Hajj
The Hajj Industry of Islam

The Hajj Industry of Islam

ইসলামের নামে সৌদি আরবের লাভজনক হজ্ব ব্যবসা!

এই আরব প্রিন্স এই গায়িকার মাথার উপরে যেগুলো ছড়াচ্ছেন সেগুলো কাগজ নয়, টাকা। তাদের এক টাকার মান আমাদের কত টাকা সেটা তো জানেন। টাকাটা কোথায় উড়াচ্ছে, কোথায় গুঁজে দিচ্ছে একবার দেখুন। আপনি হয়তো জানেন না – সেখানে আপনার দেয়া টাকাও আছে।

এখন যে লক্ষ লক্ষ মানুষ তীব্র গরমের মধ্যে মক্কায় চক্কর দিচ্ছে, শয়তানকে মারার উদ্দেশ্যে একটা লম্বা পাথরে পাথর ছুঁড়ছে, উল্কাপিন্ড থেকে পড়া একটা পাথরে চুমু দিচ্ছে, রুক্ষ পাথুরে পাহাড়গুলোর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত উদভ্রান্তের মতো দৌঁড়াদৌড়ি করছে, আকাশের দিকে হাত তুলে কান্নাকাটি করছে – এখানে তাদের টাকাও আছে। সারাজীবন সঞ্চয় করে, নিজে ও ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনে না দিয়ে যারা হজ্ব, ওমরার নামে সৌদি গিয়ে টাকা ঢেলে আসে – এই টাকা তাদেরও।

তেল পাওয়ার আগে তাদের প্রধান আয়ের উৎস ছিল এই হজ্ব ব্যবসা। সৌদি আরবের অর্থনীতিতে হজ্জ এবং ওমরাহ (ধর্মীয় পর্যটন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্বালানি তেলের পর এটিই দেশটির আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। হজ্জ ও ওমরাহ থেকে সৌদি আরব প্রতি বছর গড়ে ১২ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১,২০০ থেকে ২,০০০ কোটি ডলার) রাজস্ব আয় করে। ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী বার্ষিক ওমরাহ যাত্রীর সংখ্যা ৩০ মিলিয়নে উন্নীত করে এই আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতির প্রায় ২৫% থেকে ৩০% ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান সম্পূর্ণভাবে এই হজ্জ ও ওমরাহ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল।

ইসলামের দাবী অনুযায়ী আদম, ইব্রাহিম, মুসা, যীশু ওরফে ঈশা সবাই মুসলমান ছিলো, তাদের ধর্ম ইসলাম ছিলো অথচ তাদের ধর্মে হজ্ব নাই, তারা মক্কাই চিনতো না, তাদের কোন কিছুই প্রাচীন বেদুঈন যাযাবরদের শহর মক্কা কেন্দ্রিক না! ইব্রাহিম কাবাঘর যদি বানায় তাহলে ইহুদিদের তীর্থ হতো মক্কার কাবাঘর। তারাও হজ্ব করত। অথচ সেমিটিক ধর্মের কয়েক হাজার বছরের কোন সোর্স থেকে জানা যায় না কাবাঘর ও হজ্ব এর কথা!

মক্কা ও হজ্ব ছিলো রুক্ষ, দূর্ভিক্ষপীড়িত মরুর বুকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জন করার একটা কৌশল মাত্র যার প্রয়োগ এখনো হচ্ছে। সেটি নবী মোহাম্মদের ক্ষমতাকেন্দ্র ও তার প্রতি আনুগত্য নির্দিষ্ট করার একটা উপায়ও ছিলো। সৌদি প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মূদ্রা আয় করে এই হজ্ব থেকে। সেখানকার লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে এই হজ্ব ব্যবসা থেকে। বাংলাদেশের মতো দেশের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিকরা না খেয়ে, শরীরের চামড়া খসিয়ে যে বৈদেশিক মূদ্রা নিয়ে যায় দেশে, দেশের প্রায় বৃদ্ধ, কবর যাত্রার আগের সারির মানুষ তার একটা বড় অংশ আবার অপচয় করে আসে হজ্বে গিয়ে। নামের আগে হাজী লাগানোর একটা খাসলতের কারনে দেশের অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হয়।

ধর্মের যেই অংশ পালন করতে পয়সা লাগে,সেইটা মূলত ব্যবসা। ধর্ম নিজে একটি পুরুষতান্ত্রিক পণ্য আর তার মধ্যে পুঁজিবাদী অংশ হলো এই টাকা পয়সা দিয়ে ধর্ম চর্চা। এটা দীর্ঘদিন ধরে যত্ন করে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসলামের নবী মক্কায় সংরক্ষিত দেব-দেবীদের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছে, তার পূর্ব পুরুষের ধর্ম ত্যাগ করেছে কিন্তু তাদের আচরিত হজ্ব কিন্তু ত্যাগ করে নাই। কারণ সুদীর্ঘ কাল ধরে এই হজ্বের সাথে ব্যবসা জড়িত! এখন সৌদি আরব অন্য কোন আরব দেশের সাথে হজ্বের ব্যবস্থাপনা ভাগাভাগি করেনা কারণ এখানে অর্থ আয়ের সুযোগ রয়েছে যদিও হজ্ব বিশ্বের সব মুসলমানদের ব্যাপার! সৌদির সঙ্গে ইরানের বিরোধের এটাও একটা কারন, ইরান ইসলামের শক্তিমান স্টেকহোল্ডার হিসাবে এই হজ্ব ব্যবস্থাপনার হিস্যা চায়।

আমেরিকার প্রখ্যাত রিয়েলিটি শো উপস্থাপিকা কিম কার্দাশিয়ান কে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল এক সৌদি প্রিন্স তার জন্মদিনে সন্ধ্যায় শুধু একটু উপস্থিত থাকার জন্য। ১ মিলিয়ন ডলার বা ১২ কোটি টাকা! সৌদি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা রিফিউজিদের জন্য অবশ্য এর চেয়ে কিছু বেশি দিয়েছে বটে, এর দেড় গুন মানে ১.৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৮ কোটি টাকা! নিজের দেশের মানুষ, নিজের পাশের প্রতিবেশী অর্থাভাবে আছে কিনা তা না দেখে সৌদিকে আরো বেশী করে হজ্ব ব্যবসা করার সুযোগ করে দিন! সামনের বছর আবার হজ্বে যান বা আরো অনেককে পাঠান! সৌদি প্রিন্সদের পার্টিতে কিম কার্দাশিয়ানদের উপস্থিতির জন্য সেটা প্রয়োজন।

Related Posts

Politics in the Public Sphere

Actresses Shabana, Moushumi, Popy – Religious Sentiment and the Politics of the Public Sphere

In the history of Bangladeshi cinema, names like Shabana, Moushumi and Popy mark important chapters.Read More

Politics in the Public Sphere

নায়িকা শাবানা, মৌসুমী, পপি – ধর্মানুভূতি এবং জনপরিসরের রাজনীতি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে শাবানা, মৌসুমী কিংবা পপির মতো নাম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারা আশি, নব্বই ওRead More

Hindu Attacked for Speaking

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities

The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

Comments are Closed