
Israel and BD Facebookers
বাংলাদেশের অনেক ইসলামপন্থী কোন কমনসেন্স প্রয়োগ ছাড়াই জীবন পার করে দেয়!
ইসরায়েলের ফরেইন মিনিস্ট্রি গতকাল মুসলমানদের ঈদ উপলক্ষে তাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে একটা শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে। ইসরায়েলের ২০% মানুষ মুসলমান এবং তারা শিক্ষা, অর্থনীতি, ক্ষমতায়নে দেশটিতে সমান সুবিধাপ্রাপ্ত। তাদের ধর্মীয় আচার পালনেও কোন বাঁধা নেই। সেজন্য সেখানকার কোন মুসলমানকে সুযোগ দিলেও তারা অন্য কোন শরীয় আইনের দেশে যেতে চাইবে না, এটা ১০০% নিশ্চিতভাবে বলা যায়। সেদেশের সরকার দেশের ২০% ও বিশ্বের ২০% মানুষের বড় ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানাতেই পারে, সেটাতে দোষের কিছু নেই। আমি এই স্ট্যাটাস দেখে একটা ধারনা নিয়ে সেটা পড়তে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি আমার ধারনাই সত্য।
এক নজরে দেখে যেটা মনে হলো সেখানে ৮০-৯০% কমেন্ট বাংলাদেশিদের, যথারীতি বাংলা, মুরাদ টাকলা ভাষায়। কেউ বুঝুক বা না বুঝুক তারা ধরে নিচ্ছে ইসরায়েল সরকারকে তো তাদের ক্ষোভ, হুমকি, জানিয়ে দিতে পারলো, পরামর্শ দিতে তো পারলো!
২০১৫ সালের ২৪ মে আমি একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম – বাংলাদেশে একটা আবাল প্রজন্মের বৈপ্লবিক উত্থান নিয়ে। সেই আবালদের আপনারা এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সোস্যাল মিডিয়া, ঘাটে-মাঠে-পথে, আন্তর্জাতিক লোকজনের কমেন্ট বক্স সবখানে পাবেন। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অপবিজ্ঞান, ধর্মীয় অন্ধন্ত এদের কোথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড় করাবে তা মনে হয় এখন আর রোডম্যাপ দিয়ে বলা সম্ভব নয়।
২০১৫ সালের মে মাসে মার্ক জাকারবার্গ তার চায়না বংশোদ্ভূত স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সাথে একটি খুব সাধারণ ও ঘরোয়া ছবি পোস্ট করেছিলেন। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিলিয়নেয়ার হওয়া সত্ত্বেও জাকারবার্গ দম্পতির এমন সাদামাটা জীবনযাপনকে খুব স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। কিন্তু বাঙালি নেটিজেনদের একটা বিশাল অংশের কাছে বিষয়টি ধরা দিয়েছিল একেবারেই ভিন্নভাবে। পোস্টের নিচে আসা ৯০% কমেন্টই ছিল বাংলা ভাষায় (কিংবা মুরাদ টাকলায়), যার সিংহভাগই ছিল উদ্ভট, জাজমেন্টাল বা আজগুবি। যেমন, চাইনিজ মাল বেশিদিন টেকে না, শেষ পর্যন্ত তুই চাইনিজ ছাড়া পাইলি না … এমন। প্রিসিলা চ্যানের বাহ্যিক রূপ বা পোশাক নিয়ে অগাধ সমালোচনা। অনেকেই লিখেছেন, “এত টাকা দিয়ে কী লাভ হলো, একটা সুন্দর বউই তো পাইলা না!” জাকারবার্গকে কীভাবে চলতে হবে, তার বউকে কীভাবে শাড়ি পরা শেখাতে হবে – এই নিয়ে ফ্রি নসিহত, সেগুলোও ছিল। “ভাই আমার আইডিটা ঠিক করে দেন” টাইপের কমেন্টসহ জাকারবার্গের কমেন্ট সেকশনকে অনেকে রীতিমতো ‘চকবাজার’ বানিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের প্রমোশন থেকে শুরু করে জামাকাপড় বিক্রির বিজ্ঞাপনও বাদ যায়নি!
শুধু ঐ এক স্ট্যাটাসই নয়। তার পরবর্তীকালের স্ট্যাটাসগুলোতেও একই প্রবনতা লক্ষ করা গেছে। প্রথম সন্তান হওয়ার পর পারিবারিক ছবি (ডিসেম্বর ২০১৫), স্ত্রীর বিশাল ভাস্কর্যের ছবি (আগস্ট ২০২৪), ১০ম বিবাহবার্ষিকীর ছবি (মে ২৫, ২০২২) এমন অনেক ছবির নীচেই তারা বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কোথায় কী কমেন্ট করতে হয়, আদৌ কমেন্ট করা দরকার কিনা সেটাই এই ধর্মান্ধ মূর্খ মুমিনরা জানে না।
যে ৯০% আজগুবি কমেন্ট বাংলাদেশের লোকেরা করেছিল, তার বড় একটি অংশ মার্ক জাকারবার্গ এবং তার ফেসবুক মডারেশন টিম পরবর্তীতে “হেইট স্পীচ”, “স্প্যাম” এবং “বুলিং” পলিসির অধীনে ফিল্টার বা ডিলিট করে দিয়েছেন। অনেক কমেন্ট এখন আর সেখানে দৃশ্যমান নেই।
বাঙালি সংস্কৃতিতে আড্ডাখানায় বা চায়ের দোকানে বসে অন্যের বিষয়ে মন্তব্য করার একটা পুরনো অভ্যাস আছে। ফেসবুক আসার পর সেই “চায়ের দোকানের আড্ডা”টা এখন গ্লোবাল হয়ে গেছে, সঙ্গে তাদের মগজে যোগ হয়েছে ইসলামিক সায়েন্স নামক এক উদ্ভট জিনিসের সংক্রমন। রাজনীতি, খেলাধুলো, সেলিব্রেটিদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রকেট সায়েন্স – সব বিষয়েই তাদের মতামত দেওয়া চাই-ই চাই, তা সে বিষয়ে জ্ঞান থাকুক আর না থাকুক। এক একজনের ডজনখানিক ফেইক আইডি, তাও সব মেয়েদের নামে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যখন সঠিক শিক্ষা, সচেতনতা এবং উৎপাদনশীল কাজের অভাবের সাথে মিশে যায়, তখনই জন্ম নেয় এই সমস্ত “আজাইরা” সংস্কৃতি।
এই আবালদের ব্রেন ওয়াশ করছে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সেই স্বদিচ্ছা বা টেকনিক্যাল মুরোদ আগেও হয়নি, এখনো নেই যে টেকনোলজিকে ব্যবহার করে একটা বড় প্রজন্মকে সঠিক রাজনৈতিক পাঠ বা ইতিহাস জানানো যায়। এইজন্য একজন রাজাকারের জন্য ফেসবুকে কাঁদার মানুষের অভাব হয় না। ফেসবুকে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সেটার বন্যা বয়ে দেয়ার মানুষের কমতি নেই। অনেকে ধর্ষনের জন্য দায়ী করে মেয়েদের পোশাককে, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয় করতেও পেরেছে তারা। সামান্য সমালচনা করলেও সেক্যুলারদের হত্যার জন্য প্রকাশ্য ঘোষনা দেয় তারা। সরকার কিছুই করতে পারে না, কারন সরকারগুলো এই আবালদের প্রশ্রয় দিয়ে গেছে বরাবরই, কিন্তু আবালদের মাথায় স্থান করে নিয়েছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো।
Related Posts

Ayisha and Arpita: A Story of Free Expression and Honesty Between Two Sisters, One Muslim and One Hindu
Ayisha and Arpita’s parents had dated for several years before marrying under Bangladesh’s Special MarriageRead More

আয়িশা ও অর্পিতা – মুসলিম ও হিন্দু দুই বোনের মুক্তবাক ও সততার গল্প
আয়িশা ও অর্পিতার বাবা-মা কয়েক বছর প্রেম করে বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করেছিলেন। কেউRead More

Operation Entebbe – the story of one night, and the Islamic execution suffered by Nazrul Islam and Sweety Akter
What can a state do to save the lives of its citizens abroad? Are thereRead More

Comments are Closed