
Islam and the Conflict with Festivals
হ্যালোউইন, থ্যাংকসগিভিং এখন কোন ধর্মীয় উৎসব নয় – কিন্তু ইসলাম পশ্চিমা সমাজে এখানেও বাঁধ সাধে
ধর্মীয় বিধান মতে ইসলাম মূলত কালচারালি আইসোলেটেড। কট্টর ইসলামিস্ট যারা, এদের জীবনে আনন্দঘন মুহূর্ত খুব কমই আসে। ধর্মীয় ভাবেই এদের সঙ্গে আনন্দ–উৎসবের সম্পর্ক নাই। ধর্মীয়ভাবে মুসলমানরা যে দুটো দিন সেলিব্রেট করে তার একটি হলো রোজার ঈদ, আর একটি কুরবানির ঈদ। এই দুটোকে উৎসব বলা হলেও, উৎসব বলতে আমরা যা বুঝি, জানি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুসলমানদের জন্য যে দুটো দিন নবী মুহাম্মদ ফিক্সড করে দিয়েছেন, সেটা মূলত ইবাদতের অনুষঙ্গ। রোজা কিংবা কুরবানি দুটোই ইবাদতের অংশ, কোনোভাবেই উৎসব না। এই দুটো ইভেন্টে কেবল মুসলমানরাই অংশগ্রহণ করে। পহেলা বৈশাখ, ক্রিসমাস, হ্যালোউইন, থ্যাকংস গিভিং বা দূর্গাপুজায় যেমন রাস্তার একজন আগন্তুক মানুষ গিয়ে অংশ নিলেও কেউ জিজ্ঞেস করবে না সে কোন ধর্মের, সেখানে কেন গিয়েছে – ঈদের কোন অনুষ্ঠানে এমন করে অন্য ধর্মের কারো অংশ নেয়ার সুযোগ আছে? ইসলামিস্টরা মেনে নিবে? ইসলাম চায় তারাও কোন উৎসব করবে না, অন্যদেরও তারা করতে দিবে না। তারা সংখ্যাগরিষ্ট হয়ে গেলে তাই করে সেখানে।
প্রতি অক্টোবরের শেষে ও নভেম্বরের শেষে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামিক কমিউনিটিতে একটি পরিচিত বিতর্ক ফিরে আসেঃ মুসলিমরা কি হ্যালোউইন বা থ্যাংকসগিভিং পালন করবেন? একপক্ষ বলে, এগুলো এখন নিছক সামাজিক উৎসব, তাই অংশ নেওয়াই সামাজিক মিলনের লক্ষণ। অন্যপক্ষ বলে, নিজের ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা করতে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত কঠোরভাবে।
হ্যালোউইনের শিকড় প্রাচীন কেল্টিক উৎসব সাওইন (Samhain)-এ, যা ফসল তোলার মৌসুম শেষ ও শীতের শুরুতে পালিত হতো, বাংলায় যেমন চৈত্র সংক্রান্তি, নবান্ন। কেল্টরা বিশ্বাস করত, এই সময়ে জীবিত ও মৃতের জগতের মাঝের পর্দা পাতলা হয়ে যায় এবং মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসে। পরে খ্রিস্টধর্মের বিস্তারের সঙ্গে ১ নভেম্বর “অল সেইন্টস ডে” (সকল সাধুর দিবস) চালু হয়। এর আগের সন্ধ্যা “অল হ্যালোজ ঈভ”, যা থেকে Halloween নামটি এসেছে। এখনকার পোশাক পরা, “ট্রিক অর ট্রিট” ও ক্যান্ডি সংগ্রহ আসলে মধ্যযুগীয় ইউরোপের “সোলিং” ও “গিজিং” প্রথা এবং আইরিশ-স্কটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে আমেরিকায় আসা রীতির বিবর্তিত রূপ। আজ এর বেশিরভাগ অংশই বাণিজ্যিক ও শিশুতোষ, এ কথা ঠিক। এর উৎপত্তির পেছনে মৃত্যু, আত্মা ও খ্রিস্টীয় স্মরণের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ছিল এক সময়, কিন্তু কালের পরিক্রমায় এটা এখন আর ধর্মীয় নয়। কেউ ভাবে না এটা করলে তার কোন পূণ্য হবে কিনা বা তার ধর্ম উপকৃত হবে কিনা।
থ্যাংকসগিভিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। ১৬২১ সালে প্লিমাউথে ইংল্যান্ড থেকে আসা পিউরিটান তীর্থযাত্রীরা (Pilgrims) ওয়াম্পানোয়াগ আদিবাসীদের সঙ্গে ফসল তোলার পর যে ভোজ করেছিলেন, তাকে সাধারণত প্রথম থ্যাংকসগিভিং ধরা হয়। পিউরিটানদের কাছে “ধন্যবাদ জ্ঞাপনের দিন” ছিল ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন একে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেন। আজও অনেক আমেরিকান পরিবার খাবারের আগে প্রার্থনা করে এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানায়। অনেকে করে, অনেকে করে না, আর বেশিরভাগের কাছে এটি পারিবারিক মিলনের দিন।
অভিবাসী অনেক ইসলামিস্টরা এই সমস্ত উৎসব এড়িয়ে চলেন, তাদের যুক্তি মোটামুটি চারটি।
(ক) তাশাব্বুহ বা অন্য ধর্মের অনুকরণ নিষিদ্ধ – এই ধারণা
একটি হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম মনে করেন, যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হয়। এই নীতি ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয়। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির মতো কিছু প্রতিষ্ঠান অমুসলিমদের উৎসবে অংশ নেওয়াকে অনুমোদনযোগ্য মনে করে না। এ ধরনের একটি ফতোয়ায় অমুসলিমদের উৎসবে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। islamway
(খ) শিরক ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের আশঙ্কা
ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহিদ বা এক আল্লাহর একত্ব। হ্যালোউইনে ভূত, ডাইনি, মৃতের আত্মা ও জাদুবিদ্যার যে প্রতীক ব্যবহার হয়, তা কিছু আলেমের চোখে ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী। অনেক আলেম মনে করেন, এতে অংশ নিলে অজান্তে বহুঈশ্বরবাদী চর্চায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। থ্যাংকসগিভিংয়ে এই আপত্তি তুলনামূলক কম, কারণ কৃতজ্ঞতা ও পরিবারকে খাওয়ানোর মূল্যবোধ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তবু প্রার্থনা যদি খ্রিস্টীয় ধাঁচের হয় (যেমন যিশুর নামে), তাহলে কিছু মুসলিমের অস্বস্তি থাকে। religionmediacentre
(গ) পরিচয় ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্বেগ
অভিবাসী মুসলিম পরিবারগুলোর অনেকে ভয় পান, ছোটখাটো সাংস্কৃতিক ছাড় ধীরে ধীরে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষয়ে পরিণত হবে। সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই “পরিচয় রক্ষার” আকুলতা খুব স্বাভাবিক, এবং এটি শুধু মুসলিমদের বিষয় নয়। অর্থোডক্স ইহুদি, আমিশ বা রক্ষণশীল হিন্দু সম্প্রদায়েও একই প্রবণতা দেখা যায়।
(ঘ) নৈতিক ও সামাজিক আপত্তি
কিছু মানুষ হ্যালোউইনের বাণিজ্যিকীকরণ, সহিংসতা ও ভীতিকর চিত্রের গৌরবায়ন, অপচয় ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে অপছন্দ করেন। এ আপত্তি অনেক খ্রিস্টান পরিবারেরও আছে।
এ বিষয়ে মুসলিম বিশ্বেও একক অবস্থান নেই, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য। মিশরের দারুল ইফতা মনে করে, হ্যালোউইন এখন একটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, ফলে বিশ্বাসের মূলনীতি অক্ষুণ্ণ রেখে কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ আছে। থ্যাংকসগিভিং নিয়ে উত্তর আমেরিকার অনেক মুসলিম লেখক ও আলেম যুক্তি দেন, এটি ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক উৎসব, এবং সব ধর্মের মানুষ এতে অংশ নেয়। তাঁদের মতে, বহু ক্ষেত্রে যাঁরা নিষেধ করেন তাঁরা পশ্চিমা সমাজের বাস্তবতা সরাসরি দেখেননি। একই সঙ্গে তাঁরা এ কথাও মানেন যে, কিছু আমেরিকায় বসবাসকারী আলেমও মনে করেন মুসলিমদের এটি পালন না করাই ভালো, এবং এই মতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। Islam and Halloween: between preservation of faith and cultural adaptation
মানুষ যেহেতু বর্নিল উৎসবপ্রিয় তাই ইসলামের শত নির্দেশনা, আইনের রক্তচক্ষুও এসব উৎসবে অংশ নেয়া থেকে মুসলিমদের বিরত রাখতে পারে না। এ বছর ও বিগত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব ও ইরানের মতো কট্টর ইসলামিক রাষ্ট্রেও কিছু মানুষ হ্যালোউইন পালন করতে রাস্তায় নেমেছে। সৌদিতে যদিও সরকার নিজে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও পর্যটনের স্বার্থে (ভিশন ২০৩০) এ ধরনের বিনোদনকে উৎসাহ দিচ্ছে, আর ধর্মীয় আপত্তি জানানো ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ জানালেও রাষ্ট্র পিছিয়ে যায়নি। ইরানে রাষ্ট্র একে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক প্রভাব ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে দেখে দমন করছে। এ থেকে বোঝা যায়, হ্যালোউইনের প্রতি মুসলিম-প্রধান দেশের আচরণ শুধু ধর্মীয় মতের ওপর নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের ওপরও নির্ভর করে।
আবার ২০১৮ সালে রিয়াদে হ্যালোউইন পার্টিতে অংশ নেওয়ায় ১৯ জনের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২২ সালে রিয়াদের বুলেভার্ডে “স্ক্যারি উইকেন্ড” নামে অনুষ্ঠান হয়, যেখানে ভয়ংকর পোশাক পরা দর্শকরা বিনা টিকিটে ঢুকতে পেরেছিলেন। একে সরাসরি “হ্যালোউইন” না বলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার এই আয়োজনকে কঠোরভাবে বললে হ্যালোউইন উৎসব বলা যেত না, এমন “কৌশলগত অস্পষ্টতা” বজায় রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে রিয়াদের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্র ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে হ্যালোউইন-থিমের অনুষ্ঠান, পোশাক প্রতিযোগিতা ও রাত্রিকালীন আয়োজন রেখেছিল।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় মধ্য তেহরানের আর্টিস্টস পার্কের কাছে হ্যালোউইনের পোশাক ও মেকআপ পরা তরুণদের জমায়েত নিরাপত্তা বাহিনী ও সাদা পোশাকের কর্মীরা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েকজনকে মারধর ও আটক করা হয় এবং আশপাশের ক্যাফে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেরুজালেম পোস্টও একই ধরনের খবর দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ ও সতর্কতা সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহে অনেকে পোশাক পরে হ্যালোউইন উদযাপন করেছে। ইরানের নিউজ সাইট রুইদাদ২৪ “কুমড়োর বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই” শিরোনামে নিবন্ধ ছেপে কর্তৃপক্ষের এই পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। এটি আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতাও। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইরান হ্যালোউইনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কারণ হিসেবে “সাংস্কৃতিক দূষণ”-এর কথা বলেছিল। তবু তেহরানের দোকান, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁর জানালায় কুমড়ো, ভূতের মূর্তি ও কঙ্কালের পোশাকের সাজসজ্জা দেখা গেছে। সরকারি প্রকাশ্য উদযাপন নেই, যা আছে তা তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত ও বেসরকারি উদ্যোগ।
এ থেকে দুটি জিনিস বোঝা যায়। প্রথমত, সমস্যাটি “ইসলাম বনাম সভ্যতা” নয়, বরং ইসলামি ফিকহের ভেতরে একটি চলমান বিতর্ক, যা দিয়ে তারা অন্য অনেক মেনে নেয়া জিনিসের পাশাপাশি এ নিয়েও দ্বন্দ্বে আছেন। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি মুসলিমদের বাস্তব আচরণও বিচিত্র। বহু মুসলিম পরিবার থ্যাংকসগিভিংয়ে প্রতিবেশী বা পরিবারের সঙ্গে ভোজ করেন, সন্তানদের ক্যান্ডি সংগ্রহে নিয়ে যান বা অন্তত দরজায় ক্যান্ডি বিলি করেন। আবার অনেকে কোনোটিই করেন না, এমনকি এগুলোর কঠিন বিরোধিতা করেন।
ইসলামের মূল নীতির বাইরে গিয়ে মুসলিমদের যাঁরা এ সমস্ত উৎসবের বিরোধিতার সমালোচনা করেন, তাঁদের যুক্তি হলো, বহুজাতিক সমাজে সামাজিক অংশগ্রহণ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখলে সম্প্রদায় “আলাদা দ্বীপ” হয়ে যায়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়, বিশেষত শিশুরা স্কুলে ও পাড়ায় বাদ পড়া অনুভব করে। এ উদ্বেগ বাস্তব। এটা ব্যক্তি মানুষের বোধ, ইসলামের সর্বগ্রাসী কট্টর নীতির বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান। এটা সভ্যতার একটা সাধারন নিয়ম যে কেউ অন্য দেশে, ভিন্ন সংস্কৃতির স্থানে গেলে সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে হয়। কোন ভিনদেশী বাংলাদেশে গিয়ে যদি পহেলা বৈশাখ নববর্ষের বিরোধিয়া করেন তবে সেটা স্বাভাবিক আচরন না, বরং সেই উৎসবে অংশ নেয়াটাই তার জন্য সমীচীন হবে।
কিন্তু উল্টো দিকের কিছু মানুষের যুক্তিও যুক্তিযুক্ত। প্রতিবেশীকে ভালোবাসা, কাজে-স্কুলে-পাড়ায় সক্রিয় থাকা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা, ভিন্ন উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো, দরজা খুলে সৌজন্য দেখানো, এসব সম্পূর্ণ সম্ভব, আবার একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো আচারে অংশ না নেওয়াও সম্ভব। আধুনিক উদার সমাজের মূল চেতনাই হলো, ব্যক্তি নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো আচারে অংশ না নেওয়ার অধিকার রাখে। একজন নিরামিষাশী যদি বারবিকিউ পার্টিতে না খান, একজন ইহুদি যদি ক্রিসমাস ট্রি না সাজান, একজন যিহোভার সাক্ষী যদি জাতীয় উৎসবে অংশ না নেন, তাতে তাঁদের অসভ্য বলা হয় না। সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রেও একই মাপকাঠি প্রযোজ্য। কিন্তু এগুলোকে যখন ইসলামের নীতিতে ধর্মীয় মোড়কে আলাদা করে মুসলমানদের আলাদা জাতি হিসাবে বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর চেষ্টা চলে সেটা নিছক অসভ্য আচরন, বহুজাতিক সমাজের সঙ্গে তা বেমানান।
অনেক আদিবাসী আমেরিকান থ্যাংকসগিভিং এর দিনটিকে “জাতীয় শোকদিবস” হিসেবে পালন করেন, কারণ ইউরোপীয় উপনিবেশের ফলে তাঁদের জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মুসলিমরাই নয়, আরও অনেকে এই “সর্বজনীন” উৎসবকে সমান সহজ মনে করেন না। তাদের এই অনুভূতির প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের কর্তব্য।
মুসলিমদের কেউ কেউ হ্যালোউইন বা থ্যাংকসগিভিং এড়িয়ে চলেন, কারণ তাঁরা তাশাব্বুহ, শিরকের আশঙ্কা, পরিচয়রক্ষা ও নৈতিক আপত্তির মতো ধর্মীয় যুক্তি অনুসরণ করেন। আবার অন্য অনেক মুসলিম নেতা ও সাধারণ মানুষ ধর্মীয় কট্টরতা এড়িয়ে গিয়ে এগুলোকে সামাজিক উৎসব বলে অংশ নেন। কিন্তু দিনশেষে র্যাডিক্যাল ইসলামিস্টদের আস্ফালন বেশি চোখে পড়ে সোস্যাল মিডিয়ার কল্যানে। যারা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এসমস্ত উৎসবকে তুচ্ছ করে প্রচার করেন তাদেরটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
একটি স্বাস্থ্যকর বহুজাতিক সমাজের মাপকাঠি হলো, ভিন্নমত পোষণ করেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা। মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌজন্য ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করা, যাতে অংশ না নেওয়াটা কখনো দূরত্বে রূপ না নেয়। আর মূলধারার সমাজেরও উচিত, কেউ নির্দিষ্ট কোনো উৎসবে না গেলে তাকে বিচ্ছিন্ন বলে ধরে না নেওয়া। যোগ দেওয়ার স্বাধীনতা যেমন সম্মান পাওয়ার যোগ্য, যোগ না দেওয়ার স্বাধীনতাও তেমনই। তবে এগুলো ব্যক্তির বিষয়, কিন্তু ধর্ম হিসাবে ইসলাম, তার নীতি আদর্শকে ছাড় দিলে র্যাডিক্যাল ইসলামের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে। ইসলামিস্টরা সংখ্যাগরিষ্ট হয়ে গেলে সেই সমাজে এসব উৎসব আর করার সুযোগ থাকবে কিনা সেটা বড় প্রশ্ন – কারন ইসলাম ও উৎসব একসঙ্গে যায় না।
Related Posts

Halloween and Thanksgiving Are No Longer Religious Festivals, Yet Islam Continues to Object to Them in Western Society
According to religious doctrine, Islam is fundamentally culturally isolated. For hardline Islamists, joyful and festiveRead More

Bangladesh’s Special Marriage Act Provides Legal Protection for Interfaith Couples and Non-Religious Individuals to Marry
When discussions of love or marriage arise in Bangladesh, one question keeps coming back: canRead More

বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন দুই ধর্মের মানুষ বা নিধার্মিকদের বিয়ের সুরক্ষা দেয়
বাংলাদেশে প্রেম বা বিয়ের আলোচনা উঠলে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসেঃ ভিন্ন ধর্মের দুজন মানুষRead More

Comments are Closed