
9-11 Before and After
ইসলামী মতাদর্শ কি বিশ্বব্যাপী মানুষের আস্থার সম্পর্ককে ধ্বংস করে জীবনকে কঠিন করে দিয়েছে?
২০০০ সালের দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ছিল উন্মুক্ত। আমরা সেখানে গিয়ে বন্ধুরা মিলে সিঁড়িতে বসে আড্ডা দিতাম। উজ্জ্বল আলোর দিনগুলো ছিল চিন্তামুক্ত, কোনো তল্লাশি ছিল না, কোনো নিষেধের সাইনবোর্ড ছিল না কোথাও। অফিস, আদালত, মিল, কারখানা, নববর্ষ, পূজা, মেলা, পার্বণ — কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হতো না সাধারণ মানুষকে, প্রশাসনকেও না। এই চিত্র শুধু বাংলাদেশের একার নয়, সমগ্র পৃথিবীরই। আপনি ভেবে দেখুন, এখন যে নিরাপত্তার দেয়াল চারিদিকে এমনটা কি আগে ছিল? মানুষে মানুষে এতো সন্দেহ, অবিশ্বাস কি আগে এতো ছিল?
১৯৯৭ সালে আমার দাদা হজ করে ফিরে আসার সময় মাত্র বিশ টাকার টিকেট দিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে গিয়ে তাঁকে রিসিভ করেছিলাম, কোন তল্লাশি জাতীয় কিছুই হয়নি, কেউ প্রশ্ন করেনি কেন এসেছি। সে সময় বিমানবন্দর পার হওয়ার সময়ও সঙ্গে পানির বোতল নেয়া যেতো, জুতা খুলতে হতো না, বেল্ট খুলতে হতো না। সেই সময় বিশ্বটা ছিল মানুষের পরস্পরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও মর্যাদার উপর নির্মিত। বিশ্বব্যপী কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলা হলেও মোটাদাগে মানুষ মানুষকে নিরাপত্তার জন্য এতোটা সন্দেহ করতো না। দূতাবাসগুলো ভিসা দিত অনেকটা আস্থার ভিত্তিতে। এখনকার মতো মেটাল ডিটেক্টর, ডগ স্কোয়াড, কাঁটাতারের দেয়াল, পরতে পরতে নিরাপত্তাকর্মী — এসব সর্বত্র ছিল না।
সেই বিশ্ব আর নেই। একটি মাত্র সকাল সেটিকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
কাকলী মোড়ের সেই দুপুর
২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, সম্ভবত দুপুর। আমি কাকলী মোড়ের ওভারব্রিজ পার হচ্ছিলাম। দেখি হকাররা চিৎকার করে দুই পাতার টেলিগ্রাম বিক্রি করছে। আজকের কাগজ, জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ — সব পত্রিকা আট কলাম লাল কালিতে হেডলাইন করে দিনের বেলা এক্সট্রা সংখ্যা বের করেছে। সাধারনত কোন বড় ঘটনা না ঘটলে পত্রিকাগুলো এমন টেলিগ্রাম বের করতো না। শিরোনাম একটাইঃ আমেরিকা লন্ডভন্ড, ভয়াবহ বিমান হামলা! এটা ছিল মূলত আমেরিকা বিরোধী মুসলিম জনমতকে চুলকে দিয়ে কিছু আয় করে নেয়ার বাহানা।
কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেদিন আমেরিকায় ছিল ১১ সেপ্টেম্বরের রাত। নিউইয়র্কের দুটি সুউচ্চ ভবন – টুইন টাওয়ারে দুটি আত্মঘাতী বিমান আঘাত করেছে। পেন্টাগনে আরেকটি। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে যাত্রীরা নিজেরাই ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করেছিলেন। প্রায় তিন হাজার মানুষ কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে এবং আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
এক ৯/১১ বিশ্বের সময়কে দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে — ৯/১১-এর আগে এবং পরের বিশ্ব। একটি সুন্দর সকাল পৃথিবীকে চিরদিনের জন্য বদলে দিল। দুনিয়াজুড়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্কগুলো প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে গেল। বিশ্বের সব স্থাপনার মতো বাংলাদেশের সংসদের চারপাশেও বেড়া বসে গেল। সেই দক্ষিণ প্লাজার সিঁড়ি থেকে আড্ডার দিন শেষ হয়ে গেল। মানুষ এখন একজন অন্যজনকে চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে নিরাপত্তার জন্য সন্দেহ করে। কিন্তু এই বিশ্ব কিন্তু এতোটা কঠিন ছিল না আগে।
কারা করেছিল এবং কেন?
