
Killings carried out in the name of Islam
মুক্তমত প্রকাশের ‘অপরাধে(!)’ ইসলামের নামে ভারতের প্রথম হত্যাকান্ড ও রঙ্গিলা রাসূল সমাচার
মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি এমন একটা বিষয় যার কারনে জঙ্গি মনস্ক মুসলমানেরা যুগে যুগে প্রচুর মানুষকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী হত্যা করেছে নবীকে অসম্মান করার কারনে, শাতিমে রাসূল ট্যাগ দিয়ে। নবী মোহাম্মদই এই সূত্রপাত করে গেছিল, তাকে যারা নূন্যতম সমালোচনাও করতো এমন অনেককেই উনি লোক পাঠিয়ে হত্যা করেছিলেন। উনি এই নিয়মও করে যান যে উনার সামান্যতম অশ্রদ্ধা হয়, এমন কিছু বললেও সে শাতিমে রাসূল হয়ে যাবে, এবং তার আর ক্ষমা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, মুসলমানদের কর্তব্য তাকে হত্যা করা।
ভারতবর্ষে প্রথম হত্যাকান্ডঃ কলকাতা, ১৯২৪
ভারতবর্ষে লেখালিখির কারনে ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে প্রথম কোন হত্যাকান্ড ঘটে কলকাতায়, ১৯২৪ সালে। ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী সরে গেলেও ভারতের সাহিত্যিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী বরাবরই থেকে যায় কলকাতায়। তিনি কলকাতার একজন ছোট প্রকাশক ছিলেন, যিনি বিদেশি বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ করতেন, নাম নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
প্রকাশিত বইটি ছিল একটি ইংরেজি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ। মূল বইটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে লেখা একটি পশ্চিমা গবেষণামূলক কাজ। বইটিতে নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে কিছু সমালোচনামূলক মন্তব্য ছিল – যা নিয়ে মুসলিম সমাজের একটি অংশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, ধর্মান্ধ মোল্লারা তো বরাবরই নবীর সমালোচনায় উগ্র হয়ে উঠে। নবী মোহাম্মদও বলে গেছে তার সমালোচনাকারীকে হত্যা করতে। বইটি আসলে কী বলেছে, কতটা আপত্তিকর – এসব নিয়ে কোনো বিশদ আলোচনা তখন হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে জনমনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে একজন প্রকাশক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে হত্যা করে বসে।
বাংলা অঞ্চলে তথা সমগ্র ভারত বর্ষে লেখালিখির কারনে ও ধর্মীয় অনুভূতির নামে প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে যায় কলকাতায় ১৯২৪ সালে। হত্যাকারী ছিলেন এক পতিতালয়ের দালাল। একদিন তার এলাকার পাশ দিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল যাচ্ছিল। কৌতূহলবশত সে জানতে পারে, এক প্রকাশক এমন একটি বইয়ের অনুবাদ করেছেন যেখানে নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বইটি কী, আসলে কী লেখা আছে – এসব কিছুই সে জানত না। কিন্তু “ধর্ম অবমাননা” কথাটি শুনেই সে সুযোগ খুঁজে প্রকাশকের দোকানে যায় এবং ভদ্রবেশে তাকে হত্যা করে।
ধর্মীয় আচরণ কখনো পালন না করা এই ব্যক্তি রাতারাতি “ধর্মরক্ষক” হিসেবে প্রশংসিত হয়। আজকের বাংলাদেশে তার মতো অন্ধ অনুসারীর সংখ্যা লাখে লাখে – মডারেট মুসলিম, ইমাম, দোকানদার, শিক্ষক, ছাত্র, চাকুরে, ব্যবসায়ী, অপরাধী – সবাই ধর্মীয় অনুভূতির নামে এক হয়ে যায়। ১৯২০-এর দশকে ভারতবর্ষে ধর্মীয় পরিচয় রাজনীতির বড় উত্থান ঘটে। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছিল – বিশেষ করে প্রকাশনা, বক্তৃতা ও ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে।
