Benefits
If you can work, work

If you can work, work

জাতিগতভাবে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের উন্নয়ন ছাড়া সম্মান থাকবে না আর!

আমেরিকা সম্প্রতি যে ৭৫টি দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে, তার তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে – কিছু দেশের অভিবাসী পরিবারগুলো সরকারি তহবিলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রায় ৫৪% কোনো না কোনো ধরনের সোশ্যাল বেনিফিট গ্রহণ করেন।

এই সিদ্ধান্তের ভুক্তভোগী আমি নিজেও। আমার বাবা-মা-বোন সবাই মার্কিন নাগরিক। সেই সূত্রে হয়তো একদিন আমিও ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেতাম – কিন্তু আপাতত সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিক ও বৈধ বাসিন্দাদের জন্য বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রেখেছে। কম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম সরকার বহন করে, বেকারদের জন্য বেকার ভাতা আছে, প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ভাতা আছে, প্রবীণদের জন্য পেনশন আছে। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো খাবার কেনার জন্য বিশেষ ডেবিট কার্ড পায়, অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্যও টাকা পায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট, আবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পায়। ফলে আয় না থাকলেও কেউ না খেয়ে মরার পরিস্থিতিতে পড়ে না।

কিন্তু প্রশ্ন হলো – এই বিপুল অর্থ আসে কোথা থেকে? যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে ট্যাক্স দেন, তারাই এই তহবিলের মূল যোগানদাতা। কল্পনা করুন, যদি আমেরিকায় শুধু বাংলাদেশিরাই থাকত – তাহলে ৪৬% মানুষ দিনরাত ১২–১৬ ঘণ্টা কাজ করে উচ্চ হারে ট্যাক্স দিত, আর বাকি ৫৪% মানুষ সোশ্যাল বেনিফিটের ওপর নির্ভর করে আরামেই জীবন কাটাত। বাস্তবতা যদিও পুরোপুরি এমন নয়, তবুও বাংলাদেশিরা বেনিফিট গ্রহণকারী শীর্ষ ২০ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে। কিছু মানুষের সত্যিই এগুলো প্রয়োজন হয়, তাদের জন্যই কল্যান রাষ্ট্রগুলো এসব ব্যবস্থা রাখে। তাই বলে ৫৪% মানুষের প্রয়োজন? এটা অবিশ্বাস্য। আপনার গ্রামের ৫৪% পরিবার আপনার মতো পরিশ্রমী ৪৬% পরিবারের উপর নির্ভরশীল হলে মেনে নিতেন? কাজ করার সামর্থ্য থাকতেও যারা কাজ না করে বেনিফিট খায় তাদের কি বলবেন?

ধরা যাক, আপনি বেকার এবং সরকার আপনাকে বেকার ভাতা দিচ্ছে। কিন্তু আপনি চাকরি খোঁজার চেষ্টা না করে বছরের পর বছর সেই ভাতার ওপর নির্ভর করলেন – এটা কি ট্যাক্সদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? অনেক পরিবারে সন্তান, বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী প্রতিবন্ধী দেখিয়ে যে ভাতা পাওয়া যায়, তাদের সেবার বিনিময়ে যে অর্থ পাওয়া যায়, তার পরিমাণ এত বেশি যে অনেকেই অতিরিক্ত কাজ করার প্রয়োজনই অনুভব করেন না। এমনকি মা-বাবা থাকে বাংলাদেশে, তাদের সেবা করার নাম করে কোটি কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগও আছে। এমন উদাহরণ শুধু বাংলাদেশিদের নয় – বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মধ্যেই দেখা যায়।

এখন ভাবুন, আপনার প্রতিবেশী ভোরের কনকনে ঠান্ডায় কাজের সন্ধানে বের হচ্ছে, ফিরছে রাত ১২টায়; আর আপনি বছরের পর বছর ঘরে বসে সরকারি সুবিধা নিয়ে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাচ্ছেন – এটা কি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে?

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃত্ব যারা দেন, তাদের অনেকেই সারাবছর ব্যস্ত থাকেন দলীয় রাজনীতি বিএনপি-আওয়ামী লীগ নিয়ে। কেউ দেশ থেকে এলে কাকে অপমান করবে, কাকে তেল দেবে – এসব নিয়েই তাদের ব্যস্ততা। আরেক দল আছে যারা বাংলাদেশ মেলার নামে নর্তকী-গায়ক-নায়ক-নায়িকা এনে ব্যক্তিগত ব্যবসা করে, মূলত চামড়ার ব্যবসা। অথচ তাদের করার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল – স্কুলে বাংলা ভাষার টিউটরিয়াল স্বীকৃতি আদায়, অনেক ছোট ভাষার স্বীকৃতি থাকলেও বাংলার নেই, বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান উন্নয়ন, কমিউনিটিকে অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল বেনিফিট গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা তৈরি – কিছুই তারা করে না।

ফলাফল? একই চিত্র ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, এমনকি আমি যে উগান্ডায় থাকি সেখানেও। আমরা দিনরাত কাজ করি, আর অনেক বাংলাদেশি সোশ্যাল বেনিফিট নিয়ে আরামে জীবন কাটায়। এই প্রবণতা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আমলা, শ্রমিক, রাজনীতিবিদ, মাওলানা, ইমাম, পুরোহিত – কারও ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। এমনকি কেউ কেউ নিজের স্ত্রীকে ডিভোর্সী দেখিয়ে তার নামে বেনিফিট নেন। সৌদি, দক্ষিন আফ্রিকা অনেক দেশে বাংলাদেশের অনেকে নিজ দেশের মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধেও জড়িয়ে পড়েছে।

দিনশেষে এর প্রভাব ভয়াবহ। বাংলাদেশিদের জন্য বিশ্বের দরজা ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এখন টুরিস্ট ভিসায় গেলেও আলাদা লাইনে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি করা হয়, বিষয়টা অপমানজনক। অনেক সাধারন দেশ ভিসা দিতে গেলেও এখন বহুবার ভাবে, অনেকভাবে যাচাই করে দেখে।

জাতিগতভাবে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের উন্নয়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

Related Posts

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism

19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার

১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্টRead More

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups

In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

Comments are Closed