Jahiliyyah
Was the Age of Jahiliyyah really bad?

Was the Age of Jahiliyyah really bad?

আইয়্যামে জাহেলিয়া নামে ইসলামের প্রতারনাপূর্ণ বয়ান ও বাস্তবতা

আইয়্যামে জাহেলিয়া নিয়ে মুসলিমদের প্রচার আসলে এক ধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তারা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে যেন মনে হয় ইসলাম আসার আগে পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো, জ্ঞান-বিজ্ঞান বা সভ্যতার কোনো অস্তিত্বই ছিলো না। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলাম এসেছে মাত্র চৌদ্দশো বছর আগে, কিন্তু তার বহু শতাব্দী পূর্বেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জ্ঞান, দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য এবং সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিলো। গ্রিস, রোম, মিশর, ভারতীয় উপমহাদেশ কিংবা চীন – সব জায়গাতেই তখন জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়েছিলো।

গ্রিসে সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, পিথাগোরাস, হিপোক্রেটিস, ডেমোক্রিটাসের মতো দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা জন্ম নিয়েছিলেন নবী মুহাম্মদের জন্মের বহু পূর্বে। তারা পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি, চাঁদের আলো প্রতিফলিত হওয়ার প্রকৃতি, জ্যামিতি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, দর্শন ও রাজনীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছিলেন। গ্রিসে তখন বিশ্ববিদ্যালয়, দর্শন স্কুল, মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে মুসলিমরা এসব গ্রিক গ্রন্থ অনুবাদ করে নিজেদের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছিলো। অর্থাৎ ইসলাম কোনো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করেনি, বরং পূর্ববর্তী সভ্যতার জ্ঞান ধার করেছিলো।

ইসলামিস্টরা কোরআনের একটা আয়াত – “তিনি সূর্যকে করেছেন দীপ্তিমান এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত…” – সূরা ইউনুস ১০:৫ ও “তিনি চাঁদকে করেছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ।” – সূরা নূহ ৭১:১৬ দিয়ে দাবী করেন, কোরআন তথা নবী মুহাম্মদই ১৪০০ বছর আগে বলে গেছে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, এই কথা আগে কি কেউ জানতো? কুরআন স্পষ্টভাবে “চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে” – এ বাক্য ব্যবহার করেনি, তবে সূর্য ও চাঁদের আলোর প্রকৃতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে। বাস্তবতা হলো, নবী মুহাম্মদের জন্মেরও প্রায় হাজার বছর আগেই দার্শনিক জ্ঞানে এ কথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, চাঁদের নিজস্ব আলো নেই – এ ধারণাটি প্রথম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক আনাক্সাগোরাস (Anaxagoras), খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে। তিনি বলেন যে চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। আনাক্সাগোরাস (৫০০–৪২৮ খ্রিষ্টপূর্ব) প্রথম যুক্তি দেন যে, চাঁদ নিজে আলো উৎপন্ন করে না, চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, তিনি চাঁদে পাহাড়-পর্বত থাকার কথাও বলেন।

ভারতীয় উপমহাদেশেও একই চিত্র দেখা যায়। আর্যভট্ট জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে কাজ করেছিলেন, বৌধায়ন গণিতের সূত্র দিয়েছিলেন, চরক ও সুশ্রুত চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদান রেখেছিলেন। সুশ্রুত অস্ত্রোপচার ও প্লাস্টিক সার্জারির উল্লেখ করেছিলেন তার গ্রন্থে। এসব কাজ নবী মুহাম্মদের জন্মের বহু পূর্বে সম্পন্ন হয়েছিলো। পরবর্তীতে ইবনে সিনা এসব গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করে মুসলিম চিকিৎসাবিদদের কাছে পৌঁছে দেন। অর্থাৎ ইসলাম পূর্ববর্তী জ্ঞানই মুসলিমদের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

সেই সময়ে নবী মুহাম্মদ এমন কিছু বলে যাননি যা তৎকালীন আরবের মানুষেরা জানতো না। এমনকি আরবের দার্শনিকরা যা জানতো, নবী মুহাম্মদ তাও জানতো না। যেমন, আরবের লোকেরা প্লেগের মত রোগকে ভয়ানক ছোঁয়াচে জানত। প্রাচীন গ্রীসের তখনকার চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখা গ্যালেন বা হিপোক্রেটিসের সময় তাদের লিখিত ডাক্তারী বইগুলোতে এইসব রোগগুলোকে সংক্রামক হিসেবে রায় দিয়েছিলো। তাই কোন প্লেগ রোগীর কাছাকাছি আসলে সুস্থ মানুষও প্লেগে আক্রান্ত হবে এটা মোটামুটি গ্রিসের মানুষ জানত। আরবের ডাক্তাররা প্রাচীন গ্যালেন লিখিত ২৬টি মেডিকেল বই অধ্যয়ন করেই ডাক্তারি পাশ করত। সে থেকে আরবরাও ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে জ্ঞান রাখত। সেও এখান থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগের কথা। কিন্তু নবী মুহাম্মদ ও আল্লাহ কোরআন, হাদীসে বলেছে – ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই। সেজন্য দেখবেন আমির হামজা, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, মুফতি ইব্রাহিমসহ সব মুফতি মাওলানারা প্রচার করে, সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, মুসলমানদের সংক্রামক রোগ হলে কোরআন মিথ্যা হয়ে যাবে। সেজন্য তারা কোভিড – করোনা, হামসহ বিভিন্ন রোগের টিকা নিতে নিষেধ করে। অথচ কোভিড-করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মারা গেছিল একজন ইসলামের আলেম।

এ কথাগুলো উল্লেখ করলাম এই কারনে যে, তৎকালীন আরবের দার্শনিক পন্ডিতেরা অন্তত নবী মুহাম্মদের চেয়ে অগ্রসর ছিল চিন্তা, চেতনায়, দর্শনে, সাহিত্যে, সঙ্গীতে। সে তুলনায় নবী মুহাম্মদ অনেক অনগ্রসর, গোঁড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিরোধী ছিল। কারন উনি কোরআন হাদীসের মাধ্যমে সংস্কৃতি চর্চা, গান-বাজনা, সাহিত্য সব নিষিদ্ধ করে গেছে। বউ ও দাসীর সঙ্গে খুনসুটি, ঘোড়া চালনা ও তীর-ধনুক প্রাকটিস ছাড়া সব রকমের খেলাধূলা নিষিদ্ধ করে গেছে। প্রাক-ইসলামিক আরব সমাজে কবি, গায়ক, বাদ্যযন্ত্রী – এরা সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ীঃ কিছু উন্নত তারযন্ত্র (lyre) পারস্য ও আশপাশের অঞ্চলের প্রভাব থেকে আরবে এসেছিল। সঙ্গীত ছিল মূলত কবিতার সুরেলা আবৃত্তি, যা আরবরা “গান” হিসেবেই দেখত। বাদ্যযন্ত্র হিসেবে বাঁশি (flute) ও দফ/ডাফ (tambourine) সবচেয়ে প্রচলিত ছিল। সঙ্গীত ছিল গোত্রীয় উৎসব, যুদ্ধের আগে উদ্দীপনা, প্রেম, শোক – সব ধরনের আবেগ প্রকাশের মাধ্যম।

