Qurbani
A Bloodstained Festival

A Bloodstained Festival

একটি রক্তাক্ত উৎসব ও অনেক মুমিন ভাইদের কিছু টেমপ্লেট মন্তব্য …

অনেক মুমিন ভাইয়েরা তো একটু পরেই লম্বা ছুঁরি নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করবেন, রক্তারক্তি করে পশুর রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে নিজেরা ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হবেন। আমরা না হয় কফি খাই। এই ফাঁকে আপনাদে টেমপ্লেট মন্তব্য নিয়ে একটু কথা বলি –

# কুরবানি আসলেই তুরা সবাই পশুপ্রেমী হয়ে যাস।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ CNN শিরোনাম করেছিল – Bangladesh: Rivers of blood run through Dhaka after animal sacrifices. যে ছবিগুলো সেখানে ছিল তাতে চারিদিকে রক্তাক্ত বন্যা দেখা যাচ্ছিল।

মুমিন ভাই, মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী, মানুষ অন্য প্রানীদের নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে তার মানবিক সত্ত্বা বিসর্জন দিবে? আমরাও মাংস খাই। ভিগানরা তাও খায় না, তারা স্বপ্ন দেখে পৃথিবীতে মাংসের জন্য কোন প্রানী হত্যা করা হবে না একদিন। আমরা যেহেতু মাংস খাই, আমরা বলি, উৎসব করে একদিনে লক্ষ লক্ষ পশু জবাই না দিয়ে, যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু বাজার থেকে কিনে খান বা পশুগুলোকে একটু কম যন্ত্রনা দিয়ে মারুন, নির্জন স্থানে কসাইখানায় জবাই দিন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন, শিশুদের সেই জবাই ও মাংস কাটাকাটির দৃশ্য দেখাবেন না। আমরা আপনাদের ভুরিভোজ করতে বাঁধা দিচ্ছি না তো। আমাদের আপত্তির জায়গাটা হলো পদ্ধতি ও পরিবেশ নিয়ে। একটি ধর্মীয় উৎসবের নামে একদিনে লক্ষ লক্ষ পশু যেভাবে রাস্তায়, গলিতে, খোলা আকাশের নিচে জবাই হয়, তা শিশুদের মনস্তত্ত্ব গঠন, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং প্রাণিকল্যাণ – তিনটির জন্যই সমস্যাজনক। দাবিটা এটুকুই।

# তুরা তো মাংস খাওয়া বাদ দিস না, মুসলমানদের কুরবানি দিতে দেখলেই তোদের গা জ্বলে।

সবকিছুতেই একটি “কীভাবে” প্রশ্ন থাকে। আপনি গাড়ি চালান, কিন্তু মাতাল হয়ে চালান না – এতে অসামঞ্জস্য নেই। বাণিজ্যিক স্লটারহাউসও নিখুঁত নয়, সেটা সত্যি। কিন্তু প্রশিক্ষিত কর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করেন, যা যত্রতত্র রাস্তায় পশু কাটার চেয়ে স্বাস্থ্যকর ও কম কষ্টদায়ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর প্রাণিকল্যাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি এবং দক্ষতা – তিনটি মিলে ব্যথার মাত্রা নির্ধারিত হয়। এই তিনটির কোনোটিই রাস্তার কোরবানিতে নিশ্চিত করা হয় না।

# গরীব মানুষ সারাবছর পরে একটু মাংস খেতে পায়, তুরা কি কিনে দিবি?

মুমিন ভাই, আপনারা একদিনে নিজেরা ১০০ কেজি মাংস না নিয়ে যা প্রয়োজন সেটুকু নিতে পারেন। গরীবদেরও একদিন ১০ কেজি না দিয়ে আপনি যখনি বাজার থেকে ৫ কেজি কিনবেন তখন কোন এক গরীবের জন্যও এক কেজি কিনবেন। তাহলে তো আপনারাও খেতে পারেন, ওরাও পারে। ওদের ফ্রিজ নেই, একদিনে এতো মাংস খাওয়া তো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সেটা পুষ্টি বা প্রোটিনের চাহিদার কোন উন্নতি করে না।

বাংলাদেশের মানুষের গড় প্রোটিন গ্রহনের হার বিদেশের তুলনায় কম। তার মানে বিদেশের মানুষ বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশি মাংস খায়। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনের অনেক বেশি খায় না।

# কুরবানির পশু জবাইয়ের সময় ব্যাথা পায় না, এটা আল্লাহর কুদরত।

এটি একটি ধর্মীয় বিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক দাবি নয়। বিজ্ঞানের আলোয় দেখলে চিত্রটা ভিন্ন। গরু, ছাগল, ভেড়া সবই উন্নত স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System) মানুষের মতোই জটিল। এদের শরীরে নোসিসেপ্টর (Nociceptor) নামক ব্যথাগ্রাহক রিসেপ্টর আছে, যা আঘাতের সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়। বিখ্যাত প্রাণীবিজ্ঞানী ড. টেম্পল গ্র্যান্ডিন, যিনি স্লটারহাউস ডিজাইনে বিশ্বের অন্যতম বিশেষজ্ঞ, বারবার বলেছেন – জবাইয়ের আগে পশু ভয় ও যন্ত্রণা অনুভব করে, এটি পরিমাপযোগ্য।

পাঁচ-ছয়জন মানুষ মিলে একটি পশুকে জোর করে মাটিতে শোয়ানোর সময় তার কর্টিসল (Cortisol) ও অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায় – এটি প্রমাণিত। এর অর্থ হলো পশুটি তীব্র ভয় ও শারীরিক চাপে থাকে।

# মুসলিম জবাই পদ্ধতি সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক, পশু সবচেয়ে কম ব্যথা পায়। জার্মান বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডব্লিউ. শুলজে (Wilhelm Schulze) বলেছেন জবাই সবচেয়ে বিজ্ঞান সম্মত।

এই দাবির মূলে রয়েছে ১৯৭৮ সালে জার্মানির হ্যানোভার ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলহেলম শুলজে (Wilhelm Schulze)-এর একটি গবেষণা।

গবেষণাটি কী বলেছিল সেটা সঠিকভাবে বুঝতে হবে। শুলজের গবেষণা বলেছিল – সঠিকভাবে করা হালাল জবাই পশুকে দ্রুত অচেতন করতে পারে। কিন্তু “সঠিকভাবে” মানে হলো অত্যন্ত ধারালো ছুরি দিয়ে অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তির এক টানে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং দুটি প্রধান রক্তনালী (Carotid Artery ও Jugular Vein) একসাথে কাটা।

তিনটি বড় সমস্যা আছে এখানে।

সমস্যা এক: গবেষণার মানগত সমালোচনা। পরবর্তী দশকগুলোতে গবেষকরা শুলজের EEG ডেটা ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্টানিং ছাড়া সরাসরি জবাইয়ে পশু অচেতন হওয়ার আগের কয়েক সেকেন্ডে ব্যথা অনুভব করে এবং রক্ত শ্বাসনালীতে ঢুকে দমবন্ধ ভাব তৈরি হতে পারে।

সমস্যা দুই: আদর্শ পরিস্থিতি বনাম বাস্তবতা। ড. গ্র্যান্ডিনের গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর ক্ষেত্রে জবাইয়ের পর অচেতন হতে আদর্শ পরিস্থিতিতে ৫-১০ সেকেন্ড লাগলেও ছুরি সামান্য ভোঁতা হলে বা কাটতে সময় লাগলে তা ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে – এই পুরো সময়টি পশু যন্ত্রণায় থাকে।

সমস্যা তিন: বাংলাদেশের বাস্তব প্রেক্ষাপট। যে হুজুররা ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে কোরবানি দেন, তারা কি এই মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত? তাদের ছুরি কি আন্তর্জাতিক মানের ধারালো? উত্তর স্পষ্ট।

আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে?

আধুনিক প্রাণিকল্যাণ বিজ্ঞানের মূল নীতি একটাই – পশুকে কম কষ্ট দিতে চাইলে জবাইয়ের আগে তাকে অচেতন করতে হবে, যাতে মস্তিষ্ক ব্যথার সিগন্যাল প্রসেস করতে না পারে।

বর্তমানে তিনটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

ক্যাপটিভ বোল্ট পিস্তল (Captive Bolt): পশুর মাথায় নির্দিষ্ট বিন্দুতে আঘাত করে মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক শক দেওয়া হয়। পশু ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে অচেতন হয়, হৃৎপিণ্ড সচল থাকে। এরপর জবাই করা হয়।

ইলেকট্রিক স্টানিং (Electrical Stunning): মস্তিষ্কের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে পশুকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন করা হয়। মূলত মুরগি ও ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত।

গ্যাস স্টানিং (CO₂ Stunning): কার্বন ডাই-অক্সাইড চেম্বারের মধ্য দিয়ে পশুকে অচেতন করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই সমস্যার একটি সমাধান অনেক মুসলিম দেশই গ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন বোর্ড “রিভার্সিবল ইলেকট্রিক স্টানিং” অনুমোদন করেছে – অর্থাৎ পশুকে হালকাভাবে অচেতন করা হয় (মারা যায় না), তারপর হালাল উপায়ে জবাই করা হয়। ইসলামী বিধানও বজায় থাকে, পশুর কষ্টও কমে। আমেরিকার কস্টকো বা স্যামস ক্লাবে যে অস্ট্রেলিয়ান হালাল সার্টিফায়েড মাংস বিক্রি হয়, সবই এই পদ্ধতিতে প্রসেস করা।

# তুই দাঁত ব্রাশ করলে হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, তুই মশা-মাছি মারিস।

এটি একটি ক্লাসিক false equivalence বা মিথ্যা সমতুলনা।

ব্যথার অনুভূতির জন্য প্রয়োজন জটিল কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, নোসিসেপ্টর এবং মস্তিষ্কের জটিল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা। এই তিনটি মিলিয়ে তৈরি হয় যাকে আমরা “কষ্ট” বলি।

ব্যাকটেরিয়ার কোনো স্নায়ুতন্ত্র নেই, মস্তিষ্ক নেই। তাদের “প্রতিক্রিয়া” রাসায়নিক সংকেতের স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া মাত্র।

কীটপতঙ্গের বিষয়টি আরো সূক্ষ্ম। ২০২১ সালে Queen Mary University of London-এর গবেষণায় দেখা গেছে কিছু পোকামাকড়, যেমন মৌমাছি, আঘাতের পরে আচরণ পরিবর্তন করে যা কষ্টের মতো অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি মানুষ বা স্তন্যপায়ীদের মতো জটিল কষ্টের অভিজ্ঞতার সমতুল্য কিনা তা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

গরু বা ছাগলের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো সংশয় নেই – এরা ব্যথা পায়, ভয় পায়, মানসিক চাপ অনুভব করে। এটি পরিমাপযোগ্য এবং প্রমাণিত।

# তুই যে কফি খাচ্ছিস, ভাত খাচ্ছিস, জানিস তো উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, তাদেরও ব্যাথার অনুভূতি আছে।

কফি গাছ বা ধান গাছ মানুষের মতো ব্যথা পায় না। এই দাবিটি বৈজ্ঞানিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

ব্যথা পাওয়ার জন্য যে ধরনের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক দরকার, উদ্ভিদে তার কিছুই নেই। তবে উদ্ভিদ সম্পূর্ণ জড়ও নয়। কফির পাতা ছিঁড়লে গাছটি ক্ষত সারাতে জ্যাসমোনিক অ্যাসিডের মতো হরমোন নিঃসরণ করে। এটি একটি জৈব-রাসায়নিক আত্মরক্ষা প্রক্রিয়া, কোনো অনুভূতি নয়। “প্রাণ আছে” মানেই “ব্যথা পায়” – এই সমীকরণ জীববিজ্ঞানে সঠিক নয়।

সংক্ষেপে, ব্যথা পাওয়ার জন্য যে ধরনের উন্নত মস্তিষ্ক ও স্নায়ু দরকার, তা ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্যে অত্যন্ত সীমিত এবং উদ্ভিদের ক্ষেত্রে একেবারেই নেই। তাই কফি গাছ থেকে কফি ছিঁড়লে গাছটি আঘাতের প্রতিক্রিয়া দেখায় ঠিকই, কিন্তু কোনো ব্যথা পায় না।

# তুই হিন্দু, তুরা যখন বলি দিস সেটা চোখে দেখিস না?

প্রথমত, আমি হিন্দু না, মুসলিম পরিবারে জন্মানো একজন, এখন হিউম্যানিস্ট। যখন আপনারা আমার বাবা-মায়ের নামে গালি দেন, মনে রাখবেন আমার বাবা-মা প্র্যাকটিসিং মুসলমান – অর্থাৎ আপনাদেরই মুমিন ভাই-বোন, তবে উগ্র না, লিবারাল।

দ্বিতীয়ত, হিন্দু বলিদান পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন একই মানদণ্ডে হওয়া উচিত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক কোপে মেরুদণ্ড ও প্রধান রক্তনালী বিচ্ছিন্ন করা হলে মস্তিষ্কে রক্তচাপ তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয়, পশু মিলিসেকেন্ডের মধ্যে অচেতন হয়। এটি নিউরোসায়েন্সের দৃষ্টিতে দ্রুত পদ্ধতি, তবে শর্ত হলো কোপ নিখুঁত হতে হবে।

কোপ নিখুঁত না হলে – অস্ত্র ভোঁতা হলে, পশু নড়ে গেলে, প্রথম কোপে কাজ না হলে – পরিণতি অন্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে ভয়াবহ। এই ঝুঁকিটাই বলিদানের বড় দুর্বলতা।

একটি প্রযুক্তিগত পার্থক্যও আছে। মাথা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেলে হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব বৈদ্যুতিক সিস্টেম (SA Node) কিছুক্ষণ সচল থাকে, তবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। মুসলিম পদ্ধতিতে মাথা আলাদা না করায় হৃৎপিণ্ড বেশি সময় পাম্প করে রক্ত বের করতে পারে – মাংসের গুণমানের জন্য এটি সুবিধাজনক।

# রক্ত শরীর থেকে বের না করে দিলে সেটা হারাম ও ক্ষতিকর।

ভাইরে, সব পদ্ধতিতেই রক্ত শরীর থেকে বের করে দেয়া হয়। সাময়িক অচেতন করার পরপরই তো রক্ত বের করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্টানিং মানে মেরে ফেলা নয়, অচেতন করা। রক্ত বের করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণই বজায় থাকে। বরং বাংলাদেশের অনেক কসাই তো উল্টো মাংসের ওজন বাড়ানোর জন্য রক্ত, পানি পুশ করে। মাংস টাটকা দেখানোর জন্য রক্তে চুবিয়ে নেয়, মাংসে রক্ত মাখায়।

# পশু সৃষ্টি করেছেন যিনি, তিনিই এই বিধান দিয়েছেন।

মুমিন ভাই, এটা আপনাদের দাবী। এই দাবীর উপর ভিত্তি করে আপনারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। এই পৃথিবীতে আপনাদের চেয়ে বেশি সংখ্যাক মানুষ আপনাদের এই দাবীকে নাকচ করে দেয়। এরপরেও যদি আপনাদের কোরআন, হাদিসকে ঐশী বলে দাবী করেন তবে সেখানে অনেক বৈপরিত্য, ভুল, অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক, কেচ্ছা-কাহিনী আছে – যা কোন ধর্মীয় গ্রন্থ ও তার সৃষ্টিকর্তাকে ইনভ্যালিড করে দেয়। পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশে সবার সহাবস্থানে আপনারা যদি আস্থা রাখেন তবে এই সমস্ত অহংকারী ও উদ্ধত দাবী বাদ দিতে হবে। সার্বজনীন নৈতিকতার প্রশ্নে – যেমন পশুর কষ্ট কমানো -ধর্মনিরপেক্ষ যুক্তিই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

শেষ কথা –

আমাদের গালি দেয়াটা আপনাদের জন্য সহজ, এতে ইসলামের হেরে যাওয়ার গ্লানির আপনাদের যে ভয় তা কিছুটা রিলিজ হয় বলে আপনারা সাময়িক স্বস্তি পান বটে! কিন্তু এতে ইসলামের খুব বেশি লাভ হয় না। অন্যদিকে যদি আপনারা আরো মানবিক আচরণ করেন, আপনারা আরো বেশি সেন্সিবল হয়ে উঠেন, শিশু, পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রানীর প্রতি বেশি সহানুভূতি দেখান, আপনারা যদি মানুষের ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতাকে সম্মান করতে শিখুন, যদি মানুষের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ধর্মের বাম হাত ঢুকানো বন্ধ করে দেন – তবে লাভটা ইসলামেরই হবে, আপনাদের নিয়ে তেমন কেউ আর সমালোচনা করবে না। আপনাদের আলাদা হিসাবে দেখার যে রেওয়াজ বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে তাও কমতে শুরু করবে।

Related Posts

Islam and Bengali Culture

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?

This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

Islam and Bengali Culture

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?

এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Islamist cyber‑based jihad activities

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?

Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed