Quran
When the Quran causes a massacre

When the Quran Causes a Massacre

কোরআন এমন একটি বই, যার উন্মাদ সমর্থকরা একজন নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে, আগুণে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে!

২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার এক চরম গুজবকে কেন্দ্র করে শহীদুন্নবী জুয়েল (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মেরেছিল হাজার হাজার উন্মাদ তৌহিদী জনতা, মনে আছে? তার কোরআন অবমাননা হয়েছিল কিভাবে জানেন? উনি কিন্তু ছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। নামাজ পড়ার পরে কোরআন তেলাওয়াত করার জন্য হাতে নিয়েছিলেন, হাত ফসকে সেই কোরআন নীচে পড়ে যায়, সেটাই ছিল তার কোরআন অবমাননা!

বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামী দেশের আদালতে কোরআন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এ পর্যন্ত বহু মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালেও ইরানে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোরআন অবমাননার অভিযোগে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় ৪০ জনের বেশি মানুষ কোরআন ও ধর্ম অবমাননার দায়ে ডেথ রো বা ফাঁসির আসামির সেলে আছেন। কোরআন বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সরকারিভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে বা ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র পাকিস্তানেই ১৯৮৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষকে ব্লাস্ফেমির অভিযোগে গণপিটুনি দিয়ে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশেও কোরআন অবমাননার গুজব বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনি ও আগুণে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অনেক ঘটনা ঘটেছে। গত বছর, ২০২৫ সালে এই বাংলাদেশেই পিটিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো দীপু চন্দ্র দাসকে।

কী এমন বই যেটা যেখানে সেখানে রাখলে অবমাননা হয়, উপরে ধূলা-বালি জমলে অবমাননা হয়, অজু না করে ধরলে অবমাননা হয়, এর উপরে চায়ের কাপ রাখলেও অবমাননা হয়? এই বইয়ের হাস্যকর কিছু নিয়ে কৌতুক করলেও অবমাননা হয়। এবং তার জন্য একজন মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলা যায়! আসিফ মহিউদ্দীন ও তসলিমা নাসরিন একবার (সম্ভবত লন্ডনে) ডিসকাশনের সময় কোরআনের উপরে চায়ের কাপ রেখেছিলেন। আর যায় কোথায়, বাংলাদেশের মুমিন সমাজ গালিগালাজ, হুমকি-ধামকি দিয়ে সোস্যল মিডিয়া ফ্ল্যাডিং করেছিল, সেবার হাতের কাছে পেলে তো মেরেই ফেলতো। আবার এই বইতে পা রাখলেও অবমাননা হয়, কমোডে ফ্ল্যাশ করলেও হয় অবমাননা! একটা পৌরানিক রুপকথার অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক, কেচ্ছা-কাহিনী দিয়ে ঠাঁসা বই কেউ টাকা দিয়ে কিনে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এই বই কেনারই বা কি দরকার? স্রেফ টাকার অপচয়।

যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেন, কোরআন, হাদিস সেই ১৪০০ বছর আগে কিছুটা প্রাসঙ্গিক ছিল, তবে এখন তা কোন বিচারেই, সভ্যতার কোন মানদন্ডেই তা বিবেচনায় নেয়ার মতো কিছুই না আজকের দিনে। কোরআন, হাদিস পড়া মানে স্রেফ মূল্যবান সময়ের অপচয় করা। উন্নত দেশের স্কুল, কলেজে সাধারন ছাএ-ছাত্রীরা এসব ধর্মগ্রন্থ নিয়ে ভাবেই না, অনেকে জানেই না কোন ধর্মের গ্রন্থের নাম কী। আমাদের পড়তে হয় কোরআন, হাদিস – কারন আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, আমাদের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে যে অঞ্চলের বড় সংখ্যক মানুষ আবার মনে করে এগুলোই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জ্ঞানের ভান্ডার। যে ভাষা ও অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এই বিশ্বাস, মতাদর্শ নিয়ে জীবন পার করে, সেগুলো থেকে উৎসাহিত হয়ে ভয়ংকর তান্ডব করে, মানুষ হত্যা করে, অন্য ধর্মের মানুষের উপাসনালয় তছনছ করে, তাদের বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয় – সেই বইগুলো না দেখে আমাদের উপায় থাকে না, কারন আমরা সেগুলোর অসারতা দেখিয়ে দেই, অন্ধকার দিক তুলে ধরি। তৌহিদী জনতার অবান্তর, অযৌক্তিক, ফ্যালসিতে ভরা প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেও পড়তে হয়।

কোরআন ও তার রচয়িতা নিয়ে প্রশ্ন করলে আবার বাংলাদেশে ইসলামের উগ্র অনুসারীরা কল্লা কেটে নিতে উদ্যত হয়। এমন একটি গ্রন্থে কী এমন আছে যে এতো লক্ষ লক্ষ উন্মাদ তৈরি করতে পারে বিশ্বজুড়ে? এসব জানার জন্য হলেও কোরআন, হাদিস পড়তে হয়। কিন্তু এই সময়টা স্রেফ অপচয়। এগুলো স্থবির জ্ঞান বা অপজ্ঞান। যে জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, যা সবসময় একই অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যে জ্ঞানের কোন ভুল বের করলে সেটা সংশোধন করার সুযোগ থাকে না তা আদতে কোন জ্ঞানই না। জ্ঞান এমন একটা জিনিস যার প্রবাহ থাকতে হয়, একটা থেকে একাধিক নতুন জ্ঞান তৈরি হয়। নিউটনের সূত্রগুলোকে আপাতত নির্ভুল মনে হলেও কেউ যদি প্রমান করে দিতে পারে সেগুলো ঠিক নয় – তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কারো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আপনি চাইলেও কোরআনের ভুলকে সংশোধন করতে পারবেন না, সেই সুযোগ ইসলামে নেই। তাদের ধারনাই হলো সেখানে কোন ভুল থাকা সম্ভব না।

ইসলাম ও কোরআনকে ঘোড়ার ডিম প্রমান করার জন্য তো সব পড়ারও দরকার নেই। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গ্রন্থ, তার বাহক আবার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সবার জন্য সর্বকালের আদর্শ, তার জীবনে কোন অন্যায় নেই – এই দাবীর বিপরীতে মাত্র একটা ভুল দেখাতে পারলেই তো ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বেলুন ফুঁটা হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে কোরআন, হাদিসে শত শত ভুল ভ্রান্ত্রি, অবৈজ্ঞানিক, গাঁজাখোরী, অমানবিক, মানুষের জন্য ক্ষতিকর, আজগুবি, কুসংস্কারাছন্ন, নৃশংস অনেক কিছু আছে। এই গ্রন্থ, এই ধর্ম, এর প্রবক্তা ঐশ্বরিক হয় কিভাবে? কোরআন, হাদিস না পড়ে স্রেফ বিবেক সমৃদ্ধ কমন সেন্স দিয়েই তো বোঝা যায় আধুনিক বিজ্ঞান, আধুনিক আইন, কল্যানকামী অর্থনীতি, জনকল্যানকামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকারের ধারনা, মানুষের মর্যাদার ধারনা ভাল নাকি কোরআন, হাদিস নামক আগডুম-বাগডুম পৌরানিক কেচ্ছা-কাহিনী ভাল। এই সিম্পল ইকুয়েশানের রেজাল্ট বের করতে তো রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। সমস্যা হলো, ছোট থাকতেই মাথায় জোর করে গেঁথে দেয়া ইসলামের ফাঁপা বেলুন থেকে সহজে তৌহিদী জনতা বের হতে পারে না।

আগুণের ছবিটা কিন্তু এআই না, ২০২০ সালের সেই ঘটনার সত্যিকারের আগুণের ছবি যেখানে নিরীহ লোকটিকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছিল ইসলামের তৌহিদী জনতা।

Related Posts

The Ongoing Aggression of Islam

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today

The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

The Ongoing Aggression of Islam

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান

প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!

Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed