Education
Islam and Education

Islam and Education

সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স সিনড্রোম ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার ডুবন্ত মান

এই যে ছবিগুলো দিয়ছি সেগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে আছে। এই একই ধরনের জিনিস ইসলামের বিপক্ষে গিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকে থাকলে কি হতো একবার ভাবুন তো! কি তুলকালামই না বাধাতো হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাইপুতেরা, সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানেরা! জঙ্গিরা মাথার দাম ঘোষনা করতো কতজনের? এখন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তাদের সংখ্যাগরিষ্ট শিশু বড় হয়ে যে আলোকিত দৃষ্টিভঙ্গি ধারন করবে সেটা কি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সম্ভব?

WB Text Book 01

মনে আছে – ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের দাবীর মুখে মৌলবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে সরকার পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দিয়েছিল, হুমায়ুন আজাদকে নাই করে দিয়েছিল, অন্য অনেক সেক্যুলার ধারার লেখা বাদ দিয়েছিল? মৌলবাদীরা প্রকাশ্যে গলা ফুলিয়ে বলে, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিবর্তনবাদের মতো মৌলিক জীববিজ্ঞানের পাঠ বাদ দিতে! সরকারও নতজানু হয়ে সেই সিদ্ধান্ত কিছুটা মেনেও নেয়। বাংলাদেশের সংসদেও এই বিবর্তনবাদ বাদ দেয়ার পক্ষে দাবী উঠে! একটা দেশের পুরো জনগোষ্ঠীকে অন্ধ করে রাখার কি মহা তোরজোড় সর্বত্র!

বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে বড় হচ্ছে এক ভয়ংকর অন্ধত্ব নিয়ে, যেখানে তারা জানছে ধর্মীয় বই, বিশেষ করে কোরআনই সবকিছু, কোরআনে কিছু বলা হয়েছে মানে সেটা বিজ্ঞানের চেয়ে আগে প্রাধান্য দিতে হবে। বিষয়টা এমন যে, বিজ্ঞানের কোন সূত্র বা ফ্যাক্টকে বিজ্ঞানের ফ্রেমে জাস্টিফাই করার চেয়ে কোরআনের আয়াতের আলোকে জাস্টিফাই করতে হবে! কি ভয়ংকর মানসিকতা। ধর্ম একটা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, আর বিশ্বাস জিনিসটাই অন্ধ। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, বিজ্ঞান বা আধুনিক চিকিৎসা সেটা মানবে? মেডিক্যাল শিক্ষায় কোনটাকে প্রাধান্য দেয়া হবে?

WB Text Book 02

এই প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়ে এতোটাই অন্ধ যে তারা কোন যুক্তি বোঝে না, লজিক্যাল ফ্যালাসি নিয়ে তারা জীবন পার করবে। ফেসবুকের পোস্ট, কমেন্ট সেকশানে এদের দেখা পাবেন হাজারে হাজারে। মনে আছে – দুই বছর আগে বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে পুলিশ জেলে ভরেছিল ক্লাসে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনায়। উনি বলেছিলেন, “এটা বিজ্ঞানের ক্লাস, ধর্মের ক্লাস নয়। বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত। আর ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস।” কিছু ছাত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলোচনায় কোরআন টেনে নিয়ে আসে, সেই কথোপকথন আবার ফোনে রেকর্ডও করে, এরপর মব ক্রিয়েট করে তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। আমার এই লেখায় সময়ের সেই অন্ধকার অধ্যায়ের বর্ননা পাবেন। একজন শিক্ষক বিজ্ঞানের ক্লাসে বিজ্ঞানের কথাই বলবেন, এটাই স্বাভাবিক, ধর্মীয় পুস্তকে কি বলা আছে তা তো বিজ্ঞানের শিক্ষকের গোনায় ধরার কথা নয়। এই সামান্য যুক্তিটাই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মানে না। বিজ্ঞানকে ধর্মের কাছ থেকে কোন সনদ প্রয়জন হয় না, তাহলে ধর্মকে কেন এতো বিজ্ঞানের সনদ প্রয়োজন হয়? তাও মিথ্যা সনদ!

WB Text Book 02

চাকুরীজীবনের প্রথম বছরে কয়েক মাস শখের বশে কক্সবাজারে চাকুরী করেছিলাম। তখন কক্সবাজারে এতো রোহিঙ্গা শরনার্থী না থাকলেও একেবারে কমও ছিলো না। উখিয়া, কুতুপালং বিভিন্ন শরনার্থী শিবির ঘুরে ঘুরে দেখতাম। সবখানে দেখতাম টুপি আর টুপি। ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের মাথায়ও টুপি। মায়ানমারের রাখাইনের এপারে কক্সবাজার। কক্সবাজারের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অনেক মিল। শত শত বছর ধরে এপার ওপার তো মূলত কোন বাধা ছাড়াই মানুষ চলাচল করেছে। এখনো তাদের আত্মীয় স্বজন এপারে ওপারে আছে। সেইজন্য আপনি যদি এক দশক আগেও কক্সবাজারের মরিচ্যা, হ্নীলা, উখিয়া, টেকনাফ গিয়ে থাকেন আর সেদিন যদি হাটবাজার হয় তবে আপনি নিশ্চিত সেখানে দেখবেন প্রায় সব মানুষের মাথায় টুপি। একেবারে ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে নব্বই বছরের বৃদ্ধ প্রায় সবার মাথায়ই টুপি। আমি বলতে চাচ্ছি সংস্কৃতিগতভাবেই তারা ধর্মভীরু, আধুনিক শিক্ষার চেয়ে মক্তব, মাদ্রাসার শিক্ষাকে তারা বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভাবে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জেনেছিলাম প্রাইমারী স্কুলে নিয়োগের জন্য সেখানে নারী কোটা পূরন করার মতো যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। শিক্ষার হার ছিলো খুবই কম। এখন এতো বছর পরে অবস্থার কিছু হয়তো পরিবর্তন হয়েছে। বাঙ্গালিরা স্বাধীন দেশে বাস করে তাদের শিক্ষার অধিকার সম্পর্কে হয়তো আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা এখনো শিক্ষা সম্পর্কে তেমন ধারনা রাখে না। এজন্য তাদের মাঝে কথা বলার মতো, নেতৃত্ব দেয়ার মতো তেমন উল্লেখযোগ্য কাউকে পাওয়া যায় না। আমার ফেসবুকে মাঝে মাঝে ২/৪ জন কমেন্ট করে বা ম্যাসেজ দিয়ে জানায় আমি যতোই ড্রিগ্রি নিয়ে থাকি না কেন, আমার ভিতরে যদি কোরআনের জ্ঞান না থাকে তবে আমি নাকি মূর্খ। রোহিঙ্গাদের মানসিকতাও হয়তো তেমন। তাদের শিক্ষা, সম্পদ, ক্ষমতা কম থাকলেও তাদের ভিতরে একটা গর্ব তথা সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স কাজ করে যে তারা মুসলমান হিসাবে শ্রেষ্ঠ জাতি। পরকালে অন্যরা যখন ভয়াবহ আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হবে, পুঁজ-রক্ত খাবে ওরা তখন স্বর্গে বসে হাসবে আর মদ, নারী, বাড়ি নিয়ে আনন্দ ফূর্তি করবে। আসলে এই সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্সও তাদের আনন্দহীন জীবনের হতাশা থেকেই আসে।

রোহিঙ্গারা শিক্ষার মর্ম বোঝেনি, মক্তব মাদ্রাসায় পড়ে আর যাই হোক শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিজ্ঞানী, নেতা হওয়া দূরুহ। এজন্য গত এক শতাব্দীর ইতিহাসে তারা অনেক ঐতিহাসিক ভুল করেছে। বার্মা যখন স্বাধীন হয় তখন থেকে শুরু করে এখনো তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সবকিছুর মূলে তাদের আধুনিক শিক্ষায় অংশগ্রহনে অনীহা। বলতে পারেন, তাদের সেই সুবিধা কেউ দেয়নি। আসলে সুবিধা একটা সময় নিজে অর্জন করে নিতে হয়। রোহিঙ্গাদের নিয়ে এতো কথা বলছি কেন? আপনি যদি শত বছর আগের বাংলা অঞ্চল দেখেন তবে তাদের সঙ্গে মিল পাবেন। তখনো বাঙালি মুসলমানেরা আধুনিক শিক্ষার মর্ম বুঝতো না। তাদের সামনে অনেক অপশন থাকলেও তারা মাদ্রাসাকে বেছে নিয়েছিল শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে। যার ফল পাওয়া গিয়েছিলো পরবর্তীতে – মুসলমানেরা ভারতবর্ষে পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছিলো।

আপনি যদি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখেন তবে দেখবেন মুসলমানদের মধ্যে এক হাজী মহসিন ছাড়া অন্য তেমন কেউ আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে আসেনি। যেদিকে তাকাবেন সবই দেখবেন হিন্দু বা খ্রিস্টান শিক্ষানুরাগীদের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান। বি এল কলেজ, বি এম কলে্জ, এম সি কলেজ, সেইন্ট জেভিয়ার্স, হলিক্রস, নটরডেম, গ্রেগরী, এম এম কলেজ এমন সব নাম। বলবেন সেকালে মুসলমান ধনকুবের ছিলো না। আসলে সেটা ভুল, তারা আধুনিক শিক্ষার পরিবর্তে মাদ্রাসাকে বেছে নিয়েছিলো মুসলমানদের শিক্ষার প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসাবে। এখন যেসব মুসলমান শিক্ষানুরাগী দেখেন তাদের সবাই অন্য ধর্মের মানুষের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক তাদের হাতে তৈরি হয়েছিলো। হিন্দুদের গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলমানরা ফ্রিতে পড়ার সুযোগ পাওয়াতে কিছু মানুষ আলোকিত হতে শুরু করেছিল। একটা শ্রেনী মুসলমানদের এই অচলায়তন ভেঙ্গেছিলো বলেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলন হয়েছিলো, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছিলো। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এ অঞ্চলের মুসলমানদের প্রথম অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর অনেক অবদান, রবীন্দ্রনাথের কোন অবদান নেইই, বরং তিনি বিরোধীতা করেছিলেন। আমি এ বিতর্কে যাব না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগেই নবাব সলিমুল্লাহ মারা যান, তিনি অবশ্য অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্ঠা ছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথের বিরোধীতার কথাও ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত নয়। তথাকথিত ইন্ডিয়া বয়কটের ধোঁয়ার কারনে এই বিতর্ক কেউ কেউ সামনে আনছে। সলিমুল্লাহ মুসলমান, রবীন্দ্রনাথ মুসলমান নয়, এটাই মূল কারন এই বিতর্কের। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরেই রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিলো, তিনি স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে একবার তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বোঝা যায় বাঙালিত্বে ও বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথের উচ্চতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই সময়ে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে।

ঢাকার নবাবদের নিজস্ব জমি ছিলো সামান্য। তাদের মূল ভূ-সম্পত্তি ছিল মূলত ওয়াকফ স্টেট যা অন্য মুসলমানরা নবাবদের দান করেছিলো। আজ ঢাকায় নবাবদের নামে অনেক কিছু আছে। যেমন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ। তার নামকরণের ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে পাবেন জনাব সলিমুল্লাহ দান করেছিলেন পাঁচ হাজার টাকা, রাণী দিনমণি পঞ্চাশ হাজার টাকা আর মিটফোর্ট দিয়েছিলেন তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়, জমি সব। তবু নামকরণ হলো নবাবের নামে, আর দিনমনির নাম প্রায় বিলুপ্ত! এই সত্যগুলো আপনারা জানেন? বাঙ্গালি মুসলমান কিছু যাচাই করে দেখে না, ধর্মের নাম বা মুসলমানের নাম থাকলেই ধরে নেয় সেটা ঠিক বা তারাই সেরা। ঠিক যেমনভাবে তারা ভাবে বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান সবচেয়ে বেশী, সবকিছুই আবিষ্কার হয় কোরআন গবেষণা করে। অথচ তারা যাদের মুসলমান বিজ্ঞানী ভাবে সেই ইবনে রুশদ, ইবনে সিনা, খারেজি প্রমুখদের সবাইকে তৎকালীন মুসলিম শাসকেরা অমুসলিম ঘোষনা করেছিল, জেলে ভরেছিল। মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই তাদের বিজ্ঞান নিয়ে সাধনা করা লেগেছিল।

বাংলাদেশের মানুষের নিজেদের ভোটের অধিকার নেই, অথচ তারা চায়ের দোকানে বসে আমেরিকার নির্বাচন বিশ্লেষন করে। তারা নিজের দেশের সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বীদের অধিকার দেয় না, তারা গাঁজার মানুষের জন্য কেঁদে বুক ভাসায়। বাংলাদেশে বছরে মানসম্মত একটা সিনেমা হয় না, দেশের মানুষের ঘুম হয় না শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে। এদের চিন্তা, চেতনা, মননের সবটুকুই আবর্তিত হয় ধর্ম ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। বাক স্বাধীনতা, সমতা, নারীর অধিকার, গণতন্ত্র কোন কিছু নিয়ে তাদের ভাবনা নেই, তারা মাতামাতি করে ভিন্ন প্রসঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান এখন যে তলানিতে, গবেষণায় নেই উল্লেখ করার মতো কোন অর্জন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে সবাই জিম্মি সে বিষয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই। এককালের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড যে এখন এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও থাকে না তা নিয়ে কোথাও বিতর্ক নেই। মানুষ ব্যস্ত একশত বছর আগে সলিমুল্লাহ ও রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে। কারন এখানে মানুষের জন্য জনপ্রিয় মুসলমান, হিন্দু ও রাজনৈতিক তর্কের সুযোগ আছে। সুবিধামতো মুসলমানদের অবদানকে শ্রেষ্ঠ বানিয়ে হিন্দুদের ছোট করতে পারলে তারা আনন্দের সঙ্গে ঘুমাতে পারে।

ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন শুরু হওয়ার আগে হিন্দুদের অনেক ধর্মীয় শিক্ষালয় ছিলো টোল নামে। টোল হচ্ছে এমন শিক্ষাকেন্দ্র যেখানে সংস্কৃত ভাষা শিখে পুরোহিত বা পুজারী ঠাকুর তৈরি হয়, মানে হিন্দুদের মাদ্রাসা/মক্তব। কিছু কিছু দর্শন, স্বাস্থ্য শিক্ষা, সমাজসেবার মতো বিষয়ও ছিল। সেই টোল ভারত স্বাধীন হবার পর সরকারীভাবে পরিত্যাগ করা হয়। ইংরেজ আসার পর ভারতীয় হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা মত প্রকাশ করেন, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অধ্যায়ন না করে এইসব টোলে সংস্কৃত পড়ে কোন উন্নতি করা যাবে না। বাংলার অন্যতম মহানায়ক বিদ্যাসাগর সরাসরি টোলের বিরোধীতা করে সবাইকে ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ নেয়ার কথা বলেন। নদীয়া হচ্ছে হিন্দু পন্ডিত তৈরির কারখানা। সেটাই ছিল প্রসিদ্ধ। সেই প্রায় ৪০০০ বর্গকিলোমিটার ও ৫২ লক্ষ মানুষের নদীয়াতে টোল কমতে কমতে এখন ২৫টিতে গিয়ে ঠেকেছে। এসব টোল সরকারের অনুদান বা বিশেষ কোন কিছু পায় না। হিন্দুরা টোল পরিত্যাগ করে শিক্ষা দীক্ষায় অনেক এগিয়ে গিয়েছিল আধুনিক শিক্ষার কল্যানে। এখনো তারা অনেক পরমত সহিষ্ণু, অন্তত তুলনামূলক বিচারে। তাদের বিশ্বাসের সমালোচনা করলেও তারা মারার জন্য তেড়ে আসে না বেশীরভাগ ক্ষেত্রে।

একজন বা এক দেশ যখন এগিয়ে যায় অন্য অনেকে তখন শুধু পিছিয়েই নয়- চরমমাত্রায় অজ্ঞ এবং কিছু ক্ষেত্রে অসভ্য থেকে যায়। হিন্দুদের টোলের ঐতিহ্য কিন্তু ছিল অনেক পুরানো। সেই টোল তারা পরিত্যাগ করেছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়েছে। তাতে কোথাও কোন শব্দ হয়নি। কিন্ত ঐ একই ভারতে মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করে দিতে গেলে তুলকালাম বেঁধে যাবে, কতগুলো যে প্রাণ পড়বে তার ইয়াত্তা নেই। বাংলাদেশ, পাকিস্তানের রাস্তায়ও আগুন জ্বলবে। কিন্তু আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান, সভ্যতা, দর্শনে মাদ্রাসা শিক্ষার ভুমিকা কি সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না, কারন ঐ যে সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স সিনড্রোম। তাদের ধারনা মাদ্রাসার শিক্ষা তথা কোরান হাদীদের জ্ঞান শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।

আমেরিকা ধর্মীয় শিক্ষা ত্যাগ করে ১৮৫২ সালে তাদের শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলো। অনেক দেশ তারও ১৫০ বছর পরেও এটা পারেনি। যাইহোক, কথা ঐটাই। সঠিক কাজ সবসময় মানুষ পছন্দ নাও করতে পারে। কিন্তু যেটা যৌক্তিক, যেটা সঠিক সেটা নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। না হলে একজন যখন ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলবে তখন অন্যজন জীন সাধনা, কুফরী, যাদু, টোনার চর্চা করবে! বিশেষ করে এই উপমহাদেশে অনেক মুসলমানদের চিন্তা, চেতনা, মননে পিছয়ে পড়ার কারন তাদের নিজেদের ব্যর্থতা, ধর্মকে আকড়ে ধরার কারনে তাদের কোন পরিবর্তন কখনো হবে না, সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স সিনড্রোমে তাদের আরো অনেকদিন ভুগতে থাকবে।

Related Posts

Islam and Bengali Culture

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?

This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

Islam and Bengali Culture

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?

এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Islamist cyber‑based jihad activities

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?

Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed