Inhumane
The inhumane punishments in Islam

The inhumane punishments in Islam

ইসলামে ধর্ষণের জন্য কোন শাস্তি নেই! জিনা/ব্যাভিচারের শাস্তি খুবই নৃশংস, অমানবিক – পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা!

বিশ্বের প্রায় সব সভ্য ও আধুনিক আইন ধর্ষণকে মারাত্মক অপরাধ হিসাবে গণ্য করে। কারন এটি –

⦿ ব্যক্তির শরীর, স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর আক্রমণ
⦿ গুরুতর হিংসাত্মক অপরাধ
⦿ রাষ্ট্রদণ্ডযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ
⦿ অনেক ক্ষেত্রে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, বিশেষ করে যুদ্ধ-বিগ্রহের সময়

সেজন্য ধর্ষণের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে। কোথাও কোথাও ৩ বছর থেকে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদন্ডও দেয়া হয় ধর্ষককে। ধর্ষণ যতটা না যৌনতা তার চেয়ে বেশি নিজের ক্ষমতার নগ্ন প্রকাশ। কিন্তু আপনি জানলে আশ্চর্য হবেন, ইসলামের মূল সোর্সগুলোর কোথাও ধর্ষণের বিচারের জন্য একটি শব্দও নেই। কোরআন বা হাদীসের কোথাও নেই ধর্ষণের জন্য কী শাস্তি হবে। ইসলামিস্টরা দাবী করে থাকেন কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত পরিপূর্ণ জীবন বিধানের নির্দেশিকা। নবী মুহাম্মদের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ, কাজ, কথা, অভিপ্রায় নিয়ে রচিত হাদীসের বইগুলোও ইসলামের মূল সোর্সগুলোর অন্যতম যা ছাড়া ইসলাম অচল। কিন্তু এই পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা বলে দাবীদার মতাদর্শের কোথাও নেই ধর্ষণের মতো ভয়ংকর শাস্তির বিধান। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন ইসলামে ধর্ষণের জন্য কোন শাস্তির বিধান নেই। নারীরা পর্দা না করলে কী শাস্তি হবে, সুগন্ধি ব্যবহার করলে কী শাস্তি হবে, টাকনুর উপরে প্যান্ট না পরলে কী শাস্তি হবে – এমন অনেক ঠুনকো বিষয়ে শাস্তির কথা বলা থাকলেও মানব সভ্যতার অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ ধর্ষণের কোন শাস্তির কথা নেই ইসলামের কোরআন, হাদীসের কোথাও।

তাহলে কি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যেসব দেশ চলে সেখানে কি ধর্ষণের বিচার হয় না? যেমন – আফগানিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, সুদান? উত্তর হলো, হ্যাঁ, হয়। তবে সেটি সরাসরি ধর্ষণের বিচার নয়। এই বিচারের দন্ড হয় ইসলামে বর্নিত জিনা বা ব্যাভিচারের শাস্তির আলোকে। ইসলামের বিশেষজ্ঞরা ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে জিনা বা ব্যাভিচারের শাস্তিকে বেছে নিয়েছেন। জিনা বা ব্যাভিচার কী জিনিস?

তার আগে জেনে নেই – ধর্ষণের সাধারন সংজ্ঞা কী?

আধুনিক আইনব্যবস্থায় ধর্ষণকে সাধারণত এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়:

✔️ সম্মতি ছাড়া যৌন অনুপ্রবেশ (non‑consensual sexual penetration)
যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ –
⦿ যৌনাঙ্গ
⦿ মলদ্বার
⦿ মুখ
⦿ শরীরের অন্য অংশ বা বস্তু দিয়ে

যদি ভুক্তভোগীর সম্মতি ছাড়া ঘটে, সেটিই ধর্ষণ।

✔️ জোর, হুমকি বা ভয়ভীতি ব্যবহার
যদি অপরাধী –
⦿ শারীরিক জোর প্রয়োগ করে,
⦿ ভয় দেখায়,
⦿ হুমকি দেয়,
⦿ অচেতন বা অক্ষম করে,

