
Vandalism by the Islamic Extremists
বাংলাদেশের মুসলিম উগ্রবাদীরা হিন্দুদের উপর আর কতো অত্যাচার চালাবে?
বুদ্ধি জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি, ইসলাম ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের নবীকে অবমাননার অযুহাতে সনাতন ধর্মের মানুষকে মারধোর, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, ভেঙ্গে দেয়া, তান্ডব চালানো এগুলো চলে আসছে। আগে পরিমান ও মাত্রা কম থাকলেও বিগত দুই দশক ধরে এগুলো মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এর পিছনে আছে ঘাটে, মাঠে, পথে, ফেসবুকে, ইউটিউবে উগ্র ইসলামের প্রচার। অবশ্য এই উগ্র ইসলামই আসল ইসলাম, ইসলামের যে শান্তিপূর্ণ ভাব দেখানো হয় সেটাই বরং ভন্ডামি। প্রকৃত ইসলাম সবসময় উগ্র, সেখানে ভিন্নমতাবলম্বীর, ভিন্ন ধর্মের মানুষের, মুক্তমনাদের, শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞানী, নারী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কোন মর্যাদাকর স্থান নেই।
বাংলাদেশে মুক্তমনা, ভিন্নমতাবলম্বী, সনাতন, বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা খুব সহজ টার্গেট। তাদের পক্ষে প্রতিবাদ করার কোন শক্ত প্ল্যাটফর্ম নেই। কারো শাস্তি হবে না, এটা ইসলামিস্টরা জানে। সেজন্য কিছু না কিছু হলেই সনাতন ধর্মের মানুষকে হত্যা কর, আগুনে পোড়াও, ধর, মার, কাট, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দাও, ভেঙ্গেচুরে তান্ডব চালাও, লুটপাট কর, তাদের জমি-জায়গা, সম্পদ দখল করে নাও, তাদের জেলে ভর, জামিন দিও না, বছরের পর বছর আটকে রাখ। এটাই তো সংখ্যাগরিষ্ট উন্মাদ ইস্লামিস্টদের দেশে সংখ্যালঘু সনাতনীদের নিয়তি। এটাই চলছে যুগের পর যুগ। আবার সবাই মুখে বলবে শান্তির ধর্ম ইসলাম, শান্তির দেশ বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ! বৃক্ষের নাম তো ফলে পরিচয় পাওয়া যায়। বিষবৃক্ষের ফল কী কখনো সুখকর হয়? সনাতনীদের শারিরীক, মানসিক অত্যাচারের ১০১ টা কারন বজায় রেখে আবার প্রশ্ন করা হয় তারা কেন দেশান্তরী হয়!
ইসলামের নিজেদের লোকদের রচনা ছাড়া আর কোন নিরপেক্ষ সোর্স নেই। আপনি গ্রীক সভ্যতার ইতিহাস পাবেন অন্য দেশের ইতিহাসবিদদের থেকে, একাধিক সোর্স পাবেন । আপনি মিসরের ফারাওদের ইতিহাস পাবেন ইউরোপীয় কোন পর্যটকের লেখায়। কিন্তু আপনি ইসলামের নবী ও ইসলামের কোন নিরপেক্ষ ইতিহাস পাবেন না, কোথাও নেই। ইসলামের সোর্স বলতেই কোরান, হাদীস, সিরাত; সেগুলর ব্যাখ্যা হিসাবে আছে তরজমা, তাফসির। কোরান লিখেছে কে? নবী মোহাম্মদ। সেটা আবার খলিফারা এডিট করেছে সময়ে সময়ে, অনেক কিছু বাদ দিয়েছে, ঢুকিয়েছে। হাদীস লিখেছে কারা? নবীর মারা যাওয়ার শত বছর পরে মানুষের মুখে মুখে ফেরা কেচ্ছা কাহিনী নিয়ে সেগুলো লিখেছে পারস্যের লোকেরা। সিরাতও লিখেছে তারাই। এগুলোই ইসলামের একমাত্র সোর্স ও ইতিহাস।
বিজয়ী হয়ে যারা ইতিহাস লেখে তারা সবসময় নিজেদের গুণকীর্তন গায়। তাদের ইতিহাসে নিজেদের অপকর্মের কথা থাকে না। আপনি আপনার নিজের জীবনী লিখলে সেখানে কি নিজের অপকর্মের ফিরিস্তি দিবেন? এর পরেও কোরান, হাদীস, সিরাত ঘেটেই দেখা যায় সেগুলো ডজন ডজন দ্বিচারিতা, অমানবিকতা, শঠতা, প্রতারনা, হত্যা, ধর্ষণ, কুসংস্কার, নোংরামি, অবৈজ্ঞানিক কাজ কারবার, কেচ্ছা কাহিনীতে ভরপুর। আপনি বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ হলে নিজেই কোরান, হাদীস অনুবাদ, তর্জমা, তাফসিরসহ পড়লে সেগুলো খোলা চোখেই দেখতে পাবেন। এখন ইসলামের সোর্সের এই কথাগুলো বললেই সেটা ইসলাম, আল্লা, নবী অবমাননা হয়ে যায়? আপনার তো বানিয়ে বলার দরকার নেই, গালি দেয়ার দরকার নেই, শুধু কোরানের অনুবাদ, হাদীসের অনুবাদ, সিরাত, তরজমা, তাফসির থেকে সেগুলো বর্ননা করলেও ইসলামিস্টরা মনে করে ইসলাম, আল্লা ও নবীর অবমাননা করা হচ্ছে। তাহলে তারা কোরান, হাদীস, সিরাত, তরজমা, তাফসির থেকে সেগুলো বাদ দেয় না কেন?
বর্তমান সভ্য দুনিয়ার নিয়ম অনুযায়ী ৫৩ বছরের কোন বুইড়া ৬ বছরের কোন শিশুকে বিয়ে করে ৯ বছর বয়সে তার সঙ্গে যৌনতা করলে সেটা হয় ধর্ষণ। যুদ্ধে পরাজিত বাহিনীর সকল পুরুষকে হত্যা করে তাদের শিশু ও নারীদের বন্ধী করে সেই নারীদের গনিমতের মাল হিসাবে দাসী বানিয়ে তাদের সঙ্গে যৌনতা করাও হয় ধর্ষণ। আপনি একটি গোত্রের শিশুরা ভবিষ্যতে আপনার বিরুদ্ধাচারন করবে এই ভাবনায় তাদের সবাইকে কচুকাটা করবেন, সেটাকে খুন, গণহত্যা বলা যাবে না? গণহত্যার ক্লাসিক সংজ্ঞাতেই ইসলামের নবী মোহাম্মদ একজন গণহত্যাকারী, মানবতা বিরোধী অপরাধী। আপনার বিরুদ্ধে কেউ কবিতা লিখলে আপনি তাকে গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করবেন, আপনাকে মানুষ খুনি, নরপশু বলতে পারবে না? আপনি বিধান করবেন অমুসলিমরা আপনার রাষ্ট্রে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক হয়ে অনেকগুণ বেশী ট্যাক্স দিয়ে অসম্মানের জীবন কাটাবে – আর আপনাকে মানুষ অসভ্য, বর্বর, মানবতা বিরোধী বলতে পারবে না? আপনি তরুণ বয়সের ক্রাশ, চাচাতো বোনের স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার ঘরে রাত কাটিয়ে সকালে ধরা পড়ে সেই সময়ের রুপকথার গল্প আর দে ভিরাজের কেচ্ছা কাহিনীকে মেরাজ বলে চালিয়ে দিবেন – সচেতন মানুষ আপনাকে ধান্দাবাজ বলবে না, আপনাকে গাঁজাখোর বলবে না? আপনি পুত্রবধূর শরীর দেখে তার সঙ্গে যৌনকর্ম করতে উদগ্রীব হয়ে যাবেন, ছেলের সঙ্গে ডিভোর্স করিয়ে তাকে বিয়ে করে শরীর ভোগ করবেন, আপনাকে কেউ কামুক, লম্পট, লুচ্চা বললে সেটা দোষের?
আপনি বিধান করবেন কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে, কেউ আল্লার অস্তিত্ব মেনে না নিলে সে হবে মুরতাদ, তাকে হত্যা করতে হবে। আপনি নিজেকে সব কিছুর উর্দ্ধে, এমনকি আল্লারও উর্দ্ধে উঠিয়ে আইন করবেন, আপনার সামান্য সমালোচনা করলেও সে হয়ে যাবে শাতিম, সে ক্ষমা চেয়ে অনুতপ্ত হলেও তাকে হত্যা করতে হবে। এখন আপনাকে এই সভ্য দুনিয়ায় কেউ বর্বর, অসভ্য, অমানুষ, মানবতা বিরোধী অপরাধী বললে সেটা তার দোষ? আপনার করা এই বিধানের কারনেই তো উগ্র ইসলামিস্টরা অন্যদের জীবন, বাড়িঘর, সম্পদ ধ্বংস করে।
আপনি রোগ জীবানু ভরা মাছি দুধে চুবিয়ে খাবেন, আপনি নিজের পেশাব গামলায় ভরে রাতে খাটের নীচে রেখে দিবেন, সেই পেশাব আবার আপনার অন্ধ মুরিদেরা খেয়ে বলবে তার মতো সুমিষ্ট পানীয় তারা আর কখনো খায়নি – আপনাকে কেউ নোংরা স্বভাবের বলতে পারবে না?
আপনাদের কোরান, হাদীসেই এমন শত শত উদাহরণ আছে যাতে প্রমান করা যায় ইসলাম এই যুগে অচল মাল। নবী মোহাম্মদ কোন কালেই, কোন যুগেই আদর্শ কেউ ছিল না। এমনকি ঐ যুগে বাল্যবিয়ের মতো কোন কিছুর প্রচলন থাকলেও সেটা তো কোন সর্বকালের, সর্বযুগের আদর্শ মানুষের কাজ হতে পারে না। এমনকি আপনার যে মানবিক আদর্শ নিজের ভিতরে আছে, নবী মোহাম্মদের সেটুকুও ছিল না। অথচ আপনারা ইসলামকে শান্তির বানী, নবী মোহাম্মদকে সর্ব কালের আদর্শ বানিয়ে বসে আছেন। সভ্য মানুষ, সুশিক্ষিত মানুষ, মানবিক মানুষ এগুলো মেনে নিবে? সমালোচনা না নিতে পারা, সমালোচনা করলে তাকে কোপানো, আগুনে পোড়ানো, হুমকি-ধামকি দেয়া, মারা, তান্ডব চালানো মতবাদ আর তার যতো কোটি অনুসারীই থাক সেটা এই যুগে অচল মাল, পরিতাজ্য, কেউ সেটাকে আদর্শ হিসাবে মেনে নিবে না।
আমি জানিনা সনাতন ধর্মের আলোচ্য যুবক কী বলেছেন বা লিখেছেন। তবে তার মতো সবারই অধিকার আছে যে কারো সমালোচনা করার। আল্লা, ভগবান, নবী, যিশু, বুদ্ধ, কৃষ্ণ কেউ সমালোচনার উর্দ্ধে না। সে যদি কারো গায়ে হাত না দিয়ে থাকে, অন্যের অধিকার খর্ব করে না থাকে তবে তার গায়ে হাত দেয়ার, তার বা তার সম্প্রদায়ের কোন ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই। রাষ্ট যদি এই অধিকার নিশ্চিত করতে না পারে তবে সেটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। সেখানে ইসলামিস্টরা ছাড়া আর কেউ নিরাপদ না। চাইলেই তো সবাই দেশ ত্যাগ করতে পারে না, তবে কেউ সুযোগ পেলে এমন একটি দেশে তারা থাকতে চাইবে না।
যারা বলবেন এগুলো আমি বানিয়ে বানিয়ে বলছি, তারা মুক্তমনে, বিবেক খাটিয়ে এই প্রবন্ধটা পড়ে নিবেন, সেখানে সব রেফারেন্স দেয়া আছে।
নবী মুহাম্মদ কি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন?
Related Posts

Custody of Society” – Group News! You will find them all around you
I was in class eight then. That day there was no school, I was probablyRead More

‘হেফাজতে সমাজ’ – গ্রুপ সমাচার! আপনার চারিদিকে আপনি এদের দেখা পাবেন
আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। সেদিন স্কুল ছিল না, সম্ভবত বাড়ির জন্য বাজার করে সাইকেলেRead More

The Birth of Conscience: How Humans Became Moral Without Allah or Religion
It was almost seventy-five thousand years ago. A group of Neanderthals lived in the ShanidarRead More

Comments are Closed