Sharia
Sharia Makes Rape Justice Difficult

Sharia Makes Rape Justice Difficult

ইসলামী শরীয়া শাসিত দেশে ধর্ষনের বিচার পাওয়া খুবই কঠিন, সৌদি আরবের অবস্থা তার প্রমান

আজকের ডেইলি স্টার এই রিপোর্ট দিয়েছ।
আমাদের কিউট মুমিন ভাইয়েরা দাবী করেন সৌদি আরবে কোন ধর্ষণ হয় না। আসলেই তাদের পরিসংখ্যানে রেকর্ড কম! কারন এমন হাজার হাজার কেইস সেখানে ধর্ষণ হিসাবেই গণ্য হয় না, নারীরাও অভিযোগ দিতে সাহস করেন না। সেখানে শরীয়া ব্যবস্থাটাই এমন যে উল্টো ধর্ষিতাকে শাস্তি পাওয়ার অনেক অভিযোগ আছে। কিছুই না, ধর্ষক স্রেফ বলবে, উক্ত নারী খোলামেলা পোশাক পরে তাকে প্রোভোক করেছে, ব্যাস, এরপর যিনার দায়ে নারীর কপালে জুটবে ভয়াবহ শাস্তি। এই হচ্ছে ইসলামী শরীয়া, যেখানে ধর্ষণের কোন সংজ্ঞাই নেই, নির্দিষ্ট কোন শাস্তি নেই, সবই যিনা, ব্যাভিচার! অফিসিয়ালি বিশ্বে সবার শেষদিকে দাস-দাসী, যৌনদাসী প্রথা বিলোপ করলেও তাদের মনে, মগজে এখনো সেই সুপ্ত কামনা, বাসনা, উন্মাদনা রয়ে গেছে, গৃহকর্মীদের তারা ইসলাম অনুমোদিত যৌনদাসীই মনে করে। সেখানে এখনো অনলাইনে দাসী কেনা-বেঁচা হয়। এই রকম কয়টি কেইসের বিচার করে তারা? উদাহরণ আছে?

রিপোর্টটা পড়ে দেখেন। এই নারী একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বিভিন্ন ফর্মে। গৃহকর্তা তাকে জানিয়ে দেয় তারা তাকে কিনে নিয়েছে। গৃহকর্তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দিলেও উল্টো তাকে দোষী করা হয়। পুলিশও তাকে কোন হেল্প করেনি। এমনকি পরে আরো ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরে, তাকেই পুলিশ জেলে দেয়।

নবী মুহাম্মদের সময় ধর্ষণ বলে কোন টার্মের সঙ্গেই সেই সময়ের মানুষ পরিচিত ছিল না। তখন কেউ এটা ধারনাই করতো না যে কোন নারীর সঙ্গে যৌনতা করতে হলে তার সম্মতি নেয়ার প্রয়োজন। সেজন্য কোরআন, হাদিসের ক্ল্যাসিক সোর্স কোথাও ধর্ষণ নামে কোন টার্ম নেই, যা আছে তা যিনা। যিনার শাস্তি আর ধর্ষণের শাস্তি এক হয়? যিনা যেটা সাধারনত সম্মতিসূচক যৌনতা, আধুনিক আইন সেটাকে অপরাধ হিসাবেই দেখে না। কিন্তু ইসলাম সেখানে অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত বা বিবাহিত হলে গলা সমান মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার শাস্তি দেয়। অন্যদিকে ধর্ষণ প্রমান করার জন্য ধর্ষিতাকেই উল্টো প্রমান করতে হয় যে যিনা হয়েছে, কিন্তু তার সম্মতি ছিল না। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের শরীয়া আইনে পুলিশ নয়, ধর্ষিতাকেই ধর্ষণ প্রমানের সকল দায় নিতে হয়। ইসলামী আইনে যিনা প্রমানের শর্ত থাকে চারজন চাক্ষুস পুরুষ সাক্ষী, যারা স্বচক্ষে যৌনতা দেখেছেন।

