Madrasa
Child rape and the Quran

Child Rape and the Quran

মাদ্রাসায় ছেলে শিশু ধর্ষণঃ কোরআন-হাদিসে এর পিছনে যথেষ্ট প্রোভোক করার উপাদান আছে

মাদ্রাসাগুলোতে যে এতো ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, যৌণ সহিংসতার শিকার হয় এটাও প্রভোক করে শিশুকামী গ্যাংস্টার নবী মুহাম্মদ ও তার আল্লাহপাক। কিভাবে?

তাহলে চলুন প্রথমে দেখে নেই কোরআনের দুইটা আয়াত –

সূরা আত-তূর (আয়াত ২৪):
“তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে চিরকিশোররা, তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা।”

​সূরা আল-ইনসান (আয়াত ১৯):
“তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চিরকিশোরেরা; আপনি যখন তাদেরকে দেখবেন, মনে করবেন তারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা।”

ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জান্নাতিদের সেবা করার জন্য আল্লাহ বিশেষ একদল কিশোর বা তরুণ তৈরি করে রেখেছেন, যাদের “গেলমান” (غِلْمَان) বা “ওয়িলদান” (وِلْدَان) বলা হয়। জান্নাতে প্রত্যেক ব্যক্তি ঠিক কতজন গেলমান পাবেন, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা কোরআনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাদিস এবং তাফসির থেকে জানা যায় যে, জান্নাতিদের মর্যাদা ও জান্নাতের বিশালতা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক গেলমান তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। কোনো কোনো রেওয়ায়েত বা তাফসির অনুযায়ী, সাধারণ একজন জান্নাতিকেও সেবা করার জন্য হাজার বা তারও বেশি গেলমান দেওয়া হবে। তারা জান্নাতিদের চারপাশে এত বিপুল সংখ্যায় এবং সুশৃঙ্খলভাবে ঘোরাঘুরি করবে যে, কোরআনে তাদের “বিক্ষিপ্ত মুক্তা”-র সাথে তুলনা করা হয়েছে।

জান্নাতে গেলমানদের মূল কাজ হলো জান্নাতিদের সেবা করা এবং তাদের আরাম-আয়েশের দেখভাল করা। তারা জান্নাতিদের সামনে সোনার থালা, গ্লাস এবং মদের পাত্র নিয়ে সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবে। জান্নাতিরা মনে মনে যা কামনা করবেন বা মুখে যা আদেশ করবেন, তারা চোখের পলকে তা এনে হাজির করবে। তারা চিরকিশোর। তাদের বয়স কখনো বাড়বে না এবং তাদের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হবে না। তারা জান্নাতের পরিবেশকে আরও আনন্দদায়ক ও চমৎকার করে রাখবে।

এখন বলেন, জান্নাতে কেন এই হাজার হাজার শিশুকে রাখতে হবে? কোন রোবট থাকতে পারতো না? জান্নাতে খাওয়ারই বা কি দরকার? হাগতে হবে না, তাহলে খেয়ে কি লাভ? আর এমনও তো হতে পারতো – যা খেতে ইচ্ছা হবে টেবিলে সব সাজানো থাকবে। দুনিয়ায় যদি পেটুক ও মাংস লোভী মুহাম্মদের জন্য মাংস কম না পড়ে তবে জান্নাতে কেন অবার প্রস্তুত, পরিবেশনের জন্য গেলোমান লাগবে? জানেন তো ঐ হাদিস? দাওয়াতে গিয়ে মুহাম্মদের লাজ লজ্জাহীন মাংস চাওয়ার কথা? না জেনে থাকলে এই হাদিস থেকে জেনে নিন। রান্না হয়েছিল একটা ছাগল। সে একের পর এক সামনের ঠ্যাং চেয়েই যাচ্ছিল। যখন হোস্ট বলে দুইটা সামনের ঠ্যাং তো দেয়া শেষ, আর তো নেই। তখন মুহাম্মদ আল্লাহর কসম দিয়ে বলে সে যতক্ষণ চাইতো ততক্ষণই সেটা পাওয়া যেতো। দুনিয়াতেই আল্লা যদি এক ছাগলের অসংখ্য ঠ্যাং সাপ্লাই দিতে পারে তবে জান্নাতে কেন তৈরি করা, টেবিল রেডি ঠ্যাং, যতবার যখন চাইবে দিতে পারবে না?

