Myth
Qur'anic Myth

Qur'anic Myth

বিজ্ঞানীরা কি কোরআন পড়েন, আইনস্টাইন পড়তেন? মোল্লাদের দাবী কতটুকু সঠিক?

বাঙ্গু মোল্লা খামোখা ডক্টর এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী দাবী করেন, আইনস্টাইন (তার উচ্চারনে আইনোস্টাইন) সবচেয়ে বেশি কোরআন শরীফ পড়তেন, মৃত্যুর পর তার বাড়িতে সবার উপরে পাওয়া গেছে কোরআন শরীফ। এখানে ভিডিও পাবেন।

অথচ বাস্তবতা হলো, আইনস্টাইন ছিলেন ইহুদী বংশের, ইহুদি সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর টান ও সহানুভূতি ছিল, কিন্তু তিনি ইহুদি ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনা মেনে চলতেন না, তিনি এমন কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না যিনি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, মানুষের প্রার্থনা শোনেন বা কাউকে পুরস্কৃত ও শাস্তি দেন। তিনি এই ধরণের ধারণাকে “শিশুসুলভ” (Childish) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আইনস্টাইন নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি ডাচ দার্শনিক বারুখ স্পিনোজার ঈশ্বরে বিশ্বাস করি – যিনি এই মহাবিশ্বের নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং সুসংহত সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করেন।” অর্থাৎ, মহাবিশ্বের পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম এবং এর ভেতরের শৃঙ্খলাকেই তিনি এক ধরণের অলৌকিকতা বা ঈশ্বর ভাবতেন। তিনি নিজেকে পুরোপুরি নাস্তিক (Atheist) বলতেন না, কারণ তিনি মনে করতেন মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্য মানুষের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তাই তিনি নিজেকে “অজ্ঞেয়বাদী” বা এক ধরণের “মহাজাগতিক ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন অধার্মিক” (Religious nonbeliever) বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। কোরআন নিয়ে তার কোন আগ্রহই ছিলো না, জীবনে হয়তো কখনো স্পর্শ করেও দেখেননি, সেই প্রয়োজনই হয়নি।

“I do not believe in a personal God and I have never denied this but have expressed it clearly. If something is in me which can be called religious then it is the unbounded admiration for the structure of the world so far as our science can reveal it.”

এগুলো আইনস্টাইনের কথা, উনি নিজে বলেন একরকম আর বাঙ্গু মোল্লারা বলেন অন্যরকম, সবাই আবার সামনে বসে বলে ‘আল্লাহু আকবর!’

আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর আমেরিকার প্রিন্সটন হাসপাতালে তার ঘর এবং অফিস যেভাবে ছিল, সেগুলোর ছবি ও তালিকা রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে কোরআনের কোনো অস্তিত্ব বা উল্লেখ ছিল না।

আইনস্টাইন ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল নিউ জার্সির প্রিন্সটন হাসপাতালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ‘লাইফ’ (LIFE) ম্যাগাজিনের বিখ্যাত আলোকচিত্রী রালফ মোর্স (Ralph Morse) প্রিন্সটনে অবস্থিত আইনস্টাইনের ব্যক্তিগত অফিসে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তিনি সেখানে আইনস্টাইনের টেবিল এবং ঘরের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ছবি তোলেন – ঠিক যেভাবে আইনস্টাইন তাঁর শেষ মুহূর্তে ওগুলো রেখে গিয়েছিলেন।

Einstein's Desk 1
Albert Einstein’s office Ñ just as the Nobel Prize-winning physicist left it Ñ taken mere hours after Einstein died, Princeton, New Jersey, April 1955.

ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, তাঁর টেবিলটি ছিল অত্যন্ত অগোছালো। সেখানে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক জার্নাল, গণিতের খসড়া কাগজ, তাঁর ধূমপানের পাইপ, তামাকের কৌটা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্ল্যাকবোর্ডে তাঁর শেষ গবেষণার (ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি) কিছু সমীকরণ লেখা ছিল। সেখানে কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ বা কোরআন শরীফের অস্তিত্ব ছিল না।

Einstein's Desk 2
Not published in LIFE. Albert Einstein’s papers, pipe, ashtray and other personal belongings in his Princeton office, April 18, 1955.

আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর তাঁর যাবতীয় ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, বইয়ের তালিকা, ডায়েরি এবং নথিপত্র জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির (Hebrew University of Jerusalem) “Albert Einstein Archives”-এ সমর্পণ করা হয়। তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (alberteinstein.info) আইনস্টাইনের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে কী কী বই ছিল, তাঁর সম্পূর্ণ ক্যাটালগ বা তালিকা ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত আছে। আমেরিকান ফিজিক্স ইনস্টিটিউট এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস যৌথভাবে “The Collected Papers of Albert Einstein” নামে তাঁর জীবনের প্রতিটি ডকুমেন্টের তালিকা প্রকাশ করেছে, যা অনলাইনে উন্মুক্ত। আপনারাও দেখতে পারেন সেগুলো। সেখানে কোরআন – ফোরান কিছুই নেই।

এখন বলেন, আব্বাসীদের মতো এই সমস্ত টাউট মোল্লারা এসব আজগুবি তথ্য কই পায়? এরে আবার লোকজন চাঁন্দা তুলে ৫০০০০ টাকা প্রতি ঘন্টা পেমেন্ট করে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে যায়, তার কথা শোনার জন্য। এরা বাংলাদেশে বিজ্ঞান প্রচার করে! এর চেয়ে দূর্ভাগ্যজনক ব্যাপার একটি জাতির জন্য আর কি হতে পারে? এই সমস্ত ভিডিও বক্তব্য স্রেফ সাধারন না, এগুলো লক্ষ লক্ষ মূর্খ উন্মাদ ইসলামী জঞ্জাল মস্তিষ্ক উৎপাদন করে। তারাই তৌহিদী জনতা, মব বাহিনী – যুক্তি, বুদ্ধি, বিজ্ঞান, কমন সেন্সের বালাই নেই তাদের মাথায়।

Related Posts

Islam is a Cult

The Iranian court sentenced them to death solely because they became Christians!

2009. Two young Iranian women, Marziyeh Amirizadeh and Maryam Rostampour, were sentenced to death byRead More

Islam is a Cult

শুধুমাত্র খ্রিস্টান হওয়ার কারনে ইরানের আদালত তাদের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছিল!

২০০৯ সাল। ইরানের দুই তরুণী মারজিয়েহ আমিরিজাদে ও মরিয়ম রোস্তামপুরের বিরুদ্ধে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার রায়Read More

What happened on the night of Miraj?

Spending the night in Umm Hani’s house and then meeting Allah in the heavens – he named it Mi’raj

Mi’raj is a central event in Islamic belief. On the night of Mi’raj, the ProphetRead More

Comments are Closed