প্রাক-ইসলামিক আরবদের সবচেয়ে উন্নত শিল্প ছিল কবিতা। এটিকে বলা হতো “দিওয়ান আল-আরব” – আরবদের ইতিহাসের ভাণ্ডার। কবিতা ছিল ইতিহাস, বংশপরিচয়, যুদ্ধ, প্রেম, মরুভূমির জীবন – সবকিছুর নথি। কবি (শা’ইর) ছিলেন গোত্রের মুখপাত্র, প্রচারক, কখনো ভবিষ্যদ্বক্তা-সদৃশ মর্যাদার অধিকারী। বিখ্যাত প্রাক-ইসলামিক কবি ছিলেন ইমরুল কায়েস, উমাইয়া ইবন আবি সালত, আল-নাবিঘা, আল-আশা প্রমুখ। কিন্তু ইসলামের আগমনের পরে নবী মুহাম্মদ কবিতাকে তার শত্রু মনে করা শুরু করে, কারন কবিরা নবী মুহাম্মদের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার সমালোচনা করতো। ইসলাম নির্দেশ দেয় যে সাহিত্য, কবিতা হবে একমাত্র নবী মুহাম্মদ ও আল্লাহকে প্রশংসা করে। এগুলো কি কোন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিল্পী, কবি মেনে নিবে? সেজন্য ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, তাবারি – নবী মুহাম্মদের এসব জীবনীগ্রন্থে ও সহিহ হাদীসে কবিদের হত্যার বর্ণনা পাওয়া যায়। এগুলোতে নবীকে ব্যঙ্গ করা বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। নবী মুহাম্মদ গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে কবিদের হত্যা করিয়েছে, এমন বর্ননা পাওয়া যায়। এই হত্যার তালিকায় ছিল – কা‘ব ইবন আল-আশরাফ, আবু আফাক, আসমা বিনতে মারওয়ান প্রমুখ।

ইসলাম পূর্ব দক্ষিণ আরব, যেমন ইয়েমেন – ছিল উন্নত সভ্যতা, বাণিজ্য ও স্থাপত্য কেন্দ্র। উত্তর আরব ছিল যাযাবর, যেখানে কবিতা ও সঙ্গীতই ছিল প্রধান শিল্প। চিত্রকলা সীমিত ছিল শিলালিপি ও পাথরচিত্রে। এর সপক্ষে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমান পাওয়া যায়। ইসলামের সময়ে এসবের স্বপক্ষে কোন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমান দেখাতে পারবেন? প্রাক-ইসলামিক আরবে সঙ্গীত ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প। ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রগুলো ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সঙ্গীত ঐতিহ্যের অংশ। উদ (Oud), রেবাব (Rebab), লায়ের (Lyre) প্রভৃতি তারযন্ত্র; দফ/ডাফ (Duff), তবল/ড্রাম প্রভৃতি তালবাদ্য; মিজমার/বাঁশি জাতীয় বাঁশি ও বায়ুবাদ্য আরবে খুবই জনপ্রিয় ছিল। প্রাক-ইসলামিক আরব সমাজে মহিলা গায়িকারা (singing girls) ছিলেন সঙ্গীতজগতের কেন্দ্রীয় চরিত্র। গবেষণা অনুযায়ী, আরব উপদ্বীপে হাজার বছর ধরে সঙ্গীতশিল্পীদের বড় অংশই ছিলেন নারী।এখন প্রশ্ন আসে, ইসলামের পূর্বে কি সমগ্র আরব আসলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো যাকে ইসলামিস্টরা জায়েহিলা বলে? ইতিহাস বলে, তা নয়। কিছু অঞ্চলে হয়তো পশ্চাৎপদতা ছিলো, কিন্তু সমগ্র আরবকে জাহেলিয়া বলা যায় না। ইসলামের পূর্বেই আরবে সাহিত্যচর্চা, কবিতা, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ ছিলো। ইমরুল কায়েস, তারাফা ইবনে আল আবদ, কাব ইবনে আশরাফ, আসমা বিনতে মারওয়ান প্রমুখ কবি ছিলেন – আগেই উল্লেখ করেছি, যাদের কবিতা কুরআনের ভাষার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এমনকি অনেক গবেষক বলেছেন, কুরআনের কিছু অংশ প্রাক-ইসলামী কবিতার অনুকরণে লেখা হয়েছিলো – এর সপক্ষে যথেষ্ট তথ্য প্রমানও আছে।

চিকিৎসাবিদ হারিস ইবনে কালাদা, যিনি নবী মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ছিলেন, ইসলামের পূর্বেই বিখ্যাত ডাক্তার ছিলেন। তিনি পারস্য সম্রাটের দরবারে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তার জ্ঞান থেকেই নবী মুহাম্মদ গেইলেনের ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। অথচ পরবর্তীতে ইসলামি শাসনের সময় তাকে হত্যা করা হয়।

মিশরেও ইসলামের পূর্বে জ্ঞানের আলো জ্বলছিলো। হাইপেশিয়া ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী গণিতবিদ ও দার্শনিক। আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি ছিলো বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডার। কিন্তু ইসলামি শাসনামলে তা ধ্বংস করা হয়। ফলে ইসলাম আসার পর বরং জ্ঞানের আলো অনেক জায়গায় নিভে যায়।

আরেকটি প্রচার হলো – ইসলামের পূর্বে আরবে কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। কিন্তু এর কোনো নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ইসলামি সোর্সেই কেবল এ দাবি পাওয়া যায়। বাস্তবে কিছু গোত্র যুদ্ধের ভয়ে কন্যাদের হত্যা করতো, যাতে তারা শত্রুর হাতে বন্দিনী হয়ে ধর্ষিত না হয়। আপনারা জানেন, ইসলাম পূর্ব থেকেই আরবে যুদ্ধে পরাজিত গোষ্ঠীর নারীদের বন্ধি করে গণিমতের মাল হিসাবে যৌনদাসী করে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষন করা প্রচলিত ছিল। তাদেরকে বাজারে বিক্রিও করা হতো। এই জঘন্য প্রথা ইসলাম ও আল্লাহ আবার সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রাখে অনন্তকালের জন্য। ইসলাম পূর্ব সময়ে এই পরিস্থিতি থেকে নিজের কণ্যা সন্তানের সম্মান ও গোত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কিছু কণ্যাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এটি ছিলো খুবই ব্যতিক্রম, সাধারণ চিত্র নয়। বরং একটা ঐশী ধর্ম বলে দাবীদার ইসলাম এসে যুদ্ধবন্দিনীকে ধর্ষণকে বৈধতা দেয়, গনিমতের মাল হিসেবে নারীদের ব্যবহার করে – এটাকে কিভাবে দেখবেন? সেই সময়ে আরবের পুরুষেরা একাধিক বিয়ে করতো, আপনারাই তো জানেন – নবী মুহাম্মদ, সাহাবী তাদের কতগুলো স্ত্রী ছিল। যদি কণ্যা শিশুদের জীবন্ত কবরই দেয়া হবে তবে বিয়ের জন্য এতো নারী তারা কোথায় পেতেন? নারীর অভাবে তো শত শত পুরুষের বিয়েই হতো না, তেমন উদাহরণ আছে?

নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে মুসলিমরা দাবি করে ইসলাম আসার আগে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিলো না। অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। খাদিজা ছিলেন স্বাধীন ব্যবসায়ী নারী, যিনি বেকার নবী মুহাম্মদকে বিয়ে করে তার জীবনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। হিন্দ বিনতে উতবা ছিলেন প্রভাবশালী নারী, যিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেছিলেন। আসমা বিনতে মারওয়ান ছিলেন কবি, সুলাফা ও হুব্বা কাবার চাবির দায়িত্ব পেয়েছিলেন যা ছিল খুবই সম্মানের ব্যাপার। পৌত্তলিকরা নারী দেবীকে পূজা করতো – আল লাত, আল উজ্জা, আল মান্নাত। অর্থাৎ নারীর প্রতি সম্মান ছিলো। অথচ ইসলাম এসে নারীকে গৃহবন্দি করেছে, নারীকে বলেছে তাদেরকে শুধুমাত্র স্বামীর সেবা ও সন্তান লালন পালনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, নারীর সাক্ষ ইসলামের বিচারে গ্রহনযোগ্য হয় না, নারীকে বলা হয়েছে পুরুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বস্তু, নারী কুলক্ষনা, ঘোড়া, শয়তান, কুকুর এসবও বলা হয়েছে ইসলামে। নারীর কোন স্বাধীন ইচ্ছা নেই অর্থাৎ নারীকে ইসলাম পরিপূর্ণ মানুষই মনে করে না।

ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে নারীদের সামাজিক অবস্থান গোত্রভেদে ভিন্ন ছিল, তবে বহু অঞ্চলে নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎসে উল্লেখ আছে। কিছু গোত্রে নারীরা একাধিক বিবাহ করতে পারত, স্বামীকে ত্যাগ করার অধিকার ছিল, বাণিজ্য করত, কবি ও নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল, এমনকি যুদ্ধেও অংশ নিত। খদিজা, হিন্দ, আল-খানসা – এদের মতো নারীরা বাণিজ্য, কবিতা ও গোত্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ইসলাম আগমনের পর পরিবারব্যবস্থা, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও লিঙ্গভূমিকা নিয়ে নতুন বিধান প্রবর্তিত হয়, যা অনেক গবেষকের মতে পূর্ববর্তী আরব সমাজের কিছু স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে একটি অধিক পুরুষকেন্দ্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। বিশেষত বিবাহবিচ্ছেদে নারীর ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া, পুরুষের একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি, এবং দাসী ব্যবহারের বৈধতা – এসব পরিবর্তনকে অনেক ইতিহাসবিদ সামাজিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

একই সঙ্গে কুরআনের ৪ঃ৩৪ আয়াতে স্বামীকে “নুশূজ”-এর ক্ষেত্রে স্ত্রীকে শাসন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এমনকি প্রহার করার অনুমতিও – যা পরবর্তী যুগে বিভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে নরম বা কঠোর উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। সমালোচকরা বলেন, এই বিধান পুরুষের কর্তৃত্বকে ধর্মীয় বৈধতা দেয় এবং নারীর শারীরিক নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদার ধারণাকে দুর্বল করে। দাসপ্রথা ইসলাম-পূর্ব আরবেই ছিল, কিন্তু ইসলামী আইনে দাসীকে যৌনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণের অনুমতি বজায় থাকে, যা নারীর শরীরকে পুরুষের মালিকানার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলাম আগমনের পর নারীর সামান্য কিছু অধিকার সুরক্ষিত হলেও, সামগ্রিকভাবে সামাজিক কাঠামোটি পুরুষতান্ত্রিক দিকেই শক্তিশালী হয় এবং নারীর স্বাধীনতা বরং পূর্ববর্তী কিছু গোত্রীয় প্রথার তুলনায় সংকুচিত হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, ইসলামের পূর্বে পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো না। বরং গ্রিস, ভারত, মিশর, চীন, আরব – সব জায়গায় জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা বিকশিত হয়েছিলো। ইসলাম এসে নতুন কিছু সৃষ্টি করেনি, বরং পূর্ববর্তী সভ্যতার কিছু জ্ঞান ধার করেছে মাত্র। কিছু জ্ঞান ধার করে, কিছু কেচ্ছা-কাহিনী মিশিয়ে, কিছু কুসংস্কার মিশিয়ে ইসলাম বরং মানুষকে আরো পশ্চাতে ঠেলে দিয়েছিল। নারীদের অধিকারও ইসলামের পূর্বে তুলনামূলক বেশি ছিলো। তাই আইয়্যামে জাহেলিয়া নিয়ে মুসলিমদের প্রচার আসলে ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছু নয়। ইসলামের পূর্বে মানুষ ছিলো জ্ঞানী, সভ্য এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। ইসলাম এসে বরং অনেক ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছে, নারীর অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং জ্ঞানের আলো নিভিয়ে দিয়েছে।

Related Posts

The Ongoing Aggression of Islam

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today

The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

The Ongoing Aggression of Islam

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান

প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!

Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed