
Islam allows child rape
ইসলামে শিশু বিবাহ ও শিশু ধর্ষণের অনুমোদন এবং বাংলাদেশের নির্মম বাস্তবতা
উগ্র মুমিনদের মূর্খতার সত্যিই কোনো সীমা নেই। তারা যখন শুনতে পায় যে কোরআনে শিশু বিবাহ জায়েজ এবং শিশুর সঙ্গে সহবাসও জায়েজ, তখন তাদের প্রতিক্রিয়া হয় দুই রকম। কেউ সোজা বলে, “কোরআনে এসব নেই!” আর কেউ চাপাতির কোপে হত্যার হুমকি দেয়। কেউ চুপ করে থেকে অপেক্ষা করে কখন চাপাতির কোপটা দিবে, এতে তারা অন্যকে হত্যা করে জান্নাতে যাবে। যারা একটু পড়াশোনা করেছে, তারা প্রখ্যাত তাফসিরকারক, সহিহ হাদিসের ইমাম এবং ইসলামী স্কলারদের সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামকে ‘ডিফেন্ড’ করতে নামে, সহজ কথায় ত্যানা প্যাঁচাতে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই অস্বীকারের পেছনে কোনো যুক্তি নেই, শুধু আছে ভয় দেখানো আর অজ্ঞতা।
আসুন সোজা কথা বলি – কোরআনের সুরা আত-তালাক (৬৫ঃ৪) স্পষ্টভাবে বলছে: যেসব নারী আর মাসিক আশা করে না (অর্থাৎ বয়স্কা) কিংবা যারা এখনো মাসিক দেখেনি (অর্থাৎ শিশু বয়সী মেয়ে), তাদের ইদ্দত (অপেক্ষাকাল) তিন মাস। ৩৩ঃ৪৯ এর সঙ্গে এই আয়াতটি মিলিয়ে সরাসরি প্রমাণ করে যে শিশু মেয়েকে বিয়ে করা, তার সঙ্গে সহবাস করা, তালাক দেয়া – সবই জায়েজ। কারণ ইদ্দতের নিয়ম তো শুধুমাত্র বিবাহিত নারীর জন্যই প্রযোজ্য যার সঙ্গে সহবাস করা হয়। ৩৩ঃ৪৯ অনুসারে সহবাস না করলে তো ইদ্দতের দরকার হয় না। এ বিষয়ে প্রখ্যাত তাফসিরকারকদের তাফসিরও আছে ( এখানে ১৩ নাম্বার পয়েন্ট দেখুন)। আর সহিহ বুখারী (হাদিস নং ৫১৩৩ এবং অন্যান্য) স্পষ্ট করে দিয়েছে – নবী মুহাম্মদ আয়েশাকে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাস করেন। এটা কোনো ‘দুর্বল’ হাদিস নয়, বরং সহিহ বুখারী এবং মুসলিমের মতো সবচেয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থে আছে। হাজার বছর ধরে ইসলামী স্কলাররা – ইবন কাসীর, ইবন তাইমিয়া, সবাই এটাকে স্বীকার করে এসেছেন। এমনকি সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতিরাও এটার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন কিছু আধুনিক মুমিন এসে বলছে “এসব নেই”? এটা আর কিছু না, নিজেকে বাঁচানোর জন্য সত্য অস্বীকার করা।
যারা যুক্তিতে হারে, এরপর তারা বাবা-মায়ের নামে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে। যারা তাও পারে না, তারা চাপাতি নিয়ে ঘাড়ে কোপ মারতে চায়। আর যারা সেটাও পারে না, তারা চুপ করে বসে থাকে – হত্যার সময় গুনে। বাংলাদেশের বাস্তবতা এখানে আরও ভয়ংকর। গত কয়েকদিনে আমি ফেসবুকের মাধ্যমে কতগুলো হত্যার হুমকি পেয়েছি তার শেষ নেই! এইটা, এইটা, এইটা … এমন আরো কিছু পোস্টের কমেন্ট সেকশানে আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে ইসলামিক জঙ্গিরা। বাংলাদেশে নাস্তিক ব্লগার, ফ্রি-থিঙ্কার, মানববাদী বা ইসলামের সমালোচকদের হত্যা করা হয়েছে বারবার। ২০১৩-২০১৬ সালের মতো ঘটনা তো সবাই জানে। ব্লাসফেমি অভিযোগে মসজিদ থেকে মাইক বাজিয়ে মব জড়ো হয়, মানুষকে পিটিয়ে জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়, বাড়ি-মন্দির পোড়ানো হয়। অপমান, অপদস্থ, জুতার মালা গলায় পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটানো, পিটিয়ে জখম করা খুবই সাধারন ঘটনা। এখনো ২০২৫-২৬ সালেও মুক্তমনাসহ হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর ব্লাসফেমি অজুহাতে হামলা চলছে, পিটিয়ে মেরে জ্বলন্ত আগুণে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশে শিশু বিবাহের সমালোচনা করলেও সেটাকে ‘ইসলামের অপমান’ হিসাবে ধরে মৌলবাদী ও ইসলামিস্টরা। অথচ বাংলাদেশে শিশু বিবাহের হার এখনো এশিয়ায় সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের ইউনিসেফ ও বিবিএসের এমআইসিএস সার্ভে অনুসারে, ৪৭.২% মেয়ে ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায়, আর ১৬-১৭% ১৫ বছরের আগে। এর ফলে কিশোরী মায়ের মৃত্যু, শারীরিক নির্যাতন, শিক্ষা বন্ধ—সবকিছু চলছে। আইন আছে (১৮ বছর), কিন্তু ইসলামী স্কলার এবং মাদ্রাসা-মসজিদের প্রভাবে বাস্তবে তা লঙ্ঘন হয়। অনেক মুসলিম নেতা বলেন, “কোরআনে আল্লাহ যা বলেছে সেটা কল্যানকর, নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করলে সমস্যা কী?” এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা—ইসলামের বিপক্ষে যায় এমন কিছু যতো যৌক্তিক, বৈজ্ঞানিক, মানবিক, মানবাধিকাররের পক্ষে হোক সেটা বলা বা করা যাবে না।
এবার আসুন কিছু মূর্খের প্রশ্নের জবাব দেই। তারা বলে, “এপস্টেইন ফাইল নিয়ে কী বলবেন?” অথবা “রবীন্দ্রনাথও তো শিশু বিয়ে করেছিলেন!” এই গাড়লগুলো কিসের সঙ্গে কী তুলনা করছে, সেটাই বোঝে না। এপস্টেইন কেস একটা জঘন্য অপরাধ। সভ্য সমাজে এর সর্বোচ্চ শাস্তি—জেল, মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড। কেউ এপস্টেইনকে ‘ঐশ্বরিক আদর্শ’ বলে না, তার কাজকে ‘সব যুগের জন্য উত্তম’ বলে না, সেসব কোন দেশের সংবিধানের নীতিও নয়। কিন্তু মুমিনরা দাবি করে যে তাদের কোরআন আল্লাহর দেয়া ঐশ্বরিক বাণী—সমগ্র বিশ্বের সংবিধান। নবী মুহাম্মদ তার কথা, কাজ, জীবন—সবই সর্বযুগের, সব মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ। এটা কোনো সাধারণ মানুষের গল্প নয়, এটা আল্লাহর নির্দেশ। তাহলে এপস্টেইনের সঙ্গে তুলনা কেন? আর রবীন্দ্রনাথ? হ্যাঁ, তিনি ১৮৮৩ সালে ৯-১০ বছরের মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন (তিনি নিজে ২২ বছরের)। কিন্তু সেটা ছিল ১৯শ শতাব্দীর সামাজিক প্রথা, হিন্দু সমাজের তখনকার রীতি। রবীন্দ্রনাথকে তো কেউ ঈশ্বর প্রদত্ত ম্যাসেঞ্জার বলে দাবী করে না, কেউ রবীন্দ্রনাথকে ‘সর্বকালের আদর্শ’ বলে না। কেউ জোর করে তার জীবন অনুসরণ করতে বলে না। তার সমালোচনা করলে কেউ চাপাতি নিয়ে আসে না। রবীন্দ্রনাথের লেখা কোনো ‘ঐশ্বরিক সংবিধান’ নয়। তাহলে মুমিনদের কাছে নবী মুহাম্মদ আর রবীন্দ্রনাথ কি এক লেভেলের? না! একজনকে তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নবী বলে, অন্যজনকে শুধু কবি। এই তুলনা তাদের নিজেদের ফাঁদে ফেলে।
মূল প্রশ্নটা এখানেই – একটা ঐশ্বরিক গ্রন্থে – যাকে বলা হয় সবচেয়ে নিখুঁত, সব যুগের জন্য প্রযোজ্য – সেখানে এত অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক, মানবাধিকারবিরোধী বিষয় থাকে কী করে? শিশু বিবাহ, শিশু ধর্ষণ, যুদ্ধবন্দিনীদের যৌনদাসী বানিয়ে তাদের সঙ্গে জোর করে সহবাস, দাস-দাসী প্রথা, নারীকে পশুর সঙ্গে তুলনা—সবকিছু কোরআন-হাদিসে আছে। এগুলোকে কীভাবে ‘ঐশ্বরিক’ বলা যায়? নবীকে কীভাবে ‘সর্বকালের আদর্শ’ বলা যায়? আধুনিক আইনে শিশু বিবাহ এবং তার সঙ্গে সহবাসকে সরাসরি ধর্ষণ বলা হয় – যা জঘন্যতম অপরাধ। কিন্তু ইসলামে স্বয়ং আল্লাহ এবং তার নবী এটাকে অনুমোদন দিয়েছেন। এটা কোনো ‘সাংস্কৃতিক’ ব্যাপার নয়, এটা ধর্মীয় আদেশ। বাংলাদেশে এর ফল দেখা যায় – হাজার হাজার শিশু কন্যা বৃদ্ধ স্বামীর ঘরে ঢুকে যায়; শিক্ষা শেষ, স্বাস্থ্য নষ্ট, জীবন শেষ। অথচ মুমিনরা বলে “রেফারেন্স কই?” আগের পোস্টে দেয়া আছে, গুগল করলেও পাওয়া যায়। যারা এতটুকু খুঁজে দেখার ধৈর্য রাখে না বা পারে না, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা পণ্ডশ্রম।
এই মূর্খতা শুধু অজ্ঞতা নয়, এটা বিপজ্জনক। এই অন্ধত্ব থেকেই জন্ম নেয় সন্ত্রাস, হত্যা, নারী নির্যাতন। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় বললেও সমাজে তার প্রবল প্রভাব দেখা যায়, সেখানে শিশু বিবাহ কমছে খুব ধীরে। ২১৫ বছর লাগবে পুরোপুরি বন্ধ করতে, যদি এই গতিতে চলে। কারণ? ধর্মীয় নেতারা শরিয়াহর কথা বলে আইনকে বাধা দেয়। এটাই সত্য। ইসলামের দাবি—এটা নাকি মানুষের জন্য উত্তম জীবনব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে এটা মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক, স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। আল্লাহ যদি সর্বজ্ঞানী হন, তাহলে কেন ৭ম শতাব্দীর আরবের রীতি-নীতিকে সারা বিশ্বের জন্য চিরকালের আদর্শ বানালেন? এটা কোনো ঐশ্বরিকতা নয়, এটা মানুষের তৈরি একটা ব্যবস্থা যা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তৈরি হয়েছিল।
মুমিনরা যতই অস্বীকার করুক, যতই হুমকি দিক, সত্যটা একই থাকে। শিশু বিবাহ ইসলামে জায়েজ। নবীর জীবন তার প্রমাণ। বাংলাদেশের মেয়েরা তার শিকার। আর যারা এটা চ্যালেঞ্জ করে, তারা হয় গালাগাল খায়, নয় চাপাতি্র কোপ খায়, নয় চুপ করে মরার অপেক্ষায় থাকে। এই মূর্খতার বিরুদ্ধে কথা বলাই এখন একমাত্র পথ। কারণ সত্য অস্বীকার করে কোনো ধর্ম বাঁচানো যায় না। বাস্তবতা সবসময় জিতে যায়।
Related Posts

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside
Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

ইসলাম ও কোরআনকে রিফর্মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে অথবা ইসলাম ছিটকে পড়বে
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ক্লাসিক্যাল ফিকহ একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছিল, যাRead More

Reading the Qur’an, its translations, tafsir, sirah and hadith – no person with common sense can remain in Islam
Will you continue to remain a blind believer? Blind faith prevents a person from seeingRead More

Comments are Closed