
Free Sex Nation
তথাকথিত ফ্রি সেক্সের দেশের চেয়ে ৯০% মুসলমানের বাংলাদেশ কি ভাল?
বাঙ্গু পুরুষ মুমিনদের ধারনা, এমনকি কিছু নারীরও যে – পশ্চিমা দুনিয়া মানে ফ্রি সেক্স, সেখানে সবাই শুধু লাগালাগি করে জান্নাতের মতো, তারা মরার পর জাহান্নামের আগুনে পুড়বে অনন্তকাল, সেজন্য জান্নাতের লাগালাগি তারা দুনিয়ায় করে নেয়।
মুমিন ভাইদের ধারণা পশ্চিমা দুনিয়ার নারীরা শুধু সেক্স আর সেক্স করার জন্য ঘুরে বেড়ায়, তাদের আর কোন কাজ নেই। কোন বাঙ্গু মুমিন প্লেন থেকে নেমে রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করলে দু চারজন নারী তাকে খপ করে ধরে সোজা বেডে নিয়ে যাবে। কিন্তু ফ্যাক্ট হলো, পশ্চিমা নারীরা বাঙ্গু মুমিনদের বেড তো দূরের কথা তাদের ত্রি-সীমানায় চাইবে না। এতো খারাপ রুচি তাদের নেই, এতো সময় কই তাদের? বাঙ্গু মুমিনদের যদি পশ্চিমাদের মতো পরিশ্রম করে খাওয়া লাগতো তাহলে এই সমস্ত ইসলামিক চিন্তার ভূত তাদের হোগায় গিয়ে ঢুকতো। পশ্চিমা নারীদের সান্নিধ্য পাওয়া এতো সোজা না মুমিন ভাই! বাঙ্গুরা বিয়ের সময় হলে ঠিকই বাঙ্গুল্যান্ডেই ফেরে, পশ্চিমা নারীর সান্নিধ্য জোটে না জীবনে।
একদিন দেখি আমার পিরিচিত এক নারী রাত ১১ টার দিকে তার বয়ফ্রেন্ডের গাড়ির উইন্ডশীল্ড, সাইড গ্লাস একটা প্লাস্টিকের ক্যারেট দিয়ে ভাংছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে? সে বলে তার বয়ফ্রেন্ড তার সঙ্গে চিট করেছে, বয়ফ্রেন্ডের নাম ধরে বলে আমরা যেনো তাকে সহযোগীতা না করি। প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে ফেললো, স্রেফ হয়তো তার বয়ফ্রেন্ডকে অন্য কোন নারীর সঙ্গে চ্যাট বা এই জাতীয় কিছুর জন্য। ওসব দেশে যারা যখন রিলেশানশীপে থাকে, সাধারনত একজন অন্যজনের উপরে লয়াল থাকে। কিছু যে লম্পট থাকে না, তা নয়। তবে ওসব দেশে বয়ফ্রন্ড, গার্লফ্রেন্ড হলেও মোট সম্পত্তি দুই ভাগ করে দুইজন পায়, সেজন্য সেখানে রিলেশানশীপ চাইলেই করা যায় না। নারীরাও এতো সস্তা না, নারীরা পুরুষের অনেক যোগ্যতা দেখেই তবে কাছ ঘেষতে দেয়, এটাই বাস্তবতা। কিছু ব্যাতিক্রম আছে, তবে সেটা সাধারন না।
তাহলে পার্থক্য কী? পার্থক্য হলো, কে কার সঙ্গে শোবে, ঘুমাবে এসব নিয়ে অন্য কারো মাথাব্যাথা নেই। পাশের ফ্ল্যাটে দুইজন ছেলে-মেয়ে, ছেলে-ছেলে বা মেয়ে-মেয়ে রাত কাটাচ্ছে কিনা তা নিয়ে কোন ভাবনা কারো নেই। কে কার হাত ধরলো, সেটা যার যার ব্যক্তিগিত বিষয়। এটাকেই মুমিন ভাইরা নাম দিয়েছে ফ্রি বা ওপেন সেক্সের দেশ। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশের ওপেন স্পেসে যেমন চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শ্যামলীসহ একাধিক এলাকার আবসিক হোটেল এসব জায়গায় প্রতিদিন পার্টনারকে ঠকিয়ে যে পরিমান প্রতারণাপূর্ণ লাগালাগি হয় পশ্চিমা দুনিয়ায় কোন পাবলিক স্পটে এসব আপনি কখনোই পাবেন না।
