
The hypocrisy of religious fanaticism
বাংলাদেশের ধর্মান্ধ মুসলিমদের তাকিয়াবাজি ও অন্যদের প্রতি ঘৃনাচাষের সংস্কৃতি
ইসলাম ধর্ম ও এর ধারক বাহকেরা যে কতটা ঘৃনা, ভয় ছড়ায়, মিথ্যাচার, তাকিয়াবাজি করে তার প্রমান পাওয়া গেছিল কোভিড প্যান্ডামিকের সময়ে বাংলাদেশে। এই ছবি ও নীচের স্ট্যাটাসটি আমি দিয়েছিলাম ১০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে। সেই সময়ের সেইসব স্ট্যাটাস চোখের সামনে ভাসে আর ভাবি এই ইসলাম ধর্মটা না থাকলে সমাজ, দেশ, বিশ্ব কতটা সভ্য, শান্ত, ভদ্র থাকতো। মনে আছে, ভারতে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে যখন বাড়তে শুরু করেছিল, শ্মশানে দাহ করার মতো জায়গা হচ্ছিলো না – তখন বাংলাদেশের অনেক মুমিনরা সে কি উল্লাস প্রকাশ করতো ভারতের উপর আল্লাহর সেনা করোনা শাস্তি দিচ্ছে বলে। কি অমানবিক, কি বিভিৎস, কি নৃশংস এই মানুষগুলোর মানসিকতা! ইন্ডিয়ার মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করায় আমাকে গালিগালাজ শুনতে হয়েছে, মার-ধোরের হুমকি দেয়া হয়েছে, আমার ইসলাম ধর্মের পক্ষের মহা ধার্মিক মা-বোনকে যাচ্ছেতাইভাবে গালি দিয়েছে ইসলামের পক্ষের সৈনিকেরা।
করোনা শুরুর দিকে মাওলানারা প্রচার শুরু করলো, সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, ইসলামে এটা বলা আছে, মুসলমানদের করোনা হলে কোরআন মিথ্যা হয়ে যাবে, করোনা বিধর্মীদের দমন করার জন্য আল্লাহর সেনা, কোন ভ্যাকসিন নেয়া যাবে না — ইত্যাদি ইত্যাদি! মুফতি ইব্রাহিম স্বপ্নে প্রাপ্ত করোনা থেকে মুক্তির কোরানিক ফর্মুলা বলে দিলেন। দেখা গেলো দেশে প্রথম যিনি কোভিডে মারা গেলেন তিনি ছিলেন একজন মস্ত বড় আলেম! ইসলামিস্টদের প্রিয় ত্যানাবাজ লেখক ডাক্তার শামসুল আরেফিন শক্তি হাসপাতাল ছেড়ে পালালেন, তাকে বার বার নোটিশ দিয়েও হাসপাতালে ফেরানো যায়নি, কোরআনের বানীর প্রচারক এক মহান ব্যক্তি – কোরআনে সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই – বানীকে পায়ে ঠেলে বলে দিলেন – চাকরি যায় যাবে, তবুও তিনি হাসপাতালে ফিরবেন না। আরো কতো কি দেখা গেছিল, ভিন ধর্মের মানুষের সেবা তো দূরে থাক, নিজ মুসলিম উম্মাহর ভাই ব্রাদারদেরই কেউ চিনতে পারছিল না। তবে আশার আলো হাতে কিছু দেবদূত অবশ্য নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, তাদের সামনে ছিল না কোন ধর্ম, কোন প্রনোদনা, কোন উপহার। তারা স্রেফ মানুষ হিসাবে, মানুষকে ভালবেসে এই মহানুভবতা দেখিয়ে গিয়েছিল।
কয়েকটি বছর, বিশেষ করে ২০২০ ও ২০২১ মহাকালের সাক্ষী হয়ে থেকে গেল পৃথিবীর ইতিহাসে। ধর্মের ফানুস চুপসে পড়েছিল সেই ভয়ংকর দিনগুলোতে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা, সামষ্টিক সহযোগীতার কত বেশি প্রয়োজন সেটা বিশ্ববাসী দেখেছিল সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোতে। দুঃখের বিষয় মানুষ এতো বড় প্যান্ডামিক থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি।
১০ এপ্রিল ২০২০ এর সেই স্ট্যাটাস
যুদ্ধক্ষেত্রেও মৃতদেহের মর্যাদা থাকে। অথচ এ ৯০ ভাগ মুসলমান দাবীদারদের দেশে মৃতদেহ কবরস্থ করা তো দুরে থাক, মৃতদেহ বহন করার জন্য খাটিয়াটা পর্যন্ত দিচ্ছে না সমাজের ধারক বাহকেরা। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় ঘটেছে এ ঘটনা। ভাইয়ের মৃতদেহ বহন করার জন্য উপাসনালয়ের খাট চাইতে গেছিল তিন ভাই মিলে। ধার্মিক ভাইয়েরা দেয়নি কারন তাদের সন্দেহ লোকটি করোনায় মারা গেছে। পরে তিন ভাই মিলে মৃত ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে গেছে। পুলিশের সাহায্যে সে ভাইয়ের লাশটি শেষ পর্যন্ত কবরস্থ করেছে তারা। ৯০ ভাগেরা আবার বলে – সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, উপসনালয় সৃষ্টিকর্তার ঘর, সেখানে কোন রোগ হবে না, তারা শান্তির ধারক। ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড। কেউ কেউ বলবে এরা প্রকৃত ৯০% না – এই বা*ল শুনতে শুনতে খুঁজেই পাই না কারা আসল ৯০%। বাংলাদেশে নাকি পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক বন্ধন, মানবিক মূল্যবোধ ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে উন্নত – এই গু মাথায় ঢুকিয়ে বড় হয়ে এখন দেখি এক অমানবিক, নৃশংস, চোরে ভরা, মূর্খ সমাজের অংশ আমরা। এর চেয়ে ধর্মহীন দেশগুলোর মানুষেরা অনেক বেশি মানবিক, সামাজিক – সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার মানুষের অভাব নেই।
ইসলামে সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই। অনেক হুজুরই এসব নিশ্চিত করেছেন – মুফতি ইব্রাহিম, মুফতি রাজ্জাক, মুফতি রাজ্জাকের ছেলে, মুফতি হামজা, শায়েখ আহমাদুল্লাহ-সহ … অনেকে। তারপরেও যারা ত্যানা প্যাঁচাবেন তাদের জন্য সহিহ হাদিসগুলো দিলামঃ
– hadithbd.com/hadith/link/?id=30304
– hadithbd.com/hadith/link/?id=75301
– hadithbd.com/hadith/link/?id=75304
– hadithbd.com/hadith/link/?id=30340 বোনাস হিসাবে এই হাদিসে পাবেন, নারীরা মানুষের (পড়ুন পুরুষের) জন্য অমঙ্গল
– hadithbd.com/hadith/link/?id=37358
Related Posts

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism
19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার
১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্টRead More

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups
In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

Comments are Closed