
Why repeat Allah’s name endlessly?
আল্লাহ কেন মানুষের উপর মুখাপেক্ষী? তার কেন এতো ক্ষুদ্র মানুষের স্তুতি দরকার হয়?
“তারেক জিয়া ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোনো বৈধ প্রধানমন্ত্রী নেই, বিএনপি বাংলাদেশের সরকারি দল”
– এই কথাটা সরকার গঠনের প্রথম ১ মাসের মধ্যে আপনি যদি ১০০০ বার মনে মনে বলতে পারেন, তবে সরকার আপনাকে একটা বাড়ি বানিয়ে দেবে এবং ১০০ ভরি স্বর্ণ উপহার দেবে। এই ১০০০ বার বলা আপনার কথা তারেক জিয়াকে রেকর্ড করে আজই পাঠিয়ে দিন।
বিশ্বাস করছেন না আমার কথা? অথচ আপনি কিন্তু বিশ্বাস করে বসে আছেন – রমজানের প্রথম ১০ দিনে যদি আপনি ১০০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পড়েন, তবে আপনার জন্য অনেক বরকত অপেক্ষা করছে। আচ্ছা, আমাকে বলেন – ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ তাঁর প্রেরিত রাসূল’ – এই কথা নিজে নিজে ১ বার বা ১০০০ বার বিড়বিড় করে পড়লে বা না পড়লে তাতে আল্লাহ বা মুহাম্মদের কী ক্ষতি বা বৃদ্ধি হবে? আল্লাহ কেন খুশি হবেন এটা বিড়বিড় করে পড়ে সময় নষ্ট করলে? উপরের প্রথম লাইনের কথা আপনি ১০০০ বার পড়ে রেকর্ড করে তারেক জিয়াকে পাঠালে উনি আপনাকে নিশ্চিত পাগল বলবেন। আল্লাহ যদি একমাত্র সৃষ্টিকর্তা হয়েই থাকেন, তবে সেটা তাঁকে বারবার বলে মনে করিয়ে দেওয়ার কী আছে? আল্লাহর কি স্মরণশক্তি নেই? আপনি মনে করিয়ে দিলে তাঁর হুশ ফিরবে? ব্যাপারটা এমন?
ব্যাপারটা যদি এমন হতো – আপনি একজন সনাতনী, যারা অনেক দেব–দেবীতে আস্থাশীল, তার সামনে গিয়ে বলেন, আল্লাহ একমাত্র উপাস্য; তারা যে হাজার খানিক দেব–দেবীর উপাসনা করে, তারা আসলে কেউ না – তাহলেও বিষয়টা কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু নিজে বিড়বিড় করে পড়ে আসলে কার উপকারটা হয়, কেন হয়?
আল্লাহ – বা বলতে পারেন আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা মুহাম্মদ – কোরআনে বলেছেন আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, আবার আল্লাহ আপনার প্রশংসা ছাড়া এক সেকেন্ডও চলতে পারেন না। আপনি যদি উঠতে, বসতে, চলতে, ফিরতে, খেতে, ঘুমাতে আল্লাহর প্রশংসা না করেন, তবে তিনি খুব গোস্বা করেন। এই গোস্বার পরিমাণ এত বেশি যে এর বিনিময়ে তিনি আপনাকে হাজার হাজার বছর আগুনে পোড়াবেন। আপনি দুনিয়ার যত বড় বিজ্ঞানী, ডাক্তার, মানবসেবী হন না কেন – স্রেফ আপনি যদি আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে না মানেন, তবে আপনার কপালে কখনো স্বর্গ জুটবে না; অনন্তকাল নরকের আগুনেই আপনাকে পুড়তে হবে। আবার আপনি যদি মেনে নেন আল্লাহ একমাত্র উপাস্য, মুহাম্মদ তাঁর প্রেরিত রাসূল – তবে আপনি খুন, ধর্ষণ, গণহত্যা বা এর চেয়ে বড় কোনো অপরাধ করলেও আপনি কিছুদিন নরকের শাস্তি ভোগ করে পরে অনন্তকাল স্বর্গে থাকবেন। স্বর্গে গিয়ে সোনার বাড়িতে থাকবেন, ৭২ হুর লাগাবেন, হাজার হাজার শিশু গেলমান আপনার হাত–পা টিপে দেবে, তাদের সঙ্গে লুতিকর্ম করবেন – যেটার প্র্যাকটিস আবার বাঙ্গুল্যান্ডের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে দেখা যায়। আপনি হাজার মাইল দীর্ঘ খেজুরবাগানের মালিক হবেন। এত খেজুর দিয়ে আপনি করবেন কী, কার কাছে বিক্রি করবেন? আপনি ডুমুর খাবেন আর লাগাবেন – লাগানো ছাড়া আপনার তেমন কাজ সেখানে নেই। আপনার সামনে থাকবে মদের নদী – এত মদ দিয়ে গোসল করবেন নাকি সারাদিন খাবেন? কতটুকু খাবেন?
