
Does a rape victim get justice in Islam?
ইসলামী আইনে ধর্ষিতার বিচার পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত, এজন্য ইসলামী দেশগুলোতে ধর্ষণের পরিসংখ্যান কম
মুসলমানরা হলো নাকে দড়ি বাঁধা উট যাদের নিজেদের কোন ব্যক্তি সত্ত্বা নেই। ইসলামই মুমিনদের জান-মালের মালিক, তাদের নিজেদের বলতে কিছুই নেই। এগুলো ইসলামের কথা। রেফারেন্স আছে, এতো দিতে পারবো না, খেঁটে বের করেন। ইসলাম আপনার সকাল থেকে রাত, ২৪/৭/৩৬৫ দিন আপনাকে নিয়ন্ত্রন করবে। চলার সময় কোন পা আগে ফেলবেন, কখন কোন দোয়া পড়বেন, পার্টনারের সঙ্গে কিভাবে শোবেন – সব ইসলামী কানুনে আপনাকে চলতে হবে।
কোরআনে আল্লাপাক এমন কোন জিনিসের নিদর্শন দিতে পারেননি যা ঐ সময়ের আরবে ছিল না। ডুমুরের কথা থাকলেও দূর দেশের লিচু, আম নেই কোরআনে। তপ্ত মরূর বুকে শরীর পুড়ে যাওয়া গরমে গাছের ছায়া খুবই প্রত্যাশিত ছিল। সেজন্য জান্নাতে মাইলের পর মাইল খেজুর বাগান পাবেন। এখন ঐ খেজুর বাগান দিয়ে আপনার হবেটা কী? ঐ সময়ে তো আর ফোন, ইন্টারনেট, এ্যাপস ছিল না। সেজন্য নবী মোহাম্মদ বলে গেছে কেউ যদি দূরে কিছুদিন অবস্থান করে বাড়িতে ফেরে, তাহলে যেনো সরাসরি বাড়িতে না ঢোকে, আগে থেকে জানিয়ে ফেরার তো কোন উপায় ছিল না। কিছুটা সময় পরে ঢুকবে, এই সুযোগে তার স্ত্রী/যৌনদাসীরা তাদের গুপ্তকেশ কামিয়ে নিবে। মানে, অনেকদিন পরে পুরুষ লোকটা যেনো একটু আয়েশ করে লাগাতে পারে। এই লাগালাগিকে ইসলাম, তার আল্লাহ, আল্লাহর কোরআন, নবী মুহাম্মদ এতোই গুরুত্ব দিয়েছে যে প্রতি ছত্রে ছত্রে এই লাগালাগির কেচ্ছা!
যাইহোক, যেই ইসলামে এতো কিছু আছে সেখানে দুনিয়ার অন্যতম বড় একটি ক্রাইম ধর্ষণের কথা, এর বিচার, এর শাস্তির কথা কোথাও নেই। ইসলামিস্টদের দাবীমতে কমপ্লিট কোড অফ লাইফ – কোরআন সেখানে কোন বিন্দু নেই এই সম্পর্কে। অথচ কত আল-বাল-ছাল, নবীর স্ত্রীদের শাসন করার নিয়ম কতকিছু আছে। আসলে ইসলামের দৃষ্টিতে নারীরা তো পরিপূর্ণ মানুষই না, সেই বর্ননা দিতে গেলে আর এক প্রবন্ধের দরকার হবে। সেজন্য বলি, খেটে খান, জানার আগ্রহ থাকলে সার্চ দেন। কোন নারী যদি ধর্ষিতা হয় তবে ইসলামে সেই ধর্ষক পুরুষটিকে দায়মুক্তি দেয়ার ১০১ টা তরিকা আছে। ইসলাম এমন সব ব্যবস্থা করে রেখেছে যে উক্ত নারী বিচার চাওয়ার সাহসই করবে না।
তাহলে কি ইসলামে ধর্ষণের বিচার হয় না? হয়, একটু ত্যানা প্যাঁচিয়ে। ইসলামে জিনা (Zina) বা ব্যাভিচারকে খুব কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। এটা বিবাহের বাইরে সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্ক। আধুনিক আইনে এটা অপরাধ হিসাবে ধরা হয় না কারন দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কে কার সঙ্গে শোবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, এমনকি বাংলাদেশের আইনেও অপরাধ না। পার্টনার থাকলে তার সঙ্গে প্রতারনা হয়, কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ না। কিন্তু ইসলাম এটাকে খুবই গুরুতর অপরাধ হিসাবে দেখে।