জান্নাতিরা গেলমানদের দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করাতে পারবে। আপনার কি মনে হয় রুক্ষ আরবের দস্যু বাহিনীর সদস্যদের কাপড় ধুয়ে দিবে এই গেলমানরা – সেই লোভ দেখানো হয়েছিল? প্রচ্ছন্ন লোভ হলো তারা শরীর ম্যাসাজ করে দিবে, তেল মালিশ করবে, ঠ্যাং টিপে দিবে এবং অবধারিতভাবে জন্নাতির পায়ুকাম করার জন্য পাছা পেতে দিবে। এটাই মুমিনদের জন্য জান্নাতে দেয়া আল্লাপাকের প্রচ্ছন্ন লোভ। অনেক হুজুররা ও মাদ্রাসার বড় ভাইয়েরা মূলত মাদ্রাসায় ছোট ছোট শিশুর সঙ্গে জান্নাতের সেই লোভের কিছু রিহার্সাল করে মাত্র। কোরআনে এতো রসিয়ে রসিয়ে এগুলো বলা হয়েছে, আর তাদের যেহেতু সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধূলার মতো প্রচলিত বিনোদন পাওয়ার সুযোগ ইলালম রাখেনি সেজন্য এগুলোকে তারা বিনোদনের অংশ হিসাবেও নেয়। শরীয়া আইন থাকলে তাদের এই কাজ একেবারে পুরোটা বৈধতা পেয়ে যেতো।

জান্নাতের এটা একটা সিরিয়াস চাইল্ড এবিউস যা আল্লাপাক করবেন। কোন বিবেকবান মানুষ শিশুদের দিয়ে এসব করাতে চাইবেন? সেটা কি কারো ভাল লাগার কথা? কিন্তু আল্লাপাক সেই ১৪০০ বছর আগের চিন্তা করেই সবকিছু সাজিয়েছেন। তার ধারণাই ছিল না মানুষ, বিজ্ঞান, সভ্যতা, মানবাধিকারের ধারণা কত বদলে যাবে! একমাত্র পেডোফাইল, পারভার্ট, চাইল্ড এবিউসার ছাড়া কেউ এমন আইন, নীতি করতেই পারবে না এই যুগে।

কোরআনে এমন কিছুই নেই যা ঐ সময় রুক্ষ, দরিদ্র, শিশুকামী, নারীলোভী আরবের মরুদস্যু টিমের সদস্যরা লোভ করতো না। মুহাম্মদ শুধু সেই প্রতিশ্রুতিগুলোই দিয়েছে যা ঐ জিহাদী মানুষগুলো কামনা করতো, কিন্তু পেতো কম বা পেতো না। আরবের তৎকালীন সংস্কৃতিতে রাজপ্রাসাদ বা অভিজাত পরিবারগুলোতে অল্পবয়সী দাস বা সেবকদের দিয়ে অতিথিদের পানীয় ও খাবার পরিবেশন করানো হতো, যা ছিল উচ্চ মর্যাদা এবং আরাম-আয়েশের প্রতীক।

জিহাদে পরাজিত গোত্রের হতভাগ্য শিশুদের ধরে এনে এই দাস বা গেলমান বানানো হতো। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগীয় কিছু মুসলিম রাজদরবারে বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মধ্যে ‘আমরাদ’ (দাড়ি-গোঁফ না ওঠা সুন্দর কিশোর) বা তরুণ দাসদের প্রতি আকর্ষণের এবং তাদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো। আব্বাসীয় খিলাফত বা অটোমান সাম্রাজ্যের কিছু শাসকের সময়ও রাজকীয় হারেমে খোজা বা কিশোরদের রাখা হতো, এবং কিছু কবি ও সাহিত্যিকের লেখায় কিশোরদের সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণের (গজল বা কবিতার মাধ্যমে) ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সবকিছু তো আর ওপেনলি বলবে না কোরআন, হাদিস, মুমিনদের মনোকামনা যেটা সেটাই পূরণ করবে গেলমানরা। মরুদস্যু কাঙালগুলো তো অভিজাত পরিবারে লুটপাট না চালালে তাদের মতো বিলাসিতার মুখ দেখতো না। সেজন্য তারা কল্পনা করতো তাদের ওসব হবে জান্নাতে, হাজারে হাজারে।

একাডেমিক এবং প্রাচ্যবিদ (Orientalist) গবেষণায় কিছু সমালোচক ও গবেষক যুক্তি দেখিয়েছেন যে, জান্নাতে ‘গেলমান’ বা কিশোরদের বিবরণ দেওয়ার পেছনে তৎকালীন আরবের সমকামী বা কিশোর-কামিতার (Pederasty) মনস্তত্ত্ব কাজ করে থাকতে পারে। তারা দাবি করেন, এই বিবরণগুলোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এক ধরনের যৌন আকর্ষণ বা লালসার ‘লোভ’ দেখানো হয়েছে।

জ্যানেট আফারি (Janet Afary) – Sexual Politics in Modern Iran
​কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত এই বইয়ে ইতিহাসবিদ জ্যানেট আফারি কোরআনের জান্নাতের বিবরণ এবং মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক যৌন মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যেঃ কোরআনে হুরদের পাশাপাশি গেলমান বা উইলদানদের যে শারীরিক সৌন্দর্য (যেমন: মুক্তার মতো ত্বক, চিরতরুণ অবয়ব) বর্ণনা করা হয়েছে, তা তৎকালীন প্রাক-ইসলামী ও মধ্যযুগীয় আরবের সমকামী বা কিশোর-কামিতার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এই বিবরণগুলোকে তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষদের জান্নাতের প্রতি আকৃষ্ট করার একটি উপাদান বা ‘পুরস্কার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে, যা কেবল সাধারণ সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

মেইর জে. কিস্টার (Meir J. Kister) ও উরি রুবিন (Uri Rubin)
​ইসরায়েলি প্রাচ্যবিদ ও কোরআন গবেষকদের কেউ কেউ তাঁদের বিভিন্ন গবেষণাপত্রে প্রাক-ইসলামী আরবের কবিতা (Jahiliyyah Poetry) এবং কোরআনের ভাষার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন যে, তৎকালীন আরবের অভিজাত পুরুষদের মধ্যে সুন্দর কিশোর বা ‘আমরাদ’ (দাড়ি-গোঁফ না ওঠা তরুণ)-দের প্রতি এক ধরনের নান্দনিক ও যৌন আকর্ষণ ছিল। ​এই সমালোচকদের দাবি, জান্নাতের বর্ণনায় যখন হুরদের পাশাপাশি এই কিশোরদের সৌন্দর্যের ওপর এত জোর দেওয়া হয়, তখন তা অবচেতনভাবেই হোক বা সরাসরি, তৎকালীন শ্রোতাদের (আরব পুরুষদের) জাগতিক আকাঙ্ক্ষা ও লালসাকেই উদ্দীপিত করত।

বিবেক, কমন সেন্স, যুক্তি দিয়ে ভাবার দায়িত্ব আপনাদের – যদি উদ্দেশ্য কেবলই খাবার বা পানীয় পরিবেশন করা হতো, তবে তাদের “লুকানো মুক্তা” বা অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে বর্ণনা করার প্রয়োজন ছিল না। এই শারীরিক বিবরণ মূলত কামভাব জাগানোর জন্য। আরবের অনেক জ্ঞানী লোকেরা তখন পারস্য ও রোমান জ্ঞান দিয়েও প্রভাবিত ছিল। তৎকালীন পারস্য ও রোমান রাজদরবারে কিশোরদের যৌন সঙ্গী বা বিশেষ সেবক হিসেবে রাখার যে সংস্কৃতি ছিল, জান্নাতের বর্ণনা তারই একটি স্বর্গীয় রূপান্তর।

Related Posts

Hijab is My Choice!

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries

Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

Hijab is My Choice!

হিজাব ইজ মাই চয়েস – এই বুলি সেক্যুলার দেশে যারা দাবী করেন তারা নিজেদের দেশে হিজাব পরতে বাধ্য করেন

ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া মঞ্চে পরিবেশনার অপরাধে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে। এইRead More

Rights of Minorities in Bangladesh

Attacks by “Tawhidi Janata” in Bangladesh and Obstruction of Minority Religious Practice

In Palashbari upazila of Gaibandha, local Sanatan (Hindu) devotees had taken the initiative to buildRead More

Comments are Closed