Heaven
Hoor vs. Women

Hoor vs. Women

জান্নাতের ৭২ উন্নতবক্ষা ব্যক্তিত্বহীন হুর বনাম দুনিয়ার ব্যক্তিত্ববান শখের নারী! কী চান?

বলা হয় জান্নাতে মুমিন বান্দা ৭২ জন অপূর্ব সুন্দরী হুর পাবেন, তারা হবে চিরযৌবনা, চিরকুমারী। তাদের গায়ের ঘ্রান এতো সুন্দর যে তা কেউ কখনো পায়নি। তাদের স্তন হবে সুডৌল। তাদের ত্বক হবে ট্রান্সপারেন্ট, সেখান দিয়ে তাদের অস্থি মজ্জা দেখা যাবে।তাদের শরীরে কোন খুঁত নেই। তারা সর্ব অবস্থায় সেক্সের জন্য সম্মত। যারা সর্ব অবস্থায় সম্মত তারা কি করে আকর্ষনীয় হয়? ব্যক্তিত্বহীন কোন সত্তা কি কারো জন্য আকাঙ্ক্ষিত হয়?

দুনিয়ায় পুরুষ মানুষের শখের নারী বা পার্টনারকে খুশি রাখতে কত কসরৎ করতে হয়। তাদের আস্থা অর্জন করতে হয়, ভালবসা দিতে হয়, গিফট কিনে দিতে হয়, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া লাগে। পার্কে বসে বাদাম খেতে হয়, খোপায় বেলী ফুল পরাতে হয়, শাড়ির আঁচল ধরে দিতে হয়। তাদের অভিমান ভাঙ্গাতে হয়, জন্মদিন ভুলে গেলে কান ধরে উঠবসও করা লাগতে পারে। তাদের আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব থাকে। তাদের শরীর খারাপ হয়, মাসে মাসে পিরিয়ড হয়। অন্য সব মানুষের মতো তাদের শরীরেও ঘামের গন্ধ হয়। এর পরেও পুরুষ মানুষ তার শখের নারীর শরীরের ঘ্রান পছন্দ করে। শখের নারীরা সব সময় সেক্সের জন্য সম্মত হয় না, তাদের মেজাজ, মর্জির জন্য সুপুরুষকে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকতে হয়, কখন সিগন্যল মিলবে! আমি তো আমার শখের নারীর শরীরের অথেন্টিক ঘ্রান পাওয়ার জন্য হলেও জান্নাতে যেতে চাইবো না। পুরুষ মানুষ চায় তার পরিচিত জাতি গোষ্ঠীর কোন শখের নারী, এটা জেনেটিক। বাঙ্গালি পুরুষ ইউরোপীয় নারী আকাঙ্ক্ষা করে খুব কম, একজন বাঙ্গালি নারীই তার শখ।

জান্নাতে কি হবে? সেখানে পুরুষের শখের নারী গেলেও সে হবে ৭২ হুরের সর্দারনী। সেখানে গে, লেসবিয়ান, এসেক্সচুয়ালদের কী হবে? সেপিওসেক্সুয়ালদের কী হবে? দুনিয়ায় যে সমস্ত মুমিন পুরুষদের একাধিক স্ত্রী আছে, তারা জান্নাতে কাকে পাবে? দুনিয়ার পুরুষের তো সেক্স করা ছাড়াও অনেক কাজ আছে। দুনিয়ায় একজন পুরুষ তার জীবনের কত পার্সেন্ট সময় সেক্স করে কাটায়? এক সপ্তাহে কতক্ষন? এটা কি সবসময়ের জন্য আকর্ষনীয়? তাহলে জান্নাতে এসবের লোভ দেখানো হয়েছে কেন? সেটা কি যুক্তির নিরিখে বাস্তবসম্মত?

ইসলামী ঐতিহ্যে জান্নাত আত্মিক, নান্দনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তি কেন্দ্রিক শান্তির স্থান নয় – সেখানে ত্বক বা বলতে পারেন ইন্দ্রিয়সুখের বিস্তারিত প্রতিশ্রুতি আছে: নহর, ফলমূল, রেশমি পোশাক এবং সঙ্গিনী। প্রশ্ন হলো, এই প্রতিশ্রুতি কি মানুষের প্রকৃত মনস্তত্ত্বের সঙ্গে মেলে, নাকি সপ্তম শতকের আরব সমাজের কল্পনার প্রতিফলন মাত্র?

