Islam
Asia Bibi - a Victim of The Darkness of Islam

The Darkness of Islam

ইসলাম কি এমন আদর্শিক মতবাদ যার একটাও ভাল উদাহরণ নেই?

ইসলামের ভয়াবহ ঘৃনা ও নির্মমতার শিকার এই ভদ্রমহিলার নাম আছিয়া বিবি। যারা নাম নিয়ে ত্যানা প্যাঁচান তাদের বলি – উনি খ্রিস্টান। পাকিস্তানের এই নারীকে ব্লাসফেমির অভিযোগে টানা ৮ বছর মৃত্যুদণ্ডের কক্ষে (death row) বন্দি করে রাখা হয়।

অভিযোগ কি ছিল জানেন?
অভিযোগের শুরু হয়েছিল একটি অত্যন্ত সাধারণ ও দৈনন্দিন ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তিনি মুসলিম সহকর্মীদের সঙ্গে মাঠে কাজ করছিলেন। কাজের ফাঁকে তৃষ্ণা পেলে তিনি কুয়ো থেকে পানি তুললেন এবং সেখানে পাওয়া একটি পুরনো ধাতব কাপ দিয়ে পানি খেলেন। এই কাজটুকুই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য যথেষ্ট হয়েছিল।

পাকিস্তানের গ্রামীণ সমাজে বহু মুসলমান খ্রিস্টানদের “অশুচি” বা “নাপাক” মনে করে। সেই সামাজিক বিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি নাকি মুসলমানদের পানির পাত্র “দূষিত” করতে চেয়েছেন। কিন্তু স্রেফ এই কথাকে তো আইন মেনে নিবে না, তাই মুসলমানরা বলা শুরু করলো উনি নবী মুহাম্মদকে অবমাননা করে কথা বলেছেন। ব্যাস, তৌহিদী জনতা ফুঁসে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়।

আছিয়া বিবির মামলার বিরুদ্ধে প্রাদেশিক গভর্নর প্রকাশ্যে আপত্তি জানালে, তাঁকে তাঁরই দেহরক্ষী হত্যা করে। পরে সেই দেহরক্ষীকে উগ্রপন্থীরা ইসলামের “নায়ক” হিসেবে প্রচার করে – এটাই ইসলাম।

মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি এমন একটা বিষয় যার কারনে জঙ্গি মনস্ক মুসলমানেরা যুগে যুগে প্রচুর মানুষকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী হত্যা করেছে নবীকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে, শাতিমে রাসূল ট্যাগ দিয়ে। নবী মুহাম্মদই এই সূত্রপাত করে গেছিল, তাকে যারা নূন্যতম সমালোচনাও করতো এমন অনেককেই উনি গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করেছিলেন, এমনি গর্ভবতী নারীর পেট চিরে তাকে ও তার শিশুকে হত্যা করতেও উনি উৎসাহ দিয়ে গেছেন। উনি এই নিয়মও করে যান যে উনার সামান্যতম অশ্রদ্ধা হয়, এমন কিছু বললেও সে শাতিমে রাসূল হয়ে যাবে, এবং তার আর ক্ষমা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, মুসলমানদের কর্তব্য তাকে হত্যা করা। সে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়ে তওবা করলেও মাফ পাবে না। অথচ আল্লার বিরুদ্ধে কথা বলে তওবা করলে কেউ মাফ পেতে পারে। নবী মুহাম্মদ নিজের জন্য এমনই বিধান রেখে গেছে। এজন্য খেয়াল করে দেখবেন অন্ধ মুসলমানরা নবীর তথাকথিত অপমান হয়েছে মনে করলে তাকে হত্যা করতে চায়। দিপু দাসকে পিটিয়ে ও আগুণে পুড়িয়ে কিভাবে হত্যা করেছিল – সে তো দেখেছেন।

ভারতবর্ষে লেখালিখির কারনে ও ইসলামের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে প্রথম কোন হত্যাকান্ড ঘটে কলকাতায়, ১৯২৪ সালে। তিনি কলকাতার একজন ছোট প্রকাশক ছিলেন, যিনি বিদেশি বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ করতেন, নাম নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। যে হত্যা করেছিল সে ছিল পতিতালয়ের একজন দালাল, সে নিজেও জানতো না উক্ত বইতে কি লেখা ছিল।

দ্বিতীয় যে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো করাচীর যুবক ইলমুদ্দিন, প্রকাশক রাজপালকে হত্যা করেছিল – তাকেও মুসলমানরা নায়ক বানিয়েছিল। স্বয়ং জিন্নাহ তার পক্ষে কোর্টে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের উগ্রপন্থীরাও এক একজন ইলমুদ্দিন হতে চেয়ে প্রচার চালায় এখনো। আতাউর রহমান বিক্রমপুরীদের ‘এন্টি শাতিম মুভমেন্ট’ এর দিকে নজর রাখলেই দেখতে পাবেন সবাই ইলমুদ্দিনকে কিভাবে বীরের চোখে দেখে, তার মতো করে বাংলাদেশে হত্যা করতে চায়।

উপরে তো দেখলেন, সামান্য একজন কৃষি শ্রমিক, মুসলমানদের সঙ্গে জীবনভর মিলেমিশে একইসঙ্গে কাজ করে গেছে, অথচ সামান্য এক কারনে তাকে মুসলমানেরা হত্যাযোগ্য করে তুললো! ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আছিয়া বিবিকে খালাস দেয়। কিন্তু রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার তৌহিদী জনতা রাস্তায় নেমে তাঁর অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে ভয়াবহ তান্ডব চালায়। একটি স্থানীয় জরিপে দেখা যায়, প্রায় ১ কোটি পাকিস্তানি বলেছেন – সুযোগ পেলে তাঁরা নিজেরাই আছিয়া বিবিকে হত্যা করতে প্রস্তুত।

রায়ের পর তাঁর আইনজীবীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আছিয়া বিবি নিজেও মাসের পর মাস লুকিয়ে ছিলেন। অবশেষে তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে কানাডায় আশ্রয় পান।

এই ঘটনাটি দেখায় – পাকিস্তানে তথা ইসলামী শাসনের অধীনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা, ভিন্ন মতের মানুষ কীভাবে চিরস্থায়ী ভয়, সহিংসতা ও মৃত্যুর হুমকির মধ্যে বসবাস করে। এটাই ইসলামী শাসনের নমুনা।

পাকিস্তান ইসলাম মানে না, সৌদি, ইরান, আফগানিস্তান কেউ প্রকৃত ইসলাম মানে না – এসব মডারেট মুসলমানদের স্রেফ মিথ্যাচার। ইসলামকে ডিফেন্ড করার জন্য মিথ্যা বলা তথা তাকিয়াবাজি করা তাদের জন্য জায়েজ। কি এমন আদর্শিক মতবাদ যার একটাও ভাল উদাহরণ নেই?

Related Posts

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups

In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

অন্ধকারের মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেয়ার ফল বাংলাদেশ আরো পাবে, অনেক পাবে

বাংলাদেশে সবসময়ই একটা উগ্রবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আছে যারা গান, নাচ, সংস্কৃতি চর্চাকে ভয় পায় এবংRead More

Hijab is My Choice!

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries

Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

Comments are Closed