Minorities
Why do Minorities Leave Bangladesh?

Why do Minorities Leave Bangladesh?

বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের উপর দৃশ্যমান নিপীড়নের একটা অদৃশ্য স্তর আছে, যা তাদেরকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে

২৮ জুলাই ২০২০ সালের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে আপনার মনে হতে পারে, এ আর এমন কী, এক অজ্ঞ ইসলামপন্থী ব্যক্তি তার অজ্ঞতা দেখিয়েছেন। এখানে ব্যাপারগুলো এতোটা সরল না। উক্ত ডাক্তার ছিলেন একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কোন মুসলমান ডাক্তার ঠিক একই কারনে মারা গেলে উনি, জনৈক শামীম এই একই মন্তব্য করে উল্লাস প্রকাশ করতেন? উত্তর হলো – না।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রোগ কোভিড-১৯ শুরুর দিকে অনেক ইসলামী মাওলানারা প্রচার শুরু করলো, সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, ইসলামে এটা বলা আছে, মুসলমানদের করোনা হলে কোরআন মিথ্যা হয়ে যাবে, করোনা বিধর্মীদের দমন করার জন্য আল্লাহর সেনা, কোন ভ্যাকসিন নেয়া যাবে না, বাংলাদেশে করোনা আসবে না, করোনা আমাদের জন্য অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ, স্যানিটাইজার নাপাক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবে না – ইত্যাদি ইত্যাদি! মুফতি ইব্রাহিম স্বপ্নে প্রাপ্ত করোনা থেকে মুক্তির কোরানিক ফর্মুলা বলে দিলেন। দেখা গেলো দেশে প্রথম যিনি কোভিডে মারা গেলেন তিনি ছিলেন একজন মস্ত বড় আলেম! ইসলামিস্টদের প্রিয় প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার ও লেখক ডাক্তার শামসুল আরেফিন শক্তি হাসপাতাল ছেড়ে পালালেন, তাকে বার বার নোটিশ দিয়েও হাসপাতালে ফেরানো যায়নি, কোরআনের বানীর প্রচারক এক মহান ব্যক্তি – কোরআনে সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই – বানীকে পায়ে ঠেলে বলে দিলেন – চাকরি যায় যাবে, তবুও তিনি হাসপাতালে ফিরবেন না। বার বার নোটিশ দেয়ার পরেও তিনি তার ডিউটিতে ফেরেননি।

কিন্তু ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের এ সমস্ত অপতথ্য, অবৈজ্ঞানিক ইসলাম ধর্মীয় বয়ান প্রচারের পরেও কি ডাক্তারেরা কাজ করেননি? করেছিলেন, অনেক ডাক্তারই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। অনেক ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী মারাও গিয়েছিলেন মানুষের সেবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই ধর্মান্ধ মৌলবদীরা একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বা দেখায়না। এটা বাংলাদেশের মৌলবাদীদের চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য।

২০২০ সালের জুলাই মাস। করোনা মহামারির ভয়াবহতার মাঝে ঢাকার হাতিরঝিলে নিজের ফ্ল্যাটে স্যানিটাইজার ঢালতে গিয়ে সিগারেটের আগুনে দগ্ধ হন নিউরোসার্জন ডা. রাজীব ভট্টাচার্য (৩৭)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিকিৎসকের শরীরের ৮৭ শতাংশ পুড়ে যায়। ছয়দিন লড়াই করে তিনি মারা যান। তাঁর স্ত্রী ডা. অনুষুয়া ভট্টাচার্যও (৩২) পুড়ে আহত হন। এটি ছিল একটি ভয়ানক দুর্ঘটনা। তাদের একমাত্র মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্য (৫) বাড়ির বাইরে থাকায় তিনি আক্রান্ত হননি।

কিন্তু এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেল, তা এই দুর্ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগজনক। একাংশের ইসলামপন্থী ব্যবহারকারী একজন হিন্দু চিকিৎসকের মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করলেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন মানুষের মৃত্যুকে উদযাপন করার এই মানসিকতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি গভীর সামাজিক রোগের লক্ষণ, যা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু – বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বহু দশক ধরে চলে আসা কাঠামোগত নিপীড়নের অংশ। এই নিপীড়নগুলো আইনের পরিসংখ্যানে আসে না, কিন্তু বিরাট বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে যায়। একজন ডাক্তারের মতো মানুষকে যদি এই পর্যায়ের সামাজিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাহলে কে সেখানে নিজের মেধা দিয়ে উজ্জ্বল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে?

