
The Terrifying Spread of Extremism
প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার
১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে তরুণদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। কিন্তু অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদ জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দাবি করে, সংগীতানুষ্ঠান শরিয়াবিরোধী এবং তা এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি হুঁশিয়ারি – কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ এলে তাদের পুড়িয়ে সত্যিকারের ছাই বানিয়ে দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন হোটেল নিবন্ধন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করে দেয়, আর ইমাম-উলামা পরিষদ তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। প্রশাসনিক কারণ যা-ই বলা হোক, বাস্তবতা হলো – একটি সংগীত আয়োজন এবার থেমে গেল ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপ ও প্রকাশ্য হুমকির প্রেক্ষাপটে।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে, ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে আপত্তি তুলে দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, যাতে অন্তত ত্রিশজন আহত হন। রাত তিনটার দিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সংগঠন মব নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে পুলিশ লাইনে ভবিষ্যতে যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি পেশ করে। এই দুটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় – কয়েক মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই কওমি ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠনের চাপে বনলতা এক্সপ্রেস চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বাতিল হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউল গানের আসরও একই ধরনের চাপে বন্ধ হয়ে যায়, আর এপ্রিলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক পীরকে হত্যা করে তার মাজার ভাঙচুর করা হয়।

ধর্মীয় নেতাদের প্রকাশ্য হুমকি
কিশোরগঞ্জ বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে দেশের কিছু প্রভাবশালী ধর্মীয় বক্তা প্রকাশ্যেই সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজের পর ‘তৌহিদি ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে নিজেকে গ্র্যান্ড মুফতি দাবি করা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ঘোষণা দেন, আর মিছিল নয় – তথাকথিত ‘মুরতাদ’দের শাস্তি তারা নিজ হাতেই কতল করে কার্যকর করবেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কবি ফরহাদ মজহার ও বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খানসহ ২২৩ জন লেখক, সাংবাদিক, আলেম ও গবেষক যৌথ বিবৃতি দিয়ে তার বিচার দাবি করেন। এর আগেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগে আব্বাসীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল, এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আল-কায়েদার প্রচারণা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছিল। এত অভিযোগ ও বিবৃতি সত্ত্বেও তিনি এখনো নিয়মিত ধর্মীয় জনসভায় বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।
শুধু আব্বাসী নন, এক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নথিভুক্ত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাহমুদুল হাসান গুনবী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মুফতি কাজী ইব্রাহীম, আবু ত্বহা আদনানসহ শতাধিক ধর্মীয় বক্তার বক্তব্য নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ‘শাতিমে রাসুল’ বা নবীর সমালোচকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, মাওলানা মামুনুল হক ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তিনি হেফাজতে ইসলামের একজন শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক মূলধারায় এই ধরনের নেতাদের প্রবেশ দেখায়, উগ্র বক্তব্য কীভাবে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতির নামে সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনের সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুদ্ধপরাধী মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার দাবি করা ব্লগারদের ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে হত্যার তালিকা তৈরি হয়েছিল। এরপর একের পর এক – রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়, ফয়সাল আরেফিন দীপন – চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারান, যার দায় স্বীকার করে জঙ্গি ইসলামী গোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম ও আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা। এই সহিংসতা কেবল সংগঠিত জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০২০ সালে লালমনিরহাটে কোরআন অবমাননার অভিযোগে এক স্কুলকর্মীকে জনসম্মুখে পিটিয়ে অচেতন করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উৎসব মণ্ডল নামে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই কয়েক হাজার মানুষ আক্রমণ করে, যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু গার্মেন্টস শ্রমিককে মারধরের পর গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারা হয় – পরবর্তী তদন্তে অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগে অন্তত ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ত্রিশটির বেশি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষও। বিজ্ঞান, ধর্মীয় গোঁড়ামির স্বরুপ উন্মোচন, মানবাধিকার, এলজিবিটিকিউ ও নারী অধিকার নিয়ে লেখালেখি করার কারনে আমি নিজেই ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যার হুমকির মুখে পড়ে আছি। ২০১৭ সালে ঢাকায় আমার বাসার সামনে মব জড়ো করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়, ২০২২ সালের জুনে সরাসরি শারীরিক হামলায় আমার দুই হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়, যার জের এখনো আমি বহন করে চলেছি। আমার উপর হুমকি ছিল মসজিদ থেকে শত শত মুছল্লি নিয়ে আমাকে তুলে আনা হবে ও হত্যা করা হবে, আমার পক্ষে কেউ দাঁড়াবে না। প্রাণভয়ে পরদিনই আমাকে ভারতে চলে যেতে হয়, এবং পরবর্তীতে আমি দেশত্যাগে বাধ্য হই। আমি একা নই – আমার চেয়ে বেশি বেশি হুমকি ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়া তসলিমা নাসরিন, বন্যা আহমেদ, আসাদ নূর, আসিফ মহিউদ্দীনসহ বহু মানববাদী মুক্তচিন্তক আজ প্রবাসে থেকে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ দেশে থাকার অর্থ প্রতিদিন মৃত্যুর হুমকির মুখোমুখি হওয়া, একের পর এক হামলার শিকার হয়ে মৌলবাদী জঙ্গিদের নৃশসতার বলি হওয়া।
রাষ্ট্রের অস্বীকৃতি বনাম আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা
এই সব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উগ্রবাদের ঝুঁকি নিয়ে বারবার অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উগ্রবাদ বেড়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার তা দমনে অনীহা দেখাচ্ছে। জবাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেন, তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর জঙ্গিবাদের কোনো পুনরুত্থান ঘটেনি। একই বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়া থেকে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী বহিষ্কারের খবরের প্রেক্ষাপটেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা তদারকি দল এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে, আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস) বাংলাদেশে ছোট, গোপন সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে – যদিও তারা এমন কোনো সেল ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেনি। এই প্রতিবেদনের জবাবে গত ১৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রতিবেদনটি এখনো পড়েননি এবং এটি অনুমাননির্ভর বলে মনে হচ্ছে বলে সরকার এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সময়ে ঢাকার আশপাশে একের পর এক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা পুলিশকে সতর্কতা বাড়াতে বাধ্য করেছে। দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গিবাদ শব্দটিকে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলের’ রাজনৈতিক ব্যবহার বলে দাবি করেছেন, অথচ সরকারেরই একজন উপদেষ্টা স্বীকার করেছেন জঙ্গিবাদ অতীতেও ছিল, এখনো আছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নও একই দিকে ইঙ্গিত করে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫৮তম অধিবেশনে এক পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী রেহমান আফ্রিদি সতর্ক করেন, গত সাত মাসে বাংলাদেশে উগ্রবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে, বিচারব্যবস্থা কার্যত জঙ্গলের আইনে পরিণত হয়েছে এবং সাংবাদিকদের ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আর্টিকেল নাইনটিনের গ্লোবাল এক্সপ্রেশন রিপোর্টে বাংলাদেশকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ‘সংকটাপন্ন’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সূচকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬৫তম, ২০২৫ সালে সামান্য উন্নতি হয়ে তা দাঁড়ায় ১৪৯তম – তবু তা এখনো ‘খুবই গুরুতর’ পরিস্থিতির তালিকায়। ফ্রিডম হাউস ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে ‘আংশিক স্বাধীন’ দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও সাংবাদিক, ব্লগার ও রাজনৈতিক সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও সহিংসতাকে ‘গুরুতর সমস্যা’ বলা হয়েছে।
আইনি কাঠামোঃ সুরক্ষা না সহায়ক অস্ত্র
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ যত দ্রুত পুলিশ আমলে নেয়, ইসলাম ধর্মীয় গ্রুপগুলোর সহিংস উসকানির অভিযোগ ততটা গুরুত্ব পায় না। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে বারবার মুক্তচিন্তকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি রায়ে সরকারকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে জামিন-অযোগ্য ও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নতুন আইন প্রণয়নের পরামর্শ পর্যন্ত দিয়েছিল। এই বাস্তবতায় সুনামগঞ্জের ঝুমন দাসের মতো ভুক্তভোগীরাই উল্টো গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জামিন পাননি, আর অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রায় দেখাই যায় না।
প্রশ্ন যেখানে থেমে যায়
কিশোরগঞ্জের কনসার্ট বাতিল বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় – এগুলো একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত, যেখানে সাংস্কৃতিক পরিসর, সংখ্যালঘু অধিকার ও মুক্তমত ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বারবার হয় নীরব থেকেছে, নয়তো সমস্যাটির অস্তিত্বই অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকদের সতর্কবার্তার বিপরীতে সরকারি পর্যায়ের বারবার অস্বীকৃতি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবধান তৈরি করছে বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় ভাষ্যের মধ্যে। আমার মতো সামান্য এক্টিভিস্ট এর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেখায়, এই সংকট নিছক পরিসংখ্যান নয় – এটি বাস্তব মানুষের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের ওপর প্রতিদিনের ঝুঁকি। সংস্কৃতি, সংগীত, চলচ্চিত্র বা মতপ্রকাশের অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো যখন বারবার মব চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে – আগামী দিনে এই সংকোচনের সীমা কোথায় গিয়ে থামবে, এবং তা মোকাবেলায় রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত।
[ছবিঃ প্রতীকী]
তথ্যসূত্রঃ জাগো নিউজ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, সমকাল, ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ডিপ্লোম্যাট, ট্রিবিউন ইন্ডিয়া, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স, ফ্রিডম হাউস, আর্টিকেল নাইনটিন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, এবং আমার নিজের প্রবন্ধ “বাংলাদেশে মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাঃ একটি অলীক স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে” (smsaif.me)।
Related Posts

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism
19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups
In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

অন্ধকারের মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেয়ার ফল বাংলাদেশ আরো পাবে, অনেক পাবে
বাংলাদেশে সবসময়ই একটা উগ্রবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আছে যারা গান, নাচ, সংস্কৃতি চর্চাকে ভয় পায় এবংRead More

Comments are Closed