কোরআনে আল্লাহ বলেছেন তিনি সবকিছু বানিয়েছেন মানুষের জন্য। তিনি প্রথমে বানান পৃথিবী, তারপর আকাশ, সূর্য, তারা, চাঁদ। আল্লাহ আবার দেখতে মানুষের মতো – তাঁরও মানুষের মতো হাত–পা সবই আছে। এটা কোরআন–হাদিসের কথা – আল্লাহ মানুষকে বানিয়েছেন তাঁর নিজের অবয়বে। তিনি আবার পাছা আরশে দিয়ে বসেও থাকেন। বিজ্ঞানের নিরিখে মহাবিশ্ব তৈরির কোরআনের কেচ্ছা গাঁজাখোরি হলেও ধরে নিলাম সবই আল্লাহ বানিয়েছেন। এখন আসি হিসাবে।
দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ – একটি অবিশ্বাস্য বিশাল গোলক, যার ভেতরে আমরা যা কিছু দেখতে পাই, সবই আলো পৌঁছাতে পেরেছে এত দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু এটি পুরো মহাবিশ্ব নয়; এটি শুধু সেই অংশ, যেখান থেকে আলো আমাদের কাছে এসেছে। মহাবিশ্বের প্রকৃত আকার অজানা – এটি আরও বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে। এর আকার অনন্তও হতে পারে, অথবা আমাদের দৃশ্যমান অংশের বাইরে আরও অঞ্চল থাকতে পারে যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। মহাবিশ্বের মোট গঠন – ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, সাধারণ পদার্থ – সব মিলিয়ে এমন এক বিশাল কাঠামো তৈরি করেছে যার সম্পূর্ণতা আমরা এখনো ধরতে পারিনি। এটা এতটাই বিস্তৃত যে তা ক্যালকুলেটরে হিসাব করাও সম্ভব না।
দৃশ্যমান মহাবিশ্বে শত শত বিলিয়ন থেকে এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত গ্যালাক্সি থাকতে পারে। প্রতিটি গ্যালাক্সিতে থাকে শত বিলিয়ন নক্ষত্র, আর নক্ষত্রগুলোর চারপাশে অসংখ্য গ্রহ। বিলিয়ন মানে ১০০ কোটি, ট্রিলিয়ন মানে ১ লক্ষ কোটি। অনুমান করা হয়, মহাবিশ্বে মোট গ্রহের সংখ্যা সেপ্টিলিয়ন (১০²⁴+) পর্যায়ের। এদের মধ্যে কত গ্রহে প্রাণ থাকতে পারে – এটি এখনো অজানা, তবে সংখ্যার বিশালতা দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জীবন থাকা গ্রহের সংখ্যা কম হবে না। এই অগণিত নক্ষত্র–গ্রহের ভিড়ে মানুষ অবিশ্বাস্যভাবে ক্ষুদ্র – একটি ক্ষুদ্র গ্রহের ক্ষুদ্র প্রজাতি, একটি সাধারণ নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে, একটি সাধারণ গ্যালাক্সির কোণে। মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষের অস্তিত্ব ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্র।
এখন বলেন – যে আল্লাহ এত এত কিছু বানিয়েছেন, তাঁর এই ক্ষুদ্র ধূলিকণাসম মানুষদের স্তুতি নেওয়ার এত আকুলতা কেন? তিনি কেন বছরের কিছু কিছু দিন তাঁর ভাষায় ‘নীচ আসমানে’ নেমে এসে মানুষের কান্না শুনতে পছন্দ করেন? মানুষ কান্নাকাটি করে তার পাপের গোনাহ মাফ চাইলে তিনি মাফ করে দেন, কিন্তু শর্ত সেই একটাই – তাঁকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মানুষের দেওয়া সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি অচল কেন? বিলিয়ন গ্রহে মানুষের মতো বা এর চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীরা থাকতে পারে – তাদের জন্য কিন্তু মহাবিশ্ব বানাননি আল্লাহ; বানিয়েছেন মানুষের জন্য। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য – মানুষ দিন–রাত তাঁর প্রশংসা, স্তুতি করবে, ক্ষণে ক্ষণে তাঁকে মনে করিয়ে দেবে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। মানে কী ভাই?
রমজানে সেজন্য বেশি বেশি করে আল্লাহর প্রশংসা করেন – আপনার রহমত আপনি বুঝে নেন।
Related Posts

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?
This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?
এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?
Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed