
In a rainy day
যে বৃষ্টি কখনো থামে না
বাগানটা তখনো ভিজে। আমগাছের ডালে ঝুলে থাকা পাকা ফলগুলো বৃষ্টির ফোঁটায় চকচক করছে। পুকুরের পদ্মফুলগুলো হালকা বাতাসে দুলছে। এই জায়গাটাই ছিল নীলা আর আরাফাতের প্রেমের প্রথম ঠিকানা—যেখানে তারা হাত ধরেছিল, স্বপ্ন দেখেছিল, আর একে অপরকে বলেছিল, “আমরা দু’জন, একসঙ্গে থাকব সবসময়।”
আরাফাত বিশ্বাস করত, নীলা তারই। নীলাও বিশ্বাস করত, আরাফাত ছাড়া তার পৃথিবী অসম্পূর্ণ।
কিন্তু মানুষ বদলায়—নীরবে, ধীরে, কখনো নিজের অজান্তেই।
একদিন বৃষ্টির দুপুরে নীলা বাগানে এলো এক নতুন মানুষের সঙ্গে—অর্ণব। অর্ণব ছিল নীলার সহপাঠি, শান্ত, গভীর চোখের মানুষ। তারা দু’জন পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। নীলার হাসিটা অর্ণবের সামনে অদ্ভুতভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল—যে হাসি আরাফাত বহুদিন দেখেনি।
আরাফাত দূর থেকে দেখছিল। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন হালকা ব্যথায় মোচড় দিচ্ছিল।
সে এগিয়ে এলো, কিন্তু নীলা চমকে উঠল না—বরং অস্বস্তিতে চোখ সরিয়ে নিল।
“কে?” আরাফাত জিজ্ঞেস করল।
নীলা ধীরে বলল, “অর্ণব… আমার সহপাঠি।”
অর্ণব ভদ্রভাবে মাথা নত করে চলে গেল।
বৃষ্টি তখন আরও জোরে পড়ছে।
আরাফাত নীলার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমার চোখে আমি যা দেখছি… সেটা কি সত্যি?”
নীলা চুপ। তার চোখে অপরাধবোধ, ভয়, আর এক অদ্ভুত শান্তি—যেন সে নিজের ভেতরের সত্যিটা মেনে নিয়েছে।
“আরাফাত…” নীলা অবশেষে বলল, “আমি জানি না কখন, কীভাবে… কিন্তু আমার অনুভূতি বদলে গেছে। তোমাকে ভালোবাসি না—এটা বলার সাহস নেই। কিন্তু আগের মতোও নেই।”
বৃষ্টির শব্দ যেন হঠাৎ থেমে গেল।
আরাফাতের গলা শুকিয়ে গেল। “মানে? আমাদের এত বছরের সম্পর্ক? আমাদের স্বপ্ন?”
নীলা চোখ বন্ধ করে বলল, “স্বপ্ন কখনো কখনো অন্য পথে হাঁটে। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি… কিন্তু হৃদয়কে তো জোর করা যায় না।”
আরাফাত ভেঙে পড়ল না—সে শুধু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখে জল জমল, কিন্তু সে হাসল—একটা ভাঙা, অসহায় হাসি।
“তাহলে আজই শেষবার বৃষ্টি পড়ুক আমাদের জন্য,” সে বলল।
“আজই শেষবার এই বাগান আমাদের গল্প শুনুক।”
নীলা কাঁদতে চাইল, কিন্তু পারল না।
কারণ তার ভেতরের সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়ে গেছে।
আরাফাত ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল, বৃষ্টির পর্দার ভেতর মিলিয়ে গেল।
নীলা দাঁড়িয়ে রইল আমগাছের নিচে—যেখানে তারা প্রথম হাত ধরেছিল।
আজ সেই জায়গাটা শুধু স্মৃতি।
বাগানটা আগের মতোই আছে—পদ্মফুল ফোটে, আম পাকে, বৃষ্টি নামে।
শুধু নীলা আর আরাফাতের গল্পটা নেই।
থেকে গেছে শুধু প্রতিধ্বনি—
Related Posts

Ancient India’s soft power or cultural influence was extensive
During my undergraduate years, one of my teachers once showed a documentary on the projector.Read More

প্রাচীন ভারতের সফট পাওয়ার (Soft Power) বা সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল ব্যাপক
আন্ডারগ্রাড করার সময় এক শিক্ষক একবার প্রজেক্টরে একটা ডকুমেন্টারি দেখিয়েছিলেন। অংকর ওয়াট, কম্বোডিয়ার জঙ্গলে হারিয়েRead More


Comments are Closed