Rahaaf
Rahaaf’s Escape from the Brink of Death

Rahaaf’s Escape from the Brink of Death

সৌদি তরুণী রাহাফকে আল্লাহ হত্যা করতে চেয়েছিল, UNHCR তাকে বাঁচিয়েছিল

“আমি ভয় পাচ্ছি, আমার পরিবার আমাকে মেরে ফেলবে।”

রাহাফ ছিল ১৮ বছর ১০ মাসের এক তরুণী। ১১ মার্চ ২০০০ সৌদি আরবের হাইল প্রদেশে জন্ম নেয়া এই তরুনীকে আল্লাহ ও তার রাসূল, ইসলামের ভাষায় দুনিয়ার দুই মালিক চুল সমান পুলসিরাত পার করিয়েছিলেন। একটু হলেই তার ঘাড় থেকে গর্দান নেমে যেতো।

জীবন বাঁচাতে উনি সৌদি থেকে পালিয়ে কুয়েত হয়ে অস্ট্রেলিয়ার পথ ধরেছিলেন। তারিখটা ছিল ৫ জানুয়ারি ২০১৯। থাইল্যান্ডের সুবর্নভূমি এয়ারপোর্টে দীর্ঘ ট্রানজিট থাকায় উনি এয়ারপোর্টে হোটেল নিয়েছিলেন, আগেই থাই কর্তারা তার পাসপোর্ট জব্দ করে রাখে। সৌদি কর্তৃপক্ষ থাই সরকারকে জানায় সেদেশে তাদের এক মহা ক্রিমিনাল(!) আছে যাকে স্বয়ং দুনিয়ার দুই মালিক দুই ডান হাতওয়ালা আল্লাহ ও তার শিশুকামী গ্যাংস্টার রাসূল হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা থাই কর্তৃপক্ষ কোন বাল হে, আগে ধরো, ধরে ফেরৎ পাঠাও, আমরা আল্লা-রাসূলের নামে ধড় থেকে মাথা আলাদা করি। থাই কর্তৃপক্ষ সৌদির ধমকে প্যান্টে মুতে ফেলে। অস্ত্র-শস্ত্রসহ পাইক পেয়াদা পাঠায় হোটেল রুমে তাকে ধরার জন্য, আল্লার শত্রু বলে কথা!

রাহাফ তার সম্ভাব্য বিপদ বুঝতে পারেন, সামনে যতো বিপদই আসুক উনি দরজা লক করে রাখায় মনস্থির করেন। থাই নিরাপত্তার লোকজন প্রথমে বুঝিয়ে শুনিয়ে দরজা খুলতে বলেন। উনি খোলেননি, উনি রুমের সমস্ত ফার্নিচার, বেড বেডিং দিয়ে আল্লাহকে দরজার বাইরে ঠেকিয়ে রাখেন। ৬ জানুয়ারি ২০১৯ এবং ৭ জানুয়ারি ২০১৯ উনি একটা লাইভ টুইট করেন – “I’m afraid, my family WILL kill me.”

তার এই এক টুইট মাত্র কয়েক ঘন্টায় বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ৮-৯ জানুয়ারি ২০১৯ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপে থাই কর্তৃপক্ষ রাহাফকে UNHCR-এর সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেয়। তার বাবা ও ভাই ব্যাংককে আসেন তাকে ফিরিয়ে নিতে। রাহাফ বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ফিরে যেতে রাজি হননি, কারন তার পরিবারও তাকে অনার কিলিং করার সমস্ত আয়োজন করে রেখেছিল।

৯ জানুয়ারি UNHCR রাহাফকে আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী মর্যাদা দেয়। ১১ জানুয়ারি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ঘোষণা করেন – কানাডা UNHCR-এর অনুরোধে রাহাফকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করবে। সিউল হয়ে তিনি কানাডার পথে রওনা হন। ১২ জানুয়ারি ২০১৯ টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাহাফ। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড তাকে স্বাগত জানান।

এভাবে আধুনিক মানবিক মানুষেরা আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্মমতার হাত থেকে এক তরুণীকে বাঁচিয়ে দেন। এই যাত্রা ছিল খুবই শংকাময়। প্রতি পদে পদে ছিল নিশ্চিত শিরোচ্ছেদের ভয়, একটু হলেই সৌদি ফিরিয়ে তাকে জনগণের সামনে আল্লহর নামে হত্যা করা হতো।

রাহাফ মুহাম্মাদ মুতলাক আল-কুনুন – বাড়িতে শারীরিক নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বড় হয়ে একসময় তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন। সৌদি আইনে এটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য এবং পরিবার তাকে “সম্মান রক্ষার” নামে হত্যার হুমকি দিয়েছিল বলে তিনি জানান।

সৌদি আরব একটি ইসলামিক রাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দেশটির মূল আইনের প্রথম অনুচ্ছেদেই বলা আছে, ইসলাম হলো রাষ্ট্রের ধর্ম এবং কোরআন ও হাদিস হলো সংবিধান। শরিয়া আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত এই দেশে ব্লাসফেমি ও ধর্মত্যাগ – অর্থাৎ ইসলাম ছেড়ে দেওয়া – উভয়ই মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

সৌদি আইনে যা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য
ধর্মত্যাগ – মৃত্যুদণ্ড
ব্লাসফেমি – মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘ কারাবাস
ইসলামের সমালোচনা – নিষিদ্ধ
নারীর স্বাধীন চলাফেরা – পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন
পারিবারিক অবাধ্যতা – কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সৌদি আইনে ব্লাসফেমির সংজ্ঞা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং ব্যাপক – বিচারকরা নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক মাধ্যমে ছোট একটি পোস্ট বা অনুভূতি প্রকাশও ব্লাসফেমি মামলার কারণ হতে পারে। ব্লগার রাইফ বাদাউয়িকে ব্লাসফেমি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ৬০০ বেত্রাঘাত ও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

রাহাফের পালানোর কারণ শুধু ব্লাসফেমি আইন নয় – সৌদি আরবের নারী অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাও সমান দায়ী। এই আইনে নারীদের জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে – ভ্রমণ, বিবাহ, শিক্ষা, চাকরি – একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন। দেশ ছেড়ে যাওয়া, এমনকি পরিবারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণও “পারিবারিক অবাধ্যতা” হিসেবে কারাদণ্ডযোগ্য।

“আমি ভাগ্যবানদের একজন। আমি জানি এমন অনেক দুর্ভাগা নারী আছেন যারা পালানোর চেষ্টা করে নিখোঁজ হয়ে গেছেন, অথবা তাদের বাস্তবতা পরিবর্তনের কোনো সুযোগই পাননি।”
— রাহাফ মুহাম্মাদ, টরন্টো, জানুয়ারি ২০১৯

মুসলিম দেশগুলোতে রাহাফের মতো শত শত নারীর গল্প আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায় না – তারা নীরবে ইসলামের নৃশংসতার কাছে ফিরে যেতে বাধ্য হন, অথবা চিরতরে হারিয়ে যান, আমরা কেউ তাদের জীবনের সেই অধ্যায়গুলো জানতে পারি না। ইতিহাসে ইসলাম, তার আল্লাহ ও তার রাসূলের নৃশংস আক্রোশের শিকার হয়ে এভাবে কত প্রাণ ঝরে যায়, কত প্রাণ কোনরকমে আপোষ করে বেঁচে থাকে – তা মানবিক মানুষের পরিসংখ্যানের হিসাবে থাকে না। শুধুমাত্র কারো ব্যক্তিগত মতের জন্য যে ধর্মীয় মতাদর্শ একজন মানুষের জীবন নিভিয়ে দিতে বলে – সেই ধর্মীয় মতাদর্শকে আর কতদিন স্পেস দিবে শান্তিকামী মানুষ?

Related Posts

Are All Social Customs Beneficial?

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you

I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

Are All Social Customs Beneficial?

‘হেফাজতে সমাজ’ – গ্রুপ সমাচার! আপনার চারিদিকে আপনি এদের দেখা পাবেন

আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। সেদিন স্কুল ছিল না, সম্ভবত বাড়ির জন্য বাজার করে সাইকেলেRead More

Morality without Religion

The Birth of Conscience: How Humans Became Moral Without Allah or Religion

It was almost seventy-five thousand years ago. A group of Neanderthals lived in the ShanidarRead More

Comments are Closed