রায় ৬০% নারী সমকামী
🐵 ম্যাকাউ – প্রায় ২৫% নারী সমকামী, পুরুষ সমকামিতাও দেখা যায়
🦧 ওরাংওটাং – পুরুষ সমকামিতা

সরীসৃপ

🦎 টিকটিকি – নারী সমকামিতা
🐢 কচ্ছপ – পুরুষ সমকামিতা

পোকামাকড়

🦗 ঘাসফড়িং – প্রায় ২০% পুরুষ সমকামী
🪰 ফ্রুটফ্লাই – সমকামী আচরণ
🪳 ছারপোকা – পুরুষ সমকামিতা

সমপ্রেমকে অস্বীকার করা মানে প্রকৃতিকে অস্বীকার করা। দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারতের সুপ্রীম কোর্ট যে সমপ্রেমকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তা আসলে মানবিকতা, বিজ্ঞান এবং বাস্তবতার স্বীকৃতি। সভ্য সমাজে সমকামীদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়, আর অসভ্য সমাজে তাদের নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়। আমাদের উচিত বিজ্ঞানের আলোকে সত্যকে গ্রহণ করা এবং সমকামীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। কারণ তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, এবং তাদেরও সমান অধিকার আছে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার।

যারা যুক্তি দেখাবেন সমপ্রেম মানুষের বংশবৃদ্ধি রোধ করবে তাদের বলে রাখি, সমপ্রেমী মানুষদের চেয়ে নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা আরো বেশি। পৃথিবীতে কোটি কোটি অসহায় মানব শিশু আছে যারা তাদের বড় হওয়ার জন্য অন্যদের সুদৃষ্টি, আদর, স্নেহ, ভালবাসার দিকে তাকিয়ে আছে।

Related Posts

Are All Social Customs Beneficial?

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you

I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

Are All Social Customs Beneficial?

‘হেফাজতে সমাজ’ – গ্রুপ সমাচার! আপনার চারিদিকে আপনি এদের দেখা পাবেন

আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। সেদিন স্কুল ছিল না, সম্ভবত বাড়ির জন্য বাজার করে সাইকেলেRead More

Morality without Religion

The Birth of Conscience: How Humans Became Moral Without Allah or Religion

It was almost seventy-five thousand years ago. A group of Neanderthals lived in the ShanidarRead More

Comments are Closed