লাহোর, ১৯২৯ হত্যাকান্ড ও জিন্নাহর ভন্ডামি
১৯২০-এর দশকে পাঞ্জাবে মুসলিম সম্প্রদায় ও হিন্দু আর্য সমাজের মধ্যে এক তীব্র ধর্মীয় বিরোধের জন্ম হয়। এর সূচনা ঘটে যখন কিছু মুসলিম লেখক একটি পুস্তিকা ছাপায়, যেখানে হিন্দুদের দেবী সীতাকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় আর্য সমাজের স্বামী দয়ানন্দের অনুসারী কৃষ্ণ প্রসাদ প্রতাব – ‘পণ্ডিত চামুপতি লাল’ নামে ছদ্মনামে – “রঙ্গিলা রাসুল” নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন। সেখানে তিনি নবী মুহাম্মদের অল্পবয়সী আয়েশাকে বিয়ে এবং তাঁর একাধিক বিবাহের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
এই বইটি ১৯২৩ সালে লাহোরের প্রকাশক রাজপাল ছাপান। বইটি বাজারে আসার পরপরই মুসলিম সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজপালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। প্রথম আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, এবং আপিলেও সেই রায় বহাল থাকে। শেষ পর্যন্ত রাজপাল হাইকোর্টে যান, এবং হাইকোর্ট রায় দেয় যে তাঁর কাজ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারার আওতায় অপরাধ নয়। এই রায় মুসলিম সমাজে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ১৯ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রীর ছেলে ইলমুদ্দিন ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল, ওয়াজির খান মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাওলানা আতাউল্লাহ শাহ বুখারীর উত্তেজনামূলক ভাষণ শোনে। ভাষণে নবীকে অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। ভাষণের প্রভাবে ইলমুদ্দিন এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কেনে এবং সেদিনই লাহোরের উর্দু বাজারে গিয়ে রাজপালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো – ইলমুদ্দিন নিজে কখনো বইটি পড়েই দেখেনি।
ইলমুদ্দিন এই হত্যাকান্ডকে তার ঈমানী দায়িত্ব মনে করে কোন আইনজীবী নিয়োগ দিতে চাননি। কিন্তু লন্ডন ফেরৎ কায়েদ-এ-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। জিন্নাহ ছিলেন বিলেতি শিক্ষায় শিক্ষিত, সাংস্কৃতিক বিশ্বাসে ছিলেন একজন ইংলিশ, স্যুট-টাই পরতেন, মদ খেতেন নিয়মিত, ঘরে বাড়িতে কুকুর রাখতেন, যত্র-তত্র প্রাণীর ছবি-পেইন্টিংসতো ছিলই। তিনি বিয়ে করেছিলেন একজন অমুসলিম কে। তার একমাত্র সন্তান দিনাও বিয়ে করেছিলেন একজন অমুসলিমকে। দিনা ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে যাননি। জিন্নাহর নাতি, নাতনি কেউই মুসলমান নয়, নাতি নাতনিদের বংশধরেরাও কেউ মুসলমান নয়। জিন্নাহ নামাজ রোজা করতেন না, ধর্ম-কর্ম করতেন না, নাস্তিক ছিলেন, অথচ ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলমানদের অনুভূতি চুলকে দিতে এই হত্যাকারীর পক্ষে আদালতে দাঁড়ায়। একজন আপদমস্তক নাস্তিক ব্যক্তি, যার জীবনে ধর্মের ছিটে-ফোঁটাও নেই তিনিও মানুষকে উস্কে দিয়েছেন ধর্মের দোহাই দিয়ে।
কিছু ঐতিহাসিক ধর্মীয় হত্যা প্রচেষ্টা
মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের হত্যাকারীকে আদালতে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল,
– “তুমি সাদাতকে হত্যা করলে কেন?”
হত্যাকারীর উত্তর ছিল, “সে সেক্যুলার ছিল।”
বিচারক জানতে চাইলেন, “সেক্যুলার মানে কী?”
সে বলল, “আমি জানি না।”
নোবেলজয়ী লেখক নাগিব মাহফুজের ওপর হামলাকারীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল,
– “তুমি তাকে আঘাত করলে কেন?”
সে বলেছিল, “কারণ তিনি ধর্মবিরোধী Children of Gebelawi লিখেছেন।”
বিচারক জানতে চাইলেন, “তুমি বইটি পড়েছ?”
উত্তর – “না।”
মিশরীয় লেখক ফারাজ ফাউদাকে হত্যাকারীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,
– “তুমি তাকে হত্যা করলে কেন?”
সে বলেছিল, “তার ঈমান নেই।”
বিচারক জানতে চাইলেন, “কোন বই পড়ে তুমি বুঝলে?”
হত্যাকারী স্বীকার করল, “আমি পড়তে-লিখতে জানি না।”
এবং বাংলাদেশের ফেবু ধর্ম কুতুবদের অবস্থা …
ফেসবুকে যারা ধর্মের জ্ঞান বিতরণ করতে আসে, ধর্মকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে চান, আমাদের বলেন মূর্খ, আমাদের ছবক দেন কোরআন, হাদিস পড়তে – তাদের অনেকেই কখনো কোরআন, হাদিস, সিরাত, তাফসির কিছুই পড়েনি। অন্য কারো মুখে শোনা কথাই তারা পুনরাবৃত্তি করে, অনলাইনে পাওয়া অন্য কারো কুযুক্তি কপি পেস্ট করে। ওদের আপনি যতোই ভিন্ন ভিন্ন টপিকে নিতে চাইবেন, তারা এক ক্যাসেট বার বার বাজাবে।
বাংলাদেশে যত লেখক, ব্লগার, বুদ্ধিজীবী হামলার শিকার হয়েছেন – তাদের হত্যাকারীদের অধিকাংশই ভিকটিমদের লেখা কখনো পড়েনি। শুধু “অমুক বলেছে” শুনেই তারা জেহাদী উন্মাদনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ধরনের লোকজনের দেখা আপনি সর্বত্র পাবেন, বিশেষ করে ফেসবুকে তাদের ফ্ল্যাডিং চোখে পড়ার মতো। মিথ্যা বলে, হত্যার হুমকি দিয়ে, বাবা-মা তুলে গালি দিয়ে এরা ইসলামকে শ্রেষ্ঠ প্রমান করতে চায়। অথচ ইসলামের অনুসারী হয়ে তাদের ভদ্র, মার্জিত আচরন, জ্ঞানগর্ভ আলোচনার স্বদিচ্ছা, জানার ইচ্ছা এগুলো প্রকাশ পেলেই বরং ধর্ম হিসাবে ইসলামের উপর থেকে অনেকের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হতো।
ঘৃণা কখনো জ্ঞানের মাধ্যমে ছড়ায় না – ঘৃণা ছড়ায় অজ্ঞতার মাধ্যমে। সমাজ অজ্ঞতার মূল্য দেয়, আর অজ্ঞ করে রাখার মূল্য আরও বেশি দেয়।
তাই কারো বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা বা মন্তব্য করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি – “আমি কি সত্যিই বিষয়টি জানি? প্রমাণসহ জানি?”
নবী কি আসলেই রঙ্গিলা ছিলেন না?
