
Prevent suicide
আত্মহত্যাকে সহানুভূতি জানানোটা ঠিক নয়, সবার জীবন হোক নিরাপদ ও অনন্দময়
একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষের জীবনে আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণই থাকতে পারে না। আত্মহত্যাকে সমর্থন বা সহানুভূতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। যিনি আত্মহত্যা করেন, তাঁর জীবনে যত সাফল্যই থাকুক, তিনি মানুষের আদর্শ হতে পারেন না। বাংলাদেশে মানুষ কত বিচিত্র কারণে আত্মহত্যা করে—প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, বাবা–মায়ের বকুনি খেয়ে, সঙ্গীর পরকীয়ার কারণে, সঙ্গীর অবহেলার কারণে, অরক্ষিত যৌন মিলনের ফলে গর্ভধারণ হয়ে গেলে, কৃষিতে সেচের পানি না পেয়ে, পরীক্ষায় খারাপ ফল করে, চাকরি না পেয়ে, ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে, ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে—এমন ১০০১টা কারণ খুঁজে পাবেন আপনি। আবার অনেকে শুধু নিজে নয়, পরিবারের সবাইকে নিয়ে, এমনকি সদ্যজাত শিশুসহ সবাইকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করে; অনেকে নিজের শিশুকে অথৈ সাগরে ভাসিয়ে রেখে নিজে আত্মহত্যা করে।
সম্প্রতি ইকরা নামের এক নারীর আত্মহত্যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সমবেদনা দেখা যাচ্ছে। তাঁর স্বামী নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, যিনি আবার নিজের নাম রেখেছেন জাহের আলভী, একজন অভিনেতা। তাঁর স্বামীর সঙ্গে নাকি গত তিন বছর ধরেই সুস্থ সম্পর্ক ছিল না। এমন টক্সিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তিত্ববান নারীর পক্ষেই সম্ভব নয়। আর জনাব আলভীর মতো তৃতীয় শ্রেণির অভিনেতা ও ব্যক্তিত্বহীন একজন মানুষের প্রেমে কেউ পড়তে পারে, তার জন্য নিজের জীবন দিতে পারে—এটাও হাস্যকর ব্যাপার! এই আলভী মাত্র দেড় বছর আগে গণহত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। ইকরা নামের নারী এমন একজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য নিজের শিশুকে বঞ্চিত করে আত্মহত্যা করবেন—সেটা কোনো বিচারেই তাঁকে আদর্শবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না।
আত্মহত্যাকে সমাজে ও ধর্মে মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেউ যদি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়ে থাকে, তবে সেটা মারাত্মক অপরাধ, তার শাস্তি প্রাপ্য। কিন্তু কারও ওপর অভিমান করে, অবহেলা পেয়ে, বিশ্বাসভঙ্গের কারণে আত্মহত্যা করাটা নিছক বোকামি। যে মানুষ বিশ্বাসঘাতক, যার কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ নেই, তার জন্য নিজের জীবন কেড়ে নেওয়া মানে সেই মানুষটির খারাপ গুণগুলোকেই বরং ছাড় দেওয়া হয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নারীরা সাধারণত এমন অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করে। সামাজিকভাবে নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হয় না, সেজন্য তাদের মনোজগতে পুরুষের ওপর এক ধরনের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। পুরুষের ওপর এই একমাত্র নির্ভরশীলতা যে সুস্থ কোনো বিষয় নয়, সমাজ সেটা শিখতে দেয় না। নারীকেও শিখতে হবে যে তারা একা চলতে পারে, তারা আত্মসম্মান নিয়ে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে জীবনে একদা অভিশাপ হয়ে আসা প্রতারক পুরুষটির চেয়ে ভালোভাবে চলতে পারে—এই দীক্ষা আমাদের নারীদের দিতে হবে।
আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে এই মেয়েটি—ছবিতে যাকে দেখছেন—সাদিয়া জাহান প্রভার মতো সামাজিকভাবে সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি খুব কম মেয়েই ফেস করেছে। আপনারা জানেন, তাঁর মিডিয়া সংশ্লিষ্টতার কারণে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ভিডিও ফাঁস হলে সেটা সারাদেশের আলোচিত–সমালোচিত বিষয় হয়ে যায়। তাঁর প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতক সাবেক প্রেমিককে কেউ কিন্তু কাঠগড়ায় দাঁড় করায়নি। নারী হওয়ার কারণে প্রভাকেই যত ঝড় মাথায় নিতে হয়। তিনি হয়তো সাময়িকভাবে একটু ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর অপূর্বর সঙ্গে ডিভোর্স! এতকিছুর পরেও তিনি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন, নিজের পায়েই দাঁড়িয়েছেন। আজ তাঁর দৈনন্দিন জীবন দেখলে, তাঁর হাসিমাখা অভিব্যক্তি দেখলে কে বলবে তিনি একসময় এমন ভয়ংকর সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন? আমার মনে হয়, যারা আত্মহত্যা করতে চান, তাদের নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে সেই পথ থেকে ফিরে আসার জন্য প্রভা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারেন; অনুপ্রেরণা নিতে পারেন তাঁরা প্রভার থেকে।
কত মানুষ কত কঠিন রোগ নিয়ে বেঁচে থাকে। কতজনকে ডাক্তার আগেই বলে দেন—এতদিন আর বাঁচতে পারবেন না। এরপরও আশা নিয়ে তারা যুদ্ধ করে যে ডাক্তারের কথা ভুল হবে। কত মানুষ অনেক অঙ্গ না নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। একজন জন্মান্ধ মানুষ দুনিয়ার কিছুই দেখার ভাগ্য নিয়ে আসে না, একজন বধির মানুষ দুনিয়ার কোনো সুমধুর সুর শোনে না। একজন বোবা মানুষ তার কণ্ঠ দিয়ে অন্যকে মোহিত করতে পারে না। দুনিয়ায় কত মানুষ দুর্ঘটনায় বা রোগে হাত–পা হারিয়ে ফেলে। তারা কিন্তু এরপরও বেঁচে থাকতে চায়।
মানুষ এক সেকেন্ড সময়ও পৃথিবীর অক্সিজেন নেওয়ার জন্য, শিশুর হাসিমাখা মুখ দেখার জন্য, সন্তানের সাফল্যের গল্প শোনার জন্য, প্রিয়জনের সুখের জন্য শত সংগ্রাম করে। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে দেখবেন, কত মানুষ এক মিনিট সময় দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য কাতরাচ্ছে। সদ্যজাত বা নিষ্পাপ কত শিশু এনআইসিইউতে কঠিন সংগ্রাম করছে পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। দুর্ঘটনায় শরীরের অর্ধেক হারিয়ে বা আগুনে ঝলসে গিয়েও মানুষ বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে। কনকনে শীতের রাতেও মানুষ রাস্তায় ঘুমায়, পেটের ক্ষুধায় ডাস্টবিনের খাবার খায় কত মানুষ! সবার একটাই লক্ষ্য, একটাই যুদ্ধ—এই পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। সেখানে যারা নিজেকে নিজেই হত্যা করে, তারা আসলেই অনেক বড় অপরাধী।
সভ্য সমাজে কেউ আত্মহত্যার হুমকি দিলেও সেটা অপরাধ। কেউ যদি বলে—এটা না হলে তার আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই—তাহলে তাকে জেলে ভরা হতে পারে। এটা একটা অপরাধ; সহানুভূতি তো দূরের কথা, তাদের ভাগ্যে জোটে আইনের শাস্তি। কারণ এটা এক ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং।
☘ আপনার পার্টনার প্রতারণা করেছে, পরকীয়া করেছে—সো হোয়াট? আপনি তাকে ছেড়ে নিজের মতো জীবন গড়ুন। কেউ প্রতিশ্রুত বিশ্বাস ভঙ্গ করলে তাকে প্রতারণার মামলায় শাস্তির মুখোমুখি করুন। তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বা সমাজের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজের জীবন শেষ করলে সেটা হবে একটি খুন। জীবনে এমন কিছু করে দেখান যেন সেই প্রতারক পার্টনার আপনার সফলতা দেখে একসময় অনুতাপ ও অনুশোচনায় নিজেই দগ্ধ হয়ে যায়। প্রেম ও সম্পর্কে সফলতার চেয়ে নিজের জীবন ও ব্যক্তিত্ব অনেক বড়।
☘ একাকীত্ব আত্মহত্যার কারণ হতে পারে না। কারণ বর্তমান চরম পুঁজিবাদী বিশ্বে প্রতিটি মানুষই একা, এবং কারো জন্যই অন্য কারো সময় নেই—এটাই স্বাভাবিক। বরং একাকীত্বের সুবিধা হচ্ছে—পরিবার–পরিজন বা আত্মীয়–স্বজনদের সবার ঝামেলা বা দায়িত্ব আপনার ঘাড়ে এসে পড়বে না, এবং আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের জীবন যাপন করতে পারবেন। একাকীত্বকে উপভোগ করতে শিখুন। একাকীত্ব অনেক সময় জীবনে অনেক সুযোগ তৈরি করে দেয়।
☘ অভাবে অনেকে আত্মহত্যা করেন। একজন মানুষের দরিদ্র হয়ে জন্মগ্রহণ করার দায় বা ভুল তার পিতা–মাতার, তবে দরিদ্র থেকেই মৃত্যু বরণ করার দায় তার নিজের। চেষ্টা করলে সৎপথেই দারিদ্র্যকে জয় করা যায়।
☘ লেনদেন নিয়ে ঝামেলা? বন্ধুরা টাকা–পয়সা নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে? বন্ধুবান্ধবকে টাকা–পয়সা ধার দেওয়া এক বিরাট বোকামি। সম্ভব হলে বন্ধু–বান্ধবকে টাকা–পয়সা বিনাশর্তে দিয়ে সাহায্য করুন, কিন্তু টাকা ধার দেবেন না। বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসা–বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে মেনে চলুন লিখিত চুক্তি আর যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ লজ্জা–শরমের ভয়ে কাউকে বিশ্বাস করে তার হাতে তুলে দেবেন না; দিতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দিন। তারপরও বন্ধু লক্ষ–লক্ষ টাকা মেরে দিয়েছে?
নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে বা মানসিকভাবে এতটাই ধনী বা সম্পদশালীতে পরিণত করুন, প্রতারিত হওয়ার পর যেন মনে হয়—আপনার সম্পদের সমুদ্র থেকে কেউ এক গ্লাস পানি খেয়ে গেল। তবে প্রতারককে আর দ্বিতীয়বার সুযোগ দেবেন না।
☘ বাংলাদেশে বা ভারতীয় উপমহাদেশে একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষকে বৃদ্ধ বলা হয়। এই সমাজকে লাথি মারুন। ষাটেই আসল তারুণ্য শুরু। এটা পার্টিতে যাওয়ার বয়স। শিল্পচর্চা, খেলাধুলা, নাচ–গান আর প্রেম করার বয়স। বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার বয়স। জীবনের সকল পরিশ্রমের ফল উপভোগ করার বয়স। বয়সের কারণে নিজেকে বৃদ্ধ ভাবলে প্রতিদিনই আপনি মরছেন। আপনি ষাট বছর বয়সে প্রেম করলে, লিভ–ইন করলে, বিয়ে করলে সমাজের মানুষ টিপ্পনি কাটবে, ফেসবুকে ট্রল করবে। হু কেয়ারস? আপনার মতো করে আপনাকে ভালো থাকতে হবে। সমাজ আপনার জন্য কী করে? তাদের টিপ্পনি–ট্রলে আপনার কী যায়–আসে? ষাট বছরের একজন মানুষের সঙ্গে বিশ বছরের কেউ স্বেচ্ছায়, সম্মতিতে বিয়ে করলেও সেটা তাদের ইচ্ছা, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার। অন্যরা কী বলছে সেদিকে তাকানোর দরকার নেই।
☘ সন্তানদের জন্য জীবনের সর্বস্ব দিয়ে দেবেন না কখনো। সন্তানের বয়স ১৮ বছর হয়ে গেলে তাকে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজ করে টাকা উপার্জনের জন্য উৎসাহিত করুন। কোনো কাজই ছোট নয়। নিজের কষ্টের উপার্জন দিয়ে সন্তানের দাবিমতো অপ্রয়োজনীয় গ্যাজেট কিনে দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে তার দোহাই দিয়ে মন খারাপ করবেন—সেটা ঠিক নয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়েরাও ১৮ বছর বয়স হওয়ার পরে রেস্টুরেন্টে কাজ করে নিজেরা অর্থ রোজগার করা শিখেছে। “এই কাজ করা যাবে না”, “এই পরিবার/বংশের ছেলে এই কাজ করলে মান থাকবে না”—এসব বলে সন্তানকে মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করবেন না। এসব কাজের উঁচু–নিচুর নোংরা মানসিকতার জন্য অনেকে তার কৌলিন্য ধরে রাখার কাজ করতে না পেরে বছরের পর বছর বেকার থেকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এভাবে সন্তান আপনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে; আপনি বৃদ্ধ বয়সে “এই করেছি, ঐ করেছি” বলতে পারবেন, কিন্তু নিজের অসহায়ত্ব দূর করতে পারবেন না।
☘ পরিবার–সমাজের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নির্ভরশীল হোন নিজের ওপর। ভাবতে শিখুন—দুনিয়ার সকল মানুষ আলাদা; কেউ অন্যের দায়িত্ব নিতেও পারে, নাও নিতে পারে, তবে নিতে বাধ্য নয়। এজন্য নিজের প্রয়োজনে সময়, অর্থ, সম্পদ সবটাই রাখুন; নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য করুন। বিদেশে অনেক বাবা–মা তাদের সন্তানদের শিশু সন্তানদের দেখাশোনার জন্য পারিশ্রমিক নেন। আপনি ভাবতে পারেন এটা অমানবিক বা বৈসদৃশ্য, কিন্তু তারা অনেক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে এই পর্যায়ে গেছে। একে অমানবিক ভাবার কোনো কারণ নেই।
☘ কল্পনা করুন, আপনি বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আপনার চারপাশে যারা আছে, কেউ আপনার সেই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশিক্ষিত নয়। আপনার চাহিদা–প্রয়োজন তারা বোঝে না। ব্যস্ত জীবনে আপনাকে দেওয়ার মতো সময়ও তাদের কম। সুতরাং মানসম্মত বৃদ্ধাশ্রম হতে পারে উত্তম বিকল্প, যেখানে আপনাকে দেখাশোনার জন্য আছে প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী। আপনি আপনার সমমনা, সমবয়সী বন্ধু–বান্ধবদের সঙ্গে মিশে আড্ডা দিতে পারবেন, হাসিখুশিতে থাকতে পারবেন। আপনার বৃদ্ধ বয়সেও ইচ্ছা হতে পারে একদিন হট মুভি দেখার, রসালো আড্ডা দেওয়ার—পারিবারিক পরিবেশে সেটা পাবেন না।
আমাদের দেশে অনেকে মনে করেন বৃদ্ধাশ্রম কনসেপ্ট খুব খারাপ। বাস্তবে তা নয়। মানসম্মত বৃদ্ধাশ্রম আমাদের দেশে আছে কিনা জানি না, তবে উন্নত দেশে যেগুলো আছে সেগুলো বৃদ্ধদের জন্য স্বর্গ বলা যায়। উন্নত বিশ্বের বৃদ্ধদের রাষ্ট্র ভাতা দেয়; সেই টাকায় তারা সুন্দর জীবন যাপন করতে পারেন। আপনি আপনার পরিবারে তাদের রাখতে চাইলেও তারা থাকবেন না। অনেকে থাইল্যান্ড, আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশে গিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তাদের শারীরিক চাহিদাও মেটায়। এটা হাসিঠাট্টার বিষয় নয়।
আপনাকে ভালো থাকতে হবে। সমাজের মানুষ কী বলবে—এ নিয়ে ভাবার চেয়ে বেশি জরুরি হলো অন্যের অধিকার খর্ব না করে নিজের ভালো থাকার পথ খুঁজে নেওয়া। সেফুদাকে দেখুন—একা একজন মানুষ, ভিনদেশে নিজের মতো করে ভালো থাকছেন। অনেকেই আছেন রাস্তায়, দোকানের আড্ডায়, একাকী বাসায়, কিংবা কোনো পাহাড় বেয়ে চলা পর্যটকের বেশে। আমরা যখন অন্যের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করি, তখন নিজের কাছে চাওয়ার মতো আর বিশেষ কিছু থাকে না। এরকম ইমোশনাল ডিপেন্ডেন্সি থেকে বের হতে পারা একটা সফলতা। এতে জীবনটা কিছুটা লাল রঙ হারাবে ঠিক, তবে অনেক কষ্ট থেকে বেঁচে যাবে; কিছুটা গোলাপি বা সবুজ নিজেই যুক্ত করে নেবেন। সুতরাং আবেগ খান, তবে আসক্ত হওয়াটা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
‘দৃষ্টিশক্তি থাকা, কিন্তু জীবনে লক্ষ্য না থাকা অন্ধত্বের চেয়েও খারাপ’—হেলেন কেলার।
চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা, ত্বক—মানুষের এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সবকটিই কি আপনার শরীরে সক্রিয়? ভালো করে দেখুন। এরপরও আপনি হতাশ? সফল হতে না পারার যন্ত্রণায় মন খারাপ করে বসে থাকেন? তাহলে একজন মানুষের গল্প শুনুন—যার এই পাঁচ ইন্দ্রিয়ের তিনটি কাজ করত না। তিনি ছিলেন অন্ধ, বধির ও বোবা। তিনি কি করেছিলেন জানেন? তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, লেকচারার, সমাজসেবক এবং একজন ভ্রমণকারী। তিনি চোখে দেখা, কানে শোনা এবং কথা বলার শক্তি হারান মাত্র ১৯ মাস বয়সে এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে। তিনিই ছিলেন পৃথিবীর প্রথম অন্ধ, বধির এবং বোবা মানুষ যিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তিনি ৪০ হাজার কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করে রেকর্ড করেছিলেন। তাঁর নাম হেলেন কেলার। হেলেন প্রায় ৯টি ভাষা জানতেন। গায়কের গলায় হাত রেখে গানের কথা বুঝতেন।
আর বর্তমানে আমাদের কথা চিন্তা করলে বিষয়টা কেমন হয়? কোনো কিছুর অভাব বা ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতার জন্য আমরা হাল ছেড়ে বসে থাকি। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়। কিন্তু একবার যদি আমরা হেলেন কেলারের কথা চিন্তা করি—তিনি হাজারও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এমন অনেক কিছু করে গেছেন যার জন্য মানুষ তাকে মনে রাখবে সারা জীবন। আপনার সাফল্যের জন্য প্রতিবন্ধকতাটা ঠিক কোথায়? সেটা কি আসলেই প্রতিবন্ধকতা, নাকি আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাবই আপনার মূল প্রতিবন্ধকতা? তাই আজ থেকেই আত্মবিনাশী আলসেমি, হতাশা পরিহার করে আত্মবিশ্বাসী জীবন গড়ার কথা ভাবুন। কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়!
Related Posts

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries
Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

হিজাব ইজ মাই চয়েস – এই বুলি সেক্যুলার দেশে যারা দাবী করেন তারা নিজেদের দেশে হিজাব পরতে বাধ্য করেন
ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া মঞ্চে পরিবেশনার অপরাধে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে। এইRead More

Attacks by “Tawhidi Janata” in Bangladesh and Obstruction of Minority Religious Practice
In Palashbari upazila of Gaibandha, local Sanatan (Hindu) devotees had taken the initiative to buildRead More

Comments are Closed