Bangladesh
Mob Mentality vs Honesty

Mob Mentality vs Honesty

বাংলাদেশে কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকারও খুব রিস্কি যদি সেখানে শব্দচয়নে কোন ধর্মীয় বিষয় থাকে

কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের এক বাংলা পত্রিকার শ্রদ্ধেয় সম্পাদকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। উনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক স্বনামধন্য গবেষক, কবি, লেখক সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাকে খোদার তূল্য বলে মন্তব্য করলেন। উনার জায়গায় উনি ঠিক আছেন, মানুষের কাছে কেউ ভগবানতুল্য তখনই হয় যখন তার অপরিসীম মহত্ত্ব থাকে। বাবা, মা বা অন্য কারো অবদান, ভালোবাসা, মহত্ত্ব কে দেখাতে গিয়ে কেউ যদি তাকে ভগবানের সঙ্গে তুলনা করেন তবে সেটাতে দোষ কি আছে? মীরাক্কেলের মীর একবার তার মা’কে ভগবান বলে অন্তর্জালের দূনিয়ায় তুমুল গালিগালাজের শিকার হয়েছিলেন। সেই গালিবাজদের বেশীরভাগই আবার বাংলাদেশের। “… খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর! … ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদচিহ্ন” – খোদার পশ্চাৎদেশ ছিদ্র করে মাথা দিয়ে শূল বের করতে চাওয়ার এই চরনগুলি লিখেও কবি নজরুল সবার কাছে পরম পূজনীয় আর একজন তার মা’কে ভগবানের সমতুল্য মনে করে হয় নিন্দিত! আপনারা তো জানেন, পাকিস্তানে “ইমরান খানকে নবীর মতোই ভালবাসি” বলার কারনে একজন ধার্মিক মুসলমানকেও শাতিমে রাসূল আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল।

ভারতে বসে কোন মানুষকে ভগবান বললে সেটা তেমন ব্যাপার হয়ে দেখা দেয় না কিন্তু বাংলাদেশে বসে আল্লাহ বা খোদা বললে তার কল্লা নিয়ে টনাটানি পড়ে যাবে। অথচ এই ভগবান, ঈশ্বরের নাম নিয়ে যারা প্রতিদিন শত শত অপকর্ম করছে তাদের জন্য এই ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের কোন শব্দ নেই। এখানে মানবতা, মনুষ্যত্ব, বিবেক, বিজ্ঞান, মানবাধিকার সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের ধর্ম। অন্য কথায় এখানে মানুষ, মনুষ্যত্ব আর মানবিকতার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো। কিন্তু এই ধর্ম কি পারে মানুষের বিবেক কে পরিশুদ্ধ করতে? মানুষের মানবতা জাগ্রত করতে? মানবাধিকার নিশ্চিত করতে? অন্তত ধর্মের যে প্রায় ৫২০০ বছরের ইতিহাস পাওয়া যায় সেখানে ব্যাপকভাবে এমন নজির নেই বললেই চলে। শিশুদের বরং সার্বজনীন নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, ভিন্নমত কে সম্মান প্রদান এগুলো শেখানোই বেশী জরুরী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান হবে সে শিক্ষা। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, জার্মানি এমন অনেক দেশে এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কোন ধর্ম নেই। এসব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশী বিনয়ী, সৎ, ভদ্র বলে পরিচিত। ঐ দেশগুলোতে অপরাধ প্রায় শূণ্যের কোঠায়। পথে দশ হাজার টাকা হারিয়ে গেলেও তা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ, দোকান খোলা রেখে গেলেও কেউ টাকা না দিয়ে কিনবে না – এমনটা ভাবা যায়। বেশি দূরে যেতে হবে না – বাংলাদেশের পাশে ভারতের মিজোরামেও রাস্তার ধারে এমন অনেক দোকানি ছাড়া দোকান আছে।

ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, যে যার মতো করে ধর্মীয় শিক্ষা নিবে, ধর্ম পালন করবে কোন ভয়-ভীতি, চাপ প্রয়োগ ছাড়াই। কিন্তু মানবতা, মনুষ্যত্ব, বিবেকবোধ, মানবাধিকার এগুলো সার্বজনীন। একজন নিধার্মিকের মানবিক বোধ, সততা একজন ধার্মিকের চেয়ে বেশী হতে পারে, আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি মানুষের মানবিক বোধ, সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারনা, শিশু অধিকার সনদ, ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঁধা প্রদান করে তবে সেই ধর্মের মতামতগুলো তো এই যুগে অচল হয়ে ধরা দেয়।

স্বার্থ আমাদের যে সব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে; যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম। এই মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম শেখার জন্য ও তা প্রয়োগের জন্য পৃথিবীতে অনেক গবেষণা হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্থ, সভ্য, শান্তিপূর্ণ দেশগুলো তার চর্চা করে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে অপরাধ, দূর্নীতি, অমানবিকতা, মনুষ্যত্বহীনতা এগুলো বেড়েই চলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, নিরক্ষরতা কোন কিছুই সে স্রোত রুখতে পারেনি। তার মানে বুঝতে হবে এখানে প্রবলভাবে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত সামাজিক ব্যবস্থা, শিশু শিক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাতেই গলদ।

এই (https://fb.watch/GW2Z0DhuJC/) লোকটি ৫ বার নামাজ পড়েন, অথচ একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতেও তার বিবেকে বাঁধে না। সাম্প্রতিক সময়ে আমার ব্যক্তিগত হয়রানি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি নামাজের সময় হলে যিনি মিটিং বাদ দিয়ে নামাজে চলে যান, নামাজ থেকে ফিরেই তার ঘুষের টাকাটা চেয়ে নেন নানান হয়রানি, অপমানের ভয় দেখিয়ে। যে কয়জন এই হয়রানির সিন্ডিকেটে জড়িত তাদের সবাই একই রকম। ‘হজ্ব করে এসে ভালো হবেন’ আবার এমনও বলেন প্রকাশ্যে। আমার এতদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি ‘সকল ধার্মিকই বদমাশ নয়, কিন্তু সকল বদমাশই ধার্মিক।’ প্রায় সবাই। আপনার আশপাশের চেনা পরিচিত সব বদমাশদের তালিকা করুন, দেখবেন তাদের প্রায় সবাই খুব ধার্মিক। ধর্মীয় শিক্ষা তাদের কোন পরিবর্তন করতে পারেনি।

সোস্যাল মিডিয়ার টাইমলাইনজুড়ে ঘুরে বেড়ায় মাদ্রাসাগুলোতে ছোট ছোট ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণের খবর। এর সঠিক পরিসংখ্যানও নেই কোথাও। বড় হুজুররা খাদ্যে ভেজাল মিশাতেও দ্বিধা করে না, জমি-সম্পদ আত্মসাতের সময়ও তাদের বিবেক কাঁপে না। ধর্মে তো নানান বাহানায় গোনাহ খাতা মাফ পাওয়ার সুযোগ আছে – এই সুযোগ এরা সবাই নিতে চায়। ঈমান থাকায় বিধর্মীদের মতো অনন্তকাল নরকের আগুণে পোড়ারও ভয় নেই তাদের। একটি স্কুলের প্রায় সব ছাত্র যদি ক্রমাগত ফেইল করতে থাকে তবে সমস্যা তো ঐ স্কুলেরই, এখানে ছাত্র খারাপ – স্কুল ভাল বলার সুযোগ নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষার নামে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার সেজন্য বৃহত্তর স্কেলে মানুষকে নৈতিক বানাতে পারে বলে কোথাও প্রমানিত হয়নি। অনেকেই মনে করেন, নৈতিকতা (Honesty, Compassion) মানুষের সহজাত এবং সামাজিক মূল্যবোধ থেকে আসে, যা ধর্মের সাথে কিছু ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক না হলেও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়।

Related Posts

Cinmoy vs Anayetullah

Chinmoy Krishna Prabhu or Enayetullah Abbasi?

From Bonn in Germany, I reached a local station to catch the last train toRead More

Cinmoy vs Anayetullah

চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু নাকি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?

জার্মানির বন থেকে বার্লিনে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে একটা লোকাল স্টেশনে পৌঁছে দেখি, ট্রেন ছাড়তেRead More

Are All Social Customs Beneficial?

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you

I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

Comments are Closed