শিশুকাম বা পেডোফিলিয়া একটি ভয়ংকর মানসিক বিকৃতি। যখন বয়স্ক ব্যক্তিরা কোন শিশুর প্রতি যৌনাকাঙ্ক্ষা অনুভব করে, তখন বুঝতে হবে তিনি পেডোফিলিক। নবী মুহাম্মদ শুধু শিশু আয়েশাকে ৬ বছর বয়সে বিয়ে ও ৯ বছর বয়সে তার সঙ্গে যৌনতা করেই ক্ষ্যন্ত হননি, উনি অন্য এক শিশুকে তার মায়ের কোলে দেখে তার বড় হওয়ার পরে বিয়ের আকাংখা করেছিলেন। ইসলামের চার মাজহাবের চার ইমামের একজন ইমাম হাম্বলির একটা লেখায় এটার দেখা পাওয়া যায় – tinyurl.com/ueh9xhp7
নবী মুহাম্মদ আল্লাহর নাম দিয়ে মুসলমানদের জন্য একসঙ্গে ৪ স্ত্রীর বেশি রাখা যাবে না বিধান করলেও এই নিয়ম তার জন্য প্রযোজ্য ছিল না। ১১ বা ১৩ স্ত্রীর বাইরেও নবীর একাধিক যৌনদাসী ছিলো। তিনি দাস-দাসী কেনাবেচাও করতেন। খাদিজা বেঁচে থাকাকালীন মুহাম্মদ আর বিয়ে করার সুযোগ পাননি। খাদিজা সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন, মোহাম্মদ সেটাকে সমীহ করতেন কারন তার নিজের কোন উপার্জন ছিল না। খাদিজার মৃত্যুর পরে ও ৫০ বছর বয়সের পর তিনি বাকী সব বিয়ে করেন। খাদিজা ও সওদা ছাড়া সবাই ছিল অল্প বয়স্কা। খাদিজা মারা যাওয়ার পর বয়স্কা সওদাকে বিয়ে করেন সন্তান দেখাশুনার জন্য। ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ে করে তার ৯ বছর বয়সে বাসর করেন।
মেরাজের রাতে উর্দ্ধাকাশে গমনের শক্তি সঞ্চয় করতে বাল্য জীবনের ক্রাশ উম্মে হানির ঘরে মধুও খেয়েছেন নবী মুহাম্মদ। উম্মে হানি ছিলেন নবীর চাচাতো বোন। এক সময় নবী তাকে পছন্দ করতেন। চাচার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু মুহাম্মদের কোন পেশা ও সামাজিক মর্যাদা না থাকায় সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়া হয়। উম্মে হানি জানাচ্ছেন- সেই রাতে অর্থ্যাৎ মিরাজের রাতে নবীজি তার ঘরেই ছিলেন! (ইবনে হিশাম, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৭,৭৮)। বোমা ফাটানোর মত কথা এটা! কারণ উম্মে হানি অন্যের বিবাহিত স্ত্রী। সেই রাতে উম্মে হানির ঘরে তার স্বামী ছিলেন না। নবীজিকে খুজে না পেয়ে তার সঙ্গি-সাথীরা খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে দেখেন তিনি উম্মে হানির ঘরে! কি করছিলেন তিনি সেখানে? বিষয়টা যে কতখানি মারাত্মক সেটা উম্মে হানির আতংকিত কথাতেই বুঝা যায়। তিনি নবীজি বের হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দাসীকে বলছেন, শিগগির গিয়ে দেখো লোকরা তার(নবী) কথা শুনে কি বলে? (ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৭)। উম্মে হানি স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন- সে রাতে নবী তার বাসায় এশার নামাজ পড়ে শুয়ে ছিলেন। (ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৭)। একটু বুদ্ধি থাকলে বুঝে নিতে পারবেন, মেরাজের কেচ্ছা ফাঁদার আড়ালে নবী মুহাম্মদ আসলে সেই রাতে কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন।
সাফিয়ার বাবা, ভাই, স্বামী, গোত্রের অন্যদের নবী মুহাম্মদ যেদিন হত্যা করেন সেদিনই সাফিয়ার রূপ যৌবনে পাগল হয়ে যৌনদাসী বানিয়ে তার সঙ্গে বাসর করেন উনি।
এক রাতে সব স্ত্রী ও দাসীর ঘরে ম্যারাথন রেস চালিয়ে তিনি শেষে একবার গোসল করতেন। এসবই কোরান, হাদীসের কথা। কোরান, হাদীস, সিরাতের বাইরে ইসলামের দয়াল নবীর আর কোন নিরপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য ইতিহাস নেই। তার নাকি ৩০ হর্স পাওয়ারের যৌন শক্তি ছিল! রাস্তায় কোন নারীকে দেখলে উনি উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীদের কাছে চলে যেতেন, স্ত্রী যেই অবস্থাতেই থাক তাকে বেডে নিয়ে যেতেন। জানেন এসব? স্ত্রী যদি উটের উপরেও থাকেন তবে স্বামী চাইলেই তাকে কাপড় খুলে তৈরি থাকতে হবে, স্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য নেই, এমন নিয়ম উনি করে রেখেছেন। যেই কথাগুলো বললাম সেগুলো কোন ঐতিহাসিক লিখে যাননি, কোরআন, সহিহ হাদিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বললাম।
নবী মুহাম্মদের এক পালক পুত্র ছিলো, উনি সত্যিই তাকে নিজের ছেলে হিসাবে ঘোষনা দিয়েছিলেন। তার নাম ছিল জায়েদ। কাবা ঘরের সামনে শপথ করে, মক্কার লোকদের সাক্ষী রেখেই নবী মুহাম্মদ তাকে নিজের ছেলে হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো, এরপর তার নাম হয় জায়েদ বিন মুহাম্মদ। তাকে নবী মুহাম্মদ কোরানে আয়াত ডাউনলোড (সুরা আহযাবঃ৩৬) করে নিজের চাচাতো বোন জয়নবের সঙ্গে বিয়ে দেন। আয়াত ডাউনলোড করা লেগেছিলো কারন জয়নব জায়েদের সঙ্গে প্রথমে বিয়েতে রাজী হয়নি। একদিন পালক পুত্রকে খুজতে গিয়ে নবী মুহাম্মদ জয়নবকে রাতের পোশাকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এরপর যৌনতায় কাতর নবী মুহাম্মদ জয়নব তথা নিজের পালক পূত্রের বউকে নিজের কাছে পেতে নানান ফন্দি ফিকির করতে থাকেন। তার সহজ উপায় ছিলো কোরানের আয়াত ডাউনলোড করা। তিনি সুরা আযহাব ৩৩ঃ৩৭, সুরা আহযাব ৩৩:৫০, সুরা আহযাব ৩৩ঃ৪ এগুলো ডাউনলোড করে নিজের পালিত পূত্রবধুকে নিজের বউ বানিয়ে নেন।
মুহাম্মদ তার ২য় স্ত্রী সওদাকে তালাক দিয়েছিলেন এক সময়। সওদা তখন মুহাম্মদকে কান্নাকাটি করে অনুরোধ করে বলেছিলেন তাঁকে তালাক না দিতে । মুহাম্মদ তার জবাবে বলেন যে আজীবন তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে তিনি সম্মত আছেন, তবে তার জন্য একটা শর্ত মানতে হবে। শর্তটা ছিলো – সওদাকে মুহাম্মদের সঙ্গে শয্যা ভাগ করে নেওয়ার অধিকার ছাড়তে হবে এবং মুহাম্মদের সঙ্গে দিন রাত্রি যাপনের তাঁর বরাদ্দ পালা আয়েশাকে ছেড়ে দিতে হবে। এই শর্তে সওদা সম্মতি প্রদান করতে বিলম্ব করেননি, এই ভয়ে যে পাছে মুহাম্মদ তাকে স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে বসেন। সওদা শর্ত মেনে নেওয়ার পর মুহাম্মদ তালাক প্রত্যাহার করে নিয়ে তাকে স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নেন, কিন্তু তারপর আর কোনোদিন তিনি সওদার ঘরে যাননি এবং জীবনের বাকী দিনগুলিতে তাঁকে একবারও কাছে ঘেঁষতে দেননি।
মিশরের বাদশাহ নবী মুহাম্মদকে দুইজন দাসী উপহার পাঠিয়েছিলো। শিরিন ও মারিয়া কিবতিয়া। মারিয়া কিবতিয়াকে নবী নিজের জন্য রেখেছিলেন। দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে নবী মুহাম্মদের ইব্রাহীম নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়েছিলো যদিও সে বেশীদিন বেঁচে থাকেনি।
নবী মুহাম্মদের স্ত্রীদের জন্য জীবনের সবচাইতে কঠিন সময় ছিল, যখন নবী মুহাম্মদ যৌনদাসী মারিয়া কিবতিয়ার সাথে হাফসার ঘরে যৌনকর্ম করার সময় হাফসার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে, এর পরবর্তী সময়টুকু। সেই সময়ে লজ্জায় মুহাম্মদ প্রতিজ্ঞা করে বসেন যে, উনি আর মারিয়া কিবতিয়ার সাথে যৌনকর্ম করবেন না। হাফসাকে এই লোভও দেখানো হয় যে, এই কথা আয়েশাকে না বললে হাফসার পিতা ওমর আবু বকরের পরে ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা হবে। নবী মুহাম্মদ হাফসাকে এই ঘটনাটি গোপন করতে বলেন, সে যেন অন্য স্ত্রী বিশেষ করে আয়েশাকে এই ঘটনাটি না বলে দেয়। আয়েশা খুব স্পষ্টভাষী মেয়ে ছিলেন, নবীর মুখের ওপর মাঝে মাঝেই কথা বলতেন। তাই বিশেষভাবে আয়েশাকে যেন এই ঘটনা না বলা হয়, সেইদিকে নবী মুহাম্মদ বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন।
কিন্তু নবীর মনে তখন মারিয়ার প্রতি কামনার জোয়ার। মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম না করে তিনি থাকতে পারছিলেন না। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, মারিয়া কিবতিয়া ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং নবী তার সাথে সঙ্গমের জন্য খুবই উদ্গ্রীব থাকতেন। তাই মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করার পরেও নবীর মনে তখন মারিয়ার সাথে সঙ্গমের ইচ্ছে জাগ্রত হয়। ঐদিকে নবী মুহাম্মদের স্ত্রীগণ খুবই খুশি ছিলেন এই ভেবে যে, নবী আর মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম করছেন না, মারিয়াকে নবী নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছেন। কিন্তু নবী নিজেকে আর আটকে রাখতে পারেননি, আবারও মারিয়ার সাথে সেই কর্ম করে বসেন। প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে মারিয়ার সাথে আবারও যৌনকর্ম করায় মুহাম্মদের স্ত্রীদের একাংশ নবীর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে, এর ফলাফল হিসেবে নবী মুহাম্মদের কাছে সূরা তাহরীমের আয়াতগুলো নাজিল হয়। নবী একসাথে তার সকল বিদ্রোহী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার হুমকি দেন। আসলে আল্লাহই এই হুমকি দেন সূরা নাজিল করে। নবী যে মারিয়া কিবতিয়ার সাথে যৌনকর্ম করতে পারছেন না, এতে আল্লাহ মহা নাখোশ হয়েছিলেন – তা বলাই বাহুল্য।
যাইহোক। এরপরে নবী মারিয়া কিবতিয়ার বাসায় চলে যান এবং সেখানে তিনি দীর্ঘ একমাস অবস্থান করেন। অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে নবী এই সময়ে তার সকল স্ত্রীদের একত্রে তালাক দেয়ার হুমকিতে অটল থাকেন। আল্লাহ বরাবরের মতই ছিলেন নবীর দলে, তিনি আয়াত নাজিল করে নবীকে দাসী সেক্স করতে উৎসাহ দিতে থাকেন।
যাইহোক কাহিনী আরো অনেক আছে, এগুলো বর্ননা করতে গেলে আপনাদের পড়ার ধৈর্যে কুলাবে না। সেজন্য আর না আগাই। এখন আপনারাই বলেন নবী মুহাম্মদের জীবন আসলেই রঙ্গিলা ছিল কিনা।
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed