Judaism
Islam, Judaism, and Israel

Islam, Judaism, and Israel

ইহুদিদের ইসরায়েলের ভূমির দাবী আসলে তাদের ঐতিহাসিক নাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত

আপনারা ১৯৭০ এর দশকের জনপ্রিয় গান ‘বাই দ্যা রিভারস অফ ব্যাবিলন …’ শুনেছেন? মানবিক মানুষ হয়ে থাকলে একটা পুরো জাতিগোষ্ঠীকে হাজার বছর ধরে স্রেফ ধর্মীয় পরিচয়ের কারনে বিতাড়িত করার কষ্ট একটু হলেও বুঝতে পারবেন। গানটি মূলত জ্যামাইকান রেগে (Reggae) ব্যান্ড The Melodians দ্বারা ১৯৭০ সালে প্রথম রেকর্ড করা হয়। তবে ১৯৭৮ সালে বিখ্যাত ইউরো-ডিস্কো গ্রুপ Boney M. গানটির একটি কভার সংস্করণ প্রকাশ করলে এটি বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এক মহাকাব্যিক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর সুপারনোভা সংগীত উৎসব থেকে পালাতে গিয়ে বহু তরুণ-তরুণী নিহত হন। তাঁদের একজন আশদোদের ২৭ বছর বয়সী বাসিন্দা ইজাবেলা গান্ডলিন। তাঁর মৃত্যু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এবং কোনো ব্যাখ্যা তাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। হামাসের ১৯৮৮ সালের সনদ ধর্মীয় ভাষায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বৈধতা দিয়েছে। সনদের সপ্তম অনুচ্ছেদে “গাছ-পাথরের হাদিস” উদ্ধৃত আছে। এই লেখার প্রশ্ন হলো, সেই বয়ানের শেকড় ইসলামি উৎসগ্রন্থে কতটা আছে, এবং প্রসঙ্গ ও ব্যাখ্যা-ঐতিহ্য বিবেচনা করলে সেগুলো কীভাবে পড়া যায়।

একটি সীমারেখা শুরুতেই টানা দরকার। হামাসের আদর্শে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ মিশে আছে। তাদের কাজকে “সব মুসলিমদের কাজ” বলা কোটি কোটি মুসলমানের প্রতি অবিচার, এবং ঐতিহাসিকভাবেও অসম্পূর্ণ, তবে হামাসের কাজ ইসলাম ও নবী মুহাম্মদ সমর্থিত। সেজন্য ইসলামের ধর্মগ্রন্থের কঠোর অংশ এড়িয়ে গেলে আলোচনা অসৎ হয়ে যায়। ইসলামের পরতে পরতে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়িয়ে আছে, তাদের বিতাড়নের কথা বলা হয়েছে, হত্যা করতে বলা হয়েছে।

কুরআনের ভাষ্য

কুরআনে বনী ইসরাইলের আলোচনা বিস্তৃত, এবং তাতে প্রশংসা ও নিন্দা দুই-ই আছে। প্রশংসার দিকে আছে সূরা বাকারা ২:৪৭ (বনী ইসরাইলকে জগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান), ২:৬২ (ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবেয়িনদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং সৎকাজ করে, তাদের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি), ৩:১১৩-১১৫ (আহলে কিতাবের একটি ইবাদতকারী দলের প্রশংসা) এবং ৭:১৫৯।

নিন্দা ও তাদের উপর নৃশংসতা চালানোর নির্দেশনার দিকে আছেঃ

  • ২:৬১: তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য চাপানো হয়েছে এবং তারা আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করেছে।
  • ২:৬৫, ৫:৬০, ৭:১৬৬: কিছু লোককে বানর ও শূকরে রূপান্তরের উল্লেখ।
  • ২:৭৫, ২:৭৯, ৪:৪৬: ঐশী বাণী বিকৃতির অভিযোগ।
  • ৪:১৫৫-১৬১: নবী হত্যা, চুক্তিভঙ্গ ও সুদের অভিযোগ।
  • ৫:৬৪: “আল্লাহর হাত বাঁধা” বলার অভিযোগ।
  • ৫:৭৮: দাউদ ও ঈসার জবানিতে কাফের বনী ইসরাইলের ওপর লানত।
  • ৫:৮২: মুমিনদের সবচেয়ে কঠোর শত্রু ইহুদি ও মুশরিকরা।
  • ৯:৩০: “আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন” ধরনের উক্তি।

ইসলামে ঠিক “কত জায়গায়” ইহুদি নিধনের উস্কানি দেয়া হয়েছে – প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য একক সংখ্যা নেই। গণনা নির্ভর করে “ইহুদি”, “বনী ইসরাইল” ও “আহলে কিতাব”-এর কোন শব্দকে ধরা হবে এবং কোন আয়াতকে নিন্দা বা বর্ণনামূলক বলা হবে তার ওপর। নেতিবাচক উল্লেখ যে সংখ্যায় অনেক, শুধু এটুকুই নিশ্চিত করে বলা যায়।

মুসলিম মুফাসসিররা সাধারণত বলেন, এসব আয়াত নির্দিষ্ট ঘটনা ও গোষ্ঠীর প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে, গোটা জাতির বিরুদ্ধে নয়। সমালোচকরা পাল্টা বলেন, আয়াতগুলোর ভাষা সার্বজনীন পাঠের পথ খোলা রাখে, এবং ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী বাস্তবে সেভাবেই ব্যবহার করেছে।

হাদিসের ভাষ্য

গাছ-পাথরের হাদিস –
সহিহ বুখারি (২৯২৬, ৩৫৯৩) ও সহিহ মুসলিমে (২৯২২) বর্ণিত আছে, কিয়ামতের আগে মুসলমানরা ইহুদিদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। ইহুদি কোনো পাথর বা গাছের আড়ালে লুকালে সেটি বলবে, “হে মুসলিম, আমার পেছনে ইহুদি, তাকে হত্যা করো।” ব্যতিক্রম শুধু গারকাদ গাছ। এটি শেষ যুগের ভবিষ্যদ্বাণী, কিন্তু আধুনিক সংঘাতে এর ব্যবহার বাস্তব। ১৯৮৮ সালের হামাস সনদ একে সরাসরি উদ্ধৃত করেছে। ২০১৭ সালের নতুন নীতিপত্রে এটি নেই, যদিও সংগঠনের বক্তৃতা ও প্রচারে এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি। কেউ কেউ একে রূপক বলেন, কেউ আক্ষরিক অর্থে নেন। সংঘাতের মধ্যে আক্ষরিক পাঠই প্রায়ই প্রবল হয়।

মাংস পচার হাদিস –
বুখারি (৩৩৩০, ৩৩৯৯) ও মুসলিমে (১৪৭০) আছে, বনী ইসরাইল না থাকলে খাবার নষ্ট হতো না, আর হাওয়া (আ.) না থাকলে কোনো নারী স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করত না। ইবনে হাজারসহ ভাষ্যকাররা এর ব্যাখ্যায় মান্না-সালওয়া জমিয়ে রাখার ঘটনা টানেন। বনী ইসরাইলকে প্রতিদিনের খাবার জমাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা জমিয়েছিল, ফলে খাবার পচে যায়। এই পাঠে হাদিসটি মানবজাতির আদি ভুলের দুই নজির তুলে ধরে, ইহুদিদের একচেটিয়া কলঙ্ক হিসেবে নয়। তবু সমালোচকরা বলেন, একটি গোষ্ঠীকে পৃথিবীর ক্ষয়ের প্রতীক করার সুর থেকে যায়।

আরব থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ –
সহিহ মুসলিমে (১৭৬৭) মুহাম্মদের উক্তি আছে, তিনি আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দেবেন। বুখারি (৩০৫৩) ও মুসলিমে (১৬৩৭) মৃত্যুশয্যার একটি নির্দেশেও মুশরিকদের আরব থেকে বের করার কথা আছে। ইতিহাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

মদিনার ইহুদি গোত্র –
মদিনার তিন প্রধান ইহুদি গোত্রের পরিণতি ইসলামি ঐতিহ্যে এভাবে বর্ণিতঃ

  • বনু কায়নুকা: অবরোধের পর মদিনা ছাড়তে বাধ্য হয়।
  • বনু নাদির: অবরোধের পর বহিষ্কৃত হয় (কুরআন ৫৯:২-৪; আবু দাউদ ৩০০১)।
  • বনু কুরাইজা: খন্দকের যুদ্ধের পর অবরুদ্ধ হয়। সা’দ ইবনে মুয়াযের রায়ে পুরুষদের হত্যা এবং নারী-শিশুদের দাস বানানো হয় (বুখারি ৩০৪৩, ৪১২১; মুসলিম ১৭৬৮)। আবু দাউদ (২৬৭০) ও তিরমিযিতে (১৫৮৪) বালিগ পুরুষদের চিহ্নিত করে হত্যার বিবরণ আছে। নিহতের সংখ্যা বর্ণনাভেদে কয়েকশ থেকে সাতশ বা তারও বেশি। W. N. Arafat ও Walid Ahmad Saleh-এর মতো গবেষক বিবরণের ঐতিহাসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন, আর Meir Kister ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

“পৃথিবী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের” বর্ণনা –
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুহাম্মদ মসজিদ থেকে ইহুদিদের শিক্ষালয়ে (বেইতুল মিদরাস) গিয়ে বললেন, ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপদ থাকবে; জেনে রাখো, পৃথিবী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের, আর আমি তোমাদের এই ভূমি থেকে বের করে দিতে চাই (বুখারি ৩১৬৭, ৬৯৪৪; মুসলিম ১৭৬৫)। কোন গোত্র, তা নিয়ে মতভেদ আছে। বুখারিতে বর্ণনাটি বহিষ্কারের অধ্যায়ে রাখা, যা বনু নাদিরের দিকে ইঙ্গিত করে। কিছু ভাষ্যকার বনু কুরাইজার সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। আবু হুরায়রা সপ্তম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাই তিনি ঘটনাটি অন্যের কাছে শুনে থাকতে পারেন। এ কারণে নির্দিষ্ট গোত্রের নাম নিশ্চিত করে বলা যায় না।

মুসলিম ঐতিহাসিকরা এসব পদক্ষেপকে সাধারণত রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্বাসঘাতকতার জবাব বলেন, যেমন মদিনা সনদ ভঙ্গ বা শত্রুর সঙ্গে যোগসাজশ। সমালোচকরা বলেন, ঘটনাগুলো ধর্মীয় বিভেদের পটভূমিতে ঘটেছে এবং পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলোকে ধর্মীয় আদর্শ হিসেবেও পড়েছে, তাই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা একা যথেষ্ট নয়।

আরব ভূমি থেকে ইহুদিদের বিতাড়নের ইতিহাস

  1. খায়বার (৬২৮-৬২৯ খ্রি.): জয়ের পর ইহুদিরা ফসলের অংশের বিনিময়ে থেকে যায়, তবে এই ব্যবস্থা মুহাম্মদের ইচ্ছাধীন ছিল (বুখারি ২৩৩১; মুসলিম ১৫৫১)।
  2. উমরের শাসন (৬৪০-এর দশক): তিনি হিজাজ থেকে ইহুদি ও নাজরানের খ্রিস্টানদের বের করে দেন। এর পেছনে ওপরের হাদিস উল্লেখ করা হয় (বুখারি ২৭৩০)।
  3. পরবর্তী শতাব্দী: হিজাজে ইহুদিদের স্থায়ী বসতি থাকেনি। তবে ইয়েমেনসহ আরবের দক্ষিণাংশে ইহুদি সম্প্রদায় বহু শতাব্দী টিকে ছিল, জিম্মি ব্যবস্থায় নানা বিধিনিষেধ ও জিজিয়ার অধীনে।
  4. আধুনিক যুগ: ১৯৪৮-এর পর ইরাক, মিসর, ইয়েমেন, লিবিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়াসহ আরব দেশগুলো থেকে আনুমানিক আট-নয় লাখ ইহুদি চলে যেতে বাধ্য হয় বা চলে যায়। ১৯৪৯-৫০ সালের অপারেশন ম্যাজিক কার্পেটে ইয়েমেনের প্রায় পুরো ইহুদি সম্প্রদায়কে ইসরায়েলে নেওয়া হয়।
  5. আজকের সৌদি আরব: মক্কা-মদিনায় অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, আর দেশটিতে অমুসলিমদের ধর্মচর্চা সীমিত।

“বাই দ্য রিভার্স অব ব্যাবিলন”-এর প্রেক্ষাপট

গানটির কথা গীতসংহিতার ১৩৭ নম্বর স্তোত্র থেকে নেওয়া। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ সালে ব্যাবিলনের রাজা নেবুকাদনেজার জেরুজালেম ও প্রথম মন্দির ধ্বংস করেন এবং ইহুদিদের নির্বাসনে নিয়ে যান। স্তোত্রে নির্বাসিতরা নদীর তীরে বসে সিয়োনকে স্মরণ করে কাঁদে। ১৯৭০ সালে জ্যামাইকার দ্য মেলোডিস গানটি রেকর্ড করে (লিখেছিলেন ব্রেন্ট ডাউ ও ট্রেভর ম্যাকনটন)। রাস্তাফারি আন্দোলনে এটি আফ্রিকান নির্বাসন ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়, এবং ১৯৭৮ সালে বনি এম একে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে। এই প্রবন্ধের প্রসঙ্গে গানটি মনে করিয়ে দেয়, নির্বাসন ও স্বদেশের জন্য আকুলতা ইহুদি স্মৃতির কতটা গভীরে, এবং সেই স্মৃতি পরে একটি সার্বজনীন সাংস্কৃতিক ভাষায় রূপ নিয়েছে।

ইহুদিদের ইসরায়েলের ভূমির দাবী আসলে তাদের ঐতিহাসিক নাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ভূমি থেকে তাদের বিতাড়ন করা হয়েছিল, তারা এখন সেগুলো ফিরে পেতে চায়।

বিপরীত দৃষ্টিকোণ ও সীমাবদ্ধতা

ন্যায্যতার খাতিরে নিচের বিষয়গুলোও বলা দরকার।

  • ভারসাম্যের বর্ণনা: মুহাম্মদ ইহুদির জানাযায় দাঁড়িয়েছিলেন (বুখারি ১৩১২)। তিনি এক ইহুদির কাছে বর্ম বন্ধক রেখে মারা যান (বুখারি ২৯১৬, ২০৬৮)। চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না (বুখারি ৩১৬৬)। মদিনা সনদে (ইবনে ইসহাক/ইবনে হিশাম) ইহুদিদের মুমিনদের সঙ্গে একই “উম্মাহ”-র অংশ বলে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
  • আহলে কিতাবের মর্যাদা: কুরআন তাদের খাবার হালাল করে এবং তাদের নারীদের বিয়ের অনুমতি দেয় (৫:৫)।
  • ঐতিহাসিক তুলনা: মধ্যযুগে ইহুদিরা মুসলিম বিশ্বে প্রায়ই খ্রিস্টান ইউরোপের চেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল। Mark Cohen-এর Under Crescent and Cross এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। তবে Bernard Lewis ও Norman Stillman দেখান যে সেখানেও বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনা ছিল।
  • আলেমদের মতভেদ: বহু আলেম গাছ-পাথরের হাদিসকে বর্তমান রাজনীতির নির্দেশ হিসেবে প্রয়োগের বিরোধী। তাঁরা বলেন, শত্রুতা ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে, ইহুদি ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, যদিও বাস্তবে এই পার্থক্য প্রায়ই ঝাপসা হয়ে যায়।
  • আধুনিক ইহুদি-বিদ্বেষের উৎস: এর একটি বড় অংশ ইউরোপীয় আমদানি, যেমন “প্রোটোকলস অব দ্য এল্ডার্স অব জায়ন”-এর প্রচার। ইহুদি-বিদ্বেষের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়, হলোকাস্ট, ইউরোপে ঘটেছে।
Izabela Gandolin

শেষের কথা

ইসলামি উৎসগ্রন্থে ইহুদিদের প্রতি কঠোর ও অবমাননাকর বক্তব্য আছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কুরআনের লানত-সংক্রান্ত আয়াত, গাছ-পাথরের হাদিস, মাংস পচার হাদিস, মদিনার গোত্রগুলোর পরিণতি এবং আরব থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ সবই সমালোচনার বৈধ বিষয়। আধুনিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে এগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার। কিন্তু একই গ্রন্থ থেকে সামান্য কিছু সহাবস্থানের উপাদানও পাওয়া যায়, আর কোন পাঠ বেছে নেওয়া হবে তা নির্ভর করে পাঠকের রাজনীতি ও ব্যাখ্যা-ঐতিহ্যের ওপর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মে তো এতো বৈপরিত্য ও গোঁজামিল থাকতে পারে না। অনেকগুলো কঠোর নৃশংস নির্দেশনার পরে দুই একটা ভাল সহাবস্থানের কথা! সেটা কি এই যুগে কেউ মেনে নিবে? ইজাবেলা গান্ডলিনের মতো নিরীহ মানুষের হত্যার দায় সেই সহিংস সংগঠন ও আদর্শের, যারা উৎসগ্রন্থের সবচেয়ে কঠোর পাঠটিকে বেছে নিয়েছে। তাদের বয়ানে আল্লার জমিনে আল্লার প্রদত্ত বিধানই তো কার্যকর হবে, তা সে যতোই অমানবিক, নিষ্ঠুর, নৃশংস, অবাস্তব হোক না কেন।

Related Posts

Islam and Bengali Culture

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?

This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

Islam and Bengali Culture

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?

এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Islamist cyber‑based jihad activities

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?

Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed