
Coexistence with Islam?
ইসলামী মতাদর্শের সঙ্গে কি নিরাপদ পৃথিবীর সহাবস্থান সম্ভব?
পৃথিবীর প্রতিটা গৃহে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) কিতাল করে যেতে হবে – এটা ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ।
২০২৬ সালের এই সময়ে, যখন বিজ্ঞান, মানবাধিকার, যুক্তি ও ব্যক্তিস্বাধীনতা মানব সভ্যতার মূল স্তম্ভ হয়ে উঠেছে, তখন একটি প্রাচীন মতাদর্শের সঙ্গে সহাবস্থান নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামের কিছু মৌলিক শিক্ষা – বিশেষ করে জিহাদ, কিতাল, জিযিয়া ও দাস-দাসী প্রথা – পৃথিবীর প্রতিটি গৃহে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নির্দেশ দেয়। এটি কোনো উগ্রবাদী ব্যাখ্যা নয়, বরং কুরআন, হাদিস ও ক্লাসিক্যাল তাফসীরের সরাসরি উল্লেখ। যারা এই মতাদর্শের সমালোচনা করেন, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সেক্যুলার ও মানবিক সমাজ রক্ষার চিন্তা করেন। সব মুসলমান ব্যক্তিগতভাবে খারাপ নন, কিন্তু মতাদর্শ হিসেবে ইসলামের সার্বজনীন দাবি আধুনিক মানবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কুরআনের সূরা আনফালের ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: “তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর যতক্ষণ না ফিতনা দূর হয় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়।” তাফসীরে ইবনে কাসীর ও অন্যান্য স্কলাররা এখানে ‘ফিতনা’কে শিরক বা অমুসলিম শাসন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ, যতক্ষণ না পৃথিবীতে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যুদ্ধ চলবে। সূরা তওবা ২৯ আয়াত আরও স্পষ্ট: “যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না… আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে, যতক্ষণ না তারা জিযিয়া দেয় হাতে হাতে এবং তারা অপদস্থ হয় (صاغرون)।” এখানে ‘صاغرون’ শব্দটি নির্দেশ করে অপমানজনক বশ্যতা। ক্লাসিক্যাল স্কলাররা যেমন ইবনে কাসীর বলেন, জিযিয়া হলো কাফিরদের অপমান ও নীচু অবস্থার প্রতীক। এটি কোনো সাধারণ কর নয়, বরং ইসলামী আধিপত্যের স্বীকৃতি।
হাদিসেও এই নির্দেশ স্পষ্ট। সহীহ বুখারী ও তিরমিজীতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী বলেছেন: “আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।” আরেক হাদিসে জান্নাতকে “তরবারির ছায়াতলে” রাখা হয়েছে। এই বিধান কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ – যেমনটি অনেক ফিকাহ গ্রন্থে (যেমন আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী) উল্লেখ আছে। আক্রমণাত্মক জিহাদ (offensive jihad) ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যখন শক্তি অর্জিত হয়। বর্তমানে অনেক মুসলিম দেশে বা সম্প্রদায়ে এটি স্থগিত কারণ ক্ষমতার অভাব। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অভিবাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে এই আদর্শ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক স্কলার ও প্রচারক স্বীকার করেন।
উচ্চ জন্মহার এই কৌশলের অংশ। ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রজেকশন দেখায় যে, উচ্চ ফার্টিলিটি রেট (প্রায় ২.৬) ও অভিবাসনের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানিতে মুসলিম অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কিছু ইসলামী প্রচারক প্রকাশ্যে বলেন যে, ফ্রান্স বা ইউকে শরিয়ার ছায়ায় আসবে। বাংলাদেশ-পাকিস্তানে তো ইতিমধ্যে শরিয়াপন্থী জনমত শক্তিশালী। এটি গণতান্ত্রিক উপায়ে “ধীরে ধীরে” আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশল। কিন্তু যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে, তখন সংখ্যালঘু অমুসলিমদের অবস্থা কী হবে – ইতিহাস (পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টান-হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস) তার উত্তর দেয়।
ইসলাম দাস-দাসী প্রথা বিলুপ্ত করেনি, বরং যুদ্ধবন্দীদের “যা তোমাদের ডান হাত অধিকার করে” (মা মালাকাত আইমানুকুম) হিসেবে যৌনসম্পর্কের অনুমতি দিয়েছে (সূরা নিসা ২৪, ২৩:৬)। আওতাস যুদ্ধের পর বন্দী নারীদের সাথে সম্পর্কের অনুমতি দিয়ে আয়াত নাজিল হয় বলে হাদিসে (মুসলিম, তিরমিজী) বর্ণিত। ক্লাসিক্যাল স্কলাররা (শাফেয়ী, হানাফী মাজহাব) বলেন, জিহাদে বিজিত নারীরা গনিমতের মাল, যাদের সাথে মালিকের যৌনাধিকার আছে – সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেন। আধুনিক অনেক স্কলারও স্বীকার করেন যে, ভবিষ্যতে “বৈধ জিহাদে” এটি পুনরায় প্রযোজ্য হতে পারে। এটি মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন – নারীকে যৌনবস্তুতে পরিণত করে।
আধুনিক সভ্য সমাজে সহাবস্থান কি সম্ভব? ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক মুসলমান শান্তিপ্রিয়, ধর্মীয় অনুশীলন করেন এবং আধুনিক জীবনযাপন করেন। কিন্তু মতাদর্শ হিসেবে ইসলামের সার্বজনীনতা (universalism) ও শরিয়ার দাবি (যা অমুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে) সেক্যুলার গণতন্ত্র, সমান অধিকার ও বাকস্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। “দ্বীনে কোনো জোর নেই” (২:২৫৬) আয়াতকে অনেক তাফসীরকার মনসুখ (abrogated) বলেছেন পরবর্তী আয়াত (তওবা ৫, ২৯) দিয়ে। ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত, সমালোচনা শাস্তিযোগ্য (ব্লাসফেমি আইন)।
যারা বলেন “ইসলামকে সমালোচনা করা ইসলামোফোবিয়া”, তাদের ভেবে দেখা উচিত: যদি কেউ না বলে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন পরিবেশে বড় হবে? ইউরোপে নো-গো জোন, শরিয়া প্যাট্রোল, অনার কিলিং, এলজিবিটি বিরোধিতা ও সন্ত্রাসের ঘটনা বাড়ছে। ভারতে লাভ জিহাদ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন – এগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, আদর্শের ফল। যখন মুসলিমরা সংখ্যালঘু, তারা অধিকার দাবি করে; সংখ্যাগুরু হলে শরিয়া চাপায়। এটি “তাকিয়্যা” বা ধাপে ধাপে আধিপত্যের কৌশল হিসেবে দেখা হয়।
ইসলাম মানবতার শত্রু কেন? কারণ এর মূল দর্শন হলো আল্লাহর হুকুমতের সার্বজনীনতা, যেখানে অমুসলিমরা হয় ধর্মান্তরিত, না হয় জিযিয়া দিয়ে অপদস্থ, নয়তো যুদ্ধের শিকার। দাসপ্রথা, নারীর অধস্তন অবস্থান (উত্তরাধিকার, সাক্ষ্য, বহুবিবাহ), মুরতাদের শাস্তি – এগুলো ৭ম শতাব্দীর আরবে প্রচলিত ছিল, কিন্তু আধুনিক যুগে অগ্রহণযোগ্য। বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক মানুষের পক্ষে এমন মতাদর্শের সঙ্গে অন্ধ সহাবস্থান অসম্ভব, কারণ এটি যুক্তি, সমালোচনা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অস্বীকার করে।
আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর, নিরাপদ, জ্ঞানমুখী সমাজ গড়তে হলে ইসলামী মতাদর্শের সমালোচনা অপরিহার্য। এটি ঘৃণা নয়, বরং সত্য অনুসন্ধান। সংস্কারকামী মুসলমানরা যদি কুরআন-হাদিসের এই অংশগুলোকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ করেন এবং সেক্যুলার গণতন্ত্রকে স্বীকার করেন, তবেই সহাবস্থান সম্ভব। কিন্তু যতদিন ইসলাম নিজেকে “পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা” বলে দাবি করবে এবং জিহাদী আদর্শ টিকিয়ে রাখবে, ততদিন কোথাও পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে না।
সমালোচনা মুক্ত চিন্তার ভিত্তি। যদি ইসলাম সত্য হয়, তাহলে সমালোচনায় ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আর যদি না হয়, তাহলে মানবতার কল্যাণে এর অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচিত করা দরকার। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি বিশ্ব রেখে যেতে চাই যেখানে ধর্ম যাই হোক, মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচবে – জিযিয়া, শরিয়া বা জিহাদের ভয় ছাড়াই। এজন্যই ইসলামী মতাদর্শের বিরুদ্ধে মুখ খুলুন। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়, বরং দায়িত্ব।
এই বিষয়ে যদি ইসলামী সোর্সের রেফারেন্সগুলো জানতে চান তবে এই লিংকের আর্টিকেলটা পড়তে পারেন – https://tinyurl.com/y5y84x9s
Related Posts

Is Bangladesh, with 90% Muslims, better than the so‑called free‑sex countries?
Bangu male believers think — and even some women — that the Western world meansRead More

তথাকথিত ফ্রি সেক্সের দেশের চেয়ে ৯০% মুসলমানের বাংলাদেশ কি ভাল?
বাঙ্গু পুরুষ মুমিনদের ধারনা, এমনকি কিছু নারীরও যে – পশ্চিমা দুনিয়া মানে ফ্রি সেক্স, সেখানেRead More

People’s Arabic names are not the property of Allah or Muhammad. Stop demanding that others change their names
One fine morning you log into Facebook and see that everyone—from Mokhles, the tea sellerRead More

Comments are Closed