
Child abuse in the name of examinations
শিশুদের নিবর্তনমূলক ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধে অবতীর্ন করার সিদ্ধান্ত খুবই অমানবিক
হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবী করলেই সেটা যেমন সবসময় সঠিক হয় না, তেমনি শেখ হাসিনাও অনেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে গেছেন, সেটাও সত্য।
প্রশ্নটি শুধু পদ্ধতিগত নয়, এটি একটি গভীর নৈতিক ও শিক্ষাতাত্ত্বিক প্রশ্নও বটে: শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের শুরুতেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসানো কি শিশু অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এই প্রবন্ধে আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দুটি পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন উপস্থাপনের চেষ্টা করব।
বাংলাদেশে ভর্তি পদ্ধতির ইতিহাস
ভর্তি পরীক্ষার যুগ (২০১১-এর আগে)
২০১১ সালের আগে বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হতো। এই পদ্ধতিতে একটি শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই তার “মেধা” যাচাই করা হতো। এর ফলে যা ঘটেছিল তা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
প্রথমত, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের রমরমা বাণিজ্য শুরু হয়েছিল। মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সী শিশুদের কোচিং সেন্টারে পাঠানো হতো, যা তাদের স্বাভাবিক শৈশব কেড়ে নিত। দ্বিতীয়ত, ভর্তিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠতো। তৃতীয়ত, আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা কোচিং করাতে পারলেও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও গভীর হয়ে পড়তো।
লটারি পদ্ধতির প্রবর্তন (২০১১)
এই সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমে হতো।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে এখন পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে।
২০২৬ সালের নতুন সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের মার্চ মাসে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর জাতীয় সংসদে করা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে লটারি পদ্ধতি তার কাছে যুক্তিসংগত মনে হয়নি এবং পরদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে লটারি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “খুব সাধারণ পরীক্ষা নেওয়া হবে” এবং ধীরে ধীরে “জোনিং সিস্টেম” চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিশু মনোবিজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষার তত্ত্ব
শিশু বিকাশের দৃষ্টিকোণ
আধুনিক শিশু মনোবিজ্ঞান ও শিক্ষাতত্ত্ব অনুযায়ী, পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী শিশুরা এখনও বিমূর্ত চিন্তা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী জ্যাঁ পিয়াজেঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, এই বয়সে শিশুরা “প্রি-অপারেশনাল” স্তরে থাকে এবং তাদের শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত খেলাভিত্তিক ও অনুসন্ধানমুখী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এ প্রসঙ্গে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা মানেই শিশুকে একটি “ট্যাগ” দেওয়া যে সে পারে না এবং এভাবে শিশুকে ট্রমার মধ্যে ফেলা উচিত নয়। শিশুর প্রাথমিক বছরগুলোতে পরীক্ষায় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে তার আত্মবিশ্বাস ও শেখার প্রতি আগ্রহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাথমিক বয়সে পরীক্ষাভীতি তৈরি হলে তা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
সমতার প্রশ্ন
শিশুর শেখার ক্ষমতা তার জন্মগত বুদ্ধিমত্তার চেয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, পুষ্টি, পারিবারিক সহায়তা ও প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। একটি ধনী পরিবারের শিশু যে শিশুকেন্দ্রে গেছে, কোচিং করেছে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ পেয়েছে, সে একটি দরিদ্র পরিবারের শিশুর তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই ভর্তি পরীক্ষায় এগিয়ে থাকবে। এটি মেধার পার্থক্য নয়, এটি সুযোগের পার্থক্য। তাই ভর্তি পরীক্ষা আসলে মেধা যাচাই করে না, বরং আর্থ-সামাজিক বৈষম্যকেই পুনরুৎপাদন করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্রের মডেলঃ নৈকট্যভিত্তিক ভর্তি ও প্রতিভা বিকাশের সিঁড়ি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক শিক্ষায় (এলিমেন্টারি স্কুল) শিশুদের কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় না। প্রতিটি শিশুকে তার বাড়ির সবচেয়ে কাছের বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়, যাকে বলা হয় “neighborhood school” বা “zoned school”। এরপর সেখানে লেখাপড়া করতে করতে কোনো শিশু অসাধারণ মেধার পরিচয় দিলে তাকে বিশেষ কার্যক্রমে স্থানান্তর করা হয়।
এই বিশেষ কার্যক্রমগুলো হলো:
