nonsense people

Nonsense People

একটি আবালীয় প্রজন্মের বৈপ্লবিক উত্থান

টেকনোলজির কল্যানে মানুষের উন্নতি হয়, মন মানসিকতার উন্নতি হয়, দৃষ্টিভংগির উন্নতি হয়। আমাদের দেশে মানুষের উপার্জন বাড়ছে ঠিকই কিন্তু মন মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মনে হয় একটা আবালীয় প্রজন্ম বেড়ে উঠছে চায়না সস্তা মোবাইল ও ফেসবুকের সুবাদে।

একটা সময় ছিল মানুষ ইন্টারনেট বলতে বুঝত একটা ইয়াহু মেইল। এমন ও হয়েছে আমি অফিসের এক কলিগ কে একটা জি-মেইল খুলে দিলাম। ( ও এই সুযোগে বলে নেই আগে যে কেউ চাইলেই জি-মেইল খুলতে পারত না, একজন একাউন্টধারী ৫ – ৫০ জনকে ইনভাইট করতে পারত জি-মেইলে। তারাই শুধু খুলতে পারত। আমাকে ইনভাইট করছিল সামিউল।  তখন একটা জি-মেইল থাকা মানে স্মার্টনেস। ইয়াহু হটমেইল মাত্র ১০ এম বি স্পেস দিত সেখানে জি-মেইল শুরুই করেছিল ১ জিবি দিয়ে। এখন যদি আপনাকে কোন সার্ভার কোম্পানি ফ্রিতে ১০ টেরাবাইট ব্যকআপ দেয় আপনার যেমন অনুভূতি হবে, তখনও ঠিক তেমন অনুভূতি ছিল ) 

তবে এই ঘটনা আরো কয়েক বছর পরের, তখন সবাই জি-মেইল খুলতে পারে। তো অফিসের ঐ কলিগ একদিন বলে উনি আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে জি-মেইলে লগ ইন করতে পারছে না। আমি দেখলাম উনি জি-মেইলে ঢোকার চেষ্টা করছেন ইয়াহু থেকে। এটা বাস্তব ঘটনা, আমার নিজের অভিজ্ঞতা। তখন ইন্টারনেট বলতে বেশীরভাগ মানুষ ইয়াহুকে বুঝত। বেশীদিন আগের কথা না, ৭/৮ বছর আগে।

এখন? এখন কি অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে? হয়েছে, তবে ইয়াহুর জায়গায় এখন এসেছে ফেসবুক। এখন লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে ইন্টারনেট বলতে বোঝে ফেসবুক। ড্রাইভার, পিওন, কাজের লোক সবাই এখন ফেসবুক একাউন্টধারী। একসময় মানুষ মানুষের ঠিকানা চাইত, তারপর চাওয়া শুরু করল মোবাইল নাম্বার, এখন অনেকে জিজ্ঞেস করে ফেসবুক আইডি।

তো? এত স্মৃতিচারন করে কি হবে? ফেসবুক কিন্তু প্রথম কোন সোস্যাল নেটওয়ার্ক না। এর আগেও অনেক সোস্যাল নেটওয়ার্ক ছিল। তবে তারা চিন্তা করেছিল ঐ ডেটিং পর্যন্তই। খারাপ শোনালেও সত্য এখন ফেসবুক বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের সেই ডেটিং ইচ্ছা পূরন করছে, বেশীরভাগ মানুষ ফেসবুকে ঢোকেই বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে সময় কাটাতে বা খুঁজতে।

জুকার ২০০৪ সালের আগে ফেসবুক বানিয়েছিল, তবে সেটা ছিল নির্দিষ্ট একটা ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের নেটওয়ার্ক হিসাবে। জুকার নীচে আবার লিখেও দিয়েছিল ” এ্যা মার্ক জাকারবার্গ প্রোডাকশান “, অল্পবয়সীরা যেমন কিছু হলে নিজের নাম প্রচারে ব্যস্ত থাকে। এমনকি সে ফ্রন্টপেজে আবার লিখেও রেখেছিল এটা স্কুল- কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য শীঘ্রই সার্ভিস দিবে। তবে আজ দুনিয়ার এক নাম্বার সোস্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক। মাইস্পেস, অর্কুট, হাই ফাইভ, গুগল বাজ, গুগল ওয়েভ কিছুই টিকতে পারেনি ফেসবুকের সামনে। ফেসবুকের জনপ্রিয়তার কারন হল এর সিপ্লিসিটি। ফাংশনগুলো সহজ, সবাই একবারেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। 

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়াতে ও মানুষের উপার্জন বেড়ে যাওয়াতে কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহক হয়ে যায়। এক এক জনের আবার ২/৩ টা করে সেট এবং সংযোগ আছে। মোবাইল গ্রাহক বেড়ে যাওয়া খারাপ না। তবে এই গ্রাহকদের একটা বড় অংশেরই এই ডিভাইসটির কোন পজেটিভ দরকার নেই। এখন পোলাপান মোবাইল কেনে বা ব্যবহার করে ফেসবুক চালানোর জন্য। ফেসবুক একাউন্ট না থাকা বা না চালাতে পারা বা ফেসবুকে একসেস না থাকা একটা বিরাট প্রেস্টিজ হ্যাম্পার ইস্যু। থাক, বাপের টাকায় প্রেস্টিজ বাঁচাক। মার্কেটে টাকার ফ্লো থাকুক। ব্যাপার না। 

কিন্তু ব্যাপার আছে! এরা ইন্টারনেট বলতে ফেসবুক বোঝা শিখেছে। ইন্টারনেট যে একটা বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার, চাইলেই এখান থেকে তার পড়াশুনার সকল তথ্য, রোগবালাইয়ের তথ্য যে পাওয়া যায় এটা সবাই জানে না।   যদি জানত তবে কেউ কাউকে আর বেশী জ্বালাত না এটা শিখব কেমনে, ওটা করব কিভাবে এগুলো বলে।

আমরা মোবাইল, ইন্টারনেট পেয়েছিলাম ধীরে ধীরে। কিন্তু এই প্রজন্ম বুঝতে শিখেই পেয়ে গেছে সহজলভ্য মোবাইল ও ইন্টারনেট। হঠাৎ অবারিত বা উন্মুক্ত রাস্তা পেয়ে পথ ভুলে যায়।

ফেসবুকের জন্য বাংলা ভাষার অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। জানি ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল, তবে ঐতিহ্য বলেও একটা কথা আছে। ফেসবুকের স্টাটাসে সবাই এমন সব শব্দ ব্যবহার করে ওগুলো না হলে তাদের জাত যায়।  অনেকে আবার ধরেই নিচ্ছে ঐ শব্দগুলোই স্মার্টনেসের পরিচায়ক। গন্ডায় গন্ডায় বানান ভুল, বাক্য ভুল দেখি সব বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের স্ট্যাটাসেও। কমন সব বাংলা, ইংরেজী ভুল। অন্যদের অবস্থা তাহলে কি সেটা অনুমেয়। ড় এর জায়গায় র লেখা এবং র এর জায়গায় ড় লেখা এখন একপ্রকার স্মার্টনেস বলেই মনে করে ফেসবুক প্রজন্ম। ভাষাও এক সময় এদের এই অত্যাচার নিজের দেহে ধারন করে নিবে।

ফেসবুকের এই নতুন প্রজন্ম যে শুধু কমবয়সী ছেলেমেয়েরা, তা না। অনেক নারী, পুরুষ, অলস গৃহবধু থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষিত লোকও এই ফেসবুক প্রজন্মে নাম লিখিয়েছে। তবে কোম্পানিগুলো ও ধান্দাবাজরা এই প্রজন্মকে শুধুই মার্কেট হিসাবে দেখে। একের পর এক ফেসবুক ফ্যান পেজ বের হচ্ছে। ধুমছে লাইক – শেয়ার করে যাচ্ছে এই প্রজন্ম। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা এই ভেদাভেদ করার কমন সেন্স হারিয়ে ফেলছে। তারা মনে করে ইন্টারনেটে দেয়া হয়েছে – তাহলে তো এটা সত্য। আগে যেমন মানুষ মনে করত – ঐ জিনিস বইয়ে লেখা আছে বা সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে, সুতরাং ঐটা সত্য। কিন্তু ইন্টারনেটের সকল তথ্যকে কাগজের বই বা সংবাদপত্রের সঙ্গে তুলনা করে লাভ নেই। ইন্টারনেটে যে কেউ যে কোন সত্য মিথ্যা তথ্য দিতে পারে। এই প্রজন্ম যতদিন এই সত্য – মিথ্যা বোঝার মত কমন সেন্স ডেভেলপ না করবে ততদিন আবালই থেকে যাবে, আরো আবাল হবে।

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে কিছুদিন আগে জুকার তার নিজস্ব পেজে তার একং তার স্ত্রীর একটা ছবি পোস্ট করেছিল। সেখানে ৯০% কমেন্ট ছিল বাংলাদেশ থেকে এবং যতসব উদ্ভট, আজগুবি কমেন্ট। জুকার উত্তরে কিছুই বলেনি, তবে বুঝে গিয়েছিল এই আবালদের দিয়ে তার বিজ্ঞাপনের মার্কেট কয়েকগুন বাড়বে। অনেকের ধ্যান জ্ঞান এখন ফেসবুক। ক্লাসের লেকচার ফাঁকি দিয়ে, অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে এখন ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায় প্রজন্ম। অথচ এই ফেসবুকের অনেক ভাল ভাল জিনিস, ফেসবুককে ব্যাবহার করে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করা যায় সেটা তারা জানে না। অনেকে আবার দুপুরে কি খেয়েছে, কেন মন খারাপ, কি মুডে আছে, কখন কোথায় যাবে এগুলো ফেসবুকে না লিখলে তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। ব্যক্তি জীবন কে তারা পাবলিক করে তাদের ব্যক্তি জীবনে অন্যদের অনধিকার চর্চা করার সুযোগ দিচ্ছে । এতে অনেক পরিবারের পারিবারিক বন্ধনে ফাটল দেখা দিচ্ছে, সম্পর্কগুলো কেমন কৃত্রিম হয়ে যাচ্ছে। এরাই আবাল ফেসবুক প্রজন্ম।

এই আবলামীর সুযোগ নিচ্ছে অনেকে। বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও জঙ্গি অনেক রাজনৈতিক দলও। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বুঝে গেছে এখন আর রেডিও টেলিভিশনের বেল নেই বা থাকবে না। টেলিভিশনের চেয়ে এখন ফেসবুকে মানুষ থাকে বেশী। তাইত ক্লোজ-আপ একটা ছবি দিয়ে বা কয়েক বাক্য দিয়ে প্রশ্ন করে ‘কার কার জীবনে এমন ঘটেছে?’ বা কোন উদ্দেশ্যমূলক পেজ ধর্মীয় অনুভূতিকে ধোকা দিয়ে একটা ধর্মীয় বানী দিয়ে জিজ্ঞেস করে ‘ কে কে এইটা লাইক করেন? ‘ এমন আরো শত শত ভন্ডামি শুরু হয়েছে ফেসবুকে। আবাল প্রজন্ম এইগুলা বোঝে না। 

এই আবালদের ব্রেন ওয়াশ করছে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দল। আওয়ামীলীগ বা বি এন পির সেই টেকনিক্যাল মুরোদ এখনো হয়নি যে টেকনোলজিকে ব্যবহার করে একটা বড় প্রজন্মকে সঠিক রাজনৈতিক পাঠ বা ইতিহাস জানানো যায়। এইজন্য একজন রাজাকারের জন্য ফেসবুকে কাঁদার মানুষের অভাব হয় না। অনেকে ধর্ষনের জন্য দায়ী করে মেয়েদের পোশাককে। অথচ এরা নেট ঘেটে কোনদিন দেখেনি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড বা ভারতের গোয়ায় শত শত মহিলা সম্পূর্ণ বা প্রায় নগ্ন হয়ে সাগর সৈকতে শুয়ে থাকে, ঘুরে বেড়ায় রাস্তা ধরে। কেউ তাদের কিচ্ছু বলে না বা ফিরেও তাকায় না তাদের দিকে। কোন সেমিনারে পাশে বসা মেয়েটি হাফপ্যান্ট পরে থাকে, কিন্তু কেউ তার পায়ে হাত বুলিয়ে দেয় না অন্ধকারে। গত কয়েকদিনে দেশে অনেকগুলো ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে, ২ জন বাবা তাদের জন্ম দেয়া শিশুকন্যাকে ধর্ষন করেছে, প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে – ঘরে ঢুকে জোর করে তাকে ধর্ষন করা হয়েছে, পঞ্চম শ্রেনীর শিশু ধর্ষিত হচ্ছে, গারো মেয়েকে ফিল্মি কায়দায় মাইক্রোবাসে তুলে গনধর্ষন করা হচ্ছে। এই আবাল প্রজন্ম এখানে মানবতার অপমান দেখে না। কেউ মেয়েদের পোশাকের দোষ ধরলে সেখানে লাইক, কমেন্ট করে সমর্থন জানায়। কেউ বলে বাংলাদেশে মহিলারা পর্দা করলে ধর্ষন বা যৌন নিপীড়ন কমে যাবে। তাদের এই উদাহরন দেখে শেখার মত কমন সেন্স হয় না। একটু হিসাব করে একমাসের ঘটনা বিশ্লেষন করে এরা দেখে না এগুলোর একটাতেও পোশাকের কোন ব্যাপার ছিল না। তবে আমি নিশ্চিত, পোশাক কে ধর্ষনের জন্য দায়ী করা লোক ফেসবুকে অনেকগুন বেশী। মানুষ তার সংস্কৃতি, ধর্ম মেনে শালীন পোশাক পরবে এটাই কাম্য, কিন্তু কোন অজুহাতেই একটা মানুষের লোলুপতা, অন্যায়, আইন ভঙ্গকে সমর্থন দেয়া যায় না।

বাংলাদেশে যেমন গনতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশ হয়নি তেমনি ভিন্নমত সহ্য করার মত সংস্কৃতিও গড়ে উঠেনি। কারো ভিন্নমতের প্রতিবাদ হতে হবে অন্য কোন মত দিয়ে বা লেখা দিয়ে। মৌলিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার মানবাধিকার প্রতিটা মানুষেরই থাকবে। বর্তমানের আবাল প্রজন্মের একটা বড় অংশই এই মন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে না। তারা ব্রেইন ওয়াশড হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব দেখায়। তাদের তীর্থস্থান ফেসবুকেই আবার সেটা প্রকাশ করে।

ফেসবুক এই আবাল প্রজন্মকে লোভের ফাঁদেও ফেলছে। এই আবাল প্রজন্মের টাকা দরকার, ইন্টারনেটের মূল্য এবং মোবাইলের টকটাইম কেনার টাকাই তাদের এখন প্রধান খরচের তালিকা। এই সুযোগে অনেক সাইট ওনার তাদের সাইটের ভিজিটর বাড়িয়ে নেয় এই আবালীয় সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা আবালদের দিয়ে। ডোল্যান্সারের সম্ভাব্য প্রতারনার কথা অনেককে বলে আমি তাদের বিরাগভাজন হয়েছিলাম। পরে যখন বাঁশ গেঁথে গেছিল পশ্চাৎদেশে তখন ঠিকই বুঝেছে। তবে শেখেনি। এরা মনে করে ইন্টারনেট মানেই টাকা। ইন্টারনেটে টাকা আছে কিন্তু তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে নিজেকে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার মত দক্ষ বানাতে হয় এই আবালীয় প্রজন্ম সেটা বোঝে না।

এর মাঝে আবার জুকার ফ্রি ইন্টারনেটের মূলা ঝুলিয়েছে। দুনিয়ায় ফ্রি বলতে কোন জিনিস নেই। সবকিছুর জন্য কোন না কোন স্বার্থ আছে।  প্রধান স্বার্থ ফেসবুক কে যে এদেশের আবালীয় প্রজন্ম ইন্টারনেট মনে করে সেই ধারনা আরো পাকাপোক্ত করা। অন্য কিছু সাইট ফ্রি দিলেও মূলত ফেসবুকের জন্যই মানুষ এই সেবা নিবে। এক প্রতারক কোম্পানি রবি আবার এই উদ্যোগ শুরু করছে যারা গ্রাহক কে না জানিয়ে তাদের টাকা কেটে নেওয়ার জন্য সুবিদিত। এই সার্ভিসের মাধ্যমে ফেসবুক শীর্ষস্থানে যেতে চায়। যাক, তবে ফেসবুক বলছে তাদের এই সেবার ফলে ব্যবহারকারীদের ১০% দারিদ্রসীমার উপরে উঠ যাবে। এটা কিভাবে হবে আমার সরল ক্যালকুলেশানে মিলে না, আমি আবাল হয়ে গেলাম। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আরো কিছু মোবাইল ডিভাইস কোম্পানি। ফেসবুক যেমন তার একক গ্রাহক থাকার কারনে বিজ্ঞাপন অনেক বেশী পাবে তেমনি ডিভাইস কোম্পানিগুলোর ডিভাইস বিক্রিও বেড়ে যাবে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ডিজুসের ফ্রি কথা বলার সুযোগ দিয়ে একটা বাঁচাল প্রজন্ম পয়দা করেছিল মোবাইল কোম্পানিগুলো, যার ফলাফল স্বরুপ সেই বাঁচাল প্রজন্ম এখন তাদের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। ফেসবুকের সুবিধা হল তারা একটি আগে থেকেই তৈরি আবাল প্রজন্ম পাচ্ছে, এই সুযোগে সেই সংখ্যা আরো বাড়বে। ফেসবুকের হয়ত কিছু সেবাধর্মী উদ্দেশ্য আছে তবে সেগুলো এই আবালদের কোন উন্নতি করবে বলে মনে হয় না। 

যাইহোক, এই আবাল প্রজন্মের ছোটরা আবার হাজারে হাজারে জিপিএ ফাইভ পায়। কিভাবে পায় সেটা সবাই জানে। এরা একদিন ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, শিক্ষিত হয়ে মানবতার ধারক হবে। তবে এদের হাতে আমরা, দেশ ও মানবতা নিরাপদ তো?

কিছু ছেলে মেয়ে নিজের ও পরিবারের প্রচেষ্টায়  টেকনোলজিকে ভালভাবে নিয়ে ঠিকই উপরে উঠে যাবে। কিছু ছেলে-মেয়ে ঠিকই ফেসবুকের প্রতিবাদের বাইরে এসেও রাস্তায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। তবে এই সংখ্যা আবাল প্রজন্মের সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।

দূর্নীতি করে বা না করে অনেকে হয়ত অর্থনৈতিকভাবে ভাল অবস্থানে যাবে, কিন্তু টেকনোলজির ছোঁয়া তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মন মানসিকতায় পরিবর্তন আনবে নাকি আবাল করেই রেখে দিবে? দেখা যাক কি হয়!

[ লিখতে চেয়েছিলাম একটা ছোট্ট স্ট্যাটাস, লেখা হয়ে গেল কতটা ]

Related Posts

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism

19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার

১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্টRead More

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups

In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

Comments are Closed