Language
Islam does not mean Arabic

Islam does not Mean Arabic

মানুষের নাম ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পদ, কোন ধর্মের নয়ঃ ইসলাম আরবি শব্দ নিজের বলে দাবী করে কেন?

মূর্খ শিশুকামী মুমিনরা এক ত্যানা প্যাচান আমি কেন নাম পাল্টাই না, আমার নাম কেন আল্লার নামে রাখা! আমার নাম কি আমি রেখেছি? আর এই সাইফ ও রহমান শব্দ কি ইসলামের সম্পত্তি? এই শব্দ দুটিই অনেক পুরনো। ইসলাম আসারও হাজার বছর আগে থেকেই এই শব্দ দুইটাই ছিল। নবী মুহাম্মদ যদি সব সুন্দর গুণবাচক শব্দ (যেমন রহমান বা দয়ালু) আল্লার নাম বলে দাবী করে বসে তাহলে কি তার মালিকানা আল্লার হয়ে যাবে? আরবি ভাষা আল্লা সৃষ্টিরও আগের। হাজার বছর ধরে চলে আসা সব সুন্দর শব্দগুলো একদিন এক শিশুকামী গ্যাংস্টার এসে দাবী করলো, সব তার ও তার আল্লার, ওমনি মালিকানা তার হয়ে গেল?

নবী মুহাম্মদ ও সাহাবীরা কি মুসলিম হওয়ার পরে তাদের প্যাগান নাম পাল্টেছিল? পাল্টায়নি।

ইসলাম পয়দা হওয়ার আগে আরবের লোকজন ছিলো প্যাগান, ইহুদী, খ্রিস্টান। তাদের নাম ছিলো আবদুল্লাহ, আমিনা, মোত্তালিব, মোহাম্মদ, ওমর, ওসমান, খাদিজা, জয়নব, কুলসুম, আলী এসব। নবী মোহাম্মদ নিজেই বলেছে প্যাগান হওয়ার কারনে তার জন্মদাতা বাপ-মা জাহান্নামী। তাহলে ইসলাম পয়দা হওয়ার পরে কি তারা তাদের নাম পরিবর্তন করেছিলো? সেগুলো কি ইসলামিক নাম? না।

আমি আমার নিজের নাম রাখিনি। আমার নাম আমার বাবা-মা জন রাখলে আমার নাম হতো জন, রাম রাখলে হতো রাম। নাম দিয়ে কি আসে যায়? নাম শুধুই একজনের পরিচয়বাহী শব্দ। এর সঙ্গে ধর্মের কোন মিল নেই। নাম কোন ধর্মের সম্পত্তি না।

কার জন্ম আগে? আরবী ভাষার নাকি আল্লার? নিশ্চয় আরবী ভাষার। ইসলামই বরং আরবী ভাষার সমস্ত শব্দ দখল করেছে। মোহাম্মদ আল্লাহকে পয়দা করেই আরবের যতো সুন্দর গুণবাচক শব্দ আছে – যেমন রহমান, রহিম, করিম, জব্বার, গফফার সব আল্লার নাম বলে চালিয়ে দিলো। এই শব্দগুলো কি মোহাম্মদ পয়দা করেছে? আরবী ভাষায় তারও শত শত বছর আগে থেকে এই শব্দগুলো ছিলো। ইসলাম পয়দা হওয়ার আগে থেকেই ছিলো।

নাম হয় ভাষার, সংস্কৃতির। ধর্মের নয়। আরব অঞ্চলের অনেক প্রসিদ্ধ মানুষদের নাম এমন যে মূর্খ মুমিনরা দেখলে ভাববে উনি মুসলমান। যেমন, সাদ্দাম হোসেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তারিক আজিজ, একজন খ্রিস্টান। হিব্রু ভাষায়ও কাছাকাছি উচ্চারণের শব্দ রাহামিম আছে। জাকারিয়া, সারাহ, মেরি, হান্নাহ, ইভা, ইলিয়াস, ইব্রাহিম, আমির, তামার, রামি, ওমর, জাকির, আলিয়া, আমানা, ডালিয়া, মায়া, নাওমি, তালিহা – এমন অনেক নাম আছে যা আরব অঞ্চলে মুসলমান, খ্রিস্টান ইহুদি সবাই রাখে। নবী মুহাম্মদ যেমন ইহুদিদের সম্পদ দখল করার জন্য তাদের উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে বলেছিল এই পৃথিবীর মালিকানা আল্লা ও তার রাসূলের, তেমনি মুহাম্মদের অনুসারীরা এখন হাজার বছর আগে থেকে চলে আসা আরবি শব্দগুলোর মালিকানা দাবী করে। কি হাস্যকর!

‘সাইফ’ (Saif) এবং ‘রহমান’ (Rahman)—দুটি শব্দই অত্যন্ত প্রাচীন। ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হওয়ার (খ্রিস্টিয় ৭ম শতাব্দী) শত শত বছর, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজার বছর আগে থেকেই প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যে এই শব্দগুলোর ব্যবহার ছিল। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্ত্বিক ও শিলালিপির প্রমাণ রয়েছে।

‘সাইফ’ (سيف) শব্দের ইতিহাস

​’সাইফ’ একটি আদি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ “তরবারি” বা “খড়গ”। প্রাচীন আরবে বীরত্ব, শক্তি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে এই শব্দের ব্যাপক প্রচলন ছিল।

​কত পুরানোঃ ইসলাম শুরু হওয়ার অন্তত ১,০০০ থেকে ১,৫০০ বছর আগে থেকেই এই শব্দের মূল রূপটি সেমিটিক ভাষায় বিদ্যমান ছিল। ইসলামের আগে আরব কবিদের কবিতায় এবং মানুষের নাম হিসেবে এটি শত শত বছর ধরে প্রচলিত ছিল। যেমন – ইসলামের ঠিক আগের যুগে ইয়েমেনের বিখ্যাত রাজা ছিলেন “সাইফ বিন জি-ইয়াযান” (Sayf ibn Dhi Yazan), যিনি মুহাম্মদের জন্মের সমসাময়িক সময়ে আরবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রমাণঃ ইসলাম-পূর্ব যুগের বিখ্যাত কবিদের (যেমন ইমরুল কায়েস, আনতারা বিন সাদ্দাদ) কবিতায় যুদ্ধের বর্ণনায় ‘সাইফ’ শব্দের প্রচুর ব্যবহার পাওয়া যায়। এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ আরবে প্রাপ্ত প্রাচীন ‘সাফাইটিক’ (Safaitic) এবং ‘মুসনাদ’ (Sabaic) লিপিতে তরবারি বা অস্ত্র অর্থে এর মূল ধাতুর ব্যবহার পাওয়া গেছে।

‘রহমান’ (رحمن) শব্দের ইতিহাস

​ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘রহমান’ শব্দের ইতিহাস অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং এটি ‘সাইফ’ শব্দের চেয়েও প্রাচীন শিলালিপিতে বেশি প্রমাণিত। এর মূল অর্থ “দয়াবান” বা “করুণাময়”।

​কত পুরানোঃ শব্দটির মূল উৎস ‘র-হ-ম’ (R-H-M), যা ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ বছরের পুরানো প্রাচীন সেমিটিক ভাষার অংশ। আক্কাদীয় (Akkadian), হিব্রু ও আরামাইক ভাষায় এর প্রাচীন রূপ পাওয়া যায়। ইসলাম শুরু হওয়ার অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে পুরো আরব উপদ্বীপে (বিশেষ করে দক্ষিণ আরবে) একটি একক সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নাম হিসেবে ‘রহমান’ শব্দটির ব্যাপক প্রচলন ছিল।

ঐতিহাসিক প্রমাণঃ ​তেল ফাখারিয়া শিলালিপি (Tell Fekheriyeh Inscription): সিরিয়াতে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ৯ম শতকের (ইসলামের প্রায় ১৫০০ বছর আগে) একটি দ্বিভাষিক শিলালিপিতে আরামাইক ভাষায় মেসোপটেমিয়ার দেবতা হাদাদ-কে ‘রহমন’ (Rḥmn – দয়াবান দেবতা) বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

হিময়ার সাম্রাজ্যের শিলালিপি (Himyarite Inscriptions): বর্তমান ইয়েমেনে চতুর্থ শতাব্দীতে (খ্রিস্টাব্দ ৩8০ সালের দিকে) যখন হিময়ার রাজারা একেশ্বরবাদে (ইহুদি ও পরে খ্রিস্টধর্মে) দীক্ষিত হন, তখন তারা তাদের প্রাচীন বহু দেব-দেবীর নাম বাদ দিয়ে এক ঈশ্বরের উপাসনা শুরু করেন। প্রাচীন দক্ষিণ আরবীয় ‘মুসনাদ’ লিপিতে সেই ঈশ্বরকে বলা হতো “রহমানান” (Raḥmānān – 𐩧𐩢𐩣𐩬𐩬), যার অর্থ “দয়াময় মহাবিশ্বের প্রভু”।

আবরাহার শিলালিপি (Inscription of Abraha): ইসলামের ঠিক পূর্বে (খ্রিস্টাব্দ ৫৫০ সালের দিকে) ইয়েমেনের খ্রিস্টান শাসক আবরাহা (যিনি কাবার দিকে হাতি নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন বলে ইতিহাসে বর্ণিত) মুরাইঘান-এ একটি শিলালিপি স্থাপন করেন। সেই লিপির শুরুতেই লেখা ছিলঃ “রহমান ও তাঁর মসীহ (যীশু)-এর ক্ষমতাবলে…”।

Related Posts

The Inhumanity of Islam

Teen girl imprisoned by the Taliban for refusing to marry a 70‑year‑old man! What the Taliban are doing – that is exactly Islam!

A 14-year-old girl named Bibi Sediqa in Afghanistan has been kept imprisoned and tortured forRead More

The Inhumanity of Islam

৭০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে না করায় তালেবানের কারাগারে কিশোরী! তালেবান যা করছে সেগুলোই ইসলাম!

৭০ বছর বয়সি এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আফগানিস্তানে বিবি সেদিকাRead More

Is the Quran Universal?

Did Prophet Muhammad Instruct People to Expose Themselves to Rainwater? Is the Claim of Universality Made by the Qur’an and Hadith Flawed?

A hadith in Sahih Muslim (Hadith Academy: 1968) narrates that Anas (RA) said: During aRead More

Comments are Closed