Islam
A religion began with desert banditry

A religion began with desert banditry

১৪০০ বছর আগে মরু ডাকাতরা নবীর আপন জামাতার বাণিজ্য কাফেলাও লুট করেছিল

৬৩২ সালে হজের সময় (নবী মুহাম্মদের বিদায় হজ) অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার। বর্তমানের এত প্রভাবশালী একটা ধর্মের জন্মস্থানে তার মূল প্রচারকের জীবদ্দশাতেই অনুসারী ছিল মাত্র এতজন। ৬৩২ সালের কাছাকাছি সময়ে পুরো আরব উপদ্বীপের জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৩ লক্ষ। ঐতিহাসিক কলিন ম্যাকএভেডি (Colin McEvedy) এবং রিচার্ড জোন্স (Richard Jones)-এর তথ্যমতে এবং বর্তমান ঐতিহাসিক গবেষণার আলোকে তৎকালীন আরবের জনমিতি এটা পাওয়া যায়। বোঝার সুবিধার্থে এই হিসাবটা দিলাম। সুতরাং এ কথা বলতে পারবেন না যে নবী মুহাম্মদের জীবদ্দশায়, খোদ ইসলামের জন্মভূমিতেই মানুষ ইসলামের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

নবুয়তের ষষ্ঠ বছর মানে ইসলাম শুরুর প্রায় ছয় বছর পর, যখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪০ জনের মতো, তখন জনাব ওমর ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা নিযুক্ত হন। আপনারা জানেন, ওমর একাধারে নবী মোহাম্মদের শ্বশুর, তার কন্যা হাফসা ছিল নবীর বউ। ওমর আবার ছিল নবী মোহাম্মদের নাত জামাই, ফাতিমা-আলীর মেয়ে কুলসুমকে বিয়ে করে বুড়ো ওমর হয়ে যায় নবী মোহাম্মদের নাত জামাই। বুড়ো বয়সে তাদের সন্তানও হয়। আবার ওমর মারা যাওয়ার পর ওমরের বিধবা স্ত্রী উম্মুল বানিন বিনতে হাজারকে বিয়ে করে ওমরের শ্বশুর ও নবীর জামাতা আলী। মোহাম্মদের শ্বশুর ওমর, আবার ওমর মোহাম্মদের নাত জামাই, মোহাম্মদ ওমরের নানা শ্বশুর। মোহাম্মদের জামাতা আলী, আবার আলী ওমরের শ্বশুর। মেয়ের জা-কে বিয়ে করে আলী, এই সম্পর্ককে কী বলে জানা নেই। মাথা ঘুরলে ক্ষান্ত দেন, এটা মূল আলোচনা না। মূল আলোচনা ভিন্ন।

ইসলামী সোর্স কী বলে? ওমর ছিল দুর্ধর্ষ ডাকাত। মোহাম্মদকে হত্যা করার জন্য সে তরবারি নিয়ে রওনা দিয়েছিল, পথে সাহাবি নাঈম বিন আবদুল্লাহ তাঁকে জানান, তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে রাগান্বিত হয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কুরআনের আয়াত শুনে মুগ্ধ হয় এবং তার হৃদয় পরিবর্তিত হয়। এরপর সে দারুল আরকাম-এ গিয়ে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে। এই তো ইসলামী বয়ান, তাই না? এবার কমন সেন্স দিয়ে ভাবুন।

মক্কার গুরুত্বপূর্ণ লোকেরা নবী মুহাম্মদকে পাগল বলত, এখন যদি কোনো পীর নবুয়তের দাবি করেন, তাকেও মানুষ পাগলই বলবে। এতে নবী মুহাম্মদ খুব বিষন্ন থাকত, উনি কয়েকবার পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যাও করতে গিয়েছেন। আল্লাহ কোরআনে একাধিক আয়াত নাজিল করে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, তিনি পাগল নন (৬৮:২, ৮১:২২)। এভাবে কোরআনে পাগল শব্দটি এসেছে মোট ১১ বার। মক্কার লোকেদের কাছে মুহাম্মদের তেমন কোনো গুরুত্বই ছিল না, তার প্রবর্তিত কোরআনের আয়াত যদি এতই আকর্ষণীয় হতো, তাহলে তা অনেক জ্ঞানী ও সাধারণ মানুষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করত।