সংখ্যার ভাষায় একটি নীরব বিপর্যয়

আমার কত বন্ধু-বান্ধব, তাদের আত্মীয়-স্বজন, আমার আব্বার কলিগ – কত পরিবারকে দেখেছি নীরবে দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়া চলে যেতে। কয়দিন আগে দেখলেন তো সাতক্ষীরাতে এক হিন্দু গণিতের শিক্ষক মিস্টার গৌরাঙ্গ সরকারকে নাজেহাল করে পুলিশে দিলো উন্মত্ত তৌহিদী জনতা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি বলেছিলেন ভোর বেলা মাইকে খুব জোরে আজান বাজালে অনেকের ঘুমের সমস্যা হয়। উন্মত্ত তৌহিদী জনতা পুলিশকে বলছিল তাকে যেনো ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেয়া হয়। এগুলো খুবই পরিকল্পিত সামাজিক আক্রমন, এভাবে বার্তা দেয়া হয় – তোমরা এসব পেশায় এসো না, পারলে ইন্ডিয়া চলে যাও, এ দেশ তোমাদের না। বাংলাদেশের অনেক ইসলামিস্ট দাবী করেন হিন্দুরা বাংলাদেশে সম্পদ অর্জন করেন কিন্তু গড়েন ইন্ডিয়ায়। বাস্তবতা কি তাই বলে? যতোজন হিন্দু দেশ ছাড়েন তাদের কতজন ইন্ডিয়া যান? উত্তরটা ৩৬%, বাকীদের গন্তব্য হয় অন্য কোন দেশ।

পরিসংখ্যান কখনো কখনো সবচেয়ে নির্মম সত্য বলে। ১৯০১ সালে এই ভূখণ্ডে হিন্দু জনগোষ্ঠীর হার ছিল ৩৩ শতাংশের বেশি। ১৯৫১ সালে দেশভাগের পর তা নেমে আসে ২৩.১ শতাংশে। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দাঁড়ায় ৯.৬ শতাংশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই হার এখন মাত্র ৭.৯৫ শতাংশ।

Global History Dialogues-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এই পতনের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং তারপরও অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সংঘাতের চক্র। প্রবাসী হিন্দুদের বিষয়ে তথ্য আরো তীক্ষ্ণঃ ICDDR,B-এর একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া হিন্দুদের মাত্র ৩৬ শতাংশ ভারতে গেছেন – বাকিরা গেছেন তৃতীয় দেশে, অর্থাৎ নিছক ভারতীয় টান নয়, দেশের পরিবেশ থেকেই পালানোর প্রবণতা প্রকট। এই পালানোর প্রবনতা শুধু যে হিন্দুদের মধ্যে আছে তা নয়, অনেক মুসলমানদেরও আছে।

Minority Rights Group-এর প্রতিবেদন বলছে, নতুন সহস্রাব্দের শুরু থেকে ইসলামি চরমপন্থীদের হাতে হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর নিপীড়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের পশ্চিমবঙ্গে আরো বেশি করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে। ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্ট – ১৯৬৫ সালের পাকিস্তানি আইন যা স্বাধীন বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়ে টিকে আছে – হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের জমি কেড়ে নিয়েছে, তাদের ভিটাছাড়া করেছে।

ধর্মাবমাননার অস্ত্রঃ একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার

বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু নির্যাতনের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ধর্মাবমাননার অভিযোগ। Human Rights Congress for Bangladesh Minorities (HRCBM)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ২৪টি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় মিথ্যা বা বিতর্কিত ধর্মাবমাননার অভিযোগ ব্যবহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সংগঠিত সহিংসতা চালানো হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ছয় মাসে এই সংখ্যা ৭১টিতে পৌঁছেছে।

ঘটনাগুলোর ধরন প্রায় একই – সামাজিক মাধ্যমে বা স্থানীয় গুজবের মাধ্যমে কোনো একজন হিন্দু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই মব জড়ো হয়। পুলিশ বা সেনাবাহিনী অনেক সময় অভিযুক্তকে “সুরক্ষার নামে” গ্রেপ্তার করে, কিন্তু মব সদস্যদের কোনো বিচার হয় না। এরপর হামলা ছড়িয়ে পড়ে পুরো পাড়ায়, মন্দিরে, বাড়িঘরে।