এই যে পার্ক দেখছেন ভিডিওতে, এখানে আমি এক সময় মাঝে মাঝে হাঁটতে যেতাম, ১১ কিলোমিটারের রাউন্ড ট্রেইল, পুরোটাই শেষ করতাম। যে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি দেখছেন তা পিওর ওয়াটার রিজার্ভার। সন্ধ্য হলে বা রাত হলে এখানে কেউ রাস্তায়, ঝোপের আড়ালে গিয়ে আদিম খেলায় মত্ত হয় না, দিনের বেলাও কেউ চুম্মাচাটিও করে না। কারন ওদের কাছে সেগুলো ঘরের ভিতরের কাজ, বাইরের না। অথচ ঢাকায় যে পরিমান প্রতারনাপূর্ণ সম্পর্ক হয়, শারিরীক লেনাদেনা হয় শ্যামলী, মগবাজার, মহাখালির আবাসিক হোটেলপাড়ায় একদিন করে ঘুরলেই পেয়ে যাবেন। আমার এক পুলিশ অফিসার বন্ধুর সঙ্গে একসময় রাতের ঢাকা দেখতে বের হতাম, রাস্তায় দেখেছি কাপড় টানিয়ে কত লীলা চলছে, পুরুষরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক সেখানে ঢুকবে বলে। চন্দ্রিমা উদ্যানে দেখতাম গাছের পাশেই দাঁড়িয়ে কত মুমিন ভাই কাজ সারছেন!
বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি, কলেজ, স্কুল, মাদ্রসা, সরকারী অফিস, বেসরকারী অফিস, পুলিশ, আর্মি সবখানে নারীদের বিশেষ করে নীচের দিকের পদের নারীদের তরবারির তীক্ষ্ণ ফলার নীচে চাকুরী করতে হয়। জীবনে এক বা একাধিকবার সহকর্মী, বস, মালিকের থেকে শোয়ার অফার পায়নি এমন কর্মজীবি নারী খুব কমই আছেন। অনেক বস, মালিক প্রথমে লোভ দেখান, পরে কাজ না হলে বাধ্য করতে চান। অনেক নারীই টেকনিক্যালি এ্যাভয়েড করেন; কেউ কেউ চাকুরি বাঁচাতে, জীবিকা ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে আবদার মেনে নেন; আবার কেউ কেউ বেশি বেতন, অধিক সুবিধা, দামী উপহার প্রাপ্তি, প্রমোশন, অধিক ক্ষমতা প্রাপ্তির জন্য স্বেচ্ছায় এই নেক্সাসে মিশে যান। রাজি না হলে পদে পদে নাজেহাল, এমনকি চাকুরি থেকে বরখাস্ত, মামলার মুখোমুখীও হতে হয় নারীদের। কয়দিন আগে আমার এক মুক্তমনা নারী ফেসবুক ফ্রেন্ড তার প্রাইভেট চাকুরীর এমন দূর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরেও এমন নারীমাংস লোভী প্রায় সব নেতা। এমন নারীলোভী, ব্যক্তিত্বহীন, জিম্মিকারী পুরুষতন্ত্র কি উন্নত দেশগুলোতে আছে? আপনারা আবার বাঙ্গুল্যান্ডকে ৯০% মুমিনল্যান্ড হিসাবে গর্ব করেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে সমালোচনা করেন! যে দেশের বড় সংখ্যক সেক্সুয়াল ফ্রাস্ট্রেশনে ভোগা পুরুষ পদে পদে ভয়ংকর সেক্স নিম্ফোম্যানিয়াক আচরন প্রকাশ করেন, সেই দেশের কালচার নিয়ে আপনাদের কত গর্ব! পশ্চিমারা নাকি খারাপ!
মাদ্রাসার শিশুদের বলাৎকার বা ধর্ষণ হিসাবে নিলে যে পরিসংখ্যানের বন্যা হবে তাতে সবগুলো পশ্চিমা দেশের যৌন অপরাধ একসঙ্গে করলেও সেই সংখ্যা অতিক্রম করতে পারবে না। আপনারা যে পশ্চিমা দুনিয়ার নামে এতো অভিশাপ দেন, একটু তো জানবেন সেখানকার বাস্তবতা সম্পর্কে। অনেক মুমিন বলেন, পশিমা দুনিয়ায় ইনসেস্ট হয় বেশি। কিন্তু গবেষণা, তথ্যা উপাত্ত বলে ইসলামী দেশগুলোতেই বরং ইনসেস্ট এর পরিমান বেশি, ইসলামে এর অনুমোদনও আছে, এ নিয়ে আমার একটা আর্টিকেল আছে।
ওদিকে ইসলাম এমন এক ব্যবস্থা দিয়েছে যেখানে পুরুষের জন্য যৌনতার দ্বার অবারিত। শিশুসহ যেকোনো বয়সের নারীকে বিয়ে করা যায়, একসঙ্গে চারজন স্ত্রী রাখা যায়, তালাক দিয়ে নতুন করে কোটা পূরণ করা যায়। মুতা বিবাহের মতো সাময়িক ব্যবস্থাও আছে, যেখানে সকালে বিয়ে করে বিকালেই শেষ করা যায়। মরার পরে ৭২ হুর ও হাজার হাজার গেলমান তো আছেই। দুনিয়া-আখিরাতে পুরুষের শুধু লাভ আর লাভ।
আরো আছে জিহাদীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জিহাদ আল-নিকা – যা একটা সাময়িক বিয়ে এবং একজন চরমপন্থী নারী একাধিক জিহাদীকে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করতে পারেন। মামুনুল হক, নজরুল ইসলাম হুজুরদের ভ্রমনকালীন ক্লান্তি দূর করে শ্রান্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরো একটা বিয়ে আছে নিকাহ আল-মিসইয়ার। জিহাদী চরমপন্থীরা এটার ব্যবহার করে। এই বিয়েতে দীর্ঘমেয়াদী কোন চুক্তি বা দাবী থাকে না। সফরকালীন সময়ে পুরুষের ইমানদন্ডের ক্ষুধা মেটানোই যার উদ্দেশ্য।
দত্তক নেওয়া কন্যাকেও বিয়ে করা যায়, পুত্রবধূকে তালাকের পর গ্রহণ করা যায়, ফার্স্ট কাজিন থেকে শুরু করে প্রায় সব আত্মীয়কেই বিয়ে করা যায়। বিয়ে নিজেই খুব সাধারণ – দুইজনের উপস্থিতি আর সাক্ষী হলেই হয়ে যায়। এত সহজ আর বিস্তৃত সুযোগ আর কোনো মতাদর্শে নেই।
আরো আছে, লোকের বউ, মেয়েকে হোটেল বা রিসোর্টে নিয়ে ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক বা একটু পরে বউ বলে ঘোষনা দেয়া যায়। পরে লোকজন চাপাচাপি করলে কসমের চ্যালেঞ্জ দেয়া যায়, যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তাহলে আল্লাহপাক তার ইন্সট্যান্ট শাস্তি দিবেন। তবে মুমিন বান্দারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আল্লাহপাক আপনাদের শাস্তি দিবেন না। মামুনুল হক রিসোর্টে ঝর্ণা দিয়ে তার ইমানদন্ডের মালিশ শেষে ধরা খেয়ে বেকায়দায় পড়ে এই “মুবাহালা” (مباهلة) চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন।
এতসব সুবিধা আর নিয়ামতের পরও কেউ যদি ইসলামের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করে, তাহলে সে আসলে আল্লাহপাককেও অস্বীকার করছে! পুরুষদের জন্য এতো এতো সুযোগ রাখার পরেও আমাদের মতো যারা ইসলামের দোষ খুঁজে পাই তারা আসলে আল্লাহপাকের লানতপ্রাপ্ত বান্দা, আল্লাহপাক আমাদের হেদায়েত দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কী আর করবো, আমরা দেশ বিদেশ গিয়ে এই সমস্ত সুন্দর সুন্দর জায়গা ঘুরে বেড়াই, মরার পরে তো মুহাম্মদের আল্লাহ জাহান্নামের আগুণে পোড়াবেন আমাদের!
Related Posts

Is Bangladesh, with 90% Muslims, better than the so‑called free‑sex countries?
Bangu male believers think — and even some women — that the Western world meansRead More

People’s Arabic names are not the property of Allah or Muhammad. Stop demanding that others change their names
One fine morning you log into Facebook and see that everyone—from Mokhles, the tea sellerRead More

মানুষের আরবি নাম আল্লাহ বা মুহাম্মদের সম্পত্তি না, নাম পাল্টে রাখার আবদার বাদ দিন
ওয়ান ফাইন মর্নিং ফেসবুকে ঢুকে দেখলেন, ভুরুঙ্গামারির চায়ের দোকানদার মোখলেস থেকে শুরু করে বুয়েটের ডিগ্রিRead More

Comments are Closed