
The Story of the Sea and the Mountain
সাগর আর পাহাড়ের গল্প
ছেলেটি প্রথম দিনই মেয়েটিকে বলেছিল সাগরের কথা। তার চোখে ছিল নীলের এক অদ্ভুত ঝিলিক – যেন সে সত্যিই সাগরকে দেখেছে, ছুঁয়েছে, বুঝেছে। মেয়েটি তখন হেসেছিল। তার হাসি ছিল শিশিরের মতো – নরম, স্বচ্ছ, ভোরের আলোয় ঝলমল করা। সে সাগরের বিশালতা চায়নি, চায়নি ঢেউয়ের গর্জন। সে শুধু চেয়েছিল একফোঁটা শিশির বিন্দু – একটুখানি কোমলতা, একটুখানি নিশ্চয়তা, একটুখানি ভালোবাসা।
কিন্তু সময়ের অজানা ঝড়ে সব বদলে গেল। যে সাগরকে সে চিনত, সেই সাগরই একদিন অচেনা স্রোত নিয়ে তার সামনে দাঁড়াল। ঢেউগুলো আর আগের মতো মৃদু ছিল না। স্রোতগুলো আর আগের মতো পরিচিত ছিল না। আর সেই স্রোতের ভেতরেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল সেই শিশির বিন্দুর অস্তিত্ব।
সাগর এমনই। তার রঙ বদলায়। তার জীবনে আছে অসংখ্য ভাঙা–গড়া, জোয়ার–ভাটা, উথাল–পাতাল। আপনি তাকে একফোঁটা শিশির দিতে পারেন, কিন্তু তার কাছে সেটা কিছুই না – কারণ সে এত বিশাল, এত পরিবর্তনশীল, এত অনিশ্চিত। কখনো সে শান্ত, কখনো উত্তাল। কখনো সে আপনাকে বুকে টেনে নেয়, আবার কখনো আপনাকে তলিয়ে দিতে পারে গভীর অন্ধকারে। সাগর অনেকের ভালোবাসায় সিক্ত হতে পারে – কারণ তার হৃদয় বড়, কিন্তু স্থির নয়।
অন্যদিকে পাহাড়ের জীবন একেবারে আলাদা। পাহাড় স্থির। দৃঢ়। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। তার জীবনে নেই ভাঙা–গড়া, নেই রঙ বদলানো। আপনি তাকে একফোঁটা অশ্রু দিলে সে তা ধরে রাখে, নিজের শরীরে সিক্ত করে। পাহাড় ঝর্ণা হয়ে আপনার জন্য কাঁদতেও জানে। পাহাড়ের ভালোবাসা ধীর, গভীর, স্থায়ী – যেন মাটির গন্ধ, যেন শেকড়ের টান।
মেয়েটি একসময় বুঝতে পারল – প্রেম শুধু উত্তেজনা নয়, শুধু ঢেউয়ের গর্জন নয়। প্রেম মানে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব, আশ্রয়। কিন্তু ততদিনে সাগরের স্রোত তাকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সে বুঝল, সাগরকে ভালোবাসা মানে ঝড়কে ভালোবাসা। আর পাহাড়কে ভালোবাসা মানে শান্তিকে ভালোবাসা।
একদিন পাহাড় তাকে ডাকল। নীরবে। শব্দহীনভাবে। শুধু তার ছায়া দিয়ে, তার স্থিরতা দিয়ে, তার নিশ্চয়তা দিয়ে। মেয়েটি থমকে দাঁড়াল। তার মনে প্রশ্ন জাগল –
প্রেমের জন্য সে কোথায় যাবে? সাগরের কাছে, নাকি পাহাড়ের কাছে?
সাগর তাকে শিখিয়েছে আবেগের উথাল–পাতাল।
পাহাড় তাকে শিখিয়েছে ভালোবাসার স্থায়িত্ব।
এখন সিদ্ধান্ত তারই।
ভুল করলে পস্তাতে হবে সারাজীবন।
কারণ প্রেমের পথ ঠিক করা মানে শুধু কাউকে বেছে নেওয়া নয় –
নিজের ভবিষ্যৎ, নিজের শান্তি, নিজের জীবনকে বেছে নেওয়া।
Related Posts

Jinnah was a thoroughly secular atheist, yet by playing the religious card he divided the country!
The first killing in India over writing and accusations of hurting religious sentiments took placeRead More

জিন্নাহ ছিলেন আপদমস্তক একজন সেকুল্যার নাস্তিক, অথচ ধর্মীয় কার্ড খেলে তিনি দেশ ভাগ করেন!
ভারতবর্ষে লেখালিখির কারনে ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে প্রথম কোন হত্যাকান্ড ঘটে কলকাতায়, ১৯২৪Read More

Bengali Women and Their Love for Jewelry: History, Modern Trends, and the Culture of Excess
When the first gold bangle was put on Nalini Devi’s wrist, she was only seven.Read More

Comments are Closed