
Religions and Violence Against Children
ধর্মীয় শাসন বা অনুশাসন কি শিশুদের উপরে ঘটা সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে?
জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী শিশুদের উপর যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর বা শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ (উচ্চ স্কোর) এর দেশগুলো হলো –
- যুক্তরাজ্য (82.7)
- সুইডেন (81.5)
- কানাডা (75.3)
- অস্ট্রেলিয়া (74.9)
- যুক্তরাষ্ট্র (73.7)
- জার্মানি (73.1)
- দক্ষিণ কোরিয়া (71.6)
- ইতালি (69.7)
- ফ্রান্স (65.2)
- জাপান (63.8 )
অন্যদিকে বিভিন্ন ডেটা‑এ্যানালিসিস করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা (বিভিন্ন সূচকের মিলিত চিত্র)
- পাকিস্তান — নিম্ন সুরক্ষা স্কোর + উচ্চ CSAM রিপোর্ট
- বাংলাদেশ — উচ্চ CSAM রিপোর্ট, আন্ডাররিপোর্টিং সমস্যা
- ভারত — বিশ্বে সর্বোচ্চ CSAM রিপোর্ট সংখ্যা
- ফিলিপাইনস — অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনের বৈশ্বিক হটস্পট হিসেবে পরিচিত (CSAM রিপোর্টে ২য়)
- ইন্দোনেশিয়া — উচ্চ CSAM রিপোর্ট + দুর্বল সুরক্ষা কাঠামো
- ইরাক / আলজেরিয়া — উচ্চ CSAM রিপোর্ট, সংঘাত‑প্রভাবিত অঞ্চল
বিশ্বে শিশু যৌন সহিংসতা সর্বত্রই ব্যাপক, এবং কোনো দেশই নিরাপদ নয়। UNICEF‑এর মতে, বিশ্বের ১ বিলিয়ন শিশু প্রতি বছর কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার।
আপনি যদি এই দুই তালিকা মিলিয়ে দেখেন তবে পাবেন, শিশুদের জন্য আইন, সুরক্ষা‑ব্যবস্থা ও প্রতিরোধ শক্তিশালী এমন সব দেশই ধর্মীয়ভাবে নিরপেক্ষ, তাদের সমাজে ও রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্মের কোন প্রভাব নেই। এই দেশগুলোর অধিকাংশতেই নিধার্মিক মানুষের সংখ্যা বেশি। বিশ্ব শান্তি ইনডেক্সেও তারা শীর্ষে থাকে, অর্থাৎ মানুষের তৈরি কল্যানমুখী আইন ও তার প্রয়োগেই তাদের সফলতা এসেছে, কোন ধর্মীয় আইন বা অনুশাসন তাদের সমাজে প্রয়োজন হয় না। মোল্লাদের জনপ্রিয় যুক্তি নারীর খোলামেলা শরীর ধর্ষককে প্ররোচিত করে – এই যুক্তিও এখানে কার্যকরী নয়, কারন তাদের দেশগুলোতে পোশাকের অবাধ স্বাধীনতা, কিন্তু শিশুদের উপর যৌন সহিংসতা কম।
এবার পরের ৭ টি দেশ দেখেন, সবখানেই ধর্মীয় উন্মাদনা ভরপুর, ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মানবতা, আইনের শাসন, সুবিচার চিন্তাই করে না। তার মধ্যে ৫ টিই আবার মুসলিম প্রধান দেশ। ভারতও আছে এই তালিকায় তবে তাদের অবস্থা অতোটা শোচনীয় না, তাদের দেশের জনসংখ্যা অনেক ও রিপর্টিং হয় বেশি, আন্ডার রিপোর্টিং এর অভিযোগ নেই, এজন্য এই তালিকায় তারা আছে।