ইসলামী সূত্রে হুরের বর্ণনা

“হুর” শব্দটি কুরআনে কয়েকবার এসেছে (৪৪:৫৪, ৫২:২০, ৫৫:৭২, ৫৬:২২)। বর্ণনাগুলো হলো:

  • “হুরুন ঈন”, অর্থাৎ ডাগর চোখের সঙ্গিনী (৫৬:২২)
  • “কাওয়াইব আতরাব” (৭৮:৩৩)। অনেক ঐতিহ্যবাহী তাফসীরে শব্দটির অনুবাদ করা হয়েছে উন্নতবক্ষা সমবয়সী। তবে কিছু আধুনিক ব্যাখ্যাকার বলেন, শব্দটি শুধু “সমবয়সী” বোঝায়।
  • “তাদের আগে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি” (৫৫:৫৬, ৫৫:৭৪)
  • “আমি তাদের সৃষ্টি করেছি বিশেষভাবে, কুমারী ও স্বামীসোহাগিনী করে” (৫৬:৩৫-৩৭)
  • “সুরক্ষিত মুক্তার মতো” (৫৬:২৩)

হাদিসের বর্ণনা অনেক বেশি বিস্তারিত। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আছে, হুরের পায়ের নলার মজ্জা মাংসের ভেতর দিয়ে দেখা যাবে। তিরমিযির একটি হাদিসে জান্নাতিকে খাওয়া, পান করা ও যৌনমিলনে একশ জনের শক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাহাত্তর জন সঙ্গিনীর কথাও তিরমিযি ও ইবনে মাজাহর হাদিসে আছে। তবে এই হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেকে একে দুর্বল বলেছেন, আর কুরআনে “৭২” সংখ্যাটি নেই। “চিরকুমারী” বিষয়টি পরবর্তী তাফসীর ও হাদিসে বিস্তারিত হয়েছে: প্রতিবার মিলনের পর তারা আবার কুমারী হয়ে যাবে। এ ধরনের বিবরণও পাওয়া যায়।

মূল বিষয় হলো, জান্নাতের এই সেক্স ডল সর্বস্ব সঙ্গিনীরা সৃষ্টিই হয়েছে মুমিন পুরুষের সুখের জন্য। তাদের নিজস্ব ইচ্ছা, ইতিহাস বা ব্যক্তিত্বের কোনো উল্লেখ নেই।

দুনিয়ার আকর্ষণের মনস্তত্ত্ব

প্রথম যুক্তি হলো, মানুষের আকর্ষণ কেবল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের যোগফল নয়।

১. অনিশ্চয়তা ও অর্জনের আনন্দ। মনোবিজ্ঞানে দেখা যায়, যা সহজে পাওয়া যায় তার প্রতি আকর্ষণ দ্রুত কমে। আবার যা অর্জন করতে হয়, তার মূল্য বেশি মনে হয়। প্রেমে সম্মতি পাওয়া, আস্থা তৈরি করা, প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি, সবই আকর্ষণের অংশ। যে সঙ্গিনী “সর্বাবস্থায় সম্মত”, সে এই সমীকরণ থেকে অনুপস্থিত। যেখানে অর্জনের কিছু নেই, সেখানে আকাঙ্ক্ষা টিকে থাকে কীভাবে?

২. পারস্পরিকতা। যৌন আকর্ষণের একটি বড় অংশ আসে এই অনুভূতি থেকে যে অন্যজন আমাকে বেছে নিচ্ছে। যে প্রাণী সৃষ্টিই হয়েছে “সম্মতির জন্য”, তার সম্মতির কোনো মূল্য থাকে না। এখানে সম্মতি পছন্দ নয়, পূর্বনির্ধারিত বৈশিষ্ট্য।

