Muhammad
Prophecies of Prophet Muhammad

Prophecies of Prophet Muhammad

নবী মুহাম্মদ কি ভবিষ্যৎ জানতেন? নাকি সবগুলো তাকে গ্লোরিফাই করার জন্য পরে সংযোজন করা?

এক শুভাকাংখী ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়েছেন –

” Exam এর পড়া রেখে, আপনার নামের ইতিহাস পড়ছি। প্রতিটা লেখাই বিবেক কে খোচা মেরে যায়। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

কিছু প্রশ্ন আছে, নবী মুহাম্মদ (স) কি নিজের শেষ সময় বুঝতে পেরেছিলেন? উনি বিদায় হজ্জের ভাষন দিয়েছিলেন যে ওটাই তার শেষ হজ্জ। তারপর উনি আর ওইভাবে এটেন্ড করতে পারেন নাই। এটা কি কাকতালীয়?

তারপর হযরত উমর খোলা তরবারি হাতে ওনাকে হত্যা করতে আসছিলেন, তখন সবাই ভয় পেয়ে ওনাকে সেফ এক্সিট দিতে চাইলে উনি মানা করেন এবং বলেন, উমর কে আল্লাহ ইসলামের জন্য কবুল করেছেন।এবং আসলেই উমর তরবারি সমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করে। এখানে উনি কিভাবে আগে থেকে জানলেন যে রগচটা উগ্র উমর ওনাকে মারার জন্য না বরং ইসলাম কবুলের জন্য এসেছে?

মেয়ে ফাতেমা কে মৃত্যুশয্যায় থেকে বলেছিলেন, অধিক শোক না করতে কারন তার ওফাতের পর সর্বপ্রথম ফাতেমার সাথেই তার মিলন হবে।আর সত্যি ই ফাতেমা মারা যায়। এটা কিভাবে?

আমার ইনফরমেশন ১০০% অথেনটিক নাও হতে পারে। তবে তার আর ও বেশ কিছু এমন ব্যাপার আছে যেটা কি নিছক কাকতালীয়? মুক্তচিন্তা করতে গেলে এমন কিছু বিষয়ে কনফিউশান আসে, যা কারো কাছে বলা যায় না।
“

আমি বা উনিই একমাত্র মুক্তমনা ব্যক্তি না যারা এভাবে ভাবেন। অনেকের মনেই একই ধরনের প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার আগে আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা বলি।

হাইস্কুলে পড়ার সময় আমি ঈদে-মিলাদুন্নবীর মিলাদে রচনা প্রতিযোগীতায় প্রতিবছর ফার্স্ট হতাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিযোগীতায়ও উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফার্স্ট হয়েছি। মুহাম্মদের জীবনী পড়ার জন্য আমাদের বাড়িতে কিছু বই ছিল, তার একটি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’। উক্ত বইতে মুহাম্মদের জন্মকে অনেক রুপকথার গল্পের মতো করে গ্লোরিফাই করা হয়েছে, মুহাম্মদের মা আমেনা, আত্মীয় স্বজন সবাই দেখে আকাশ থেকে স্নিগ্ধ আলোক রষ্মি এসে পড়ছে, ব্লা ব্লা …। এগুলো কী আসলে ঘটেছিল? এ্যাবসার্ড!

আমার নানী ৯০ উর্দ্ধ বয়সে মারা যান। মারা যাওয়ারও প্রায় ১০ বছর আগে থেকেই উনি বলতেন, আমি যদি উনাকে এই মাসে দেখতে না যাই তাহলে আগামী মাসে হয়তো জীবিত দেখতে পাবো না, হ্যান ত্যান …। এখন উনি এই ১০ বছর সময়ের যে কোন সময়ে মারা গেলে মনে হতে পারতো, উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে উনার মৃত্যু সন্নিকটে।

এখন উত্তরে আসার আগে আর একটু জানি, মানুষ শৈশব থেকেই পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা, শিষ্টাচার ও আদর্শকে এমনভাবে অভ্যস্ত করে নেয় যে সেগুলো তার পরিচয়, নিরাপত্তা ও নৈতিক কাঠামোর অংশ হয়ে যায়; মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় পক্ষপাত (cognitive bias), সামাজিক চাপ, ভয় (পরকাল, অভিশাপ বা প্রত্যাখ্যানের) এবং আবেগীয় বন্ধন এগুলোকে প্রশ্ন করার পথকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে মুক্তমনে সন্দেহ করা অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতা বা অস্তিত্বের সংকটের মতো মনে হয়। এর বাইরে এসে যারা নিজের জন্মগত পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে পারেন, তারাও নিজে নিজে আবার পাল্টা যুক্তি দাঁড় করিয়ে ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দিকটাও কল্পনা করেন। কগনিটিভ বায়াস হলো মনের এমন পদ্ধতিগত ত্রুটি বা পক্ষপাত, যেখানে মানুষ তথ্যকে যুক্তিসঙ্গতভাবে না দেখে আগে থেকে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, আবেগ বা মানসিক শর্টকাট দিয়ে বিচার করে।

আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য প্রক্রিয়া করে। সবকিছু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয় বলে এটি হিউরিস্টিকস (mental shortcuts) ব্যবহার করে। এই শর্টকাটগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, কিন্তু প্রায়ই ভুল বা একপেশে উপসংহারে নিয়ে যায়।

  • তথ্য বাছাই করেঃ মানুষ এমন তথ্যকেই বেশি গুরুত্ব দেয় যা তার আগের বিশ্বাসকে সমর্থন করে (Confirmation Bias)। বিরোধী তথ্যকে উপেক্ষা বা খারিজ করে দেয়।
  • স্মৃতি ও উপলব্ধিকে প্রভাবিত করেঃ সহজে মনে পড়ে এমন ঘটনা বা আবেগপ্রবণ ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেয় (Availability Bias)। ফলে বাস্তব সম্ভাবনার চেয়ে ভুল অনুমান হয়।
  • প্রথম তথ্যের প্রভাবঃ প্রথমে যা শোনে বা দেখে, সেটাকেই মানদণ্ড বানিয়ে নেয় (Anchoring Bias)। পরের তথ্য সেই মানদণ্ডের আলোকেই বিচার করে।
  • গোষ্ঠী ও পরিচয় রক্ষাঃ নিজের দল, ধর্ম, সংস্কৃতি বা পরিচয়ের সাথে মিলে যায় এমন মতকে সঠিক মনে করে (In-group Bias)। ভিন্ন মতকে হুমকি হিসেবে দেখে।
  • আবেগ ও স্বার্থঃ ভয়, আশা, লজ্জা বা সুবিধা যুক্ত থাকলে যুক্তি বিকৃত হয়। মানুষ অস্বস্তিকর সত্য এড়িয়ে চলতে চায়।

এই বায়াসগুলো বিবর্তনীয়ভাবে তৈরি হয়েছে – প্রাচীনকালে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া বেঁচে থাকার জন্য দরকারি ছিল। আধুনিক জটিল সমাজে সেগুলোই ভুল ধারণা, কুসংস্কার এবং একগুঁয়েমির জন্ম দেয়। সচেতনভাবে প্রশ্ন করা, বিপরীত মত শোনা এবং প্রমাণ যাচাই করা ছাড়া এগুলো থেকে বেরোনো কঠিন।

এখন আসি নবী মুহাম্মদের জীবনে, উপরের বিষয়গুলো নিছক কাকতালীয় বা পরবর্তীকালের ধর্মীয় বর্ণনার অংশ; ঐতিহাসিকভাবে যাচাইযোগ্য “ভবিষ্যদ্বাণী” বা অলৌকিক জ্ঞান নয়। সমালোচনামূলক (historical-critical) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এগুলো ইসলাম বা মুহাম্মদকে গ্লোরিফাই করে না। এগুলো বিভিন্ন ওয়াজীই একেকজন একেকভাবে বর্ননা করেন। ধরেন, নবী মুহাম্মদ রাতে ঘরের মধ্যে গামলায় প্রস্রাব করে রেখে দিতেন, এক সাহাবী সেটি পানি মনে করে খেয়ে ফেলেন, সেটিকে তার শ্রেষ্ঠ শরবত মনে হয়। এই হাদিস ও কাহিনীর বয়ান আপনি ইউটিউবে শোনেন, বিভিন্ন বক্তা রঙ চং মিশিয়ে একেকভাবে বর্ননা করেছেন। নবীর জীবনের ঘটনাপ্রবাহও অনেকটা এমন, বিভিন্নজন তার সুবিধামতো বর্ননা করেছেন। কিন্তু আমাদের যুক্তি, তথ্য ও বিজ্ঞানের নিরিখে যাচাই করতে হবে।

১. বিদায় হজ্জ ও “শেষ হজ্জ” বলা

হাদিস ও সীরাহ-তে মুহাম্মদ বলেন, “আমি জানি না এই বছরের পর আবার তোমাদের সাথে এই জায়গায় মিলিত হতে পারব কিনা” বা “হজ্জের রীতিনীতি শিখে নাও, কারণ আমি জানি না পরের বছর আবার হজ্জ করতে পারব কিনা”। এটি ১০ হিজরিতে (৬৩২ খ্রি.) ঘটে, এবং তিনি কয়েক মাস পর মারা যান।

সমালোচনামূলক ব্যাখ্যাঃ
মরার কয়েক বছর আগে মাংসলোভী মুহাম্মদ খায়বারে এক ইহুদী নারীর বিষ মেশানো মাংস খায়। এরপর উনি তীব্র মৃত্যুযন্ত্রনা ভোগ করেন কয়েক বছর। উনি মরার আশংকা আগেও করতেন। জীবনের শেষভাগে, বিশেষ করে ১১ হিজরীতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময় এই বিষের যন্ত্রণা চরম আকার ধারণ করে। তিনি তার শিশু স্ত্রী আয়েশা-এর কাছে এই যন্ত্রণার তীব্রতা বর্ণনা করেছিলেন।

সহীহ আল-বুখারী ৪৪৩৮ অনুযায়ী – আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুশয্যার অসুস্থতার সময় বলতেনঃ “হে আয়েশা! খাইবারে আমি যে বিষমিশ্রিত খাদ্য আস্বাদন করেছিলাম, আমি এখনো তার যন্ত্রণা অনুভব করছি। আর এখন সেই সময়, যখন মনে হচ্ছে সেই বিষের কারণে আমার মহাধমনী (Aorta) কেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

তার শর্ট টার্ম মেমরি লস এর মতো কিছু মানসিক শারীরিক সমস্যাও হয়েছিল। যদিও কুসংস্কারের কারনে উনি সেগুলোকে জাদু মনে করতেন। সহিহ বুখারী ৩১৭৫ বলে মুহাম্মদকে জাদু করা হয়েছিল। জাদুর কারণে উনি ভুল বকতেন, শর্ট টার্ম মেমোরি লস হয়েছিল তার। সূরা আল-ফুরকানের ৮-৯ আয়াতেও মুহাম্মদকে জাদুগ্রস্থ হিসাবে বলা হয়েছে।

মুহাম্মদ আগে থেকেই ধারনা করতেন উনি যে কোন সময় মারা যাবেন। ঐ সময়ে আরবের পুরুষদের গড় আয়ু ছিল ৩০-৩৫ বছর। নবীর বয়স সেখানে ৬০ ছাড়িয়েছিল এবং আরবের প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ জীবন কাটানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। সেই সময়ে গড় আয়ু বিবেচনা করলে এবং শরীরের শারীরিক অবস্থা দেখে নিজের শেষ সময় আসন্ন – তা বুঝতে পারা যেকোনো সাধারণ মানুষের জন্যই খুব স্বাভাবিক, এর জন্য অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না।

সুতরাং ধরেই নেয়া যায়, এটি কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী নয়। ৬৩ বছর বয়সী একজন মানুষ, যিনি বহু যুদ্ধ, বিষক্রিয়া (খায়বারের বিষ), এবং ক্রমাগত রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছিলেন, তিনি যে “হয়তো আর দেখা হবে না” বলবেন – এটা স্বাভাবিক মানবিক অনুমান। অনেক নেতা বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাদের শেষ বছরগুলোতে এমন বিদায়ী ভাষণ দেন। “বিদায় হজ্জ” নামটি পরবর্তীতে দেওয়া হয়েছে। কুরআনেই বারবার বলা হয়েছে তিনি একজন সাধারণ মানুষ (৩:১৪৪ ইত্যাদি)। ভাষণেও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা বিস্তারিত ভবিষ্যদ্বাণী নেই – শুধু অনিশ্চয়তা প্রকাশ। মৃত্যু হওয়ায় পরবর্তী বর্ণনাকারীরা এটিকে “জানতেন” বলে উপস্থাপন করেছেন। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ (self-fulfilling) বা সাধারণ জীবনানুমান।

বিদায় হজ্জের ভাষণ তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করা হয়নি; বরং নবীর মৃত্যুর শত বছর পর বিভিন্ন রাবী (বর্ণনাকারী) ও হাদীস সংকলকদের মাধ্যমে লিখিত রূপ পায়। পরবর্তী সময়ে রচিত ইতিহাসে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ জাতীয় শব্দ যুক্ত হওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয় (যা টেক্সচুয়াল ক্রিটিসিজমে বহুল আলোচিত)।

২. উমরের ইসলাম গ্রহণ ও তরবারি নিয়ে আসা

নবুয়তের ষষ্ঠ বছর মানে ইসলাম শুরুর প্রায় ছয় বছর পর, যখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪০ জনের মতো, তখন জনাব উমর ইসলাম গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় কাহিনিঃ উমর তরবারি হাতে মুহাম্মদকে হত্যা করতে যাচ্ছিলেন। পথে শুনলেন বোন ফাতিমা ও স্বামী মুসলমান হয়েছে। বাড়ি গিয়ে মারধর, তারপর কুরআন পড়ে গ্রহণ। দারুল আরকামে গিয়ে ইসলাম নেন। কিছু বর্ণনায় মুহাম্মদ বা সাহাবিরা আগে থেকে “জানতেন” বা দোয়া করেছিলেন।

সমালোচনামূলক ব্যাখ্যাঃ
এই গল্পের বহু সংস্করণ আছে এবং সেগুলো পরস্পরবিরোধী (কে তাকে পথে থামাল, কতজন ঘরে ছিল, কোন সূরা পড়া হয়েছিল, তরবারি টেনে ছিল কিনা ইত্যাদি)। অনেক সূত্র দুর্বল বা বিচ্ছিন্ন (munqati‘, da‘if)। বুখারিতে উমরের ইসলামের অধ্যায়ে এই নাটকীয় হত্যার পরিকল্পনার গল্প নেই। ইবন ইসহাকসহ প্রাথমিক সূত্রগুলোও সমস্যাযুক্ত।

বাস্তবে উমর ছিলেন কুরাইশের শক্তিশালী, রাগান্বিত যুবক। মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছিল, পরিবারের সদস্যরা ধর্মান্তরিত হচ্ছিল – এটা জানতে পারা স্বাভাবিক। “তরবারি নিয়ে যাওয়া” আরব সমাজে সাধারণ ছিল। ঘটনা যদি ঘটেও থাকে, তাহলে মুহাম্মদ “আগে থেকে জানতেন” এমন কোনো সমসাময়িক প্রমাণ নেই। এটি পরবর্তীকালের ধর্মীয় সাহিত্য যেখানে উমরকে (পরবর্তী খলিফা) গ্লোরিফাই করা হয়েছে। উমরের মতো শক্তিশালী মানুষের ধর্মান্তর ইসলামের জন্য সুবিধাজনক ছিল – তাই গল্পটিকে নাটকীয় ও অলৌকিক করে তোলা হয়েছে। কোনো আধুনিক ঐতিহাসিক এটিকে নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নেন না।

ইসলামের প্রথম ৬ বছরে অনুসারী ছিল মাত্র ৪০ জন, ১০ বছরে ১০০-র মতো, ১৩ বছরে বড়জোর ৩০০! এই অনুসারী কারা ছিল? খাদিজা প্রমুখ কিছু পেশাদার মানুষ ছাড়া বেশিরভাগই ছিল ভ্যাগাবন্ড, মরু ডাকাত। যাদের মূল পেশাই ছিল চুরি, ডাকাতি, বাণিজ্য কাফেলায় লুট। এসবের আকর্ষণেই মূলত তারা ইসলামে ভিড়েছিল। উমর ইসলামের মহান সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল? সে মূলত ডাকাতি এবং জেহাদ নামের মানবতাবিরোধী যুদ্ধ করে গনিমতের মাল হিসেবে পাওয়া নারী ভোগ, লুণ্ঠিত সম্পদ প্রাপ্তি – এসবের আশায় ইসলামে ভিড়েছিল। এটাই বাস্তবতা।

নবী মুহাম্মদের দলে ভিড়ে সাহাবিরা যখন বলা শুরু করল, তাদের যে সম্পদে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখিয়ে ইসলামে ভেড়ানো হয়েছিল, সেটা কোথায়? তখন নবী মোহাম্মদ জানান, তার জীবিকা তার তরবারির নিচে। তরবারি দিয়েই তাদের পেট চালাতে হবে। এই তরবারি মানে জিহাদের নামে বিধর্মী গোত্রদের ওপর হামলা ও দূরের কোনো জনপদগামী বাণিজ্য কাফেলায় হামলা চালিয়ে লুটপাট। এখানে সহিহ বুখারির লিংক দেওয়া আছে, ১০৮ নম্বর পৃষ্ঠায় (পিডিএফ ১০৯ নম্বর পৃষ্ঠা) দেখুন, ৮৮ নম্বর পয়েন্ট। ত্যানা প্যাঁচানো শুরুর আগে নিচের ১ নম্বর ফুটনোট দেখে নেবেন, সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে নবী মোহাম্মদের জীবিকার উৎস ছিল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গনিমতের মাল। এই লুটপাটলব্ধ সম্পদ নাকি তাদের জন্য ছিল আল্লাহর দেওয়া উপহার! ডাকাতি, দস্যুতাই ছিল নবী মুহাম্মদ ও তার প্রাথমিক টিমের মূল পেশা। যদি না মানেন, তবে বলে যান তাদের পেশা কী ছিল! 

৩. ফাতিমাকে “প্রথম মিলন” বলা

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস (রা.) এবং অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণিত রয়েছে – একবার এক ব্যক্তি নবীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কেয়ামত কখন হবে?” তখন তিনি একটি ছোট ছেলেকে দেখে বলেন (যার নাম ছিল মালেক ইবনে আনাস বা অন্য কোনো বালক): “যদি এই বালকটি বেঁচে থাকে, তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তোমাদের ওপর কেয়ামত এসে যাবে।” কিন্তু বাস্তবে নবী মুহাম্মদ ও উক্ত বালক মারা যাওয়ার পরে ১৪০০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আমরা যে এখন ধর্মের সমালোচনা করি, অনেকে মনে করেন এগুলো কেয়ামতের পূর্ব লক্ষন, নারীরা কম কাপড় পরলেও সেটা কেয়ামতের লক্ষন। এ পর্যন্ত শত শত ইমাম মাহদী দাবীদার লোক এসেছে দুনিয়ায়, কারন নবী বলে গেছ ইমাম মাহদী আসবেন। এমন অসংখ্য ননসেন্স ভবিষ্যৎ কথা ধর্মগুলোতে বলা থাকে। তবে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শন, অভিজ্ঞতা অনেক কিছু অনুমান করতে পারে, বিশেষ করে নিজের ও পরিবারের লোকদের বিষয়ে।

বুখারি ও মুসলিমে আয়েশার বর্ণনাঃ মুহাম্মদ অসুস্থ অবস্থায় ফাতিমাকে গোপনে বলেন তিনি এই অসুখেই মারা যাবেন (ফাতিমা কাঁদেন), তারপর বলেন তার পরিবারের মধ্যে সেই প্রথম তার সাথে মিলিত হবে (ফাতিমা হাসেন)। ফাতিমা প্রকৃতপক্ষে কয়েক মাস (সাধারণত ৬ মাস) পর মারা যান।

সমালোচনামূলক ব্যাখ্যাঃ
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে হলেও সমস্যা আছে।

  • ফাতিমা তরুণী (১৮-২৭ বছর), বাবার মৃত্যুতে গভীর শোকে ভুগছিলেন। শিয়া সূত্রে আঘাত/গর্ভপাতের কথা আছে, সুন্নি সূত্রে শোকের কারণে মৃত্যু। যেকোনোভাবেই, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের তরুণী সদস্যের দ্রুত মৃত্যু অস্বাভাবিক নয় (শোক, পুষ্টিহীনতা, সংক্রমণ, প্রসবজনিত জটিলতা – ৭ম শতাব্দীর আরবে সাধারণ)।
  • “প্রথম” বলাটা অস্পষ্ট এবং পরে পূরণ হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা (স্ত্রীরা, আলী, হাসান-হুসাইন) অনেক পরে মারা যান – তাই যেকোনো তরুণী মারা গেলেই “প্রথম” হয়ে যায়।
  • হাদিসগুলো মুহাম্মদের মৃত্যুর অনেক পরে সংকলিত। এগুলোতে প্রায়শই পরবর্তী রাজনৈতিক/ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকে (ফাতিমার মর্যাদা বাড়ানো) – Retrospective Prediction বলতে পারেন। কুরআনে এমন কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী নেই।

ইতিহাস লেখার সময় (যা মৃত্যুর অনেক পরে ঘটেছে) বর্ণনাকারীরা বিষয়টিকে অলৌকিক রূপ দিতে “নবী আগেই বলে গিয়েছিলেন” এই narrative যুক্ত করেন। ইতিহাসে এটিকে বলা হয় Post-hoc ergo propter hoc (ঘটনার পরে কারণ নির্ধারণ)।

সামগ্রিক সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ

এই ধরনের ঘটনা প্রায় সব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদের জীবনীতে পাওয়া যায় – যিশু, বুদ্ধ, বা অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও “শেষ সময় জানা”, “কাউকে আগে থেকে চিনে নেওয়া”, “মৃত্যুর পর কে আগে আসবে” ইত্যাদি। এগুলো সাধারণতঃ

  • পরবর্তী প্রজন্মের দ্বারা নির্মিত বা অতিরঞ্জিত (hagiography)।
  • অস্পষ্ট বা শর্তসাপেক্ষ কথা যা পরে ঘটনা ঘটলে “পূরণ” হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
  • মানবিক অনুমান, রাজনৈতিক সুবিধা বা সম্প্রদায়ের আবেগীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
  • সমসাময়িক নিরপেক্ষ সূত্রে (অ-মুসলিম) এগুলোর কোনো সমর্থন নেই। প্রাথমিক ইসলামী উৎসগুলোও শতাব্দী পরে লেখা এবং বিশ্বাসীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

মুক্তচিন্তার দৃষ্টিতে এগুলো “অলৌকিক” নয় – বরং ধর্মীয় বর্ণনার সাধারণ কৌশল। মুহাম্মদ কূটিকৌশলে পারদর্শী একজন যুদ্ধবাজ সফল রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতা ছিলেন যিনি আরব উপদ্বীপে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। তার জীবনীতে অনেক বাস্তব ঘটনা আছে (যুদ্ধ, চুক্তি, অমানবিকতা, সামাজিক সংস্কার, কুসংস্কার, জিঘাংসা, প্রতিহিংসা)। কিন্তু “আগে থেকে জানা” বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণীর দাবিগুলো ঐতিহাসিক যাচাইয়ে টিকে না। এগুলো বিশ্বাসীদের জন্য আবেগীয় মূল্য রাখে, কিন্তু সমালোচনামূলক ইতিহাসে এগুলোকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।

তথ্যগুলো ১০০% অথেন্টিক নয় – অনেকটা পরবর্তীকালের নির্মাণ। মুক্তচিন্তায় কনফিউশান আসা স্বাভাবিক, কারণ ধর্মীয় বর্ণনা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক থাকে। প্রথম চিন্তা করতে হবে নিজে, আসলেই এগুলো সম্ভব কিনা! এরপর অন্য সোর্স থেকে যাচাই, যদিও ইসলামের নিজস্ব বইগুলো ছাড়া মুহাম্মদকে জানার কোন নিরপেক্ষ সোর্স নেই। মুহাম্মদ যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ জানতো তবে এটাও জানতো – মাংস খেয়ে বিষক্রিয়ার তীব্র যন্ত্রনায় ভুগে উনি মারা যাবেন – তার লাশ দিনের পর দিন ফেলে রেখে তার সাহাবীরা খেলাফতের খলিফা কে হবে এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি করবে – তাহলে সবার আগে বলে যেতো, তার লাশ পঁচে গন্ধ বের হওয়ার আগেই যেনো তাকে দাফন করা হয়।

Related Posts

Bengali Women and Beauty

Ayisha and Arpita: A Story of Free Expression and Honesty Between Two Sisters, One Muslim and One Hindu

Ayisha and Arpita’s parents had dated for several years before marrying under Bangladesh’s Special MarriageRead More

Bengali Women and Beauty

আয়িশা ও অর্পিতা – মুসলিম ও হিন্দু দুই বোনের মুক্তবাক ও সততার গল্প

আয়িশা ও অর্পিতার বাবা-মা কয়েক বছর প্রেম করে বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করেছিলেন। কেউRead More

Operation Thunderbolt and an Islamic Murder

Operation Entebbe – the story of one night, and the Islamic execution suffered by Nazrul Islam and Sweety Akter

What can a state do to save the lives of its citizens abroad? Are thereRead More

Comments are Closed