Killing
How Islam justifies killing

How Islam justifies killing

ইসলামের মানবাধিকার পরিপন্থী জঘন্য আইনগুলো যেভাবে মানুষ হত্যার বৈধতা দেয়

ইমরান খানকে আর নবীকে সমান ভালোবাসেন – বলার কারনে পাকিস্তানে ছবির এই মানুষটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানে এই যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আবারও দেখিয়ে দিলো ধর্মীয় উগ্রতা কীভাবে মানুষের বিবেক, মানবিকতা এবং ন্যূনতম বিচারবোধকেও অন্ধ করে দিতে পারে। একজন সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে শুধু এই কারণে যে তিনি বলেছিলেন – “ইমরান খানকে তিনি নবীর মতোই ভালোবাসেন।” এই একটি বাক্যই যথেষ্ট ছিলো উগ্রপন্থী জনতার ধর্মীয় অনুভূতিতে “আঘাত” লাগার জন্য। মুহূর্তের মধ্যে উগ্র ধর্মান্ধরা তাকে ঘিরে ধরে, মারধর করে, এবং শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। যেন তাদের কাছে মানুষের জীবন, মানবিকতা বা ন্যায়বিচারের কোনো মূল্যই নেই – শুধু অন্ধ আনুগত্য আর ধর্মীয় আবেগই সবকিছু।

১৯৪৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অন্তত ৮৯ জন পাকিস্তানিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলে একটি মসজিদের ভেতরে কোরআনের পৃষ্ঠা পোড়ানোর অভিযোগে মুহাম্মদ মুশতাক নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। লাঠি, ইট ও কুড়াল-সজ্জিত একদল জনতা মসজিদে জড়ো হয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। মুশতাককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার দেহ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যও পুরো ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান শহরে অবস্থিত আবদুল ওয়ালি খান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঘটে যায় এক নৃশংস ঘটনা, যা শুধু পাকিস্তান নয় – সমগ্র বিশ্বের বিবেককে নাড়া দেয়। নিহত ছাত্রের নাম মাশাল খান, সাংবাদিকতা বিভাগের মেধাবী ছাত্র, যিনি মুক্তচিন্তা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মাশাল খান নাকি “ধর্ম অবমাননা” করেছে। পাকিস্তানে এই অভিযোগ যতটা সংবেদনশীল, ততটাই বিপজ্জনক – কারণ অভিযোগ উঠলেই জনতা বিচারকের ভূমিকা নিয়ে ফেলে। কিছু ছাত্র সংগঠন ও উগ্রপন্থী ছাত্ররা পরিকল্পিতভাবে মাশালের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে। তারা দাবি করে, মাশাল নাকি ইসলামবিরোধী পোস্ট দিয়েছে, যদিও পরে তদন্তে সেটা ভুল প্রমানিত হয়।

১৩ এপ্রিল ২০১৭ দুপুর। শত শত ছাত্রের একটি উন্মত্ত জনতা মাশালের আবাসিক কক্ষে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে আনা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় – মাশালকে নগ্ন করে, লাঠি, লোহার রড, ইট-পাথর দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে। তিনি বারবার বলছিলেন – “আমি কিছু করিনি” – কিন্তু কেউ শোনেনি। জনতা এতটাই উন্মত্ত ছিল যে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা হস্তক্ষেপ করতে ভয় পায়। মাশালকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এক ট্যাক্সি যাত্রীর সঙ্গে ড্রাইভারের ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ড্রাইভার এক জনাকীর্ণ স্থানে তার ট্যাক্সি থামিয়ে চিৎকার করে বলে এই লোক ধর্ম অবমাননা করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যায় এবং সেই ট্যাক্সি যাত্রীর অবধারিতভাবে জনতার হাতে হত্যার শিকার হতে হয়েছিল। এমন ঘটনা পাকিস্তানে অসংখ্য, যার সবকটি সংবাদে আসে না। বিদেশী নাগরিকেরাও ধর্মীয় কালো ব্ল্যাসফেমী আইনে অভিযুক্ত হয়।

পাঞ্জাব রাজ্যের শিয়ালকোটে ৩রা ডিসেম্বর শুক্রবার খেলার সামগ্রী তৈরির এক কারখানার ম্যানেজার প্রিয়ান্থা দিবাওয়াদানাগের বিরুদ্ধে হঠাৎ গুজব ওঠে যে তিনি নাকি নবীর নাম লেখা একটি পোস্টার ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। সাথে সাথে শত শত লোক হাজির হয়ে ৪৮-বছর বয়স্ক এই শ্রীলঙ্কানকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে এবং এরপর তার মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। নিহতের দু-চারজন পাকিস্তানী সহকর্মী ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি।

এমনকি পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় আদালতেও ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। জনতা পুলিশের কাছ থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করেছে এমন রেকর্ডও আছে। আসিয়া বিবির ঘটনা তেমনই একটি যা আলোচিত হয়েছিল।

এমন ঘটনা দেখে মনে হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোও এই অন্ধ উগ্রতার ছায়া থেকে মুক্ত না। বাংলাদেশেও আমরা ইতোমধ্যে বহুবার দেখেছি – ব্লগার হত্যা, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা, গানের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা, রোজার মাসে জোর করে মানুষকে না খাইয়ে রাখা, ভিন্ন ধর্মের উৎসবে হামলা, ভিন্ন ধর্মের মানুষদের উপাসনালয় ধ্বংস করা, ভিন্নমতের মানুষদের আগুনে পোড়ানো, তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা, কিংবা গ্রাম-শহরে ধর্মের নামে নানা ধরনের দমন-পীড়ন। এসব ঘটনা মানবাধিকার ও সভ্যতার দৃষ্টিতে অকল্পনীয়, কিন্তু এখন সেগুলো যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। ধর্মের নামে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, শিল্প, মতপ্রকাশ – সবকিছুই ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

ইসলাম ধর্মের অন্ধকার দিক নিয়ে লেখার কারনে আমি নিজে বহুবার হত্যার হুমকি পেয়েছি। ২০২২ সালের জুন মাসে আমি আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যুর দূয়ার থেকে ফিরে এসেছিলাম, শরীরের জখমগুলো সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে গেছে, এখনো আমি যন্ত্রনায় ঘুমাতে পারি না। মসজিদ থেকে শত শত লোক গিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে এসে পিটিয়ে হত্যা করার হুমকি পেয়ে আমি পাশের দেশ ইন্ডিয়া চলে গিয়েছিলাম জীবনের ভয়ে। এর আগেও অসংখ্যবার আমি হুমকি পেয়েছি, আমাকে জঙ্গিরা অনুসরন করতো। কত দিন, কত রাত আমি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছি তার হিসাব নেই। ২০১৭ সালের মে মাসে আমার বাড়ির সামনে মৌলবাদীদের মব জড়ো হয়েছিল আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য, সেবার বাড়ির মালিক পুলিশ অফিসারের হস্তক্ষেপে মৌলবাদীদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেয়েছিলা। ২০১২ সালে আমার বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে আমাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। কত শত মানুষ বাংলাদেশ ছেড়েছে এই মৌলবাদীদের একের পর এক হত্যা, হুমকির মুখে।

ইসলামে একদল মানুষ আছে যাদের আমরা “মডারেট মুসলিম” বলে চিনি – যারা কোরআন, হাদীস, তরজমা, তাফসির, সিরাত না পড়ে, না বুঝে, কেবল পরিচয়ের খাতিরে মুসলমান এবং সোস্যাল মিডিয়া, ধর্মীয় বক্তাদের ওয়াজ এসব দিয়েই তারা তাদের মতো করে ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে তোলে। তাদের উপস্থিতি ফেসবুকের পাতায় পাতায়। তারা প্রতিটি উগ্রতার ঘটনার পর উগ্রদের উদ্দেশ্য করে একই কথা বলে – “এরা সত্যিকারের মুসলিম না, এরা ইসলামের কিছুই জানে না।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মডারেটদের বিশাল অংশ নিজেরাই কখনো কোরআন, হাদিস, সিরাত, তাফসির – এসব কিছু মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখেনি। তারা জানেই না তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে কী বলা আছে, কোন মতবাদ কোথা থেকে এসেছে, কেন এসেছে, কোন ধারণা কীভাবে সমাজে প্রভাব ফেলছে, উগ্ররাই প্রকৃত ইসলাম মেনে চলা লোক কিনা।

ফলে প্রশ্নটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে – যদি কেউ সত্যিই ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে আক্ষরিক অর্থে অনুসরণ করে, তবে কি তাকে উগ্র না হয়ে উপায় থাকে? কারণ বহু মতবাদ, বিধান ও ঐতিহাসিক বর্ণনাই এমনভাবে উপস্থাপিত যে সেগুলো অন্ধ আনুগত্য, অসহিষ্ণুতা এবং ভিন্নমত দমনের পথকেই শক্তিশালী করে। তাই যারা ধর্মীয় গ্রন্থগুলো গভীরভাবে পড়ে, তারা প্রায়ই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে উগ্রতা কোনো বিচ্যুতি নয় – বরং বহু ক্ষেত্রে সেটাই মূলধারার ইসলামের ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলামী শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অংশ হলো শাতিমে রাসূল – অর্থাৎ নবী মুহাম্মদকে অবমাননা বা সমালোচনা করার অভিযোগ। প্রচলিত ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, নবীকে অবমাননা করলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, এবং এই শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অনুতপ্ত হয়, তওবা করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে – তবুও অধিকাংশ প্রধান ইসলামী আইনবিদের মতে তাকে ক্ষমা করা যাবে না। কারণ তাদের যুক্তি হলো, নবীর মর্যাদা এমন এক পর্যায়ে উন্নীত যে তার প্রতি সামান্য অসম্মানও সহ্যযোগ্য নয়, নবীর কোন কথা, আচরন, সিদ্ধন্ত নিয়ে সামান্যতম প্রশ্ন তোলা বা সন্দেহ করা যাবে না। তার চেয়ে নিজেকে ও আপনজন বাবা-মা-সন্তান-সহধর্মিনী কাউকে বেশি ভালোবাসা যাবে না, তার সঙ্গে কাউকে সমকক্ষ ভাবা যাবে না। নিজের প্রাণের চেয়ে নবী মুহাম্মদকে বেশি ভালবাসতে হবে ও তার জন্য নিজের জীবন কোরবান করে দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, আল্লাহর সমালোচনা করলে বা তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করলে তওবার মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নবী মুহাম্মদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেই। অর্থাৎ আল্লাহর সমালোচনার জন্য ক্ষমা পাওয়া সম্ভব হলেও নবীর সামান্য সমালোচনা, তুলনা, বা অন্য কাউকে তাঁর চেয়ে বেশি ভালোবাসা – এসবকেই শাতিমে রাসূলের আওতায় ফেলা হয়। এমনকি কেউ যদি নবীর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনা করে তাকে সমকক্ষ বা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন বলে মনে করে, তাহলেও তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়, সে হয়ে যায় শাতিমে রাসূল

এই ধারণার ভিত্তিতে বলা হয়, শাতিমে রাসূলকে হত্যা করা মুসলমানদের ওপর ফরজ – অর্থাৎ ধর্মীয় কর্তব্য, মুসলমান হয়ে থাকলে সেটা তাকে করতেই হবে, সাপোর্ট করতেই হবে। ইসলামী ঐতিহ্যের বিভিন্ন বর্ণনায় নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীদের কর্মকাণ্ডকে এই বিধানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে এই বিষয়ে ইসলামের বিভিন্ন মাজহাব – হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি – এবং অধিকাংশ ইসলামী আলেমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য নেই; বরং তারা একমত যে নবী-অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তওবা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামে মুরতাদের শাস্তিও মৃত্যুদন্ড। সহিহ হাদীসে আছে “যে ব্যক্তি তার ধর্ম ত্যাগ করে, তাকে হত্যা করো।” অর্থাৎ কেউ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করে পরে ধর্ম ত্যাগ করলে, আল্লা ও নবীর কোন সমালোচনা করলে, ইসলামের বিধান মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করার বিধান দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম ধর্ম থেকে অন্য কোন ধর্ম গ্রহন করলেও সে মুরতাদ। ইসলামে ঢোকার সুযোগ আছে, কিন্তু বের হয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

২০১৪ সালের মে মাসে সুদানের একটি আদালত মরিয়ম ইব্রাহিম নামের এক খ্রিস্টান নারীকে “ধর্মত্যাগ” ও “ধর্মীয় আইন লঙ্ঘন” – এর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইসলাম ত্যাগ করে তার স্বামীর খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন – যা সুদানের কঠোর শরিয়া-ভিত্তিক আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। নারীটি আদালতে স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি জন্মসূত্রে খ্রিস্টান এবং কখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু আদালত তার বক্তব্য গ্রহণ করেনি। নারীটি গর্ভবতী থাকায় আদালত তার সন্তান জন্মদান পর্যন্ত শাস্তি কার্যকর স্থগিত করেছিল।

এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে বলা যায়, ইসলামী ফ্যানাটিকদের সমালোচনা করার আগে ধর্মীয় উৎস – নবী ও ধর্মীয় আইন বা কোরআন, হাদীসকে সমালোচনার আওতায় আনা জরুরি। কারণ ফ্যানাটিকরা যে কঠোরতা, অসহিষ্ণুতা বা সহিংসতার চর্চা করে, তার ভিত্তি তারা ধর্মীয় গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক উদাহরণ থেকেই গ্রহণ করে। তাই সমস্যার মূল উৎসকে প্রশ্ন করা, তার অসঙ্গতি ও অমানবিক দিকগুলো তুলে ধরা – এটাই যুক্তিবাদী ও মানবিক অবস্থান।

অন্যদিকে আমরা যারা নিজেদের মানববাদী বা হিউম্যানিস্ট হিসেবে পরিচয় দিই, আমরা বিশ্বাস করি – এই পৃথিবীতে মানুষের জীবনই সর্বোচ্চ মূল্যবান। মানুষের অস্তিত্ব, তার স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনে যে কারও – হোক সে নবী, ধর্মীয় নেতা বা দেবত্বপ্রাপ্ত বলে বিবেচিত – অমানবিক আচরণ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহি দাবি করা যায়। মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষাই এখানে মূল কথা।

ধর্ম যদি সত্যিই কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে কী বিশ্বাস করবে, কোন আচার পালন করবে – এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ধর্মীয় মতবাদ বা ধর্মীয় কর্তৃত্ব অন্য মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, স্বাধীনতা, পছন্দ বা আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ব্যক্তিগত বিশ্বাস যখন সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখনই সংঘাত, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের জন্ম হয়।

এই কারণেই ধর্মীয় মতবাদগুলোকে সমালোচনা করা জরুরি। তাদের অসারতা, বৈপরীত্য, অমানবিক দিক এবং যুক্তিহীন দাবিগুলোকে বারবার সামনে আনতে হবে। কারণ সমালোচনার মাধ্যমেই মানুষ মুক্তচিন্তার পথে এগোয়, অন্ধবিশ্বাসের শৃঙ্খল ভাঙে, এবং মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

Related Posts

Cinmoy vs Anayetullah

Chinmoy Krishna Prabhu or Enayetullah Abbasi?

From Bonn in Germany, I reached a local station to catch the last train toRead More

Cinmoy vs Anayetullah

চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু নাকি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?

জার্মানির বন থেকে বার্লিনে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে একটা লোকাল স্টেশনে পৌঁছে দেখি, ট্রেন ছাড়তেRead More

Are All Social Customs Beneficial?

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you

I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

Comments are Closed