তাহলে সেটিও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।
এটি মার্কিন আইনের সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

✔️ ভুক্তভোগীর সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে

যদি ভুক্তভোগী –
⦿ অপ্রাপ্তবয়স্ক, (দেশভেদে অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বয়স ভিন্ন ধরা হয়, যেমন, ১৮)
⦿ মাদক/মদে অচেতন,
⦿ ঘুমন্ত,
⦿ মানসিকভাবে অক্ষম,

তাহলে সম্মতি অকার্যকর → এটি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।

✔️ লিঙ্গ-নিরপেক্ষ সংজ্ঞা

আধুনিক আইনে ধর্ষণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে অনেক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে মাদ্রাসায় যে ছেলে শিশুগুলো শিক্ষক ও বড়দের দ্বারা বলাৎকারের শিকার হয় সেটিও ধর্ষণ। অধিকাংশ আইনে এমনকি নিজের বিবাহিত স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম করলে সেটাকেও ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করা হয়।

জিনা বা ব্যাভিচার কী জিনিস?

জিনা (Zina) বা ব্যাভিচার বলতে বোঝায়:
👉 বিবাহের বাইরে সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্ক।
অর্থাৎ,
⦿ দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক
⦿ যাদের মধ্যে বৈধ বিবাহ নেই
⦿ তারা যদি স্বেচ্ছায় যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হয়

☛ তাহলেই সেটি জিনা/ব্যাভিচার হিসেবে গণ্য হয় – ইসলাম ধর্মীয় পরিভাষায়।
মনে রাখতে হবে এটি দুইজনের সম্মতিতেই হয়।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জিনা হলো:
✔️ বিবাহবহির্ভূত সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্ক
এটি দুইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়:

ধরনব্যাখ্যা
জিনা-এ-মুহসানবিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলে
জিনা-এ-গাইর-মুহসানঅবিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলে

ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) এখানে পড়ে না, কারণ সেখানে সম্মতি থাকে না। জিনা সংঘটিত হলে ইসলামী আইনে দুইজনই শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তবে ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা হয় ভিন্ন যা পরবর্তীতে আলোচনায় নিয়ে আসবো। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা ধর্ষণকেও জিনা হিসাবে ঘোষনা দেন, তবে পার্থক্য হলো এখানে সম্মতি থাকে না বলে জিনা প্রমান হলে একজন শাস্তি পায়। যদিও এই জিনার ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমান করাটা অনেক কঠিন কাজ ইসলামী নিয়ম অনুসরণ করলে, নীচের লেখাগুলো পড়লে এটা নিয়ে জানতে পারবেন। জিনা বা ব্যাভিচারের জন্য ইসলামে ভয়ংকর, নৃশংস শাস্তির বিধান আছে যা আপনারা সংবাদে, ছবিতে, ভিডিওতে দেখে থাকবেন।

আধুনিক আইনে জিনা বা ব্যাভিচার

আধুনিক সিভিল বা ক্রিমিনাল আইনে “জিনা” বা “ব্যাভিচার” সাধারণত অপরাধ নয়।
অনেক দেশে এটি –
⦿ নৈতিক/ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা হয়
⦿ কখনো কখনো ডিভোর্সের কারণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
⦿ কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না
⦿ বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ – অধিকাংশ দেশেই ব্যাভিচার এখন আর অপরাধ নয়।

☛ আধুনিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জিনা/ব্যাভিচারের জন্য ভয়ংকর শাস্তি দেওয়াকে অমানবিক হিসাবে গণ্য করা হয় যেহেতু এখানে প্রাপ্তবয়স্ক দুইজন ব্যক্তির পারষ্পারিক সম্মতি থাকে।

জিনা/ব্যাভিচার বনাম ধর্ষণ – মূল পার্থক্য

বিষয়জিনা/ব্যাভিচারধর্ষণ
সম্মতিআছেনেই
প্রকৃতিনৈতিক/ধর্মীয় অপরাধমারাত্মক হিংসাত্মক অপরাধ
ভুক্তভোগীনেই (দু’জনই সম্মত)আছে
আধুনিক আইনেসাধারণত অপরাধ নয়গুরুতর অপরাধ

জিনা/ব্যাভিচার = বিবাহের বাইরে সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্ক।
এটি ধর্মীয় দৃষ্টিতে অপরাধ, কিন্তু আধুনিক আইনে সাধারণত অপরাধ নয়।
ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন – কারণ সেখানে সম্মতি থাকে না এবং এটি একটি হিংসাত্মক অপরাধ।

ইসলামী আইনে জিনা/ব্যাভিচারের শাস্তি

আগেই বলেছি ইসলামে জিনা/ব্যাভিচারের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হয়। এখানে অবিবাহিতরা কিছুটা ছাড় পান, তাদের জন্য ভয়ংকর মৃত্যু অপেক্ষা করে না। বিবাহিত ব্যক্তিরা যদি বিবাহ বহির্ভূত যৌন সঙ্গম করেন তবে ইসলামে তাদের জন্য বিধান হলো, ভয়ংকর ও অমানবিক এক মৃত্যু। এই শাস্তিগুলো আবার দেয়া হয় প্রকাশ্যে, জনাকীর্ণ এলাকায়। সাধারন মানুষও এই হত্যাযজ্ঞে উল্লাসের সঙ্গে অংশগ্রহন করে। বলতে পারেন, সাধারন মানুষকে অংশগ্রহনে বাধ্য হতে হয়, কোরআনে এমন নির্দেশনাই দেয়া আছে (সূরা নূর ২৪:২)।

ধরনব্যাখ্যাশাস্তি
জিনা-এ-মুহসানবিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলেরজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) – হাদীসভিত্তিক
জিনা-এ-গাইর-মুহসানঅবিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলে১০০ বেত্রাঘাত – কোরআন ২৪:২

📘 ১. অবিবাহিত ব্যক্তির জিনা – কোরআনের শাস্তি

📖 কোরআন ২৪:২ (সূরা আন-নূর)

➡️ এটি অবিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি।
➡️ এখানে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) নেই।

📙 ২. বিবাহিত ব্যক্তির জিনা — হাদীসের শাস্তি

কোরআনে বিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি সরাসরি উল্লেখ নেই।
কিন্তু সহিহ হাদীসে নবী মুহাম্মদ (সা.) বারবার রজম (stoning) প্রয়োগ করেছেন।

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম – এ সমস্ত হাদীস গ্রস্থে রজমের ঘটনা বর্নিত আছে যা ইসলামের আইন হিসাবে গণ্য করা হয়।

১) মা’ইজ আল-আসলামী
তিনি জিনা স্বীকার করলে নবী (সা.) তাকে রজম করার নির্দেশ দেন।
(সহিহ বুখারি ৬৮২৪; সহিহ মুসলিম ১৬৯১)

২) গামিদিয়া নারী
গর্ভবতী অবস্থায় জিনা স্বীকার করেন।
সন্তান জন্মের পর তাকে রজম করা হয়।
(সহিহ মুসলিম ১৬৯৫)

৩) ইহুদি নারী-পুরুষের রজম
নবী (সা.) তাওরাতের বিধান অনুযায়ী তাদের রজম করেন।
(সহিহ বুখারি ৬৮১৯)

➡️ এই সব হাদীসের ভিত্তিতে ফুকাহারা সিদ্ধান্ত দেন:
বিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি = রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা ।

রজম কার্যকর করার সময় মুমিন ব্যক্তি বা মুসলিমদের সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়। ইসলামের মূল গ্রস্থ কোরানের সূরা নূর ২৪:২-এর নীতির ভিত্তিতে এটা বাধ্যতামূলক। কিছু কিছু মাযহাবের মতে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে এবং কিছু মাযহাবের মতে উন্মুক্ত স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হয়। প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন বিচারক। এরপর দল বেঁধে সাধারন মানুষ পাথর নিক্ষেপ করেন। নিয়ম আছে পাথর নিক্ষেপের সময় যেনো দ্রুত মৃত্যু না নয় সেটি খেয়াল করে ধীরে ধীরে যেনো মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছোট ছোট টুকরো পাথর নিক্ষেপ করতে হয়।

একবার ভেবে দেখুন, বিষয়টা কতটা অমানবিক, নিষ্ঠুর ও কত বড় অপরাধ!

কোরআনে রজমের শাস্তির কথা উল্লেখ না থাকলেও যেহেতু নবী মোহাম্মদ নিজে রজমের শাস্তি কার্যকর করেছেন সেজন্য চার মাযহাবের সবাই রজমকে বৈধ শাস্তি হিসাবে গ্রহন করেছে। কোরআন, হাদীস মিলেই শরীয়াহের বিধান হয়।

জিনা প্রমাণের শর্ত

ইসলামী আইনে জিনা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। জিনা বা ব্যাভিচার প্রমান করার জন্য প্রয়োজন হয় –
✔️ চারজন প্রাপ্তবয়স্ক, ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী
যারা সরাসরি যৌনসঙ্গমের দৃশ্য দেখেছে
(সূরা নূর ২৪:৪)
✔️ অথবা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি
(মা’ইজ ও গামিদিয়া নারীর ঘটনা, হাদীস)

➡️ এই কঠোর শর্তের কারণে বাস্তবে জিনা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব।

জিনা প্রমাণের জন্য চারজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী অবশ্যই পুরুষ হতে হবে।
নারীর সাক্ষ্য এখানে গ্রহণযোগ্য নয় – এটি চার মাযহাবের সর্বসম্মত মত।

এটা কতটা অবাস্তব সেটা একবার অনুমান করুন। কেউ যখন যৌন সঙ্গম করেন তখন কী সেখানে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন? এটা কী সম্ভব?

ইসলামে ধর্ষণের বিচার

ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) কে ইসলামের বিশেষজ্ঞরা জিনা হিসাবেই ধরেন কিন্তু সেখানে সম্মতি থাকে না। সেজন্য ধর্ষণ প্রমানিত হলে দুইজনের জায়গায় একজনের শাস্তি কার্যকর করা হয়। শাস্তি হিসাবে খুবই কঠোর সেটা সন্দেহ নেই। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন একজন ধর্ষণের ভিক্টিমের জন্য চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী জোগাড় করা কি সম্ভব? কেউ যখন ধর্ষণের মতো গুরুতর ও ঘৃন্য কাজ করে তখন কি সে অন্যদের জানিয়ে করবে? সে তো চাইবে কেউ না জানুক, সে তো নিশ্চয় কোন লোক চক্ষুর আড়ালে কোথাও নিয়ে কাজটি করবে। এখন ধরুন, একজন নারী – সে ধর্ষণের শিকার হলো। উনি যখন যভিযোগ দিবেন তখন ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) প্রমানের জন্য উনার জন্য একমাত্র বিকল্প থাকে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি যে উনার সম্মতি ছাড়া সেখানে জিনা হয়েছে। এরপর কী হবে?

উনি যদি প্রমান না করতে পারেন যে তার সম্মতি ছাড়া জোর করে অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করেছে তখন জিনার শাস্তিটা তার উপরে বর্তাবে। ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন মৃত্যুশয্যায় শায়িত নারীও একা হাসপাতালে যেতে পারবে না স্বামী বা পরিবারের কর্তার অনুমতি ও সঙ্গ ছাড়া, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করবে তা তার অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন , তার প্রসব বেদনা উঠুক বা গলা কেটে চৌচির হয়ে যাক, কিচ্ছু আসে যায় না। তাই ধর্ষিত হোক আর যাই হোক বিচার দেবার ই সুযোগ নাই! তারপরেও কোনমতে বিচারে পৌঁছাতে পারলে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য আইন অনুযায়ী লাগবে চারজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য, কোথায় পাবে একজন ধর্ষিতা চারজন সাক্ষী? যদি পেয়েও যায় তাহলেও সাক্ষীদের মহা সমস্যা, তারা দেখেও কেন প্রতিবাদ করল না আর তারা দৃষ্টি সংযত না রেখে দেখল কেন এই অভিযোগে তারাও অভিযুক্ত হবে বা হতে পারে। তো কে দেবে সাক্ষী মার খাবার জন্য? যেহেতু সাক্ষী নাই সেহেতু অপরাধের তীর এবার ধর্ষিতার ঘাড়েই, তারপর অবিবাহিত হলে ১০০ দোররা বা বেত্রাঘাত, আর বিবাহিত হলে রজম বা গলা সমান মাটিতে পুঁতে পাথর বর্ষণ করে হত্যা, ইত্যাদি। এজন্য দেখবেন, ইসলামী আইনে চলা দেশগুলোতে ধর্ষণের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান কম। অথচ কেবল ইউটিউব ঘাটলেই সৌদিতে যৌন নিপীড়নের অজস্র ভিডিও পাবেন।

লক্ষ লক্ষ নারী গৃহকর্মী সৌদি থেকে ফিরে নিজ নিজ দেশে যেয়ে জানিয়েছেন তাদের বীভৎস সব অভিজ্ঞতার কথা। প্রতিদিন তারা ধর্ষিত হয়েছেন গৃহকর্তার কাছে, বারংবার, বাবা-ছেলে একসাথে ধর্ষণ করেছে, বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করেছে, শারিরীক মানসিক নির্যাতন করেছে, এসবে সেইসব পরিবারের মেয়ারাও কোন বাঁধা দেয়নি। বাংলাদেশের সৌদি ফেরত সহস্র নারী তাদের আহাজারি তুলে ধরেছে গণমাধ্যমে, সকল মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় আমরা এসব খবর দেখেছি। যারা ফিরে আসতে পেরেছে তারা জানিয়েছে যারা ফিরে আসতে পারে নি তারা আছে জলজ্যান্ত নরকে। তারা বাঁচতে চায়, কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ চায়। তারপরেও দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যান বলছে সৌদিতে ধর্ষণ নাই। কারন সেগুলো ধর্ষণ হিসাবে রেকর্ড হয়নি। সৌদির অনেক গৃহকর্তা মনে করে দাসীদের সঙ্গে সেক্স করা তাদের অধিকার, কারন তাদের তারা কিনে নেয়। ইসলামে জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধে পরাজিত নারীদের বন্ধি করে গনিমতের মাল, যৌনদাসী বানানোর বিধান আছে। সেই নারীদের বাজারে উঠিয়ে কেনা-বেচাও করা হয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদেরও একাধিক যৌনদাসী ছিল, উনি দাসী কেনা-বেচাও করেছেন। মনে করে দেখেন, আইএস ইয়াজিদী নারীদের কেনা-বেচা করতো। সেই নারীদের নরকসম জীবন, দুঃসহ স্মৃতি, সংগ্রামের অসংখ্য তথ্য আছে বিভিন্ন মিডিয়ায়।যেমন, লিংক-১, লিংক-২, লিংক-৩, লিংক৪, লিংক-৫। সৌদি, কুয়েত এসব দেশের অনেক গৃহকর্তা কিনে নেয়া গৃহকর্মীদের মনে করে যৌনদাসী। সেখানে অনলাইনে এই দাসী কেনা-বেচার বাজারও আছে। অনলাইনে সার্চ দিলে আপনি অসংখ্য তথ্য পাবেন।

ধর্ষিতা হলেও কেউ অভিযোগ করে না …

২০১৯ সালের শুধুমাত্র আগস্ট মাসে সৌদি আরব থেকে ১১১ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল, যাদের ৩৮ জন অভিযোগ দিয়েছিল তারা তাদের গৃহকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এখন ১২ মাসের হিসাব করেন। হিসাবে নেন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপাইন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে কত নারী যায় ও তাদের মাঝে কতজন এমন ধর্ষণের শিকার হয়। অনেকে অভাবের কারনে ধর্ষনকেও মুখ বুঝে মেনে নেয়।

“বাংলাদেশ কর্মজীবী নারী” নামের সংগঠনের সমন্বয়কারী নার্গিস আক্তার নীলা বলেন, “গৃহশ্রমিকেরা নির্যাতনের শিকার হন মালিকের বাড়িতে। সেখানে সে একা থাকে। তাই সে নির্যাতনের প্রতিবাদও করতে পারেনা। আর মামলা হলে তার পক্ষে সে নিজে ছাড়া আর কোনো সাক্ষীও থাকেনা। ফলে এখানে নির্যাতন বেশি। যেমন পোশাককর্মীরা এক সঙ্গে কাজ করেন। তাই তারা প্রতিবাদ করতে পারেন।” লিংক

অনেক উদাহরণ আছে যেখানে পাবেন, অভিযোগ করে বরং ধর্ষিতাকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সৌদি আরবে ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী গৃহকর্মীকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পরে তার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় জনমানুষের প্রতিবাদের মুখে ইন্দোনেশিয়া সেখানে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ইরানের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আতেফেহ সাহালে রজবী ইতিহাসের এক নির্মমতার গল্পের প্রধান চরিত্র যাকে ইসলামী আইনে জিনার দায়ে মৃত্যুদন্ড দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

Islamic Injustice to Women

এইগুলোর এক একটি ধরে উদাহরণ দিতে গেলে এই প্রবন্ধ অনেক বড় হয়ে যাবে। আপনারা অনলাইনে সার্চ দিলে এমন অনেক কেইস পাবেন যেখানে ধর্ষণের অভিযোগ দেয়ার পর উল্টো ধর্ষিতাকেই ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এজন্য ইসলামী আইনে চলা কোন দেশে কোন ধর্ষিতা সাধারনত ধর্ষণের অভিযোগ দেয় না

পাকিস্তানের প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মুনাওয়ার হাসানের মতে, “যদি কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয় এবং তার চারজন সাক্ষী না থাকে, তবে তার চুপ করে থাকা উচিত।” তিনি আরো বলেন, কোনো নারী যদি সম্মতিসূচক যৌনসম্পর্কের অভিযোগে বা ধর্ষণের অভিযোগ আনার পর চারজন প্রত্যক্ষদর্শী হাজির করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় “কোনো সমস্যা নেই।” তিনি নিজেই আরও বলেন যে চারজন সাক্ষী পাওয়া বাস্তবে সম্পূর্ণ অসম্ভব, যদি না ঘটনাটি কোনো চৌরাহায় ঘটে। মনে হয়, ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা তখনই তৈরি হবে, যদি তাকে অন্তত পাঁচজন অপরাধীর একটি দলের হাতে ধর্ষণের শিকার হতে হয় – যাদের মধ্যে চারজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে, এবং পরে সেই চারজনই মূল অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাবে। মূল কথা হলো – যদি কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয় এবং তার কাছে চারজন সাক্ষী না থাকে, তবে তাকে চুপ করে থাকা উচিত।

তাহলে ধর্মের নামে এই অবিচার চলতেই থাকবে?

আশার কথা হলো অনেক ইসলামী দেশ ধর্ষণের জন্য উল্টো ধর্ষিতাকে দায় দেয়া থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। যেমন, সুদান জিনার দায়ে উল্টো যেনো ধর্ষিতা শাস্তি না পায় সেই জন্য আইন প্রনয়ন করেছে। এই পরিবর্তনটি আসে এক বছর পর, যখন সুদানে এক তরুণ ইথিওপীয় নারী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর উল্টো “অশ্লীল আচরণ”–এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। আইনজীবীরা বলেন, সুদানে কোনো নারী ধর্ষণের অভিযোগ করলে তা প্রায়ই ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। নতুন সংশোধনীতে ধর্ষণের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে – যেখানে শারীরিক বা মানসিক জোরপূর্বক যৌন অনুপ্রবেশকে ধর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুদানি আইনজীবী হিকমা আহমেদ বলেন, আগে আইনটি এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারীকেই ব্যভিচারের আসামি করা হতো। নতুন সংশোধনী ধর্ষণের শিকার নারীদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সহজ করবে এবং আইনজীবীদের কাজও সহজ হবে। এই পরিবর্তনের পেছনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রচেষ্টা রয়েছে।

দুঃখের বিষয় হলো, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান এমন অনেক দেশে বিরাট সংখ্যক মানুষের মাইন্ডসেটে ইসলামিক আইন স্থায়ীভাবে গেঁথে গেছে। অনেক সময় তারা নিজেরাই সামাজিকভাবে জিনা/ব্যাভিচারের জন্য শাস্তির ভার নিয়ে শাস্তি কার্যকর করেন। বাংলাদেশেও এক সময় গ্রাম গঞ্জে ফতোয়া দিয়ে দোররা বা বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রচলিত ছিল, যেটা নারীদের উপরেই বিশেষত প্রয়োগ করা হতো। সেটা এখন কমে গেলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।

আপনি অনেক ইসলাম প্রচারকে বলতে শুনবেন, ইসলামে ধর্ষণের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা আছে। তারা বলেন ইসলাম চাক্ষুস চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী ও নিজের স্বীকারোক্তির পাশাপাশি আধুনিক কালের ধর্ষণ প্রমানের ব্যবস্থা যেমন, যখম, সিসিটিভি ফুটেজ, নারীর সাক্ষ, ডাক্তারি পরীক্ষা, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা এসব সমর্থন করে। অনেকে বলেন জিনা/ব্যাভিচার আর ধর্ষণ আলাদা, ধর্ষণ ফৌজদারী অপরাধ। এটা ঠিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপে অনেক ইসলামী দেশ এগুলো তাদের দেশের আইনে সংযোজিত করেছে বটে। কিন্তু মূল ইসলাম, তথা কোরআন, হাদীসের বিচারে এগুলো নেই। যা উপরে দেয়া বিভিন্ন লিংক সোর্সে আপনারা দেখেছেন।

শেষ কথা

জিনা বা ব্যাভিচারের নামে যে ইসলামের নির্মম শাস্তিগুলো যুগের পর যুগ ধরে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যেন অবশেষে দুনিয়া থেকে মুছে যায়; কারণ এই শাস্তিগুলো ন্যায়বিচারের চেয়ে ভয় ও নিপীড়নকেই বেশি স্থায়ী করেছে। আর ধর্ষিতার জন্য ন্যায়বিচার – যা তার মৌলিক অধিকার – তা যেন আর কোনো শর্ত, সাক্ষী, বা অমানবিক প্রমাণের বোঝায় চাপা না পড়ে। সমাজ যদি সত্যিই ন্যায় ও মানবিকতার দাবি করে, তবে তাকে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে অপরাধী শাস্তি পাবে, আর ভুক্তভোগী সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে দাঁড়াতে পারবে।

Related Posts

Islam is Outdated in this Era!

It is impossible for modern humans to move forward in parallel with Islam’s outdated ideas

A country where there will be no music, no theater, no cinema, no sports; whereRead More

Islam is Outdated in this Era!

ইসলামের সেকেলে ধারনার সঙ্গে আধুনিক মানুষের সমান্তরালে চলা অসম্ভব

একটা দেশে সংগীত থাকবে না, নাটক থাকবে না, সিনেমা থাকবে না, খেলাধূলা থাকবে না, মেয়েরাRead More

Who is More Humane

Religion, Ethnicity, Community, Ideology, Nationality: A Human Test

A small ship set out on a journey with a captain and 12 passengers. AmongRead More

Comments are Closed