হামলার পেছনে ছিল আল-কা*য়েদা — ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক-ধর্মীয় মতাদর্শে বিশ্বাসী আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। ১৯ জন হাইজ্যাকার, যাদের অধিকাংশ সৌদি নাগরিক, মাসের পর মাস আমেরিকায় নিরীহ বিমান-শিক্ষার্থী সেজে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। প্রতিবেশীরা তাদের চিনত, দোকানদাররা তাদের সালাম দিত — কেউ জানত না সেই পরিচিত মুখগুলো মৃত্যুর পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরছে।
এটাই ৯/১১-এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক। হাজার হাজার যুদ্ধ পৃথিবীতে হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে, গোত্রে গোত্রে, রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাত হয়েছে — কিন্তু সেইসব সংঘাত, যুদ্ধের একটা সীমানা থাকত, একটা রণক্ষেত্র থাকত, আগে থেকেই অনেকটা আচ করা যেতো। ৯/১১ সেই সীমানা মুছে দিল, জানিয়ে দিলো তোমার পরিবারের মধ্যের লোক, তোমার প্রতিবেশী, তোমার আশ্রয়ে বেড়ে উঠা কেউই আর তোমার জন্য নিরাপদ না। এই হামলা প্রমাণ করল যে মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালবাসা, সহানুভূতি ও উন্মুক্ততাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
একের পর এক — থামেনি সেই ঢেউ
৯/১১-এর পরেও থামেনি এই অবিশ্বাসের জঙ্গিবাদী ক্যান্সার। বরং শুরু হলো একটি দীর্ঘ, রক্তাক্ত অধ্যায়।
- ২০০৪ সালে মাদ্রিদের ট্রেন স্টেশনে বোমা হামলায় ১৯১ জন নিহত হন।
- ২০০৫ সালে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডে বিস্ফোরণে ৫২ জন।
- ২০০৮ সালে মুম্বাইতে লস্কর-এ-তাই*বার হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু।
- ২০১৫ সালে প্যারিসের বাতাক্লাঁ কনসার্ট হলে আই*এসআই*এস-এর হামলায় ১৩০ জন।
- ২০১৬ সালে নিসে ফ্রান্সে বাস্তিল দিবসের উৎসবে ট্রাক তুলে দিয়ে ৮৬ জন হত্যা।
- বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখে বোমা হামলা।
- ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ২২ জন নিহত।
এমন অসংখ্য হামলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী, কয়টা রেখে কয়টা বলি? এসবের পেছনে ছিল আল-কা*য়েদা, আই*এসআই*এস, বো*কো হারাম, আ*ল-শাবাব, তেহরিক-ই-তালেবা*ন, জামা’আতুল মুজা*হিদীন বাংলাদেশ (জে*এমবি) — সবাই একই ধরনের উগ্র রাজনৈতিক-ধর্মীয় মতাদর্শে পরিচালিত। সবারই একটাই লক্ষ ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। ১৪০০ বছর আগের ইসলামিক মতবাদ নতুন করে বিশ্বে চাপিয়ে দেয়া। এজন্য তাদের লক্ষ পূরণে তারা নির্দোষ, নিরীহ বিধর্মীদের হত্যা করতে দ্বিধা করে না।
আই*এস সিরিয়া, ইরাকের বড় অঞ্চল দখল করে কত কি করেছিল সেটা তো সবাই জানেন। ইসলামী খেলাফতের নামে সেখানে তারা ইয়াজীদী নারীদের ধরে যৌনদাসী বানিয়ে বিক্রি করা থেকে শুধু করে তাদের অন্য অংশের মাধ্যমে মিশরের সমুদ্র সৈকতে কপ্টিক খ্রিস্টানদের গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা – কত অপকর্ম করেছে, জঘন্য মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। কোন সুস্থ, স্বাভাবিক, বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ ইসলামের নামে এই খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন চাইবে?