এবার যদি দেখেন, বিশ্বে শিশুদের উপর যৌন সহিংসতা সবচেয়ে কম বিপোর্ট হয় এমন দেশ কারা কারা – সেখানে আপনি পাবেন –
- পাকিস্তান (পুলিশে অভিযোগ নিলে পরিবারকে হুমকি, সামাজিক লজ্জা)
- বাংলাদেশ (পরিবার, সমাজ, পুলিশ—সব স্তরে নিরুৎসাহ)
- আফগানিস্তান (বাচ্চা ছেলেদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ব্যাপক, Talib*an‑শাসনে রিপোর্টিং প্রায় অসম্ভব, Almost no reliable data )
- ইরাক (সরকারী ডেটা প্রায় নেই)
- আলজেরিয়া (সামাজিক ট্যাবু ও ধর্মীয় লজ্জা)
- ইন্দোনেশিয়া (Severe underreporting due to stigma)
- ফিলিপাইনস (শিশু নির্যাতন নিয়ে কথা বলা সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত)
- চীন (রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের কারণে প্রকৃত ডেটা পাওয়া কঠিন)
- মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ (সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, ইউএই – পরিবারিক সম্মান‑সংস্কৃতি, আইনগত সংজ্ঞা অস্পষ্ট, বিদেশি শ্রমিকদের শিশুদের ক্ষেত্রে ডেটা প্রায় নেই)
পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের উপর ঘটে যাওয়া কয়টি যৌন সহিংসতা রিপোর্ট হয়? অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দেখেন, ধর্মীয় শরীয়া আইনে শিশুদের উপর ঘটা যৌন নির্যাতনের সংজ্ঞাই ঠিক নেই, আহরে শরীরা আইন! বিদেশী শ্রমিকদের শিশুদের উপর ঘটা যৌন সহিংসতা তারা রিপোর্টই করতে দেয় না। “The countries where there is most risk is where we have the least information on the issue.” (অর্থাৎ যেখানে রিপোর্ট কম, সেখানেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।) Low Data = High Risk.
দুনিয়ার আইন, আদালত, সুরক্ষা, শান্তি, সমৃদ্ধি সব সূচকই বলে ধর্ম নিয়ন্ত্রিত দেশ ও সমাজ তলানিতেই থাকে বরাবর। অন্যদিকে সেই সব দেশগুলোই থাকে শীর্ষে যারা মানুষের তৈরি সেক্যুলার আইন বাস্তবায়ন করে, যাদের মানুষদের ভিতরে ধর্মীয় উন্মাদনা নেই। একটা দেশে আপনি শিশুদের বিয়ে, তাদের সঙ্গে যৌনতার মতো বিষয়গুলো ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মীয় মহাপুষদের জীবনের পেডোফিলিয়ার উদাহরণ দিয়ে সামাজিকভাবে গ্রহনযোগ্য করে রাখবেন, আর আশা করবেন দেশে শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে? পেডোফিলিয়ার বাম্পার উৎপাদনের সব ব্যবস্থা জারি রেখে আপনি শিশুদের উপর ঘটা যৌন সহিংসতা কিভাবে রোধ করবেন?

একই সঙ্গে অনেক দেশে ইসলামের মতো আইন চলতে দিবেন আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন? সেটা তো হওয়ার নয়। ইসলামে শিশু বিবাহ, তাদের সঙ্গে যৌনতা তথা ধর্ষণ বৈধ – এ আইন রদ করতে গেলে ওসব দেশের তৌহিদী জনতা কি মেনে নিবে? পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের উপর নানা ধরনের ভয়ংকর সহিংসতা হয়, যার অধিকাংশই থাকে রিপোর্ট বিহীন। সৌদি আরবসহ মিডল ইস্টের শরীয়া আইন নিয়ন্ত্রিত দেশগুলোতে সব রকমের সহিংসতার সংজ্ঞাই নিরধারিত নেই। ইরানের মতো দেশে ১৩ বছর হলেই কন্যশিশুদের বিয়ে দেয়া যায়, দত্তক নেয়া বাবাও তার কন্যাকে বিয়ে করতে পারে, এই আইন আছে। ইরাকে ৯ বছরের কণ্যাশিশুদের দিয়ে দেয়া যায়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে শিশুদের বিয়ের পক্ষে তৈহিদী জনতার বিপুল সমর্থন! আপনাদের এই লক্ষ্য ২০৩০ কেন ২০৫০ সালেও কি বাস্তবায়ন করতে পারবেন, অন্তত ইসলামী আইন চালু রাখতে দিয়ে? মানবাধিকার, নারী অধিকার, শিশু অধিকার, বিজ্ঞান এবং ইসলাম একই সঙ্গে সমান্তরালে চলতে পারে না কোথাও।
ডেটা সোর্সঃ আন্তর্জাতিক গবেষণা, UNICEF, EIU, Interpol ও রিপোর্ট ১, রিপোর্ট ২
Related Posts

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?
This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?
এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?
Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed