
Incest and the Western World
পশ্চিমা দেশগুলোতে ও নাস্তিকদের কাছে কি অযাচার খুব সাধারন ব্যাপার?
এটি বর্তমানের আলোচিত ১১ বছরের কিশোরীর ধর্ষণ মামলা নয়, এটি ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ফেনীর পরশুরামের ঘটনা। মা’ম’লার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ এনে মা’ম’লা দায়ের করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়। এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ–এর চাকরিচ্যুত হন।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌ’ন নি’র্যা’ত’ন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মূল ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়ান বলেও তিনি দাবি করেন।
পরে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির সঙ্গে তার ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
কাউকে বিনা দোষে হয়রানি করা, অপমানিত করা চরম অন্যায় – সে হুজুর হোক বা যেই হোক। সোস্যাল মিডিয়ায় মিডিয়া ট্রায়ালে নেমে যায় সবাই। সকল মানুষের মর্যাদা পাওয়ার অধিকার আছে। বাংলাদেশে মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবে এতো বেশি শিশু-কিশোর-কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যে এমন কোন ঘটনা ঘটলেই সবাই আগে মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম, মুয়াজ্জিনকে সন্দেহ করে। এই সন্দেহ দূর করতে হলে আগে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সৎ, নিরীহ, ভদ্র শিক্ষক, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের এগিয়ে এসে ধর্ষক, যৌন নিপীড়কদের এক্সপোজ করে দিতে হবে; সবার আগে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়তে হবে তাদেরকেই। কিন্তু তারা সেটা না করে ইসলামের দ্বীনি ভাই হিসাবে তাদের অপকর্ম গোপন করতে চেষ্টা চালায় – তেমনটাই ইসলাম তথা আল্লাহ তাদের নির্দেশ দিয়েছে।
ত্যানাবাজ মুমিন ইসলামিস্টরা দাবী করে নাস্তিক, মুক্তমনা, সেক্যুলাররা বাবা-মা-ছেলে-বোন সবার সঙ্গে অবারিত শারীরিক সম্পর্ক করে। এই দাবীর স্বপক্ষে কোন যুক্তি, প্রমান তারা দেখাতে পারে না। পৃথিবীর কোন সভ্যতা, কোন বিবেকবান মানুষ এই ধরনের সম্পর্ক চিন্তা করে না। নাস্তিক, সেক্যুলাররা এমন করে এমন কোন ফ্যাক্ট নেই। অথচ বাংলাদেশেই অনেক সংবাদ বের হয়, যেখানে দেখা যায় অনেক মুমিন বাবা তার নিজের শিশু, কিশোরী কণ্যাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে গেছে। দাদা-নানা টাইপের বুইড়ারাও বাদ যায় না এই তালিকা থেকে। কত নারীকে লাইভে এসে বলতে শুনি তার মোল্লা বাবা তাদের ধর্ষণ করেছে। মুমিন বলেই যে তারা এমন বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ, তা নয়, তারা ব্যক্তিগতভাবে পার্ভার্ট বলেই তারা এমন। তেমনিভাবে নাস্তিক, সেক্যুলারদের ভিতরেও এমন দু, চারজন থাকাটা অসম্ভব না। কিন্তু এগুলোর কোনটা ফ্যাক্ট না। মুমিনরা এমন করে – এই দাবীও যেমন অর্থহীন, নাস্তিক সেক্যুলাররা করে – সেটাও অর্থহীন। পশ্চিমা দেশগুলোতেও এগুলো স্বাভাবিক কিছু নয়, খুবই ব্যতিক্রম। এমনকি কাজিনদের ভিতরে এমন সম্পর্ককেও বেশিরভাগ সমাজ ভাল চোখে দেখে না, ইনসেস্ট হিসাবে ধরে। অথচ, মূর্খ ত্যানাবাজ ইসলামিস্টরা নাস্তিকদের নিয়ে এই দাবী করে বসে!
আধুনিক বিজ্ঞান কাজিনদের মধ্যে বিয়ে হওয়াকেও নিরুৎসাহিত করে, প্রায় সব সভ্যতাও এই নিয়ম মেনে চলে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের ফলে সন্তানের মধ্যে recessive genetic disorders-এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে কাজিন বিবাহ থেকে জন্মানো শিশুদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটির হার দ্বিগুণ। মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে, যেখানে কাজিন বিবাহের হার ৩০-৫০%, সেখানে জেনেটিক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক। একমাত্র মুসলিম কমিউনিটি ছাড়া এই ধরনের বিয়ে ও যৌনতার এতো ব্যাপকতা নেই, এটা ফ্যাক্ট। বাংলাদেশের দু চারটা ইনসেস্ট দিয়ে যেমন পুরো দেশকে জাজ করা যায় না, তেমনি পশ্চিমা সমাজেও দু চারটা এমন ঘটনা দিয়ে তাদেরকে জেনারালাইজ করা যায় না।
মিশরের ফারাও বা আপনারা যাদের ফেরাউন বলেন, তাদের বংশ ধ্বংস হয়েছিল ইনব্রিডিং এর কারনে। তাদের মমি থেকেও এগুলো প্রমানিত হয়েছে। তাদের বংশের বিশুদ্ধতা রক্ষা করার জন্য এটা তারা করতো কিন্তু ফলশ্রুতিতে তাদের অনেক জেনেটিক রোগ বেশি হতো। আপনি যদি World Population Review এর তথ্য দেখেন সেখানে এই লিংকে দেশ ভেদে ইনব্রিডিং এর হার দেখতে পাবেন। আশ্চর্য হয়ে দেখবেন সেই তালিকায় আমেরিকা মাত্র ০.১%, কানাডা ১.৫%, ইন্ডিয়া ৭.৫% এবং বাংলাদেশ ১৭%। সৌদি আরব ৩৯%, ইরান ৪০%, পাকিস্তান ৬১%, আফগানিস্তানে ৫০%! প্রায় সব কট্টর মুসলিম দেশে এটা ৫০ বা তার চেয়ে বেশি বা কিছু কম! আপনারা দাবী করেন কী আর পরিসংখ্যান বা ফ্যাক্ট বলে কী! যে সমাজে ইনব্রিডিং কম সেখানে ইনসেস্টও কম! স্বাভাবিক হিসাব ও যুক্তি – যা গবেষণাও প্রমানিত! মুমিন ভাইয়েরা মনের মাধুরী মিশিয়ে যে অপতথ্য ছড়ান, ফ্যাক্ট বিশ্লেষণ করলে দেখি সেটা আপনাদের দিকেই ব্যাকফায়ার করে!

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ জানায় পাকিস্তান, ইরানের মতো দেশে শিশুদের এডাল্ট হিসাবে ট্রিট করার আইন আছে যা প্রকারান্তরে যৌন সহিংসতাকে উস্কে দেয়। ইনব্রিডিং এ পাকিস্তান বিশ্বে শীর্ষে। আপনাদের আরো একটি তথ্য দিয়ে রাখি – গুগল ট্রেন্ডস এবং পর্নহাবের (Pornhub) মতো বড় পর্ন সাইটগুলোর ডেটা অনুযায়ী, গে পর্ণ বা সমকামী অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট সার্চ ও দেখার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।
নাস্তিক, সেক্যুলার, মুক্তমনারা ইনসেস্ট বা ঘনিষ্ট আত্মীয় যেমন কাজিনদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ককেও কখনো প্রোমোট করে না, বরং এগুলো যেনো কেউ না করে সেটাই তাদের প্রচারনা। তারা যেটা বলে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভয় ভীতি ছাড়া নিজের সম্মতির ভিত্তিতে কে কার সঙ্গে কখন কিভাবে শোবে, ঘুরবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাদের এই অধিকারে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। শিশু নয় এমন দুইজন ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র, ছাত্রী ভয়, ভীতি ছাড়া নিজেদের সম্মতিসহ যৌনতা করলে সেটা ধর্ষণ বলবে না কেউ, সেটা অপরাধও না। কিন্তু কওমী মাদ্রাসায় শিশুদের সঙ্গে যে যৌনতা করা হয় সেটা ধর্ষণ, মারাত্মক অপরাধ, কারন ১৮ বছর বয়সের আগে কোন শিশুর কনসেন্ট নেয়ার সুযোগ নেই। এই সিম্পল জিনিসটা আমাদের অনেক মূর্খ মুমিনদের মাথায় ঢোকে না।
Related Posts

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities
The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা” আইনের অর্থই হলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন এক বাহানা খোঁজা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এটি একটিRead More

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside
Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

Comments are Closed