
Rape in Islamic Countries
ইসলামী শরিয়া শাসিত দেশে ধর্ষণের হার কম কেন? এটা কি বাস্তবতা?
লেখালিখির কারনে এবং নারীদের উপর ঘটা যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে একজন সোচ্চার অধিকারকরমী হিসাবে ধর্ষণের পরিসংখ্যান নিয়ে আমি ঘাটাঘাটি করি সে এক যুগের বেশি হয়ে গেছে। ইসলামিস্টদের দাবী সঠিক, খাতা কলমে ইসলামী শাসনের দেশগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যা কম, কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলে?
সৌদি আরবে খাতা কলমে ধর্ষণের হার খুবই কম, নেই বললেই চলে। ২০১৯ সালে ধর্ষনের অভিযোগে সেখানে মাত্র ৮ জনের শাস্তি কার্যকর করা হয়, এবং সেটা অবধারিতভাবে জিনার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। অর্থাৎ ২০১৯ সালে সেখানে খাতা কলমে ধর্ষনের সংখ্যা মাত্র ৮। সৌদি আরবে কি ২০১৯ সালে মাত্র ৮ টি যৌন সহিংসতা হয়েছিল? সিরিয়াসলি?
ওদিকে সৌদি আরব থেকে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি নারী বাধ্য হয়ে বা পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন, তাদের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% নারী শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন। ৩০% পেটে বাচ্চা নিয়ে ফেরেন। ২০১৯ সালে সৌদি থেকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরেন প্রায় ১৬০০ নারী। এটা শুধু বাংলাদেশের হিসাব, আরো কত দেশ থেকে সেখানে নারী কর্মীরা যান, তাদের নিজদের দেশের নারীরা আছেন, আবার কত নারী নির্যাতনের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে নেন। এখন যদি আপনার মনে হয় সৌদির ধর্ষনের পরিসংখ্যান সত্য – তবে কিছু বলার নেই।
ইসলামী শাসনের দেশে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার সাহসই করে না নারীরা। এটাই বাস্তবতা। সেটা প্রমান না করতে পারলে উলটো নারীকেই কঠিন শাস্তি পেতে হয়, ধর্ষক উল্টো নারীকে দোষ দিতে পারে যে – সে উক্ত পুরুষকে পর্দা না করে প্রভোক করেছে। সৌদি আরব, ইরান, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের নারীদের অবস্থা যাচাই করলে এর ভুরি চুরি প্রমান আছে, যার সহজ নাম বিচারহীনতার পরিবেশ। গত ৪ জুন ২০২৬ ডেইলি স্টার রিপোর্ট করেছিল – বাংলাদেশি এক নারী সৌদি আরবে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বিভিন্ন ফর্মে। গৃহকর্তা তাকে জানিয়ে দেয় তারা তাকে কিনে নিয়েছে। গৃহকর্তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দিলেও উল্টো তাকে দোষী করা হয়। পুলিশও তাকে কোন হেল্প করেনি। এমনকি পরে আরো ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরে, তাকেই পুলিশ জেলে দেয়। এমন নজির শত শত, হাজার হাজার।
ইসলামী শরিয়া শাসন খোয়াবেই সুন্দর, কিন্তু বাস্তবতা, পরিসংখ্যান, কেইস স্টাডিতে জঘন্য। আমি যেখানে থাকি সেখানে একটা বাচ্চার গায়ে যদি আদর করার উদ্দেশ্যেও কেউ টাচ করে তবে বাচ্চার অভিভাবক সেটাকে যৌন নির্যাতন বলে কেইস করে দিতে পারে। সেজন্য এখানে যৌন নির্যাতনের সংখ্যা বেশি দেখা যায় পরিসংখ্যানে। বিয়ে করা বউয়ের সম্মতি ছাড়া তাকে বেডে টেনে নিয়ে গেলে সেটাও ধর্ষণ হিসাবে পরিসংখ্যানে উঠে, সৌদিতে বা কোন ইসলামী দেশে যেটা কল্পনা। দিনশেষে দেখা যায়, ইসলামী শাসনের দেশ সৌদি, আফগানিস্তান, ইরানে ধর্ষন কম।
Related Posts

Thousands of people have been killed in Iran in the name of the Child Imam Mahdi, who disappeared around 1,200 years ago
The Islamic Republic of Iran is one of the rare states in the modern worldRead More

১২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া শিশু ইমাম মাহদীর নামে ইরানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র আধুনিক বিশ্বের এমন এক বিরল রাষ্ট্র, যার ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রে একজন অনুপস্থিত, অদৃশ্যRead More

Ayisha and Arpita: A Story of Free Expression and Honesty Between Two Sisters, One Muslim and One Hindu
Ayisha and Arpita’s parents had dated for several years before marrying under Bangladesh’s Special MarriageRead More

Comments are Closed