ইসলামের প্রথম ৬ বছরে অনুসারী ছিল মাত্র ৪০ জন, ১০ বছরে ১০০-র মতো, ১৩ বছরে বড়জোর ৩০০! এই অনুসারী কারা ছিল? খাদিজা প্রমুখ কিছু পেশাদার মানুষ ছাড়া বেশিরভাগই ছিল ভ্যাগাবন্ড, মরু ডাকাত। যাদের মূল পেশাই ছিল চুরি, ডাকাতি, বাণিজ্য কাফেলায় লুট। এসবের আকর্ষণেই মূলত তারা ইসলামে ভিড়েছিল। ওমর ইসলামের মহান সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল? সে মূলত ডাকাতি এবং জেহাদ নামের মানবতাবিরোধী যুদ্ধ করে গনিমতের মাল হিসেবে পাওয়া নারী ভোগ, লুণ্ঠিত সম্পদ প্রাপ্তি—এসবের আশায় ইসলামে ভিড়েছিল। এটাই বাস্তবতা।

মক্কার লোকদের তাড়া খেয়ে মদিনায় যাওয়ার পরেও তাদের কোনো সম্মানজনক পেশা ছিল না। তারা তাদের আশ্রয়দাতা ইহুদিদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের নারীদের দাস বানিয়ে ভোগ করেছে, তাদের সম্পদ লুট করেছে। সিরিয়া থেকে মক্কাগামী বাণিজ্য কাফেলায় লুটপাট চালানো ছিল তাদের মূল জীবিকার উপায়। কারণ এই একদল ভ্যাগাবন্ড কোনো কাজই করত না, তারা খেত কীভাবে?

নবী মুহাম্মদের দলে ভিড়ে সাহাবিরা যখন বলা শুরু করল, তাদের যে সম্পদে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখিয়ে ইসলামে ভেড়ানো হয়েছিল, সেটা কোথায়? তখন নবী মোহাম্মদ জানান, তার জীবিকা তার তরবারির নিচে। তরবারি দিয়েই তাদের পেট চালাতে হবে। এই তরবারি মানে জিহাদের নামে বিধর্মী গোত্রদের ওপর হামলা ও দূরের কোনো জনপদগামী বাণিজ্য কাফেলায় হামলা চালিয়ে লুটপাট। এখানে সহিহ বুখারির লিংক দেওয়া আছে, ১০৮ নম্বর পৃষ্ঠায় (পিডিএফ ১০৯ নম্বর পৃষ্ঠা) দেখুন, ৮৮ নম্বর পয়েন্ট। ত্যানা প্যাঁচানো শুরুর আগে নিচের ১ নম্বর ফুটনোট দেখে নেবেন, সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে নবী মোহাম্মদের জীবিকার উৎস ছিল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গনিমতের মাল। এই লুটপাটলব্ধ সম্পদ নাকি তাদের জন্য ছিল আল্লাহর দেওয়া উপহার!

ডাকাতি, দস্যুতাই ছিল নবী মুহাম্মদ ও তার প্রাথমিক টিমের মূল পেশা। যদি না মানেন, তবে বলে যান তাদের পেশা কী ছিল! বিনা পরিশ্রমে এমন সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য অনেকে, বিশেষ করে চোর, ডাকাতরা তার দলে ভিড়তে শুরু করেছিল। মক্কা, মদিনায় ঐ সময় অনেক জ্ঞানীজন ছিল, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, ব্যবসায়ী ছিলেন, কেউ নবী মুহাম্মদের দলে কিন্তু ভেড়েনি। নবী মুহাম্মদ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে যাকে আবু জেহেল বলতেন—সেই আবু জেহেলের প্রকৃত সম্মান ছিল অনেক উঁচুতে। তাকে মক্কার লোকজন চিনত ‘আবু হাকাম’ বা জ্ঞানের পিতা হিসেবে। নবী মুহাম্মদের ডাকাত দলের বিরোধিতা করায় নবী মুহাম্মদ তার নাম দেন আবু জেহেল বা অজ্ঞের পিতা। স্বয়ং আল্লাহ তাকে বাগে আনতে না পেরে নবী মুহাম্মদের কাছে আয়াতও ট্রান্সফার করে দেন, সূরা আল‑আলাক (৯৬:৯–১৯)। শুধু কি এখানেই শেষ? আবু লাহাবকেও দলে ভেড়াতে পারেনি নবী মুহাম্মদ। কী তাজ্জব ব্যাপার—এই বিশাল মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আবার মক্কার লোকজনের কাছে অসহায় হয়ে তাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে, অভিশাপ দিয়ে আস্ত একটা সূরা (সূরা আল‑লাহাব, ১১১) পাঠিয়ে দেন—“তাব্বাত ইয়াদা আবু লাহাবিউ …”। অর্থসহ পড়ে দেখেন, তাহলেই বুঝবেন, কোরআন কত সামান্য গ্রন্থ, যাকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছুই নেই!

একদিন নবী মুহাম্মদের এই মরু ডাকাতদের দল করল কী জানেন? তারা নবী মুহাম্মদের নিজের বড় মেয়ে জয়নবের স্বামী আবু আল-আস-এর ১৭০টি উটের বাণিজ্য বহর ডাকাতি করে লুটপাট করে নিয়ে এসেছিল। আবু আল-আস মক্কা থেকে গোপনে মদিনায় তার স্ত্রীর কাছে গিয়ে তার সম্পদ লুট ও অসহায়ত্বের কথা জানালে জয়নব বাবার কাছে গিয়ে কেঁদে-কেটে সেগুলো ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানায়। নবী মুহাম্মদ এখানে আবার গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যদিও তার সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলা মানে ছিল অবধারিত মৃত্যু। তিনি সাহাবিদের বললেন, “এই মালামাল এখন তোমাদের প্রাপ্য গনিমত। তবে তোমরা যদি সদয় হয়ে এগুলো ফেরত দাও, তবে আমি খুশি হব।” মুমিনরা এটাকে বিশাল উদারতা হিসেবে দেখে। সাহাবিরা নবী মুহাম্মদের কথায় সম্মতি জানিয়ে স্বেচ্ছায় সমস্ত মালামাল আবু আল-আসকে ফেরত দেন। আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না, নিজেই পড়ে দেখেন। পাবেন, ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খণ্ড (যা ইবনে ইসহাকের সীরাতের সংক্ষিপ্ত রূপ) — ৩৩৭ পৃষ্ঠায়।

নবীর কন্যা বলতে সবাই ফাতিমাকে নিয়েই কথা বলে, বড় মেয়ে জয়নব আড়ালে থেকে যায়, কারণ জয়নবকে নিয়ে কথা বললে নবী মুহাম্মদ ও ইসলামের এসব কলঙ্ক ফাঁস হয়ে যাবে। মরু ডাকাত দলের ডাকাতির ইতিহাস রক্ষার জন্য জয়নব ইতিহাসে অনুক্তই থেকে যায়।

নিচে দুইটা ভিডিও দিলাম, ভিডিওর ডেস্ক্রিপশনে রেফারেন্সও আছে। আগ্রহীরা আরও জানতে ভিডিওদুটি দেখতে পারেন —

এই ভিডিওটি ইউটিউবে গিয়েই দেখতে হবেঃ https://youtu.be/awIB-GYQBW4

Related Posts

The Inhumanity of Islam

Teen girl imprisoned by the Taliban for refusing to marry a 70‑year‑old man! What the Taliban are doing – that is exactly Islam!

A 14-year-old girl named Bibi Sediqa in Afghanistan has been kept imprisoned and tortured forRead More

The Inhumanity of Islam

৭০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে না করায় তালেবানের কারাগারে কিশোরী! তালেবান যা করছে সেগুলোই ইসলাম!

৭০ বছর বয়সি এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আফগানিস্তানে বিবি সেদিকাRead More

Is the Quran Universal?

Did Prophet Muhammad Instruct People to Expose Themselves to Rainwater? Is the Claim of Universality Made by the Qur’an and Hadith Flawed?

A hadith in Sahih Muslim (Hadith Academy: 1968) narrates that Anas (RA) said: During aRead More

Comments are Closed