স্কুলের শিশুরাও রক্ষা পায়নি
ইসলামের নামে এই জঙ্গিবাদী হামলা থেকে রেহায় পায়নি নিরীহ শিশুরাও যারা দুনিয়ার কোন যুদ্ধের খবরই জানে না।
- ২০০৪ সালে রাশিয়ার বেসলানে একটি স্কুলে হামলায় ৩৩৪ জন নিহত — অধিকাংশই শিশু।
২০১৪ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে সামরিক স্কুলে হামলায় ১৩২টি শিশুসহ ১৪৯ জন নিহত। - ২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের চিবক শহরের একটি সরকারি স্কুল থেকে বোকো হা*রাম প্রায় ২৭৬ জন ছাত্রীকে জিম্মি (অপহরণ) করে।
- ২০১৮ সালে ডাপচি (Dapchi) শহরের এক স্কুল থেকে ১১০ জন ছাত্রী অপহৃত হয়।
বিশ্বের কোনো স্থান, কোনো বয়স আর নিরাপদ মনে হলো না।
ইসলামী তাকিয়াঃ বিশ্বাসের সম্পর্কে একটি ধর্মীয় ছলনার তত্ত্ব
হামলাকারীরা সমাজে মিশে থাকত, পরিচিত মুখ হয়ে উঠত — তারপর আঘাত করত। প্রায় সব ক্ষেত্রেই কেউ জানতে পারতো না তাদের হত্যার জন্য আততায়ীরা তাদের সঙ্গেই মিশে আছে, তাদের শিশু সন্তানদের যারা অপহরণ করবে তারা তাদের সাহায্যকারী সেজে বসে আছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলাম ধর্মীয় মতবাদের তাকিয়া (Taqiyya) ধারণাটি আলোচিত হয়।
ধর্মীয় গবেষণায় বলা হয়, ইসলাম প্রচার প্রসারের স্বার্থে মিথ্যা বলা, ছলনা করা, গুপ্ত হয়ে থাকা, নিজের বিশ্বাস গোপন করার অনুমতি ইসলামে দেয়া হয়েছে। কোরআন, হাদিস, সিরাতে এর অনেকগুলো উদাহরণ আছে। আল্লাহ নিজেও কৌশলের নামে প্রতিপক্ষকে প্রতারিত করে ছলনা করার উদাহরণ দেখিয়েছেন, নবী মুহাম্মদও এই ছলনার আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করেছেন। চরমপন্থীরা এই ধারণাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে। সেই মিশনে তারা নীতি-নৈতিকতার ধার ধরে না, যাকে খুন করলে, যেটা ধ্বংস করলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে তাদের লক্ষ থাকে সেটাই। আর তারা যেহেতু নিজেরা আত্মঘাতী এবং বিশ্বাস করে তারা মরলে শহীদ হবে এবং বিনা প্রশ্নে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে লোভনীয় জান্নাতে যাবে সেহেতু তারা কোন ভয়েই পিছু হটে না, নিজের জীবন দিতেই তারা পথে নামে।
বলে রাখি, ১৮০ কোটির বেশি মুসলমানের অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় এবং জঙ্গিবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তারা মূলত ইসলামের কট্টর নির্দেশনাগুলো নিজেরা মেনে চলে না বা সেগুলোর তুলনায় রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর মানে এই নয় যে মতাদর্শ হিসাবে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের দায় থেকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ আছে।
ইসলামে অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, তাদের সাহায্য করা, তাদের কল্যান কামনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (কোরআন – ৩ঃ২৮, ৩ঃ১১৮, ৪ঃ১৪৪, ৫ঃ৫১, ৯ঃ২৩, ৯ঃ২৪, ৯ঃ১১৩, ৯ঃ১১৪, হাদিস – hadithbd.com/hadith/link/?id=60155)। কিন্তু ইসলামে তাকিয়া এমন একটা জিনিস এতে সুযোগসন্ধানী মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গিরা অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ভান করে, তাদের আকৃষ্ট করে শেষে সেই ছলনার বন্ধুত্বের নামে মানুষকে শত্রুজ্ঞান করে ধ্বংস করতে পারে। তারা প্রথমে তাদের কর্মকৌশল ঠিক করে, এরপর তাদের ভিতরে বিভিন্ন ভদ্র মানুষের বেশে অনুপ্রবেশ করে, একপর্যায়ে সঠিক সময় এলে তাদের মূল উদ্দেশ্য হাসিল করে। অনেক ইসলামিক মৌলবাদীর কাছে ভিন্ন ধর্মের কোন নর-নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে তাদের ধর্মান্তরকরণ করাটাও তাকিয়ার অংশ।
কুরআনে আল্লাহর ছলনার উদাহরণ স্পষ্ট। সুরা আল-ইমরান ৩ঃ৫৪-এ বলা হয়েছে – “এবং কাফেররা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও চক্রান্ত করেছেন। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম চক্রান্তকারী।” একই আয়াতে অন্য অনুবাদে “আল্লাহ সর্বোত্তম প্রতারক” বলা হয়েছে। সুরা আল-আনফাল ৮ঃ৩০-এ বলা হয়েছে “আর কাফেররা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দি অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে… তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুত আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।” এসব আয়াত দেখায় যে আল্লাহ নিজে ছলনা করেছেন এবং তা ইসলামের স্বার্থে অনুমোদিত।
ভিন্ন ধর্মের মানুষদের হত্যা করার জন্যও আল্লাহ কোরআনে গুপ্ত আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আত তাওবা ৯ঃ৫ – “তারপর (এই) নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর, তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে ঘেরাও কর, তাদের অপেক্ষায় প্রত্যেক ঘাঁটিতে ওৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু তারা যদি তাওবাহ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।” এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন – কুফফারদেরকে সতর্ক করার পূর্বেই তাদেরকে গুপ্তভাবে হত্যা করা জায়েয। অর্থাৎ হত্যা করার পূর্বে আপনার পূর্ব সতর্কতা বা কোন শর্ত যেমন, তুমি যদি এই না করো তাহলে তোমাকে হত্যা করা হবে – এমন কিছুই বলার প্রয়োজন নেই।
নবী মুহাম্মদ এর যুগেও এর উদাহরণ আছে। ইহুদি দুই কবিকে হত্যা করতে গুপ্ত হত্যাকারী টিম পাঠানো হয়েছিল এবং নবী মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিতে অনুমোদন দিয়েছিলেন। সহিহ বুখারীতে (sunnah.com/bukhari:6622) বলা হয়েছে – “আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি আমি কোনো ব্যাপারে শপথ করি আর পরে দেখি এর চেয়ে ভালো কিছু আছে তখন আমি যেটা ভালো মনে করি সেটাই করি এবং পূর্বেকার শপথ রক্ষার কোনো দরকার মনে করি না।” আবু বকর – এর উদাহরণও দেওয়া হয়েছে যেখানে শপথ ভঙ্গ করে উত্তম কাজ করা হয়েছে এবং কাফফারা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ ছলনা” (sunnah.com/bukhari/56/234-238)। এমন আরো অনেক হাদিস আছে যেখানে ছলনা করা, শপথ করেও সেটা রক্ষা না করা, মিথ্যা বলে স্বার্থ উদ্ধার করার কথা বলা হয়েছে। সিরাত গ্রন্থগুলোতে অনেক উদাহরণ আছে সেগুলোর।
অনেক মাদ্রাসায় যখন ছোট ছোট বাচ্চা শিশুরা ধর্ষিত হয় তখন দেখবেন হুজুরদের বড় অংশ সেটা নিয়ে কোন কথা বলে না। কারন মুসলমানদের দোষ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোরআনে ও হাদিসে। অমুসলিমদের কাছেও ইসলামের যে জিনিসগুলো সুন্দর মনে হবে না তা উল্লেখ করতে নিষেধ করা হয়। একবার যখন কেউ ইসলামে এসে যায় তখন সে বাধ্য হয় সেগুলো মেনে নিতে। কারন ইসলাম ত্যাগ করলে কেউ মুরতাদ হয়ে যায়, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সেজন্য সুন্দর ব্যবহার, ইসলামের ভাল ভাল দিক দেখিয়ে ছলে বলে কৌশলে কাউকে একবার মুসলমান বানাতে পারলে হয়, পরে আর তার বেরিয়ে যাওয়ার পথ খোলা থাকে না। মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখার হাদিস (sunnah.com/bukhari:2442) কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দুর্বলতা লুকিয়ে রাখতে হয়।
সুরা আল-বাকারা ২ঃ২২৫-এ শপথ ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যদি উত্তম কিছু পাওয়া যায়। এসব রেফারেন্স থেকে বোঝা যায় যে ইসলামে তাকিয়াবাজি শুধু আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং ইসলামের বিস্তার, শত্রু ধ্বংস এবং গোপন অবস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। উগ্র ইসলামিস্টরা এই টেকনিক ব্যবহার করে। তারা আপাতদৃষ্টিতে ভদ্র মানুষের মতো বন্ধুত্ব করে, কিন্তু ভিতরে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে বসে থাকে। রাজনীতি, সমাজে ইসলামের নামে গুপ্তভাবে স্বার্থ উদ্ধার করে – যেখানে মিথ্যা বলা, ছলনা করা, ভান ধরা পুরোটাই জায়েজ।
অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিষেধ থাকলেও ইসলামের স্বার্থে বন্ধুত্ব করা যাবে, এমনকি সাময়িকভাবে তাদের রীতিনীতিও মুসলমানরা মেনে চলতে পারবে। এজন্য দেখবেন, কোন দেশে মুসলমানরা সংখ্যলঘু হলে অনেক মুসলমান নেতা সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা চায়, কিন্তু ইসলাম সংখ্যাগরিষ্ট হলে সেই চাওয়ার চিত্র একেবারে পাল্টে সেখানে তারা শরীয়া আইন চায়। সূরা নাহল ১৬ঃ১০৬ – এর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টত অন্য ধর্মের মানুষ বা জাতিগষ্ঠীর সঙ্গে তাদের মতো হয়ে মিশে থাকার কথা জানিয়েছেন, এমনকি সেটা কুফর জাতীয় কাজ হলেও। যেমন দেখুন, ইন্ডিয়ায় থাকতে হলে প্রয়োজনে পূজা অর্চনাও করা যাবে যদি সেখানে ইসলামের স্বার্থ থাকে।
তাকিয়া নিয়ে আমার একটা বিস্তারিত আর্টিকেল আছে, পড়ে দেখতে পারেন।
ইসলামী মতাদর্শ অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে!