জিনা-এ-মুহসান হলো বিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলে, আর জিনা-এ-গাইর-মুহসান হলো অবিবাহিত ব্যক্তি জিনা করলে। ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) এখানে পড়ে না, কারণ সেখানে সম্মতি থাকে না। জিনা সংঘটিত হলে ইসলামী আইনে দুইজনই শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তবে ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা হয় ভিন্ন। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা ধর্ষণকেও জিনা হিসাবে ঘোষনা দেন, তবে পার্থক্য হলো এখানে সম্মতি থাকে না বলে জিনা প্রমান হলে একজন শাস্তি পায়। যদিও এই জিনার ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমান করাটা অনেক কঠিন কাজ ইসলামী নিয়ম অনুসরণ করলে। জিনা বা ব্যাভিচারের জন্য ইসলামে ভয়ংকর, নৃশংস শাস্তির বিধান আছে যা আপনারা সংবাদে, ছবিতে, ভিডিওতে দেখে থাকবেন। আগে বাংলাদেশের গ্রামেও ফতোয়া দিয়ে দোররা মারা হতো। আফগানিস্তানের মতো দেশে ১০০ বেত্রাঘাত বা গলা সমান মাটিতে পুঁতে গ্রামশুদ্ধ লোক উল্লাস করে পাথার মেরে রক্তাক্ত হত্যা – অনলাইনে সার্চ দিলেই এগুলো পাবেন।
আধুনিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জিনা/ব্যাভিচারের জন্য ভয়ংকর শাস্তি দেওয়াকে অমানবিক হিসাবে গণ্য করা হয় যেহেতু এখানে প্রাপ্তবয়স্ক দুইজন ব্যক্তির পারষ্পারিক সম্মতি থাকে। ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন – কারণ সেখানে সম্মতি থাকে না এবং এটি একটি হিংসাত্মক অপরাধ। অথচ ইসলামের মূল সোর্সগুলোর কোথাও সরাসরি এর বিচারের কথা নেই।
আগেই বলেছি ইসলামে জিনা/ব্যাভিচারের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হয়। এখানে অবিবাহিতরা কিছুটা ছাড় পান, তাদের জন্য ভয়ংকর মৃত্যু অপেক্ষা করে না, তাদের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত। বিবাহিত ব্যক্তিরা যদি বিবাহ বহির্ভূত যৌন সঙ্গম করেন তবে ইসলামে তাদের জন্য বিধান হলো, ভয়ংকর ও অমানবিক এক মৃত্যু। এই শাস্তিগুলো আবার দেয়া হয় প্রকাশ্যে, জনাকীর্ণ এলাকায়। সাধারন মানুষও এই হত্যাযজ্ঞে উল্লাসের সঙ্গে অংশগ্রহন করে। বলতে পারেন, সাধারন মানুষকে অংশগ্রহনে বাধ্য হতে হয়, কোরআনে এমন নির্দেশনাই দেয়া আছে (সূরা নূর ২৪:২)। কোরআনে বিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি সরাসরি উল্লেখ নেই।
কিন্তু সহিহ হাদীসে নবী মুহাম্মদ (সা.) বারবার রজম (stoning) প্রয়োগ করেছেন। কোরআনে রজমের শাস্তির কথা উল্লেখ না থাকলেও যেহেতু নবী মোহাম্মদ নিজে রজমের শাস্তি কার্যকর করেছেন সেজন্য চার মাযহাবের সবাই রজমকে বৈধ শাস্তি হিসাবে গ্রহন করেছে। কোরআন, হাদীস মিলেই শরীয়াহের বিধান হয়।
রজম কার্যকর করার সময় মুমিন ব্যক্তি বা মুসলিমদের সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়। ইসলামের মূল গ্রস্থ কোরানের সূরা নূর ২৪:২-এর নীতির ভিত্তিতে এটা বাধ্যতামূলক। কিছু কিছু মাযহাবের মতে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে এবং কিছু মাযহাবের মতে উন্মুক্ত স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হয়। প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন বিচারক। এরপর দল বেঁধে সাধারন মানুষ পাথর নিক্ষেপ করেন। নিয়ম আছে পাথর নিক্ষেপের সময় যেনো দ্রুত মৃত্যু না নয় সেটি খেয়াল করে ধীরে ধীরে যেনো মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছোট ছোট টুকরো পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। একবার ভেবে দেখুন, বিষয়টা কতটা অমানবিক, নিষ্ঠুর ও কত বড় অপরাধ! অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্ষণের মতো এতো বড় অপরাধে ধর্ষক ছাড় পেয়ে যায়।
ইসলামী আইনে জিনা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। জিনা বা ব্যাভিচার প্রমান করার জন্য প্রয়োজন হয় – চারজন প্রাপ্তবয়স্ক, ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী যারা সরাসরি যৌনসঙ্গমের দৃশ্য দেখেছে (সূরা নূর ২৪:৪), অথবা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি (মা’ইজ ও গামিদিয়া নারীর ঘটনা, হাদীস)। এই কঠোর শর্তের কারণে বাস্তবে জিনা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। জিনা প্রমাণের জন্য চারজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী অবশ্যই পুরুষ হতে হবে। নারীর সাক্ষ্য এখানে গ্রহণযোগ্য নয় – এটি চার মাযহাবের সর্বসম্মত মত।
ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) কে ইসলামের বিশেষজ্ঞরা জিনা হিসাবেই ধরেন কিন্তু সেখানে সম্মতি থাকে না। সেজন্য ধর্ষণ প্রমানিত হলে দুইজনের জায়গায় একজনের শাস্তি কার্যকর করা হয়। শাস্তি হিসাবে খুবই কঠোর সেটা সন্দেহ নেই। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন একজন ধর্ষণের ভিক্টিমের জন্য চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী জোগাড় করা কি সম্ভব? কেউ যখন ধর্ষণের মতো গুরুতর ও ঘৃন্য কাজ করে তখন কি সে অন্যদের জানিয়ে করবে? সে তো চাইবে কেউ না জানুক, সে তো নিশ্চয় কোন লোক চক্ষুর আড়ালে কোথাও নিয়ে কাজটি করবে। এখন ধরুন, একজন নারী – সে ধর্ষণের শিকার হলো। উনি যখন যভিযোগ দিবেন তখন ধর্ষণ (জিনা-বিল-জবর) প্রমানের জন্য উনার জন্য একমাত্র বিকল্প থাকে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি যে উনার সম্মতি ছাড়া সেখানে জিনা হয়েছে। এরপর কী হবে?
উনি যদি প্রমান না করতে পারেন যে তার সম্মতি ছাড়া জোর করে অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করেছে তখন জিনার শাস্তিটা তার উপরে বর্তাবে। ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন মৃত্যুশয্যায় শায়িত নারীও একা হাসপাতালে যেতে পারবে না স্বামী বা পরিবারের কর্তার অনুমতি ও সঙ্গ ছাড়া, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করবে তা তার অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন , তার প্রসব বেদনা উঠুক বা গলা ফেঁটে চৌচির হয়ে যাক, কিচ্ছু আসে যায় না। তাই ধর্ষিত হোক আর যাই হোক বিচার দেবারই সুযোগ নাই! তারপরেও কোনমতে বিচারে পৌঁছাতে পারলে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য আইন অনুযায়ী লাগবে চারজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য, কোথায় পাবে একজন ধর্ষিতা চারজন সাক্ষী? যদি পেয়েও যায় তাহলেও সাক্ষীদের মহা সমস্যা, তারা দেখেও কেন প্রতিবাদ করল না আর তারা দৃষ্টি সংযত না রেখে দেখল কেন এই অভিযোগে তারাও অভিযুক্ত হবে বা হতে পারে। তো কে দেবে সাক্ষী মার খাবার জন্য? যেহেতু সাক্ষী নাই সেহেতু অপরাধের তীর এবার ধর্ষিতার ঘাড়েই, তারপর অবিবাহিত হলে ১০০ দোররা বা বেত্রাঘাত, আর বিবাহিত হলে রজম বা গলা সমান মাটিতে পুঁতে পাথর বর্ষণ করে হত্যা, ইত্যাদি। এজন্য দেখবেন, ইসলামী আইনে চলা দেশগুলোতে ধর্ষণের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান কম। অথচ কেবল ইউটিউব ঘাটলেই সৌদিতে যৌন নিপীড়নের অজস্র ভিডিও পাবেন।
লক্ষ লক্ষ নারী গৃহকর্মী সৌদি থেকে ফিরে নিজ নিজ দেশে যেয়ে জানিয়েছেন তাদের বীভৎস সব অভিজ্ঞতার কথা। প্রতিদিন তারা ধর্ষিত হয়েছেন গৃহকর্তার কাছে, বারংবার, বাবা-ছেলে একসাথে ধর্ষণ করেছে, বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করেছে, শারিরীক মানসিক নির্যাতন করেছে, এসবে সেইসব পরিবারের মেয়ারাও কোন বাঁধা দেয়নি। বাংলাদেশের সৌদি ফেরত সহস্র নারী তাদের আহাজারি তুলে ধরেছে গণমাধ্যমে, সকল মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় আমরা এসব খবর দেখেছি। যারা ফিরে আসতে পেরেছে তারা জানিয়েছে যারা ফিরে আসতে পারে নি তারা আছে জলজ্যান্ত নরকে। তারা বাঁচতে চায়, কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ চায়। তারপরেও দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যান বলছে সৌদিতে ধর্ষণ প্রায় নাই। কারন সেগুলো ধর্ষণ হিসাবে রেকর্ড হয়নি। সৌদির অনেক গৃহকর্তা মনে করে দাসীদের সঙ্গে সেক্স করা তাদের অধিকার, কারন তাদের তারা কিনে নেয়। ইসলামে জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধে পরাজিত নারীদের বন্ধি করে গনিমতের মাল, যৌনদাসী বানানোর বিধান আছে। সেই নারীদের বাজারে উঠিয়ে কেনা-বেচাও করা হয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদেরও একাধিক যৌনদাসী ছিল, উনি দাসী কেনা-বেচাও করেছেন। মনে করে দেখেন, আই*এস ইয়াজিদী নারীদের কেনা-বেচা করতো। সেই নারীদের নরকসম জীবন, দুঃসহ স্মৃতি, সংগ্রামের অসংখ্য তথ্য আছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। সৌদি, কুয়েত এসব দেশের অনেক গৃহকর্তা কিনে নেয়া গৃহকর্মীদের মনে করে যৌনদাসী। সেখানে অনলাইনে এই দাসী কেনা-বেচার বাজারও আছে। অনলাইনে সার্চ দিলে আপনি অসংখ্য তথ্য পাবেন।
২০১৯ সালের শুধুমাত্র আগস্ট মাসে সৌদি আরব থেকে ১১১ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল, যাদের ৩৮ জন অভিযোগ দিয়েছিল তারা তাদের গৃহকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এখন ১২ মাসের হিসাব করেন। হিসাবে নেন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপাইন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে কত নারী যায় ও তাদের মাঝে কতজন এমন ধর্ষণের শিকার হয়। অনেকে অভাবের কারনে ধর্ষনকেও মুখ বুঝে মেনে নেয়। ওদিকে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে ধর্ষণের অভিযোগে মাত্র ৮ জন ধর্ষকের সাজা হয়েছিল। কত বড় তামাশা ইসলামের, ভেবে দেখুন।
অনেক উদাহরণ আছে যেখানে পাবেন, অভিযোগ করে বরং ধর্ষিতাকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সৌদি আরবে ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী গৃহকর্মীকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পরে তার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় জনমানুষের প্রতিবাদের মুখে ইন্দোনেশিয়া সেখানে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ইরানের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আতেফেহ সাহালে রজবী ইতিহাসের এক নির্মমতার গল্পের প্রধান চরিত্র যাকে ইসলামী আইনে জিনার দায়ে মৃত্যুদন্ড দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এইগুলোর এক একটি ধরে উদাহরণ দিতে গেলে এই প্রবন্ধ অনেক বড় হয়ে যাবে। আপনারা অনলাইনে সার্চ দিলে এমন অনেক কেইস পাবেন যেখানে ধর্ষণের অভিযোগ দেয়ার পর উল্টো ধর্ষিতাকেই ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এজন্য ইসলামী আইনে চলা কোন দেশে কোন ধর্ষিতা সাধারনত ধর্ষণের অভিযোগ দেয় না।
পাকিস্তানের প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মুনাওয়ার হাসানের মতে, “যদি কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয় এবং তার চারজন সাক্ষী না থাকে, তবে তার চুপ করে থাকা উচিত।” তিনি আরো বলেন, কোনো নারী যদি সম্মতিসূচক যৌনসম্পর্কের অভিযোগে বা ধর্ষণের অভিযোগ আনার পর চারজন প্রত্যক্ষদর্শী হাজির করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় “কোনো সমস্যা নেই।” তিনি নিজেই আরও বলেন যে চারজন সাক্ষী পাওয়া বাস্তবে সম্পূর্ণ অসম্ভব, যদি না ঘটনাটি কোনো চৌরাহায় ঘটে। মনে হয়, ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা তখনই তৈরি হবে, যদি তাকে অন্তত পাঁচজন অপরাধীর একটি দলের হাতে ধর্ষণের শিকার হতে হয় – যাদের মধ্যে চারজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে, এবং পরে সেই চারজনই মূল অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাবে। মূল কথা হলো – যদি কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয় এবং তার কাছে চারজন সাক্ষী না থাকে, তবে তাকে চুপ করে থাকা উচিত।
সুদান আন্তর্জাতিক চাপে তাদের ইসলামী আইনে কিছু পরিবর্তন আনার আগে সেখানে এক তরুণ ইথিওপীয় নারী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর উল্টো “অশ্লীল আচরণ”–এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। আইনজীবীরা বলেন, সুদানে কোনো নারী ধর্ষণের অভিযোগ করলে তা প্রায়ই ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। সুদানি আইনজীবী হিকমা আহমেদ বলেন, আগে আইনটি এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারীকেই ব্যভিচারের আসামি করা হতো।
দুঃখের বিষয় হলো, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান এমন অনেক দেশে বিরাট সংখ্যক মানুষের মাইন্ডসেটে ইসলামিক আইন স্থায়ীভাবে গেঁথে গেছে। অনেক সময় তারা নিজেরাই সামাজিকভাবে জিনা/ব্যাভিচারের জন্য শাস্তির ভার নিয়ে শাস্তি কার্যকর করেন। বাংলাদেশেও এক সময় গ্রাম গঞ্জে ফতোয়া দিয়ে দোররা বা বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রচলিত ছিল, যেটা নারীদের উপরেই বিশেষত প্রয়োগ করা হতো। সেটা এখন কমে গেলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।
আপনি অনেক ইসলাম প্রচারকে বলতে শুনবেন, ইসলামে ধর্ষণের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা আছে। তারা বলেন ইসলাম চাক্ষুস চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী ও নিজের স্বীকারোক্তির পাশাপাশি আধুনিক কালের ধর্ষণ প্রমানের ব্যবস্থা যেমন, যখম, সিসিটিভি ফুটেজ, নারীর সাক্ষ, ডাক্তারি পরীক্ষা, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা এসব সমর্থন করে। অনেকে বলেন জিনা/ব্যাভিচার আর ধর্ষণ আলাদা, ধর্ষণ ফৌজদারী অপরাধ। এটা ঠিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপে অনেক ইসলামী দেশ এগুলো তাদের দেশের আইনে সংযোজিত করেছে বটে। কিন্তু মূল ইসলাম, তথা কোরআন, হাদীসের বিচারে এগুলো নেই, সেখানে ধর্ষণের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।
Related Posts

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries
Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

হিজাব ইজ মাই চয়েস – এই বুলি সেক্যুলার দেশে যারা দাবী করেন তারা নিজেদের দেশে হিজাব পরতে বাধ্য করেন
ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া মঞ্চে পরিবেশনার অপরাধে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে। এইRead More

Attacks by “Tawhidi Janata” in Bangladesh and Obstruction of Minority Religious Practice
In Palashbari upazila of Gaibandha, local Sanatan (Hindu) devotees had taken the initiative to buildRead More

Comments are Closed