ম্যাগনেট স্কুলঃ বিশেষ ক্ষেত্রে (বিজ্ঞান, শিল্পকলা, প্রযুক্তি) মনোযোগী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয়।
গিফটেড প্রোগ্রামঃ যে শিশুরা নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং পাঠ্যক্রম।
এক্সেলারেটেড প্রোগ্রামঃ দ্রুত শেখার প্রতিভাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ত্বরান্বিত শিক্ষা।
এই মডেলের সৌন্দর্য হলো যে প্রতিটি শিশু প্রথমে সমান সুযোগ পায়। তারপর তার মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ভর্তির সময়ের একটি পরীক্ষা কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।
ফিনল্যান্ডের মডেলঃ পরীক্ষামুক্ত শৈশব
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত ফিনল্যান্ডে প্রাথমিক স্তরে কোনো পরীক্ষাই নেই। শিশুরা সাত বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয় এবং প্রথম ছয় বছর কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের মুখোমুখি হয় না। তারপরও ফিনল্যান্ডের শিক্ষার মান বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। এর কারণ হলো, শিশুদের অন্তর্নিহিত কৌতূহল ও শেখার আগ্রহকে পরীক্ষার চাপে নষ্ট না করে সেটিকে লালন করা হয়।
কোরিয়া ও জাপানের বিপরীত অভিজ্ঞতা
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে তীব্র পরীক্ষামুখী শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এই দেশগুলোতে শিক্ষার মান উঁচু হলেও শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আত্মহত্যার হার এবং বার্নআউটের সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। কোরিয়ায় এই সমস্যা এতটাই প্রকট যে সরকার এখন পরীক্ষা নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া
এই দেশগুলোতেও প্রাথমিক স্তরে মূলত এলাকাভিত্তিক ভর্তি নীতি অনুসরণ করা হয়। বিশেষায়িত বা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কার্যক্রম থাকলেও সেটি প্রবেশের জন্য প্রাক-বিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে হয় না।
ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে যুক্তি ও তার পর্যালোচনা
পক্ষের যুক্তি ১ঃ মেধাভিত্তিক নির্বাচন
কেউ কেউ মনে করেন যে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো বিদ্যালয়ে সুযোগ পায় এবং এতে শিক্ষার মান বজায় থাকে।
পর্যালোচনাঃ পাঁচ-ছয় বছর বয়সে কোনো শিশুর “মেধা” বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এই বয়সে একটি পরীক্ষা মূলত পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান ও কোচিং সুবিধার প্রতিফলন ঘটায়, প্রকৃত মেধার নয়।
পক্ষের যুক্তি ২ঃ ভালো বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
কেউ বলেন, লটারিতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো বিদ্যালয়ে সুযোগ পায় না এবং কম মেধাবীরা সুযোগ পেয়ে যায়।
পর্যালোচনাঃ এই যুক্তি আসলে মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যায়। মূল সমস্যা হলো কেন সব বিদ্যালয় একই মানের নয়। “ভালো” ও “খারাপ” বিদ্যালয়ের বৈষম্য থাকলে যে পদ্ধতিতেই ভর্তি হোক না কেন, একটি বড় অংশ বঞ্চিত থাকবেই।
পক্ষের যুক্তি ৩ঃ জবাবদিহিতা ও মানদণ্ড
পরীক্ষা থাকলে শিক্ষার একটি মানদণ্ড বজায় থাকে।
পর্যালোচনা: শিক্ষার মানদণ্ড বজায় রাখার অনেক পদ্ধতি আছে। ভর্তির মুহূর্তে একটি পরীক্ষা সেই উদ্দেশ্য সাধন করে না, বরং পরীক্ষা-পরবর্তী মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণই শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পারে।
লটারি পদ্ধতির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
সুবিধা
লটারি পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সকলকে সমান সুযোগ দেয়। ধনী-গরিব, কোচিং করা ও না করা সকল শিশুর সমান সম্ভাবনা থাকে। এতে শিশুদের উপর মানসিক চাপ নেই, কোচিং-নির্ভরতা নেই এবং প্রাথমিক বছরগুলো শৈশবের আনন্দে কাটানো যায়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে লটারি যেন স্বচ্ছভাবে হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সীমাবদ্ধতা
লটারি পদ্ধতির প্রধান সমালোচনা হলো এটি দৈবের উপর নির্ভরশীল এবং বিদ্যালয়গুলোর মানের পার্থক্য থাকলে লটারিতে পিছিয়ে পড়া শিশুরা নিম্নমানের বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাছাড়া লটারি স্বচ্ছভাবে না হলে দুর্নীতির সুযোগ থাকে।
মূল সমস্যাঃ বিদ্যালয়গুলোর মানের বৈষম্য
ভর্তি পরীক্ষা বনাম লটারি—এই বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে একটি গভীরতর সমস্যা লুকিয়ে আছে। সেটি হলো বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোর মানের ব্যাপক বৈষম্য। ঢাকার মতিঝিলে যে বিদ্যালয়, আর একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় যে বিদ্যালয়—এই দুটির মানের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। একই শহরের মধ্যেও সরকারি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিপুল পার্থক্য রয়েছে।
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেন, সরকার তার কোনো একটি সরকারি বিদ্যালয়কে “ভালো” বলতে পারে না। সব বিদ্যালয় সমমান বা কাছাকাছি হলে লটারিরও দরকার হয় না, ভর্তি পরীক্ষারও দরকার হয় না। যে এলাকার যে বিদ্যালয়, সেই এলাকার শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়বে। তাঁর মতে, দরকার হলো শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ দিয়ে ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয়গুলোকে উন্নত করা।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি—দুটিই হলো একটি ব্যর্থ ব্যবস্থার দুটি ভিন্ন লক্ষণ। আসল সমাধান হলো ব্যবস্থাটিকেই সংস্কার করা।
শিশু অধিকারের দৃষ্টিকোণ
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (CRC), যাতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার আছে এবং সেই শিক্ষা হবে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে। একটি মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ শিশুর অধিকার, এটি কোনো প্রতিযোগিতায় জেতার পুরস্কার নয়।
যদি কোনো বিদ্যালয় “ভালো” হয় এবং সেখানে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় বসতে হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে: যে শিশু সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারল না, তার কি মানসম্মত শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া ন্যায়সঙ্গত? না, এটি ন্যায়সঙ্গত নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে মানসম্মত করা, যাতে কোনো শিশুকে “ভালো বিদ্যালয়ের” জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে না হয়।
একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গিঃ এলাকাভিত্তিক ভর্তি ও বিশেষায়িত পথ
বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে তিন-স্তরবিশিষ্ট একটি নীতি:
প্রথম স্তরঃ এলাকাভিত্তিক ভর্তি (প্রাথমিক স্তর)
প্রাথমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে প্রতিটি শিশু তার বাড়ির কাছের বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। এতে যানজট কমবে, কমিউনিটিভিত্তিক সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হবে এবং শিশুর উপর মানসিক চাপ কমবে।
দ্বিতীয় স্তরঃ মানের সমতা নিশ্চিতকরণ
সরকার নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি এলাকার বিদ্যালয়ের মান একটি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে। এর জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি জরুরি।
তৃতীয় স্তরঃ প্রতিভা বিকাশের বিশেষ পথ
বিদ্যালয়ে পড়াকালীন যে শিশুরা বিশেষ প্রতিভার পরিচয় দেবে, তাদের জন্য বিজ্ঞান, গণিত, শিল্পকলা, ক্রীড়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষায়িত কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠান থাকবে। কিন্তু এই সুযোগ পাওয়া হবে বিদ্যালয়ে কয়েক বছর পড়ার পরে, জন্মের আগেই নয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনো অনেক দেরি আছে, তাই এত তাড়াহুড়ো করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও আলোচনা করে সম্ভাব্য ভালো-মন্দ দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
শিক্ষানীতির মতো একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী বিষয়ে সংসদে একটি প্রশ্নের পরদিনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক। শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, শিশুবিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং শিক্ষক সমাজের সাথে বিস্তারিত পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয় নয়।
বিশ্বের সফলতম শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো আমাদের শেখায় যে শিশু বয়সে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা ও অন্বেষণের মাধ্যমে শেখা হয় সবচেয়ে ফলপ্রসূ। ফিনল্যান্ড থেকে শুরু করে কানাডা—সব দেশেই প্রাথমিক স্তরে এলাকাভিত্তিক ভর্তি এবং পরীক্ষামুক্ত পরিবেশ শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমাধান হলো ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক না করে মূল সমস্যাটির দিকে মনোযোগ দেওয়া: সব বিদ্যালয়ের মান সমান করা। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, এবং সব বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। যতদিন এই কাজ না হচ্ছে, ততদিন লটারি পদ্ধতিই অপেক্ষাকৃত ন্যায়সঙ্গত—কারণ এটি অন্তত সুযোগের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করে।
একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার পাঁচ বছর বয়সের একটি পরীক্ষার ফলাফলে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা—এটি কোনো প্রতিযোগিতার পুরস্কার নয়, এটি প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।
Related Posts

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities
The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা” আইনের অর্থই হলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন এক বাহানা খোঁজা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এটি একটিRead More

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside
Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

Comments are Closed