শরীয়ার ভিত্তিতে তৈরি করা পাকিস্তানের ১৯৭৯ সালের কুখ্যাত ‘হুদুদ অর্ডিন্যান্স’ (নির্দিষ্টভাবে ‘অফেন্স অব যিনা অর্ডিন্যান্স’) অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ বা ‘হদ’ (Hadd) শাস্তি কার্যকর করার জন্য চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর বাধ্যবাধকতা ছিল। আইনটিতে ধর্ষণকে ‘যিনা-বিল-জাবর’ (Zina-bil-jabr) বা জোরপূর্বক ব্যভিচার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। এই আইনের অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং বিতর্কিত কাঠামোর কারণে ধর্ষণের শিকার নারীরা এক ভয়াবহ আইনি ফাঁদে পড়তেন। নারীটি যখন বলতেন যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, আদালতের চোখে সেটি ছিল এক প্রকার স্বীকারোক্তি যে তার সাথে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। এখন, চারজন সাক্ষী না থাকায় তিনি যখন ‘ধর্ষণ’ বা জোরজবরদস্তির বিষয়টি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হতেন, তখন আদালত ধরে নিত সম্পর্কটি সম্মতিসূচক ছিল। এর ফলে, ধর্ষক প্রমাণাভাবে খালাস পেয়ে যেত, আর উল্টো ওই ধর্ষিতা নারীটিকেই পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যভিচার বা ‘যিনা’র অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানো হতো। এই আইনের ভয়াবহতার কারণে ১৯৭৯ সালের আগে পাকিস্তানের কারাগারগুলোতে যিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগে যেখানে মাত্র ৭০ জন নারী বন্দি ছিলেন, ১৯৮৮ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে ৬,০০০ পার হয়ে যায়। এদের একটি বিশাল অংশই ছিলেন মূলত ধর্ষণের শিকার নারী, যারা বিচার চাইতে এসে উল্টো নিজেরাই অপরাধী হয়ে গিয়েছিলেন।

তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনা, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপ এবং প্রতিবাদের মুখে ২০০৬ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার ‘উইমেন প্রোটেকশন বিল’ (Women’s Protection Bill) পাস করে। এর মাধ্যমে হুদুদ অর্ডিন্যান্সের এই ধারা সংশোধন করে ধর্ষণকে হুদুদ বা ধর্মীয় আইনি বৃত্ত থেকে বের করে পুনরায় সাধারণ ফৌজদারি দণ্ডবিধির (Pakistan Penal Code) অধীনে নিয়ে আসা হয়, যেখানে চারজন পুরুষ সাক্ষীর শর্ত বাতিল করে ফরেনসিক, ডিএনএ এবং পারিপার্শ্বিক আলামতকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রধানসহ মোল্লারা এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেন, কারন এটা ইসলাম সমর্থিত না। এগুলো তো চোখের সামনে শরীয়া আইনের অকার্যকারিতার ফ্যাক্ট।

এখনো এমন মধ্যযুগীয় বর্বর আইনকে অনেকে এই যুগের জন্য কার্যকরী বলে দাবী করেন। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ যেখানে শরীয়া আইন প্রচলিত, সেখানেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কারন ধর্ষক জানে, ধর্ষিতা ধর্ষণ প্রমান করতে পারবে না। আমার কথা মানতে হবে না, এ নিয়ে অজস্র রিপোর্ট, গবেষণা আছে। আপনারা নিজেরাই খুঁজে দেখে নিন।

অন্যদিকে আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রে কারো গায়ে বিনা অনুমতিতে স্পর্শ করলে বা কুরচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও সেটা যৌন হয়রানি হিসাবে লিপিবদ্ধ করে প্রতিকার চাওয়া যায়। স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া স্বামীও যৌনতা করতে পারে না, সেটাও ধর্ষণ। একজন যৌনকর্মীর ইচ্ছা বা সম্মতি ছাড়া তাকেও সেক্সের জন্য জোর করলে সেটাও ধর্ষণ। রাত বিরাতে শত শত কর্মব্যস্ত নারী স্বল্প পোশাকে শহরের নির্জন রাস্তায় হাঁটেন, কেউ তাদের কোন অশ্লীল ইঙ্গিত করেন না, টাচ করা তো দূরে থাক।

Related Posts

Hindu Attacked for Speaking

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities

The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

Hindu Attacked for Speaking

বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা” আইনের অর্থই হলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন এক বাহানা খোঁজা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এটি একটিRead More

Islam will not Survive Without Massive Reform

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside

Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

Comments are Closed