Truth
Is Islam expanding rapidly?

Is Islam expanding rapidly?

ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে – এটি আরো অনেক জনপ্রিয় ইসলামিক মিথের মতোই স্রেফ একটি মিথ

ইসলামিস্ট বক্তৃতায় একটি দাবি বারবার উঠে আসে – প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে, পশ্চিমে মসজিদ ভরছে, অবিশ্বাসীরা দলে দলে কালেমা পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে মসজিদের মিম্বর থেকে মাঠের রসালো বক্তার গরম ওয়াজ – এই গল্প সর্বত্র। অরো অনেক মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের হাস্যকর দাবীর মতো ইসলামিস্টরা এই দাবীও করেন। কিন্তু পরিসংখ্যান ও গবেষণা কি বলে? বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল, এবং অনেক ক্ষেত্রে এই দাবির সরাসরি বিপরীত।

সেলিব্রেটি ইসলামিক প্রচারকরা জানান – চাঁদে আজান শোনা যায়, চাঁদে ফাটল আছে, সুনীতা উইলিয়ামস মহাকাশ থেকে আলোকিত কাবাকে দেখেছেন পৃথিবীর মাঝে, আমেরিকার প্রকৌশলীরা জীন পেলে বড় বড় লোহার ব্রীজ বানিয়েছেন। সেখানে সেলিব্রেটি ও সাধারন ইসলামিস্টরা যদি দাবী করেন, স্রোতের বেগে বিধর্মীরা ইসলাম গ্রহন করছে – তখন সেটাকে তাদের চিরাচরিত স্বভাবসুলভ আচরন বলেই ধরে নিতে পারেন। ইসলাম ফ্যাক্টচেককে বরাবরই গুরুত্বহীন মনে করে। যারা রাজপ্রাসাদসহ শত শত মানুষ নিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়ানো, গাঁধার পিঠে চেপে মহাকাশ ভ্রমন, ৪০ দিন তিমির পেটে অবস্থান শেষে ফিরে আসা, আগুনের মাঝে দীর্ঘসময় থেকে বেঁচে ফেরা – এমন অসংখ্য রুপকথার কেচ্ছাকে ফ্যাক্ট বলেন তাদের কাছে রিয়েল ফ্যাক্ট দেখানোটাই নির্বুদ্ধিতা। ‘গ্লোরি ড্রিভেন ইল্যুশান’কে তারা সর্বাগ্রে সর্বোচ্চ উচ্চতায় রাখে, হু কেয়ারস?

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির আসল কারণ – সন্তান জন্মদান, ধর্মান্তর নয়

এসব নিয়ে সাধারনত জানার সুযোগ খুবই কম। কারন পশ্চিমা দেশগুলোতে কে কোন ধর্ম পালন করছে, ছাড়ছে, গ্রহন করছে তা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যাথা নেই। সেগুলো উক্ত দেশগুলোর জাতীয় নীতি প্রনয়ন, অর্থনীতি কোন কিছুতে সাধারনত কোন প্রভাব রাখে না। তবুও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কিছুটা ধারনা দেয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহ করে। Pew Research Center ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক ব্যাপক প্রতিবেদনে ২,৭০০টিরও বেশি উৎস থেকে ২০১টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে। তাদের সিদ্ধান্ত সরাসরি এবং স্পষ্ট।

“মুসলিম সংখ্যার পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই আসে জন্ম থেকে, মানুষের ধর্মে ঢোকা বা বেরোনো থেকে নয়” – এটি সেই প্রতিবেদনেরই ভাষ্য। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো উচ্চ জন্মহার ও তরুণ বয়ঃকাঠামো। New Arab

Pew-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০-২০১৫ পর্যায়ে মুসলিম নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ৩.১, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১-এর অনেক উপরে। তুলনায় খ্রিস্টানদের গড় ২.৬-২.৭ এবং বৌদ্ধ ও ধর্মহীনরা প্রতিস্থাপন সংখ্যার নিচে। Vox Divini

Pew Research Center-এর ২০৫০ সালের ধর্মীয় পূর্বাভাসও স্পষ্ট করে বলেছে: “ধর্মান্তরের বৈশ্বিক মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কোনো নিট প্রভাব নেই। বরং ধর্মান্তর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির আকারে সামান্যই প্রভাব ফেলবে।” Wikipedia (আর্টিকেলের সঙ্গে অথেন্টিক সোর্স আছে)

সহজ ভাষায় বললে – ইসলামের জনসংখ্যা বাড়ছে একটি জনমিতিক কারণেঃ অনেক সন্তান। এটি ধর্মের আকর্ষণীয়তার প্রমাণ নয়, এটি প্রজনন পরিসংখ্যানের ফলাফল।

ধর্মান্তরের হিসাবঃ যত ঢোকে, তত বেরোয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালের Pew Research Center-এর সমীক্ষা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সংখ্যা প্রায় সমান ইসলাম ত্যাগকারীর সংখ্যার। নিট লাভ প্রায় শূন্য। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে মার্কিনিদের মধ্যে মুসলিম পরিবারে বড় হওয়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আর নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেন না। Crossway

Pew Research Center-এর ২০২৩-২৪ সালের Religious Landscape Study, যেখানে ৩৬,৯০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ককে জরিপ করা হয়েছে, তা থেকে ১৩টি দেশে ইসলামে প্রবেশ ও বহির্গমনের তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে। তুরস্কের উদাহরণ – ৯৮% মুসলিম পরিবারে বড় হওয়া মানুষের মধ্যে ৩% ইসলাম ছেড়েছেন, এবং ইসলামে প্রবেশ করেছেন মাত্র ০%। Pew Research Center

এই তথ্য বলছে – উচ্চ মুসলিম জনসংখ্যার দেশগুলিতেও “ধর্মান্তর বিজয়” এর কোনো বাস্তবতা নেই।

ইরানঃ রাষ্ট্রীয় দাবির সাথে বাস্তবতার ব্যবধান

ইসলামিস্টদের দাবি অনুযায়ী ইরান একটি ৯৯.৫% মুসলিম দেশ। কিন্তু GAMAAN (Group for Analyzing and Measuring Attitudes in IRAN) নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থার সমীক্ষা ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে। GAMAAN

ইরানের ৫০,০০০-এরও বেশি মানুষের উপর পরিচালিত ২০২০ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ৪০% নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় প্রচারণার বিপরীতে মাত্র ৩২% নিজেকে শিয়া মুসলিম বলেছেন, ৯% নাস্তিক, ৭% “আধ্যাত্মিক” এবং ৮% জরথুস্ত্রীয় হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন। The Conversation

সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, প্রায় ৪৭% উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ধার্মিক ছিলেন কিন্তু এখন আর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই পরিবর্তনের হার সর্বোচ্চ – ৫১%। KAYHAN LIFE

একটি দেশ যেখানে ধর্মত্যাগ আইনত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য, সেখানে কৌশলী জরিপেও এই ফলাফল আসছে – এটি কতটা ব্যাপক হলে মানুষ ভয়কে জয় করে সত্য বলছে, তা ভাবার বিষয়।

আরব বিশ্বে ধর্মত্যাগের প্রবণতা

Arab Barometer, যারা MENA অঞ্চলের ২৫,০০০-এরও বেশি মানুষকে জরিপ করে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী ডেটা একটি জটিল চিত্র দেখায়।

Arab Barometer-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে “ধর্মহীন” বলে নিজেদের পরিচয় দেওয়া আরব নাগরিকের হার ৮% থেকে ১৩%-এ উন্নীত হয়েছে। COVID মহামারীর সময় সাময়িকভাবে ধর্মচর্চা বেড়েছিল, কিন্তু মহামারী-পরবর্তী পর্যায়ে তা আবার কমেছে। Arab Barometer

২০২৫ সালে International Sociology-তে প্রকাশিত গবেষণাপত্র ১১টি আরব দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেঃ ধর্মীয়তা ২০১০ – এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দুর্বল হতে শুরু করেছিল, COVID-এ সাময়িক পুনরুত্থান হয়েছিল, কিন্তু মহামারীর পরবর্তীকালে আবার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে – এবার তা বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে। Sage Journals

মৃত্যুভয় ও সামাজিক চাপঃ “নাম-মাত্র মুসলিম” কোটি কোটি

ইসলামে ধর্মত্যাগের শাস্তি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ইসলামিক আইনের ক্লাসিকাল ব্যাখ্যায় ধর্মত্যাগীর শাস্তি মৃত্যু। আধুনিক যুগে বহু ইসলামী দেশে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর না হলেও সামাজিক নিপীড়ন, পরিবার থেকে বহিষ্কার, এবং ব্যক্তিগত ও তৌহিদী জনতার নামে হুমকি অব্যাহত রয়েছে, হত্যাকান্ডের ঘটনারও অসংখ্য প্রমান আছে।

Pew Research Center-এর বিশ্লেষণেও এই বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে: ইসলামে ধর্মত্যাগের মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনেককে ধর্ম ছাড়তে নিরুৎসাহিত করে, জীবন হারানোর ভয়ে। কিছু ধর্মত্যাগী হত্যার ভয়ে নাম-মাত্র “মুসলিম” পরিচয় ধারণ করে থাকেন, যদিও বাস্তবে তারা তা নন। The Gospel Coalition

ইসলামিক আইনে ধর্মত্যাগ শুধু অন্য ধর্মে যাওয়া নয়, এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ধর্মবিশ্বাস পরিত্যাগ করে নাস্তিকতা বা অজ্ঞেয়বাদে যাওয়া, এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসকে অস্বীকার করা বা কটাক্ষ করাও। সম্ভাব্য গুরুতর ও প্রাণঘাতী পরিণতির পরেও কিছু মুসলিম ইসলাম ত্যাগ করছেন। Wikipedia (আর্টিকেলের সঙ্গে অথেন্টিক সোর্স আছে)

এর অর্থ হলোঃ ইসলামের সরকারি পরিসংখ্যানগুলো একটি কৃত্রিমভাবে স্ফীত সংখ্যা – কারণ যারা মানসিকভাবে ধর্ম ছেড়েছেন, তারা কাগজে-কলমে “মুসলিম”-ই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

পশ্চিমে ধর্মান্তরঃ সংখ্যা ও বাস্তবতা

পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামে ধর্মান্তরের কিছু ঘটনা নিঃসন্দেহে ঘটে। কিন্তু এই সংখ্যা কতটুকু?

সৌদি আরবে ইসলাম গ্রহণ নিবন্ধনকারী সরকারি কার্যালয় (EDC) বার্ষিক প্রায় ২০,০০০ বিদেশী কর্মীর ধর্মান্তরের তথ্য দেয়। সিঙ্গাপুরে এটি বছরে প্রায় ৬০০। এই সংখ্যাগুলো বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে নগণ্য – এবং এগুলো প্রায়ই সামাজিক চাপ বা বিবাহজনিত ধর্মান্তর, বিশ্বাস থেকে আসা ধর্মান্তর নয়। ভারতে লাভ জিহাদের নামে ইসলামে ধর্মান্তরকরণ একটা বার্নিং ইস্যু। WifiTalents

ইসলামের তাকিয়াবাজির প্রেমে পড়ে অনেকে ইসলাম গ্রহন করলেও তাদের অনেকেই পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করে। কিন্তু সেই হিসাব কেউ রাখে না, এবং তাকিয়াবাজি ফ্রেমওয়ার্কে সেগুলো হাইড রাখারই নিয়ম। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইসলামে এসেছিলেন এবং পরে চলে গেছেন, অথবা যারা মুসলিম পরিবারে জন্মেও ধর্ম ত্যাগ করেছেন, তাদের প্রধান কারণগুলো হলোঃ

  • বিশ্বাস ও দর্শনের অমিলঃ অনেকে জানান, একটা সময় পর তারা ইসলামের নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষা বা থিওলজির (ধর্মতত্ত্ব) সাথে একমত হতে পারেন না।
  • প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি অনীহাঃ ইসলাম ত্যাগকারীদের একটি বড় অংশ (প্রায় ৫৫%) অন্য কোনো ধর্মে যান না, বরং তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না (Atheist, Agnostic বা Secular) হিসেবে জীবনযাপন শুরু করেন।
  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনঃ অনেক সময় বিয়ে বা কোনো সম্পর্কের কারণে সাময়িকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার পর, পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক না টিকলে তারা আবার আগের ধর্মে বা ধর্মহীনতায় ফিরে যান।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামে আসা এবং ইসলাম থেকে যাওয়ার হার প্রায় সমান (১:১)। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসলাম ত্যাগের হার পরিসংখ্যানগতভাবে খুবই সামান্য। পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যারা ইসলাম ত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যে ৫৫% মানুষ নিজেদের “ধর্মহীন” (Atheist, Agnostic, বা “Nothing in particular”) হিসেবে পরিচয় দেন। বাকিদের মধ্যে ২২% খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং ২১% অন্যান্য ছোট ছোট ধর্মে চলে যান। ইসলাম ত্যাগ করার কারণ হিসেবে পিউ রিসার্চ যখন প্রশ্ন করেছিল, তখন উত্তরদাতাদের একটি বড় অংশ (প্রায় ২৫%) সরাসরি জানান যে, তারা ইসলামের নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষা, ধর্মতত্ত্ব বা ধর্মীয় বিধানের সাথে একমত হতে পারেননি। এছাড়া ১৯% জানিয়েছেন তারা সামগ্রিকভাবে “প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মেই” (Organized Religion) বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। Pew Research Center

আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ ধর্মান্তর ইসলামের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব ফেলে না। ইসলামে আসা এবং ইসলাম ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় সমান। Wikipedia (আর্টিকেলের সঙ্গে অথেন্টিক সোর্স আছে)

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও ধর্মীয়তা হ্রাস

২০১৮-২০১৯ সালে BBC Arabic ও Arab Barometer-এর যৌথ জরিপে ২৫,০০০ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে দেখা গেছে, আরব বিশ্বে ধর্মীয়তা কমেছে – বিশেষত উত্তর আফ্রিকায় তীব্রভাবে। ইরাকে ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আস্থা ২০১২-১৩ সালে ৪২% থেকে কমে মাত্র ১২%-এ নেমেছে। Middle East Eye

তুরস্কের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশটিকে ইসলামিস্টরা প্রায়ই “ইসলামি জাগরণের” উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু Pew-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, তুরস্কে ৯৮% মানুষ মুসলিম পরিবারে বড় হলেও বর্তমানে ৯৫% নিজেকে মুসলিম বলেন — অর্থাৎ নিট ক্ষতি ৩%। এবং ইসলামে নতুন কেউ যোগ দেয়নি বললেই চলে। Pew Research Center

সংকোচনশীল ভবিষ্যৎঃ উর্বরতা হ্রাস এবং শহরায়ন

মুসলিম দেশগুলিতে জন্মহার দ্রুত কমছে। বিশ্ব বাস্তবতায় বাধ্য হয়ে বাল্য বিয়ের পক্ষে মোল্লাদের শত প্রচারের মুখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে নারীরা গড়ে ২১.৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চতর শিক্ষা, শহরায়ন এবং পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপক ব্যবহার জন্মহার হ্রাসে ভূমিকা রাখছে। ইরান, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ বিশ্ব বাস্তবতা মেনে নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি চালু করেছে। Pew Research Center

অর্থাৎ, ইসলামের জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে একমাত্র যুক্তিসংগত কারণটি ছিল (উচ্চ জন্মহার), সেটিও ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে।

সংখ্যার পেছনে লুকানো সত্য

সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত থেকে যে চিত্র উঠে আসে তা স্পষ্টঃ

প্রথমত, ইসলামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ধর্মান্তরের কারণে নয়, বরং উচ্চ জন্মহারের কারণে – এটি Pew Research-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সরাসরি নিশ্চিত করেছে।

দ্বিতীয়ত, যত মানুষ ইসলামে ঢোকে, প্রায় তত মানুষই বেরিয়ে যায়। আমেরিকায় নিট ধর্মান্তর শূন্যের কাছাকাছি।

তৃতীয়ত, ইরান, তুরস্ক ও উত্তর আফ্রিকায় মানুষ ধীরে ধীরে ইসলাম থেকে সরে আসছে। ধর্মত্যাগের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি, কারণ মুরতাদ ও শাতিমে রাসূল আখ্যায়িত করে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ার আশংকায় মৃত্যুভয় ও সামাজিক চাপের কারণে অধিকাংশ মানুষ প্রকাশ্যে ধর্ম ছাড়তে পারেন না, যদিও তারা ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম থেকে দূরে সরে যান।

চতুর্থত, যে একমাত্র চালকটি (উচ্চ জন্মহার) ইসলামের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে, শিক্ষা ও শহরায়নের সাথে সাথে সেটিও হ্রাস পাচ্ছে।

“ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে” এই দাবিটি আংশিকভাবে সত্য – তবে সেই “ছড়িয়ে পড়া” নতুন মানুষের বিশ্বাসের আলিঙ্গন নয়, এটি জনমিতিক স্ফীতির ফলাফল। আর সেই স্ফীতির ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিপুল পরিমাণ মানুষের নীরব বিচ্ছেদ – যারা ভয়ের কারণে “মুসলিম” পরিচয়ের খাঁচায় বন্দী, কিন্তু বিশ্বাসে নয়।

Related Posts

Politics in the Public Sphere

Actresses Shabana, Moushumi, Popy – Religious Sentiment and the Politics of the Public Sphere

In the history of Bangladeshi cinema, names like Shabana, Moushumi and Popy mark important chapters.Read More

Politics in the Public Sphere

নায়িকা শাবানা, মৌসুমী, পপি – ধর্মানুভূতি এবং জনপরিসরের রাজনীতি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে শাবানা, মৌসুমী কিংবা পপির মতো নাম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারা আশি, নব্বই ওRead More

Hindu Attacked for Speaking

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities

The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

Comments are Closed