
Rape and Women’s Clothing
বাংলাদেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো এখনো ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করে
যে বলে ধর্ষণ হয় নারীর পোশাকের দোষে
চোখ বুঝে সজোরে মারো লাথি তার অন্ডকোষে
একবার এক কবি এভাবে বলেছিলেন। তবে কেউ পোশাকের দোষ দিলেই তার অন্ডকোষে লাথি দেয়া যাবে না যদিও তারা সবাই সম্মিলিতভাবে ধর্ষণের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে। বাইরের দেশে বাসে, ট্রেনে, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে কত মেয়ে শরীরের বেশিরভাগ অংশ খুলে রাখে। দেখা যায় তাদের পাশেই বসে থাকে তাগড়া এক জোয়ান পুরুষ। কতজন আর সেই মেয়েদের শরীর দেখে বেড়ায়? সমপ্রেমী ছাড়া একজন পুরুষের অন্য এক নারীর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হবে সেটা স্বাভাবিক, তাই বলে নিজেকে যদি কন্ট্রোলে না রাখতে পারে তাহলে তাদের পাবলিক প্লেসে ছেড়ে দিয়ে না রেখে জেলে ভরে রাখাই যুক্তিযুক্ত।
বাংলাদেশের ত্যানাবাজ মুমিনরা মনে করে নারীর শরীর দেখে পুরুষেরা উত্তেজনায় অস্থির হয়ে যায়। পশ্চিমা দেশগুলোতে এতো বেশি করাকরির মধ্যে থাকে মানুষ যে মানুষের চরিত্র বলে কিছু নেই! এজন্য দেখবেন – আপনি মহাকাশ নিয়ে কথা বলবেন? সেখানে একজন মুমিন ভাই কমেন্ট করে দিবে – পশ্চিমারা সারাদিন ওপেন সেক্স করে – হ্যান, ত্যান …। রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পোস্ট হলেও এমন কমেন্ট পাবেন। শিক্ষা সম্পর্কিত পোস্ট? সেখানেও পাবেন। আপনি যেই পোস্টই দেন, তারা এটা নিয়ে আসবেই!
এগুলো তাদের প্রাত্যহিক জীবনের ফ্রাস্ট্রেশনের ফল। যখন দেখে তারা সবচেয়ে স্মার্ট মানুষটিকে নিজের জীবনে ডিজার্ভ করে না তখন তারা কল্পনায় ধরে নেয় – এই দুনিয়া তো দুইদিনের, এখানে তারা আসছে পরীক্ষা দিতে, মরার পর অনন্ত জীবনে তারা স্বর্গ পাবে, সেখানে শত শত সুন্দরী হুর পরী, গেলমান পাবে, খেজুর বাগান দিয়ে হাঁটবে আর হুরেরা ল্যাংটা হয়ে তাকে শোয়ার জন্য আহবান জানাবে। এই কল্পিত স্বপ্নের ঘোরে তারা ধরে নেয় যারা মরার পর অনন্তকাল নরকের আগুনে পুড়বে, তারা এখন এই দুনিয়ায় স্বর্গসুখে আছে। তাদের কল্পনায় ভাসে এয়ারপোর্টে নেমে বের হয়ে তারা দেখবে – পশ্চিমা দেশে রাস্তার মোড়ে মোড়ে সুশ্রী, অনিন্দ্য সুন্দরী যুবতীরা অর্ধ উলঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের মতো কেউ পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে তারা ধরে নিয়ে টুপ করে ঘরে ঢোকাবে, এরপর তার সঙ্গে শুয়ে বিদায় করবে। সকাল বিকাল রাত তারা শুধু করাকরির মধ্যেই থাকবে।
এই ফ্রাস্ট্রেশনের বহিঃপ্রকাশ তারা দেখায় পার্কে, হোটেলে, ভ্যালেন্টাইন ডে’তে প্রেমিক প্রেমিকা জুটিকে মব করে নাজেহাল করে। তাদের ফ্রাস্ট্রেশানও কিছুটা উপশম হয়, কিছু ইনকামও হয়। মাঝখান দিয়ে পশ্চিমা দুনিয়াকে গালিও দেয় ফ্রিতে – পশ্চিমা ওপেন সেক্স সংস্কৃতি এখানে চলবে না!
আমি তো দেখি পশ্চিমা দেশের নাগরিকেরাই বরং করাকরির জন্য এতো সময় পায় না। সেখানে জীবন চালানোর ব্যায় এতো বেশী যে সকাল-রাত পরিশ্রম করেও কুলানো যায় না। ক্লান্ত শরীরে করাকরির সুযোগটাই কোথায় এতো সেখানে? বাংলাদেশের অনেক মানুষ তো সারাদিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটায় আড্ডা দিয়ে আর পরচর্চা করে, তাদের অফুরন্ত সময়। কিন্তু সেক্স যে একটা আর্ট, সেটা যতোটা না শারীরিক, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক – সেই জ্ঞানটুকুই এদের কতজনের থাকে? শুনি তো অধিকাংশ নারী তাদের পুরুষদের থেকে অর্গাজমই পায় না।
পশ্চিমা অনেক দেশে নর-নারী একসঙ্গে থাকলে সে স্বামী-স্ত্রী বা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড যাই হোক, কিছু নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে তাদের সম্মিলিত সম্পদের ভাগ দুইজনেরই প্রাপ্য হয়। মনে আছে বিশ্বের একদা শীর্ষ ধনী বিল গেটস যখন তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছিল তখন স্ত্রীকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছিল? সেজন্য পশ্চিমা দেশে পার্টনারশীপ মেইনটেইন করা অনেক কঠিন, অনেক দায়বদ্ধতা থাকে সেখানে। অনেকে একা থাকে, তবুও পার্টনার নেয় না। বাংলাদেশের মতো রাস্তাঘাটে, হোটেলে সেক্স কিনতেও পাওয়া যায় না।
পশ্চিমা দেশে যদি নারী, সেক্স এগুলো এতো সহজলভ্য হতো তাহলে বাঙালি ছেলে-মেয়েরা যারা সেখানে কাজের জন্য যায় বা শিক্ষার জন্য যায় তাদের অধিকাংশ আবার বিয়ের জন্য বাংলাদেশে পাত্র-পাত্রী খুঁজতে যেতো না। এটাও স্বাভাবিক, জাতি, গায়ের রঙ এসবের ভিতরেই মানুষ তার পার্টনার খোঁজে। দুই চারটা ব্যতিক্রম বাদে মানুষ তার নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, বর্ণের পার্টনারের দিকেই আকর্ষণ অনুভব করে জেনেটিক্যালি। কিন্তু তারা সেটাকে নাম দেয় ইসলামী মূল্যবোধ না থাকায় তারা পশ্চিমা নাগরিকদের বিয়ে করে না। এটা স্বীকার করে না – তারা পশ্চিমা মেয়েদের কাছে পাত্তাই পায় না।
বাংলাদেশে অনেক হোটেলে, বাড়িতে যতো বিয়ে বহির্ভূত প্রতারনাপূর্ণ সেক্স হয় পশ্চিমা দুনিয়ায় সেই পরিমান হয় না। সেখানে পার্টনারের সঙ্গে প্রতারনার তেমন সুযোগ নেই। দুইজনের মিল না হলে দূরে সরে যায়, কিন্তু পার্টনারশীপ বহাল থাকা অবস্থায় অন্যের সঙ্গে প্রতারনাপূর্ণ সম্পর্ক হয় না বললেই চলে। সেখানে কে কার সঙ্গে শোবে এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার, জোর জবরদস্থি ও প্রতারনা না করলেই হলো। নিজের পার্টনারকে সম্মতি ছাড়া জোর করে শুতে বাধ্য করলেও সেটা ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন হিসাবে গণ্য হয়। রাস্তাঘাটে কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গ ভঙ্গি করলেও সেটা যৌন নিপীড়নের ক্রাইম হয়, এমনকি আপনার তাকানো যদি কোন খারাপ ইঙ্গিত মনে হয় আপনি জেলে চলে যেতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ইভ টিজিং সেখানে দেখা যায় না এজন্য। মাঝ রাতে একাকী এক নগ্ন নারী রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ তাকে ছূঁয়ে দেখে না। কোন কর্মজীবী নারী রাতে একা রাস্তা চলতে ভয় পায় না। ঢাকায় চন্দ্রিমা উদ্যানের রাস্তায় কোন কর্মজীবী নারী একা রাত ৮ টায় হেঁটে বাড়িতে ফিরতে গেলে তাকে ৫ জন টাকা সেঁধে নিজ বাড়িতে নিতে চাইবে। আমার এক বন্ধু আছে পুলিশ অফিসার, ওর সঙ্গে আগে মাঝ রাতে ঢাকার রাস্তা দেখতে বের হতাম, মানুষের কর্মকান্ড দেখে পর্যবেক্ষন করা আমার খুবই আগ্রহের একটা বিষয়। এতো মুমিনদের দেশে রাতের অবস্থা কী হয়, আমি জানি। রাস্তার পাশে কাপড়ের মধ্যে ঢোকার জন্য কত মুমিন ভাইকে লাইন ধরে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখেছি।
Related Posts

Is Bangladesh, with 90% Muslims, better than the so‑called free‑sex countries?
Bangu male believers think — and even some women — that the Western world meansRead More

তথাকথিত ফ্রি সেক্সের দেশের চেয়ে ৯০% মুসলমানের বাংলাদেশ কি ভাল?
বাঙ্গু পুরুষ মুমিনদের ধারনা, এমনকি কিছু নারীরও যে – পশ্চিমা দুনিয়া মানে ফ্রি সেক্স, সেখানেRead More

People’s Arabic names are not the property of Allah or Muhammad. Stop demanding that others change their names
One fine morning you log into Facebook and see that everyone—from Mokhles, the tea sellerRead More

Comments are Closed