
The All‑Consuming Aggression of Islam
ইসলামের সর্বগ্রাসী তরবারির অত্যাচার থেকে বাঁচতে আগুণের সন্তানেরা যেভাবে ভারত পৌঁছেছিল
রাতের আঁধারে সমুদ্র যখন গর্জন করছিল, তখন গুজরাটের সঞ্জান বন্দরের কাছে কয়েকটি জাহাজ নোঙর করল। জাহাজের ভেতর থেকে নামলেন শতশত মানুষ – শীর্ণ, ক্লান্ত, চোখে ভয় আর বুকে এক অদম্য সংকল্প। তারা এসেছেন সুদূর পারস্য থেকে, পেছনে ফেলে এসেছেন পোড়া অগ্নিমন্দির, হত্যা হওয়া প্রিয়জন, জোর করে কেড়ে নেওয়া স্বদেশ।
স্থানীয় রাজা যাদি রানার দরবারে খবর পৌঁছাল। কিংবদন্তি অনুযায়ী, রাজা তাদের স্বাগত না জানিয়ে একটি কানায় কানায় পূর্ণ দুধের পাত্র পাঠালেন – ইঙ্গিত স্পষ্ট, আমাদের রাজ্যে আর জায়গা নেই। কিন্তু পারসি দলনেতারা বিচলিত হলেন না। তারা সেই পাত্রে একচামচ চিনি মেশালেন এবং ফেরত পাঠালেন। বার্তাটি ছিল কাব্যিক কিন্তু দৃঢ় – আমরা দুধকে উপচে ফেলব না, শুধু তাকে মিষ্টি করে তুলব।
এই ঘটনার পর যাদি রানা তাদের থাকার অনুমতি দিলেন, তবে শর্ত ছিল – গুজরাটি ভাষা শিখতে হবে এবং স্থানীয় পোশাক পরতে হবে। শরণার্থীরা সানন্দে রাজি হলেন। সেদিন থেকে শুরু হলো ভারতের মাটিতে পারসিদের নতুন অধ্যায়।
ইসলামের তরবারির আগ্রাসনে পারস্যের পতন – কীভাবে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা
৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে আরব মুসলিম বাহিনী সাসানীয় সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে। সাসানীয় সাম্রাজ্য ছিল পারস্যের গৌরবময় সভ্যতার ধারক – যে সাম্রাজ্য জরথুষ্ট্রীয় ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে লালন করত, যার পতাকায় ছিল আহুরা মাজদার অনির্বাণ জ্যোতি।
পতনের পর শুরু হলো চাপের রাজনীতি। উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসনামলে জরথুষ্ট্রীয়দের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করা হয়, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা চলে, অগ্নিমন্দির ধ্বংস করা হয়। যারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন, তাদের জীবন হয়ে উঠল দুর্বিষহ। অনেকে পাহাড়ে আশ্রয় নিলেন, গোপনে পালন করতে লাগলেন পবিত্র আগুন। কিন্তু দমন ক্রমেই তীব্র হতে থাকল।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ দ্বীপে কিছুকাল আশ্রয় নিয়ে তারপর সমুদ্রপথে ভারতের পথ ধরলেন একদল পারসি। প্রথম দলটিতে আনুমানিক আঠারো হাজার মানুষ ছিলেন। তারা বহন করছিলেন তাদের পবিত্র আগুন – ইরান-শাহ – যা তাদের কাছে ছিল ঈশ্বরের জীবন্ত উপস্থিতি।
গুজরাটের সঞ্জানে পৌঁছে হিন্দু রাজা যাদি রানার কাছ থেকে আশ্রয় পেলেন এই শরণার্থীরা। তারা সেখানে প্রতিষ্ঠা করলেন অগ্নিমন্দির, শুরু করলেন নতুন জীবন। পারস্য থেকে আসা বলে ভারতের মানুষ তাদের ডাকল ‘পার্সি’ – পারসদেশীয়। সেই থেকে ১৭ নভেম্বর পালিত হয় ‘সঞ্জান দিবস’ হিসেবে, যেদিন পার্সিরা ভারতে পৌঁছেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
দুধে মিশে গেল চিনি – ভারতে পার্সিদের উত্থান
ভারতের মাটিতে তারা কেবল টিকে থাকেননি, শিকড় গেড়েছেন গভীরে। ব্রিটিশ আমলে বাণিজ্যের দরজা খুলতেই পার্সিরা এগিয়ে এলেন দ্রুততার সাথে। তাদের শিল্পোদ্যম, সততা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তাদের আলাদা করে রাখল।
জামশেদজি টাটা থেকে রতন টাটা – ভারতের সবচেয়ে বড় শিল্পসাম্রাজ্য আজও বহন করছে সেই পারসি উত্তরাধিকার। শিল্পী, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, লেখক – ভারতীয় সভ্যতার প্রতিটি স্তরে পার্সিদের অবদান অসামান্য। সংখ্যায় ছোট, কিন্তু প্রভাবে বিশাল।
জরথুষ্ট্রীয় মতবাদ থেকে ইসলাম কপি করেছে অনেক …
এখানেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইতিহাসের সুতো। যে ধর্মের হাত থেকে বাঁচতে পারসিরা দেশ ছাড়লেন, সেই ইসলামের ভেতরেই লুকিয়ে আছে জরথুষ্ট্রীয় ধর্মের গভীর ছায়া। নবী মুহাম্মদ এই ধর্মীয় মতাদর্শ থেকে অনেক কিছুই আল্লাহর নাম দিয়ে ইসলামে কপি পেস্ট করে দেন।
নামাজ ও গাহ – পাঁচ ওয়াক্তের রহস্য
ইসলামের নামাজের সাথে জরথুষ্ট্রীয় ‘গাহ’ বা ‘নামাজ’-এর মিল চমকে দেওয়ার মতো। মূল মধ্যপারসি শব্দ ‘নামাজ’ মানে ‘নির্ধারিত সময়ে উপাসনা’ – সংস্কৃত ‘নমস্’-এর সাথেও এর যোগ আছে। উভয় ধর্মেই পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ রয়েছে এবং সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী সময় নির্ধারিত হয়। উভয় ধর্মেই নামাজের আগে পবিত্রতা অর্জনের বিধান আছে। নামাজের মুভমেন্ট , টুপি পরা, বুকে হাত রাখা, খুতবা, মোনাজাত প্রায় সবই হুবুহু মিল। জরথুষ্ট্রীয়দের সম্পর্কে যাদের ধারনা নেই তাদেরকে দেখালে তারা মনে করবে মুসলমানদের নামাজ। ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন, দেখে নিতে পারেন।
মিরাজ ও আর্দা বিরাজ – দুটি স্বর্গযাত্রার কাহিনী
আর্দা বিরাজ নামাগ ছিল সাসানীয় যুগের একটি জরথুষ্ট্রীয় ধর্মগ্রন্থ, মূলত মধ্যপারসি ভাষায় লেখা। এতে বর্ণিত হয়েছে পুণ্যবান পুরোহিত আর্দা বিরাজের পরলোকে স্বপ্নযাত্রার কাহিনী। গ্রন্থটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত – ভূমিকা, স্বর্গযাত্রা, বেহেশত, দোজখ এবং উপসংহার।
ইসলামের মিরাজের কাহিনী এবং জরথুষ্ট্রীয় আর্দা বিরাজের পরলোকযাত্রার মধ্যে অত্যন্ত লক্ষণীয় মিল রয়েছে, একেবারে সূক্ষ্ম বিবরণ পর্যন্ত। দুটি কাহিনীতেই একজন পুণ্যবান ব্যক্তি স্বর্গ ও নরক পরিভ্রমণ করেন, দেখেন পুণ্যবানদের পুরস্কার এবং পাপীদের শাস্তির দৃশ্য।
অনেকে বলেন, নবী মুহাম্মদ আগে থেকেই আর্দা বিরাজের এই কাহিনী জানেন। বাল্য জীবনের ক্রাশ চাচাতো বোন উম্মে হানির স্বামীর অনুপস্থিতে তার ঘরে রাত কাটিয়ে সকালে সাহাবীদের কাছে ধরা পড়ার পরে উনি এই কাহিনী ফেঁদে দেন।
একেশ্বরবাদ, স্বর্গ-নরক ও নৈতিকতার ত্রিভুজ
জরথুষ্ট্রীয় ধর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম একেশ্বরবাদী বিশ্বাসগুলোর একটি। আহুরা মাজদা হলেন সর্বোচ্চ ঈশ্বর, মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর চিরন্তন সংগ্রাম, স্বর্গ-নরকের ধারণা, কেয়ামতের দিনে হিসাব – এই ধারণাগুলো ইসলামসহ তিনটি আব্রাহামিক ধর্মেই বিদ্যমান। অনেক গবেষক মনে করেন এই ধারণাগুলো পারস্যের মধ্য দিয়েই সেমিটিক ধর্মে প্রবেশ করেছে।
‘ফেরদৌস’ (বেহেশত) শব্দটি মূলত পারসি ‘পাইরি-দাইজা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রাচীরঘেরা বাগান। সেই শব্দই ইংরেজিতে হয়েছে ‘Paradise’। ইসলামের অনেক কিছুই এই জরথুষ্ট্রীয় থেকে ধার করা।
আগুন নেভেনি
ইসলামের আগ্রাসনের মুখে পড়ে সেই পারসিরা যে আগুন বুকে আগলে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন, তা আজও জ্বলছে ভারতের অগ্নিমন্দিরগুলোতে। ২০১১ সালের ভারতীয় আদমশুমারিতে পার্সি জনসংখ্যা মাত্র ৫৭,২৬৪ জন – ২০০১ সালের ৬৯,০০১ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংখ্যায় ছোট হতে হতে প্রায় ক্ষয়িষ্ণু এই সম্প্রদায়, তবু তাদের গল্প অমলিন।
একটি জাতি যখন তার বিশ্বাস বাঁচাতে সব কিছু ছেড়ে অজানা সমুদ্রে ভেসে পড়ে, এবং একটি দেশ যখন সেই শরণার্থীদের মিষ্টি চিনির মতো নিজেদের মধ্যে মিশিয়ে নেয় – সেটাই মানব সভ্যতার সবচেয়ে সুন্দর গল্প। যাদি রানার সেই দুধের পাত্রে চিনি মেশানো শুধু একটি কূটনৈতিক চাল ছিল না – ছিল এক অঙ্গীকার, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে সংজ্ঞায়িত করে আসছে।
Related Posts

Teen girl imprisoned by the Taliban for refusing to marry a 70‑year‑old man! What the Taliban are doing – that is exactly Islam!
A 14-year-old girl named Bibi Sediqa in Afghanistan has been kept imprisoned and tortured forRead More

৭০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে না করায় তালেবানের কারাগারে কিশোরী! তালেবান যা করছে সেগুলোই ইসলাম!
৭০ বছর বয়সি এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আফগানিস্তানে বিবি সেদিকাRead More

Did Prophet Muhammad Instruct People to Expose Themselves to Rainwater? Is the Claim of Universality Made by the Qur’an and Hadith Flawed?
A hadith in Sahih Muslim (Hadith Academy: 1968) narrates that Anas (RA) said: During aRead More

Comments are Closed