
Cinmoy vs Anayetullah
চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু নাকি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?
জার্মানির বন থেকে বার্লিনে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে একটা লোকাল স্টেশনে পৌঁছে দেখি, ট্রেন ছাড়তে এখনো ঘণ্টাখানেক বাকি। রাত গভীর, প্ল্যাটফর্ম প্রায় জনশূন্য, বাতাসে হালকা ঠান্ডা, দূরের আলোগুলো যেন কুয়াশার ভেতর থেকে চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। টিকিট কাউন্টারের পেছনে বসা মাঝবয়সী ভদ্রমহিলা, নাম-ট্যাগে লেখা ইসাবেলা শ্নাইডার, আমাকে দেখে হাসিমুখে ডাকলেন।
“এতক্ষণ একা বসে বোর হবেন। আসুন, গল্প করি।”
তার কণ্ঠে ছিল এক ধরনের উষ্ণতা, যেন এই নির্জন প্ল্যাটফর্মে মানুষের উপস্থিতি তাকে নিজেও একটু আশ্বস্ত করেছে। আমি এগিয়ে গেলাম। হাতে রাখা আমার পাসপোর্ট দেখে তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন, তারপর চোখ তুলে বললেন,
“বাংলাদেশি? বাহ! শুনুন, আজকের এই ট্রেনে একটা মজার কাকতালীয় ব্যাপার আছে। আপনার দেশেরই দুজন ধর্মীয় নেতা আজ এই ট্রেনেই বার্লিন ফিরছেন। বনে একটা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠান হয়ে গেল, তারই অংশগ্রহণকারী। দুটো আলাদা কামরা বরাদ্দ ছিল তাদের জন্য, সাথে তাদের সঙ্গীসাথীরাও আছে। দুটো কামরাতেই কিছু কিছু সিট খালি আছে – একটা কামরা প্রায় ভর্তি, লাক্সারিয়াস! আর অন্য কামরাটা একটু খালি, সাধারণ মানের। আপনি চাইলে সেখানে বসতে পারেন।”
“কাদের কামরা? কারা তারা?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
ভদ্রমহিলা কম্পিউটার কী বোর্ডে কিছু লিখে এন্টার প্রেস করে জানালেন “একজন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব, আরেকজন চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু। আপনার নাম শুনে মনে হলো, আপনি হয়তো আব্বাসী সাহেবের কামরাতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন – ওটা বেশ আধুনিক, আরামদায়ক কামরা।”
আমি একটু হেসে মাথা নাড়লাম।
“না, ইসাবেলা শ্নাইডার। আমি বরং চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর কামরায় একটা সিট চাইব, যদি থাকে।”
ইসাবেলা শ্নাইডার ভুরু কুঁচকে তাকালেন, যেন প্রশ্নটা তার কাছে অদ্ভুত ঠেকল।
“কিন্তু আব্বাসী সাহেবের কামরা তো বেশি ভালো, লাক্সারিয়াস। কেন চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর কামরা? ওটা তো সাধারণ মানের, একটু ফাঁকা, একটু কম আরামদায়ক।”
আমি একটু থেমে বললাম, “কারণটা বলতে গেলে একটু লম্বা গল্প হয়ে যাবে। বলব?”
“আমার হাতে তো এখন সময়ই সময়,” ইসাবেলা শ্নাইডার হাসলেন, চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন। তার চোখে কৌতূহল, আর ভেতরে কোথাও যেন এক ধরনের সতর্কতা—ধর্ম আর সহিংসতার গল্প শুনতে শুনতে ইউরোপের মানুষও ক্লান্ত, কিন্তু তবু জানতে চায়।
আমি শুরু করলাম, “চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু একটা সংগঠনের সাথে যুক্ত — ইসকন। ইসকন বিশ্বব্যাপী একটি নিরীহ, শান্তিপ্রিয় সংগঠন, মূলত ভক্তিমূলক আধ্যাত্মিক চর্চা, কৃষ্ণভক্তি প্রচার, গরিবদের খাবার বিতরণ, অনাথদের সহায়তা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, যোগ-ধ্যান শিক্ষা এবং মানবিক কাজের জন্য পরিচিত। তাদের মন্দিরগুলোতে ভক্তিগীতি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা, আর অনেক সময়ই আন্তঃধর্মীয় সৌহার্দ্য গড়ে তোলার চেষ্টা চলে।
বাংলাদেশেও তাদের কিছু কেন্দ্র আছে, যেখানে তারা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, ধর্মীয় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু ২০১৯ সালের দিকে বাংলাদেশে এক প্রবাসী সাংবাদিক এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কিছু ভুয়া, বানোয়াট বয়ান প্রচার করেন—তাদেরকে হঠাৎ করে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘ইসলামের শত্রু’, ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর’ হিসেবে চিত্রিত করা শুরু হয়। ফলাফল কী হলো জানেন? দেশের বিভিন্ন জায়গায়, তাদের কমলাপুরের কেন্দ্রসহ কয়েকটি জায়গায়, উগ্রপন্থী গোষ্ঠী হামলা চালায়।”
ইসাবেলা একটু ঝুঁকে এলেন, তার চোখে বিস্ময়ের ছায়া।
“হামলা? কেন? শুধু কথার ভিত্তিতে?”
আমি মাথা নাড়লাম। “কারণ মিথ্যা প্রচারণা মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলে। যখন ধর্মের নামে উত্তেজনা ছড়ানো হয়, তখন যুক্তি আর প্রমাণের চেয়ে আবেগ আর ক্রোধ বেশি কাজ করে। অথচ এই সংঘের কোনো দৃশ্যমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই ছিল না — নিরীহ সামাজিক, ধর্মীয় কাজ ছাড়া। আমি ওই হামলার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছিলাম। তার পর থেকে কিছু উগ্রপন্থী মানুষ আমাকে হত্যার হুমকি দেয়, আমার মা-বোনকে ধর্ষণের হুমকি দেয়।”
ইসাবেলা শ্নাইডারের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। তার গলার স্বর একটু নিচু হয়ে গেল, যেন নিজের দেশের স্মৃতিও জেগে উঠল।
“শুধু একটা পোস্টের জন্য?” তিনি ধীরে ধীরে বললেন।
“হ্যাঁ। আর মজার ব্যাপার কী জানেন, এই ছোট্ট গোষ্ঠীটাকে বাংলাদেশের মানুষ আগে তেমন চিনতোই না। কিন্তু ওই সাংবাদিকের একের পর এক বয়ান, আর কিছু ধর্মীয় বক্তার প্ররোচনামূলক বক্তৃতার কারণে এখন দেশের একটা বড় অংশ মনে করে, এই সংঘ ভয়ংকর, ইসলামের দুশমন, প্রতিবেশী দেশের চর, বাংলাদেশের ক্ষতি করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।”
ইসাবেলা মাথা নাড়লেন, একটু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“আমি অবশ্য এই ধরনের সংগঠনের ইতিহাস কিছুটা জানি,” তিনি বললেন। “জার্মানিতেও ওদের একটা শাখা আছে, বেশ শান্তিপ্রিয়, খাবার বিতরণ, সামাজিক কাজ করে। আমাদের শহরে মাঝে মাঝে ইসকনের ভক্তরা রাস্তায় কীর্তন করে, গান গায়, মানুষকে হাসিমুখে খাবার দেয়। কই, এখানে তো কেউ ভয় পায় না ওদের! বরং অনেকে ওদেরকে রঙিন, একটু অদ্ভুত, কিন্তু নিরীহ মানুষ হিসেবেই দেখে।”
তিনি একটু থেমে আবার বললেন, “কিন্তু আপনি যা বলছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে—একই সংগঠন, এক দেশে নিরীহ, আরেক দেশে হঠাৎ করে ‘শত্রু’। এটা খুব অদ্ভুত।”
আমি মৃদু হেসে বললাম, “ঠিক। এটাই আমার কথার মূল বিন্দু।”
ইসাবেলা শ্নাইডার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার প্রশ্ন করলেন, “আর এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?”
আমি একটু দম নিলাম। “উনি বাংলাদেশে একটা কট্টরপন্থী ধারার প্রচারক। ২০২৫ সালে এক প্রকাশ্য জনসভায় উনি তার অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমার মতো যারা মানবতাবাদী, মুক্তমনা, তাদের হত্যা করার জন্য।”
ইসাবেলা শ্নাইডার সোজা হয়ে বসলেন, তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
“কী?!” তিনি প্রায় ফিসফিস করে বললেন, কিন্তু তাতে ছিল তীব্রতা। “এটা তো সরাসরি সহিংসতার উস্কানি! এমন মানুষকে তো আমাদের এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত।”
আমি মাথা নাড়লাম। “হ্যাঁ। উনি কথায় কথায় যাকে-তাকে কাফের ফতোয়া দেন, মুরতাদ ফতোয়া দেন। দেশে একটা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চান, আর সেই লক্ষ্যে জঙ্গিবাদী চিন্তাধারা প্রচার করেন। উনি বলেন, দেশ থেকে যারা ‘মুরতাদ’ বা ‘কাফের’ তাদের বিতাড়িত করতে হবে।”
ইসাবেলা ধীরে ধীরে বললেন, “এসব প্রকাশ্যে বলেন?”
