
Real heros for your child
আপনার শিশুর জীবনের হিরো কে ? আপনি নিজেও জানেন তো এই মানুষগুলোর নাম ?
আপনার শিশুর জীবনের হিরো কে ? আচ্ছা আপনি নিজেও জানেন তো এই মানুষগুলোর নাম যাদের নিয়ে আপনি গর্ব করতে পারেন ? নিজেই যদি না জানেন আপনার শিশুকে তাদের গল্প কিভাবে শোনাবেন ? আমি জানি এ লেখাটি তেমন কেউ পড়বে না, লাইক করে শেয়ার দিয়ে অন্যকেও দেখাবে না। কারন আমরা সবাই ক্ষনিকের জনপ্রিয় মানুষদের নিয়ে মাতামাতি করি কিন্তু আমাদের দেশের গর্ব বিশ্বের এ শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কথা শুনতে চাই না।
আপনার শিশুর কাছে শুনলে হয়ত সে কোন ক্রিকেটার বা সিনেমা, নাটকের কাউকে হিরো বলতে পারে। সত্যি বলতে কি এরা সবাই আপনাকে বিনোদিত করে, আপনার কিছু সময়কে সুন্দর করে। কিন্তু একটি দেশকে, বিশ্বকে সব সময়ের জন্য সুন্দর করতে পারেন একজন বিজ্ঞানী। ৮ কোটি শিশু থেকে মাত্র ১৫ জন ক্রিকেটার দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাবে কিন্তু চাইলে ১৫ হাজার বিজ্ঞানী বের হয়ে আসতে পারে যদি ছোট থেকেই তাকে আপনি সেই স্বপ্ন দেখাতে পারেন।
আইনস্টাইন, নিউটন, স্টিফেন হকিং – এদের নাম হয়ত আমরা শুনি কিন্তু বাংলাদেশের গুণী সন্তানদের, প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের কথা কতটা মনে রাখি? এখনকার স্কুলের পাঠ্যবইতে এদের কথা কতটা পড়ানো হয় জানিনা, কিন্তু আমার মনে হয়, দেশের প্রতিটি শিশুর জানা উচিৎ এসব বিজ্ঞানীর কথা, যাতে তারা এঁদেরকে হিরো হিসাবে দেখতে শিখে ছোটবেলা হতে, আর বিজ্ঞানচর্চায় আরো আগ্রহী হয়।
এক এক করে জানুন তাদের নাম। তবে এ তালিকাটি অসম্পূর্ণ, আরো অনেক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ আছেন যাঁরা বিশ্বমানের কাজ করেছেন, আসুন বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানীদের স্মরণ করি, তাঁদের অবদানের জন্য অনুভব করি গর্ব, আর ভবিষ্যত প্রজন্মকে করে তুলি বিজ্ঞানমুখী। একমাত্র বিজ্ঞানমুখী একটি প্রজন্মই পারে এদেশকে সত্যিকারের একটি সোনার বাংলায় পরিনত করতে।
– ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর আবিষ্কারক – কাজি আজিজুল হক (১৮৭২-১৯৩৫)। বাড়ি খুলনার ফুলতলা।
– প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪) – রসায়নবিদ, মারকুরিয়াস নাইট্রাইটের আবিষ্কারক। বাড়ি খুলনা।
– জগদীশ চন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) – বেতার বা রেডিওর আসল আবিষ্কারক, গাছের প্রাণের ব্যাপারে বড় বড় সব আবিষ্কার করেছেন, বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর।
– প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ (১৮৯৩-১৯৭২) – পরিসংখ্যানে বহুল ব্যবহৃত মহলানবিশ ডিসট্যান্সের আবিষ্কারক, ইন্ডিয়ান ইন্স্টিটিউট অফ স্ট্যাটিস্টিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা, বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর।
– জামাল নজরুল ইসলাম (১৯৩৯-২০১৩), এস্ট্রোফিজিসিস্ট, বাড়ি ঝিনাইদহ।
– মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬), পদার্থবিজ্ঞানের থার্মাল আয়নাইজেশনের সাহা ইকুয়েশনের আবিষ্কারক, বাড়ি ঢাকার শেওড়াতলী।
– অমল কুমার রায়চৌধুরী (১৯২৩-২০০৫), পদার্থবিজ্ঞানের আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কসমোলজিতে বহুল ব্যবহৃত রায়চৌধুরী ইকুয়েশনের আবিষ্কারক, বাড়ি বরিশাল।
– মোহাম্মদ আতাউল করিম (১৯৫৩-), অপটিকাল ফিজিক্সের সেরা ৫০ জন বিজ্ঞানীর একজন, বাড়ি সিলেট।
– সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪), পদার্থবিজ্ঞানের বর্তমানে বহুল আলোচিত বোসন কণিকার নাম তাঁর নামানুসারে, তিনি আইনস্টাইনের সাথে মিলে বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিক্স তত্ত্বের প্রণেতা। বাড়ি কোলকাতা হলেও তাঁর ক্যারিয়ার আর এই আবিষ্কার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগেই হয়েছে।
– আবুল হুসাম, আর্সেনিক দূরীকরণের জন্য সনো ফিল্টারের উদ্ভাবক, বাড়ি কুষ্টিয়া।
– মাকসুদুল আলম, পেঁপে, রাবার ও পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছেন, বাড়ি ফরিদপুর।
– শুভ রায়, কৃত্রিম কিডনির উদ্ভাবক, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।
– ফজলুর রহমান খান (১৯২৯-১৯৮২), বহুদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে উচু ভবন সিয়ার্স টাওয়ার ও জন হ্যানকক টাওয়ারের ডিজাইনার, বহুতল ভবন নির্মানের নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবক, বাড়ি ঢাকা।
– শাহ এম ফারুক, কলেরার উপরে গুরুত্বপুর্ণ আবিষ্কার করেছেন, আইসিডিডিআরবিতে কর্মরত।
Related Posts

Even in this era, religious fanaticism stands as a barrier to the spread of science!
For being ahead of his time, Socrates had to drink the cup of poison 2,400Read More

In the light of open‑source, a new horizon: How WordPress is showing Bangladesh’s young generation the path to self‑reliance
If you walk along the roads of villages and small towns in Bangladesh, you willRead More

Comments are Closed