ইসলামের নামে বিশ্বব্যাপী গুপ্ত হামলাগুলোর কারনে এখন বাড়ি থেকে রাজপ্রাসাদ, বাস টার্মিনাল থেকে রেলস্টেশন সর্বত্র নিরাপত্তার কড়াকড়ি। প্রয়োজন হয়েছে অনেক মেটাল ডিটেক্টর, নিরাপত্তাকর্মী, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, পুলিশের অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, সমরাস্ত্র, প্রযুক্তিসহ আরো কত কি! এর পিছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকা। এই টাকা আসছে কোথা থেকে? আপনার আমার মতো খেটে খাওয়া মানুষদের পকেট থেকে। দেখি – যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত – বিশ্বের বড় দুই দেশ নিয়ে একটা হিসাব কেমন দাঁড়ায়!
৯/১১-এর আগে বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ঢিলেঢালা ছিল। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি ছিল অনেক বেশি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। বিমানবন্দর, সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বড় কোনো জনসমাগমে মানুষ প্রবেশ করত খুব কম যাচাই-বাছাইয়ের ভেতর দিয়ে। নিরাপত্তা ছিল, কিন্তু তা চোখে পড়ার মতো নয়—বরং নীরব ও অঘোষিত। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাকে আলাদা কোনো চিন্তা হিসেবে বহন করত না; জীবন চলত নিজের স্বাভাবিক গতিতে।
৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ব্যয়ের নাটকীয় বৃদ্ধি ঘটে। যদি শুধুমাত্র বিমানবন্দরকে হিসাবে নেন তবে দেখবেন – সেখানে বহুত্বিক স্ক্যানার, বডি চেক, নজরদারি ক্যামেরা, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু হয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য—সবখানেই নিরাপত্তা খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দ হতে থাকে। এই বাড়তি ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে সরাসরি উন্নয়ন খাতে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের মতো খাতে। অনেক দেশে তুলনামূলকভাবে সরাসরি জনস্বার্থের খাতগুলো কোণঠাসা হয়। কল্পনা করুন তো যদি এই বাড়তি নিরাপত্তা খরচটা না করে সেটা স্বাস্থ খাতে দেয়া হচ্ছে – তাহলে স্বাস্থ্যসেবা কতটা জনবান্ধব হতে পারতো!
৯/১১-এর আগের বিশ্বের তুলনামূলকভাবে নীরব ও অদৃশ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন এসে ঠেকেছে নিজেকেও অবিশ্বাস করতে হবে – এমন নীতিতে। আগে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক আস্থাই ছিল নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালে ৯/১১-এর ঠিক আগে সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যয় মোট GDP–এর প্রায় ৩.২–৩.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল এবং “হোমল্যান্ড সিকিউরিটি” নামে কোনো আলাদা বৃহৎ কাঠামোই তখনো গড়ে ওঠেনি। সেখানে বিমানবন্দর, সরকারি ভবন কিংবা জনসমাবেশে প্রবেশ মানেই আজকের মতো দীর্ঘ লাইন, বডি স্ক্যানার, বোমা শনাক্তকারী কুকুর বা সর্বক্ষণ নজরদারি ক্যামেরা ছিল না। ভারত-বাংলাদেশেও একই চিত্র—নব্বইয়ের দশক ও ২০০০ সালের শুরুর দিকে প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন দৃশ্যমান চাপ তৈরি করত না। নিরাপত্তা ছিল ব্যবস্থার অংশ, কিন্তু জীবন ছিল স্বাধীন গতির।
কিন্তু ৯/১১-এর পর সর্বত্রই নিরাপত্তা খাত হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় বাজেটের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে “ওয়ার অন টেরর”-এর সূচনার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যয় বেড়ে গিয়ে ২০১০–২০১২ নাগাদ GDP–এর প্রায় ৪.৮–৫ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা ৯/১১-পূর্ব সময়ের তুলনায় স্পষ্টতই বড় লাফ। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি খাতেই ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়—২০০১ সালের তুলনায় ২০১১ সালে প্রকৃত অর্থে প্রায় দুই গুণ ব্যয় করা হয়। ভারতেও ৯/১১-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতা, মুম্বাই হামলা ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কারণে প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় GDP–এর প্রায় ১.৯–২.৩ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মোট কেন্দ্রীয় বাজেটের ১৩–১৪ শতাংশ এখন সামগ্রিক নিরাপত্তা খাতেই বরাদ্দ—যা ৯/১১-পূর্ব সময়ের তুলনায় স্পষ্টভাবে অনেক বেশি।
এই বিপুল নিরাপত্তা ব্যয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১–পরবর্তী যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর পেছনে এখন পর্যন্ত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে কর ও ভবিষ্যৎ ঋণের মাধ্যমে। ভারতেও একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক কল্যাণ খাতে যে অর্থ যাওয়ার কথা, তার একটি বড় অংশ নিরাপত্তা খাতে সরে গেছে।
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা নিয়ে এই সর্বোচ্চ অবিশ্বাসের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপুল খরচ বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একা ‘ওয়ার অন টেরর’-এ ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে (ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অনুমান)। বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বছরে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা কমেছে—সার্ভেইল্যান্স, ডেটা মনিটরিং, প্রোফাইলিং বেড়েছে। ইসলামফোবিয়া নামে যে ভয় দেখানো হয়, তা আসলে বাস্তব ঘটনার ফল। যদিও অধিকাংশ মুসলমান শান্তিপ্রিয়, কিন্তু সংখ্যালঘু জঙ্গিদের কারণে সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এই সন্দেহের জন্য দায়ী তাকিয়াবাজির মতো ধারণা যা জঙ্গিদের গোপন কার্যকলাপকে সহজ করে।
সামাজিক দিক থেকে ৯/১১-এর পরের বিশ্ব আরও বিভক্ত ও সতর্ক হয়ে ওঠে। মানুষে মানুষে সন্দেহ, বিশেষ করে ভিন্ন ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা ভৌগোলিক পটভূমির লোকদের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ে। বিমানবন্দরে, সীমান্তে, কিংবা জনসমাগমে কিছু মানুষকে “ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে সহাবস্থান, উদারতা ও সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর অনেক সমাজেই বৈষম্য ও সামাজিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মানসিক দিক থেকেও ৯/১১ মানুষের মাঝে স্থায়ী এক ভয় ও অনিরাপত্তার বোধ তৈরি করেছে। “হঠাৎ কিছু ঘটে যেতে পারে”—এই চিন্তা মানুষের অবচেতনে গেঁথে যায়। সংবাদমাধ্যমে নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাস বা হামলার খবর নিয়মিত আসায় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ বাড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই শক্তিশালী হোক, মানসিক স্বস্তি অনেক সময় ততটাই দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ ভয়টি আর দৃশ্যমান শত্রুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়, এটি বৈশ্বিক সময়বোধের এক বড় বিচ্ছেদরেখা। এর আগে পৃথিবী ছিল তুলনামূলকভাবে আস্থার ওপর দাঁড়ানো, আর এর পরে পৃথিবী দাঁড়ায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর। উন্নত নিরাপত্তা একদিকে যেমন ঝুঁকি কমিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি মানুষের স্বাধীনতা, মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক উন্মুক্ততায় গভীর ছাপ ফেলেছে।
ইসলামোফোবিয়া ও ইসলাম বিদ্বেষ
২০১৪ সালে নেপালে গিয়ে আমাকে হঠাৎ পরিচিত এক বন্ধুকে বোঝাতে হয়েছিল যে মুসলিম পরিবারের হলেও আমি ক্ষতিকর নই। আমি কিছু করিনি, কিন্তু একটি ট্যাগ আগেই অনেকের মনে গেঁথে গিয়েছিল। আমার এখনো মনে আছে আমার নাম শোনার পরে ফিওয়া লেকের এক পাশে দাঁড়ানো আইটি প্রফেশনাল লোকটি হঠাৎ একটু দূরে সরে গিয়েছিল। তার চোখেমুখে দেখেছিলাম স্পষ্ট সরে পড়ার ভয়। ভয়ের এই মানসিকতাকে অনেকে নাম দিয়েছেন – ‘ইসলামফোবিয়া।’ অনেকে মুখে স্বীকার না করলেও ভিতরে ভিতরে ইসলামী লেবাসের কাউকে দেখলে এই ভয়ের তাড়না অনুভব করেন, এটা বাস্তবত।
অন্যদিকে বাংলাদেশে অনেক উগ্র মৌলবাদী জঙ্গিরা এক টার্ম বের করেছে – ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ যা আসলে একটা আজগুবি জিনিস। এই ট্যাগ দিয়ে তারা ইসলামের সমালোচক, মুক্তমনা, মানববাদী, নাস্তিকদের হত্যার বৈধতা উৎপাদন করে। এই নামে অভিহিত করে অনেক মুক্তমনা ব্লগার, লেখককে তারা জবাই করে হত্যা করেছে। আমি সামান্য মানুষ, আমাকেও প্রতিদিন এমন অনেক হত্যার হুমকি নিয়ে ঘুমাতে যেতে হয়। অনলাইনে, অফলাইনে আমার গন্ডি অনেক সংকুচিত, কারন এই উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বাকস্বাধীনতার অধিকার বোঝে না। তাদের কাছে কোরআন ও হাদিসের অমানবিক আয়াত, উগ্রতার প্রদর্শন করে জোর করে ইসলাম কায়েম করার স্বপ্ন থাকে। অথচ যেকোনো ধর্মের সমালোচনা করার অধিকার বাকস্বাধীনতার অংশ – যা সভ্যতায় স্বীকৃত। সবাইকে যে একই সঙ্গে সব ধর্মমতের অন্ধকার দিক বের করে সমালোচনা করতে হবে – তা তো নয়। অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এক একটি ধর্মের পশ্চাৎপদতা, অমানবিক দিকের সমালোচনা করে। অন্যরা সচারচার আক্রান্ত না হলেও ইসলামের সমালোচনা করে আক্রমনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
হারিয়ে যাওয়া সেই বিশ্ব কি ফিরবে?
বাংলাদেশের সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সিঁড়িটা আছে, কিন্তু সেখানে বসার অধিকার নেই। বিমানবন্দরে বিশ টাকার টিকেটে প্রিয়জনকে রিসিভ করার দিন শেষ। নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার মধ্যে দ্বন্দ্বে পৃথিবী নিরাপত্তাকে বেছে নিয়েছে — স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের মূল্যে।
প্রশ্ন রয়ে যায়ঃ
কয়েক হাজার জঙ্গির কারণে কি শত কোটি মানুষ আজীবন সন্দেহের আসামি হয়ে থাকবে?
হয়তো সেই পৃথিবী আর ফিরবে না।
কিন্তু আস্থা ও মর্যাদার সমাজের স্বপ্ন দেখা থামানো উচিত নয় — কারণ বিশ্বাসহীনতার সংস্কৃতিতে জঙ্গিরাই জিতে যায়। আর আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে উচিৎ সেই মতবাদের বিপক্ষে লড়ে যাওয়া যে মতবাদ এই মৌলবাদী, জঙ্গি হতে মানুষকে উৎসাহিত করে, নির্দেশ দেয়।
Related Posts

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries
Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

হিজাব ইজ মাই চয়েস – এই বুলি সেক্যুলার দেশে যারা দাবী করেন তারা নিজেদের দেশে হিজাব পরতে বাধ্য করেন
ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া মঞ্চে পরিবেশনার অপরাধে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে। এইRead More

Attacks by “Tawhidi Janata” in Bangladesh and Obstruction of Minority Religious Practice
In Palashbari upazila of Gaibandha, local Sanatan (Hindu) devotees had taken the initiative to buildRead More

Comments are Closed