“একেবারে প্রকাশ্যে, ভরা জনসভায়,” আমি উত্তর দিলাম। “উনি এটাও বলেন যে, অন্যধর্মের মানুষকে হত্যা করলেও কোনো নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীকে সেই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত নয় — কারণ তাদের জীবনের মূল্য সমান নয় বলে তিনি মনে করেন।”
ইসাবেলার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখে ক্ষোভ আর বিস্ময়ের মিশেল।
“এসব কি উনি নিজে বানিয়ে বলেন, নাকি…?” তিনি একটু থেমে যোগ করলেন, “ধর্মের নামে এসব ব্যাখ্যা দিয়ে কি তিনি নিজেকে বৈধতা দেন?”
আমি একটু থেমে বললাম, “উনি বলেন এসব ধর্মীয় গ্রন্থেই লেখা আছে, তিনি শুধু তা তুলে ধরেন। এটা একটা বিতর্কিত ব্যাখ্যা, অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন, কিন্তু উনি এই ব্যাখ্যাতেই অটল, আর সেটাকেই প্রকাশ্যে প্রচার করেন।”
ইসাবেলা শ্নাইডার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর হঠাৎ যেন নিজের ভেতরের প্রশ্নগুলোকে ভাষা দিলেন।
“আপনি জানেন,” তিনি বললেন, “আমরা এখানে জার্মানিতে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে, নিরাপত্তা নিয়ে খুবই সতর্ক। ইসলামি জঙ্গিবাদ, ডানপন্থী সন্ত্রাস, সবই আমাদের অভিজ্ঞতার অংশ। বার্লিন, প্যারিস, ব্রাসেলস—কোথাও তো আমরা এসব থেকে মুক্ত নই। আমি নিজে দেখেছি, কীভাবে কিছু ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী এখানে হামলা চালিয়েছে—মেট্রো স্টেশনে বোমা, ক্রিসমাস মার্কেটে ট্রাক তুলে দেওয়া, নিরীহ মানুষকে গুলি করা। সেই স্মৃতি আমাদের সমাজের ভেতরে গভীর ক্ষত রেখে গেছে।”
তিনি একটু থেমে, গলা পরিষ্কার করে আবার বললেন, “তাই যখন শুনি, কেউ প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার ফতোয়া দেয়, ধর্মের নামে সহিংসতা বৈধ বলে, তখন আমার মাথায় প্রথমেই নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে। আর আজ আপনি বলছেন, এই এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব, যিনি আপনার দেশে এমন কথা বলেছেন, তিনি এখানে আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশ নিতে এসেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা পেয়েছেন—এটা আমার কাছে সত্যিই বিস্ময়কর।”
তিনি কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন, “আমরা তো সাধারণত এমন মানুষদের নিয়ে খুব সতর্ক থাকি। ভিসা দেওয়ার আগে নিরাপত্তা যাচাই হয়, তাদের বক্তব্য, অতীত, সবকিছু দেখা হয়। তাহলে কীভাবে উনি এখানে এলেন? এটা কি আমাদের সিস্টেমের ফাঁক, নাকি কেউ ধরে নিতে চেয়েছে যে ‘ধর্মীয় নেতা’ মানেই শান্তির বার্তাবাহক?”
আমি মৃদু হাসলাম, কিন্তু সেই হাসির ভেতরে ছিল ক্লান্তি।
“আপনার বিস্ময়টা খুব স্বাভাবিক,” আমি বললাম। “আমারও একই প্রশ্ন ছিল। যারা ইসকনের মতো সংগঠনকে ‘জঙ্গি’ বলে প্রচার করে, তাদের কথা বিশ্বাস করে নিরীহ মানুষদের ওপর হামলা চালায়, তারা অনেক সময়ই আন্তর্জাতিক মহলে ‘ধর্মীয় প্রতিনিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায়। আর যারা বাস্তবে শান্তিপ্রিয়, মানবিক কাজ করে, তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।”
ইসাবেলা শ্নাইডার ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন। “তাহলে আপনি বলছেন, দুজনেই ধর্মীয় নেতা, দুজনেই আজ একই অনুষ্ঠান থেকে ফিরছেন, অথচ একজনের কামরায় আপনি নিশ্চিন্তে বসতে চান, আরেকজনের কামরায় নয়। কেন?”
আমি সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “কারণ ভয়ের হিসেবটা সমান নয়, ইসাবেলা শ্নাইডার। ধরুন, আমি চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর কামরায় গিয়ে বসলাম, আর কোনো কারণে তার সংঘের সমালোচনা করে ফেললাম। তিনি হয়তো রেগে যাবেন, তর্ক করবেন, প্রতিবাদ করবেন — কিন্তু আমাকে মেরে ফেলবেন না। এটা আমি নিশ্চিতভাবে জানি। তার সংগঠনের ইতিহাস, কাজ, আর তাদের আধ্যাত্মিক চর্চা—সব মিলিয়ে আমি জানি, তাদের প্রতিক্রিয়া হবে কথার ভেতরে, সহিংসতার ভেতরে নয়।”
ইসাবেলা ধীরে জিজ্ঞেস করলেন, “আর আব্বাসী?”
“যদি তিনি জানতে পারেন যে আমি প্রকাশ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা করি, মুক্তমনা চিন্তাভাবনা লালন করি — তাহলে শুধু তর্ক দিয়ে ব্যাপারটা শেষ হবে না,” আমি বললাম। “উনি এবং উনার অনুসারীরা সত্যি সত্যি আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন। কারণ তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ধর্মের সমালোচনাকারী বা ধর্মত্যাগীকে হত্যা করা বৈধ, এমনকি কর্তব্য। এটা স্রেফ আশঙ্কা নয় — আমি আমার নিজের জীবনে এর প্রমাণ পেয়েছি, হুমকি পেয়েছি।”
ইসাবেলা শ্নাইডার ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন। “তাহলে পার্থক্যটা মতাদর্শে নয় শুধু, পার্থক্যটা — একজনের অনুসারীরা প্রতিবাদ করে, আরেকজনের অনুসারীরা প্রাণনাশের চেষ্টা করে।”
“ঠিক ধরেছেন,” আমি বললাম। “এই কারণেই আমি চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর কামরায় নিশ্চিন্তে বসতে পারি, কিন্তু এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর কামরায় নয়। এটা ধর্মের প্রতি অসম্মান নয়, এটা বাস্তব নিরাপত্তার হিসেব। ভয় সবসময় অযৌক্তিক নয়—কখনো কখনো ভয় আসে অভিজ্ঞতা থেকে, রক্তমাংসের হুমকি থেকে।”
ঠিক তখনই দূর থেকে ট্রেনের হর্ন শোনা গেল, প্ল্যাটফর্মের আলো কাঁপিয়ে ট্রেনটা এসে থামল। ইসাবেলা শ্নাইডার উঠে দাঁড়িয়ে আমার দিকে সিটের টিকিট বাড়িয়ে দিলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর কামরার।
“নিরাপদ যাত্রা হোক,” তিনি বললেন, চোখে একধরনের নতুন উপলব্ধির ছাপ। “আজ একটা জিনিস শিখলাম — ভয় সবসময় যুক্তিহীন হয় না। কখনো কখনো ভয়ের পেছনে থাকে খুব নির্দিষ্ট ইতিহাস, খুব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।”
আমি ব্যাগ কাঁধে তুলে ট্রেনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম, রাতের বার্লিনগামী শেষ ট্রেনের দিকে। প্ল্যাটফর্মের আলো ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল, সামনে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলল ট্রেন—আর আমি ভাবতে লাগলাম, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভয়ের মানচিত্র কত ভিন্ন, অথচ তার মূল সুরটা কতটা একই।
Related Posts

The Jewish claim to the land of Israel is actually connected to their historical roots
Have you heard the popular song from the 1970s ‘By the Rivers of Babylon …’?Read More

ইহুদিদের ইসরায়েলের ভূমির দাবী আসলে তাদের ঐতিহাসিক নাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত
আপনারা ১৯৭০ এর দশকের জনপ্রিয় গান ‘বাই দ্যা রিভারস অফ ব্যাবিলন …’ শুনেছেন? মানবিক মানুষRead More

Is Bangladesh, with 90% Muslims, better than the so‑called free‑sex countries?
Bangu male believers think — and even some women — that the Western world meansRead More

Comments are Closed