২০২১ সালের দুর্গাপূজায় কুমিল্লার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সারা দেশে ৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর হয়, ৮ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন ১৫০-র বেশি মানুষ। পরবর্তীতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটান ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি মুসলমান। কিন্তু মৌলবাদী তৌহিদী জনতা তার বিরুদ্ধে কোন মিছিল পর্যন্ত করেনি। লোকটা হিন্দু ধর্মের কেউ হলে আরো কত বাড়িঘর পুড়তো, কতজন মারা যেতো, কতজনকে দেশছাড়া করা হতো – কল্পনা করুন। শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্লাসে ধর্মাবমাননার অভিযোগে। শিক্ষক সুকুমার বাগচীকে চাকরিচ্যুত করা হয় অপ্রমাণিত অভিযোগে। ছাত্র হৃদয় পালকে মব আক্রমণ করে; সেনাসদস্যরা তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়, কিন্তু আক্রমণকারীদের বিচার হয়নি। দীপু চন্দ্র দাসকে মৌলবাদী তৌহিদী জনতার মব পিটিয়ে ও আগুণে পুড়িয়ে মেরেই ফেললো।

এই তালিকা দীর্ঘ। সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার এক স্কুলের গণিত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার, গোপালগঞ্জের এক স্কুলের মিঠু বিশ্বাসসহ আরো বেশ কয়েকজন সেই তালিকায় যোগ হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় যে সমস্ত অভিযোগে এদের বিরুদ্ধে মব তৈরির উসকানি দেয়া হয় সেই একই রকম কথাগুলো অনেক ইসলামিক বক্তাও বলেন বিভিন্ন সময়ে, ইসলামের অনেক সেবকও বলেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোন মৌলবাদী তৌহিদী জনতাকে মাঠে দেখা যায় না।

এই প্যাটার্নটি সুনির্দিষ্ট। লেখক তসলিমা নাসরিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তারেক রহমানকে চিঠিতে লিখেছেন যে, ধর্মাবমাননার অভিযোগকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের জমি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, মন্দির ভাঙচুর করা হচ্ছে, এবং সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

দ্বিমানের বিচারঃ আইনের অসম প্রয়োগ

এই নিপীড়নের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো আইন ও সামাজিক বিচারের প্রকাশ্য দ্বিমান। একজন হিন্দু শিক্ষক ক্লাসে যদি কিছু বলেন যা কোনো ছাত্র আপত্তিকর মনে করে, সেটি অবিলম্বে ধর্মাবমাননার মামলা হয়ে যায়, গণমাধ্যমে আসে, মব জড়ো হয়। কিন্তু অনেক ইসলামপন্থী বক্তা, এমনকি ওয়াজ মাহফিলের কিছু বক্তা, হিন্দুদের সম্পর্কে স্পষ্ট বিদ্বেষমূলক, অবমাননাকর মন্তব্য করলেও তাদের বিরুদ্ধে না হয় মামলা হয়, না হয় সামাজিক চাপ তৈরি হয়।

এটি কোনো আকস্মিক অসংগতি নয়। এটি একটি কাঠামোগত পক্ষপাত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) এবং এর উত্তরসূরি সাইবার নিরাপত্তা আইন বহু হিন্দু তরুণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ হিন্দু-বিদ্বেষী অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে এই আইনের প্রয়োগ নগণ্য। ২০২৪ সালের শেষ দিকে হিন্দু কিশোর আকাশ সিংহকে গ্রেপ্তার করার পরও মব মঙলারগাঁও গ্রামে হিন্দু পাড়ায় দুই রাত ধরে হামলা চালায়, ১০০-এর বেশি বাড়ি ও মন্দির পুড়িয়ে দেয়। পরিবারগুলো রাতের বেলা জঙ্গলে ও নদীর ধারে পালিয়ে থাকে।

মনস্তাত্ত্বিক চাপঃ দৃশ্যমান নিপীড়নের অদৃশ্য স্তর

সহিংসতার পাশাপাশি চলে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু সমান বিধ্বংসী মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়ন। Global History Dialogues-এর গবেষণায় উঠে এসেছে যে মধ্যবয়সী হিন্দু পুরুষেরা, যারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন দেখেছেন, তারা নিজেদের সমাজের বিচ্ছিন্ন অংশ মনে করেন। এই বোধ থেকেই তারা আগে আগে সন্তানদের পাঠিয়ে দেন, তারপর নিজেরা চলে যান।

এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয় প্রতিদিনের ছোট ছোট সংকেতে – চাকরিতে পদোন্নতি না পাওয়া, সরকারি ঠিকাদারিতে পিছিয়ে থাকা, পাড়ায় মসজিদের মাইকে হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য শোনা, সামাজিক মাধ্যমে কারো মৃত্যুতে উল্লাস দেখা, কথায় কথায় মালায়ুন জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা, কিছু হলেই ইন্ডিয়া চলে যাওয়ার কথা বলা এমন অনেক কারনে। এই গতকালও দেখলাম ঢাকার মিরপুরে এক ডিসপ্লে বোর্ডের লেখায় হিন্দুদের গরুর মাংস খাওয়ানোর কথা বলা হচ্ছে। ঠিক একই রকম কাজ ইসলামের অনুসারীদের জন্য করলে এতোক্ষনে তৌহিদী জনতার মব তুলকালাম বাঁধিয়ে দিতো। এগুলো কোনো এফআইআর দিয়ে ঠেকানো যায় না, কিন্তু এগুলোই মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়

এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী শুধু সহিংস মব নয়। রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা, প্রায়ই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে মবকে শান্ত করার প্রবণতা, এবং হামলাকারীদের বিচার না করার ধারাবাহিক ব্যর্থতা এই কাঠামোকে টিকিয়ে রাখে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার যে নথিভুক্ত চিত্র Minority Rights Group তুলে ধরেছে, তাতে স্পষ্ট যে ক্ষমতাসীন দলের অনুগামী থেকে বিরোধীদল – সকলের মধ্যেই সুবিধাভোগীরা বিদ্যমান।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের ভাষায়ঃ “১৯৭১ সালে হিন্দু ও মুসলমান একসাথে লড়াই করেছিলেন রাষ্ট্রধর্মের জন্য নয়, স্বাধীনতার জন্য। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা সেই একই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক।”

নীরবতা সম্মতির নামান্তর

ডা. রাজীব ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে যে উল্লাস দেখা গেছে, তা একটি উপসর্গ মাত্র। প্রকৃত রোগটি হলো সেই সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে স্বাভাবিক করে, ধর্মাবমাননার অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়, এবং যারা অভিযোগ তোলে তাদের জন্য একটি মান, আর যাদের বিরুদ্ধে তোলা হয় তাদের জন্য আরেকটি মান বজায় রাখে।

একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের প্রয়োগ ধর্মীয় পরিচয়নিরপেক্ষ হয়। যদি একজন হিন্দু শিক্ষকের কথা ধর্মাবমাননা হয়, তাহলে একজন ইসলামপন্থী বক্তার হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্যও সমান মাপকাঠিতে বিচার্য। এই দ্বিমান যতদিন থাকবে, ততদিন জনসংখ্যার পতন থামবে না, মানুষ চলে যেতে থাকবেন – এবং যাওয়ার আগে তারা যে ভয় ও অপমান নিয়ে বাঁচেন, সেই ইতিহাস লেখা থেকে যাবে।

বাংলাদেশ তার সংখ্যালঘুদের সাথে কীভাবে আচরণ করছে – এটি শুধু সংখ্যালঘুদের প্রশ্ন নয়। এটি বাংলাদেশের নিজের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন।

Related Posts

Are All Social Customs Beneficial?

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you

I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

Are All Social Customs Beneficial?

‘হেফাজতে সমাজ’ – গ্রুপ সমাচার! আপনার চারিদিকে আপনি এদের দেখা পাবেন

আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। সেদিন স্কুল ছিল না, সম্ভবত বাড়ির জন্য বাজার করে সাইকেলেRead More

Morality without Religion

The Birth of Conscience: How Humans Became Moral Without Allah or Religion

It was almost seventy-five thousand years ago. A group of Neanderthals lived in the ShanidarRead More

Comments are Closed