৩. অপূর্ণতাই ব্যক্তিত্ব। দুনিয়ার সঙ্গীর ঘামের গন্ধ, মেজাজ, অসুস্থতা, এমনকি পিরিয়ডও সম্পর্কের বাস্তবতার অংশ। এসব নিয়েই সে একজন নির্দিষ্ট মানুষ, যার সঙ্গে স্মৃতি তৈরি হয়। মানুষ প্রিয়জনের শরীরের নিজস্ব গন্ধকে ভালোবাসে, কারণ তা তার সঙ্গে জড়িত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘ্রাণের পছন্দে ইমিউন জিনের (MHC) ভূমিকা আছে এবং এই পছন্দ ব্যক্তিভেদে আলাদা। “সবার চেয়ে সুগন্ধি” একটি সর্বজনীন ঘ্রাণ ব্যক্তিগত ঘ্রাণের বিকল্প হতে পারে না। অনেকের কাছে সেটি কৃত্রিম মনে হবে।

৪. পছন্দের নির্দিষ্টতা। মানুষের পছন্দ ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক ও অভিজ্ঞতালব্ধ। একই “আদর্শ” নকশার বাহাত্তর জন সবার কাছে সমান আকর্ষণীয় হবে, এই ধারণা পছন্দের বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে। (এখানে একটি সতর্কতা দরকার: নিজের গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতের কথা বলা হলেও এটি শুধু “জেনেটিক” নয়। পরিচিতি ও সংস্কৃতিরও বড় ভূমিকা আছে, আর আন্তঃজাতি সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে ক্রমে বাড়ছে।)

হেডোনিক অ্যাডাপটেশনঃ অসীম সুখের সমস্যা

মনোবিজ্ঞানে “হেডোনিক অ্যাডাপটেশন” নামে একটি সুপরিচিত ধারণা আছে। একই উদ্দীপনা বারবার পেলে তার থেকে পাওয়া সুখ কমতে থাকে। যৌনক্ষেত্রে এর একটি রূপ “কুলিজ ইফেক্ট”: একই সঙ্গীর সঙ্গে বারবার মিলনে আগ্রহ কমে, নতুনত্বে বাড়ে। জান্নাতের বর্ণনায় সঙ্গিনী চিরকুমারী ও চিরযৌবনা। এটিকে নতুনত্বের সমাধান হিসেবে ধরা যায়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, অনন্তকাল ধরে একই ধরনের সুখ কি সত্যিই সুখ থাকে? বার্নার্ড উইলিয়ামসের বিখ্যাত যুক্তি অনুযায়ী, অমরত্ব শেষ পর্যন্ত একঘেয়েমিতে পৌঁছায়, কারণ চাওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যে ব্যবস্থায় ঘাটতি, অপেক্ষা ও ক্ষয় নেই, সেখানে আকাঙ্ক্ষা কীসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে?

পুরুষ জীবনের ক’শতাংশ সময় যৌনতায় কাটায়?

এই প্রশ্নের উত্তর পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। একজন সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক বছরে গড়ে কয়েক ডজন থেকে একশ-দেড়শ বার যৌনমিলন করেন, আর প্রতিবারের সময়কাল গড়ে ৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো। হিসাব করলে জাগ্রত জীবনের এক শতাংশেরও কম সময় যৌনতায় যায়। (এটি মোটামুটি অনুমান, দেশ ও বয়সভেদে ভিন্ন।) বাকি সময় যায় কাজ, সম্পর্ক, সৃষ্টিশীলতা, খেলা, জ্ঞানার্জন, সংগ্রাম ও সেবায়।

মানুষের সন্তুষ্টির বড় উৎসও যৌনতা একা নয়। অর্থপূর্ণ কাজ, সামাজিক বন্ধন, লক্ষ্য অর্জন ও চ্যালেঞ্জ জয়ের অনুভূতির ভূমিকা অনেক বেশি। হারভার্ডের দীর্ঘ গবেষণা (Harvard Study of Adult Development) বলছে, সুখী জীবনের সবচেয়ে বড় নির্ধারক সম্পর্কের মান। এর মধ্যে বন্ধুত্ব, সমমর্মিতা ও সঙ্গ আছে, কেবল যৌনতা নয়। তাই জান্নাতের পুরস্কার তালিকায় বাহাত্তর সঙ্গিনী প্রধান জায়গা নিলে মনে হয়, পুরস্কারটি মানুষের মোট চাহিদার একটি ক্ষুদ্র অংশকেই বিবেচনা করেছে।

যুক্তির প্রশ্নগুলো

সমকামী, লেসবিয়ান ও অযৌন মানুষ। যার আকর্ষণ পুরুষের প্রতি বা কারও প্রতিই নেই, তার জন্য নারী-সঙ্গিনীর প্রতিশ্রুতি কোনো পুরস্কার নয়। প্রচলিত ইসলামী উত্তর হলো, জান্নাতে সবার আকাঙ্ক্ষা ও স্বভাব “পরিশুদ্ধ” হবে এবং প্রত্যেকে যা চায় তা পাবে (কুরআন ৪১:৩১, ৪৩:৭১)। সমালোচকদের মতে, এই উত্তরে একটি অন্তর্বিরোধ আছে। যদি আকাঙ্ক্ষা বদলে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি আর সেই ব্যক্তি থাকে না। আর যদি না বদলায়, তাহলে প্রতিশ্রুতি তার জন্য অর্থহীন।

একাধিক স্ত্রীর পুরুষ। দুনিয়ায় চার স্ত্রীর স্বামী জান্নাতে কাকে পাবেন, সে প্রশ্নের স্পষ্ট ও সর্বসম্মত উত্তর নেই। কিছু আলেম বলেন, সব মুমিন স্ত্রী জান্নাতে তার সঙ্গী হবেন। কিন্তু এতে নারীর অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন ওঠে: একজন নারী কি সত্যিই চাইবেন যে তাঁর স্বামী আরও ৭১ জন সঙ্গিনী পান? (আবার কিছু সূত্রে দুনিয়ার মুমিন স্ত্রীকে হুরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে, যদিও এর সনদ দুর্বল।)

নারীর জন্য কী? কুরআনে মুমিন নারীর জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আছে (“জান্নাতে তুমি ও তোমার সঙ্গিনীরা”, ৪৩:৭০)। কিন্তু পুরুষের জন্য যেভাবে বিস্তারিত সঙ্গীর কথা এসেছে, নারীর জন্য তা নেই। এতে মনে হয় বর্ণনাটি মূলত পুরুষ শ্রোতার দিকে তাক করা।

সম্মতির মানে কী? যে সঙ্গিনী কেবল সম্মত হওয়ার জন্যই তৈরি, তার মনের কথা, ইচ্ছা বা নিজস্ব জীবনের কোনো স্থান আছে কি? এই কাঠামো নারীকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিসত্তা না দিয়ে একটি ভোগ্যবস্তুর মতো উপস্থাপন করে, সমালোচকদের এই আপত্তি গুরুত্বপূর্ণ।

সেপিওসেক্সুয়াল। যারা বুদ্ধি ও মনের সংযোগে আকৃষ্ট হন, তাঁদের কাছে শারীরিক নিখুঁততার বর্ণনা প্রায় অপ্রাসঙ্গিক। বুদ্ধিবৃত্তিক সঙ্গ বা সমকক্ষ আলাপের প্রতিশ্রুতি এখানে অনুপস্থিত।

তাহলে এই লোভ দেখানো কেন?

সমালোচকদের ব্যাখ্যা সাধারণত তিন ধরনেরঃ

১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। সপ্তম শতকের আরবের মরুভূমি-সমাজে দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও কঠোর জীবন ছিল সাধারণ। সেখানে সবুজ বাগান, জলধারা, ছায়া ও সুন্দরী সঙ্গিনী ছিল সবচেয়ে বাস্তব স্বর্গের ছবি। প্রতিশ্রুতিটি সেই শ্রোতাদের ইচ্ছার সঙ্গে খাপ খায়।

২. প্রেরণার কৌশল। যুদ্ধ ও কষ্টের মধ্যে অনুসারীদের ধরে রাখতে মূর্ত, বোধগম্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি কার্যকর। বিমূর্ত “আল্লাহর সান্নিধ্য” সবার কাছে সমান আবেদন রাখে না।

৩. পুরুষ-কেন্দ্রিক সমাজের প্রতিফলন। শ্রোতা ধরে নেওয়া হয়েছে পুরুষকে, তাই পুরস্কারও পুরুষের ইচ্ছার আদলে তৈরি।

সমালোচনার সীমা ও ইসলামী জবাব

মুমিন ভাইরা যে সমস্ত ত্যানা নিয়ে হাজির হবেন, তাও আগেভাগে বলে নেয়া ভাল, কমেন্টে তো উত্তর দেয়া সম্ভব হবে না।

  • কুরআন ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য। মুসলিম পণ্ডিতরা বলেন, ৭২ সংখ্যা ও অনেক শারীরিক বিবরণ দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভরশীল। কুরআনের বর্ণনা তুলনামূলক সংযত এবং “কাওয়াইব” শব্দের অর্থ নিয়ে মতভেদ আছে।
  • রূপকের ব্যাখ্যা। অনেক আলেম ও সুফি ঐতিহ্য মনে করে, জান্নাতের বর্ণনা মানুষের বোধগম্য ভাষায় অপার্থিব বাস্তবতার ইঙ্গিত। হাদিসে আছে, জান্নাতে এমন কিছু আছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো হৃদয় কল্পনা করেনি। অর্থাৎ বর্ণনা আক্ষরিক নাও হতে পারে।
  • সর্বোচ্চ পুরস্কার আল্লাহর দর্শন। ঐতিহ্যগত ইসলামী ধর্মতত্ত্বে জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ইন্দ্রিয়সুখ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দর্শন। অর্থাৎ হুর মূল পুরস্কার নয়, অনেকগুলোর একটি।
  • পরিবর্তিত প্রকৃতির যুক্তি। আলেমরা বলেন, জান্নাতবাসীর অনুভূতি, চাহিদা ও সক্ষমতা দুনিয়ার মতো থাকবে না। তাই একঘেয়েমি বা হেডোনিক অ্যাডাপটেশনের মতো দুনিয়ার মনস্তাত্ত্বিক নিয়ম সেখানে খাটে কি না, তা বলা কঠিন।

সমালোচকদের পাল্টা কথাঃ এই জবাবগুলো মানলে বর্ণনাগুলো “প্রলোভন” হিসেবে কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন ওঠে। যদি দুনিয়ার কোনো মনস্তাত্ত্বিক নিয়মই সেখানে খাটে না, তাহলে সেই অজানা সুখের বর্ণনাকে দুনিয়ার ভাষায় আকর্ষণীয় করে তোলার অর্থ কী?

শেষ কথা

জান্নাতের হুরের বর্ণনা নিয়ে সমালোচনার মূল বক্তব্য তিনটিঃ আকর্ষণ অর্জন, পারস্পরিকতা ও ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে, আর সেগুলো এখানে অনুপস্থিত; যৌনতা মানুষের জীবনের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র; এবং এই বর্ণনা একটি নির্দিষ্ট সময়, সমাজ ও লিঙ্গের শ্রোতার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে ধর্মবিশ্বাসীরা বলেন, বর্ণনাগুলো রূপক বা মানুষের সীমিত ভাষার প্রয়াস, এবং আসল পুরস্কার অন্য কিছু। কোন যুক্তি বেশি বিশ্বাসযোগ্য, তা পাঠক নিজে বিচার করতে পারেন।

Related Posts

Muhammad's Book Quran

A random page from Muhammad’s self‑made book Qur’an and its unscientific statements

Sometimes I flip through random pages of Muhammad’s self‑made book Qur’an, and today this pageRead More

Muhammad's Book Quran

মুহাম্মদের বানানো কোরআন বই এর একটা র‍্যান্ডম পৃষ্ঠা ও সেখানকার অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য

আমি মাঝে মাঝে মুহাম্মদের বানানো কোরআন বই এর র‍্যান্ডম পৃষ্ঠা উল্টাই, আজ এই পৃষ্ঠা হাতেRead More

Islam is a Cult

The Iranian court sentenced them to death solely because they became Christians!

2009. Two young Iranian women, Marziyeh Amirizadeh and Maryam Rostampour, were sentenced to death byRead More

Comments are Closed