
The Qur’an is not an Important Book
কুরআন, তার অনুবাদ, তাফসির, সিরাত ও হাদিসসমূহ পাঠ করে কোন কমনসেন্সওয়ালা মানুষ ইসলামে থাকতে পারে না
অন্ধ বিশ্বাসী হয়েই থাকবেন?
অন্ধ বিশ্বাস মানুষকে সত্য দর্শনে বাধা দেয়। পক্ষপাতহীন এবং বস্তুনিষ্ঠ মন নিয়ে যদি কেউ কুরআন, তার অনুবাদ, তাফসির, সিরাত ও হাদিসসমূহ পাঠ করেন এবং স্রেফ কমনসেন্স প্রয়োগ করেন (যদি সেটা থাকে), তবে তিনি অলৌকিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সপ্তম শতকের আরবের এক কূটচালে পারদর্শী, যুদ্ধবাজ, ধুরন্ধার, যৌনকাতর, লোভী, শিশুকামী ও রাজনৈতিকভাবে সফল মানুষের চিন্তার প্রতিফলনই দেখতে পাবেন। তাই অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং গভীর চিন্তাভাবনা ও যুক্তি দিয়ে সত্যকে সন্ধান করাই বুদ্ধিমান মানুষের কাজ।
আপনাদের ধারনা আমরা কুরআন, হাদিস পড়ি না। আমরা নিজেরা তো পড়িই, সঙ্গে আপনাদেরকেও পড়তে উৎসাহ দেই, যদিও এগুলো পড়া মানে স্রেফ জীবন থেকে কিছু মূল্যবান সময়ের অপচয় করা। এগুলো আপনার জীবনে এমন কোন বিশেষ জ্ঞান সংযোজন করবে না যা আপনার ও বিশ্বের কোন কাজে আসবে। বরং আমাদের এগুলো পড়তে হয় ধর্মান্ধ ইসলামী মৌলবাদী শক্তি, জঙ্গিদের থেকে পৃথবীকে রক্ষা করার জন্য। কারন এরা আপনার আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অন্ধকার ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রন নিতে চায়। কয়দিন আগে তো দেখলেন, এই মৌলবাদী শক্তি কিভাবে নাজিয়া সামান্তা নামে এক বহুমূখী প্রতিভাধর মেয়েকে সিন্ডিকেটেড বুলিং করে নাস্তানাবুঁদ করলো। এই মৌলবাদী শক্তি, জঙ্গিদের বাড়তে দিলে তারা মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের ব্যক্তিগত, সামাজিক জীবন, অধিকার, পছন্দ, ইচ্ছা, স্বাধীনতা, মর্যাদাকে একেবারে শেষ করে দিতে চাইবে।
যেহেতু এই প্রাচীন কল্পকাহিনী, আরবের এক মরুদস্যু সর্দারের লোভী জীবনের প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে রচিত গার্বেজ বই বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ অনুসরন করে; তাদের মাঝে অসংখ্য অন্ধ জঙ্গি, মৌলবাদীরা মনে করে আমাদের মতো মুক্তমনা, বিধর্মীদের হত্যা করে হলেও দুনিয়ায় প্রতিটি গৃহে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আবার ২০০ কোটি মুসলমানের একটা বড় অংশই এই জঙ্গি, মৌলবাদীদের কাজকে সাপোর্ট করে, সেহেতু এই গার্বেজের অভ্যন্তরে কী আছে তা জানাটা এবং বিবেকবান মানুষদের জানানোটা অনেকের জন্য জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের জঙ্গিরা চায় মুক্তমনা, বিধর্মীদের কতল করতে, আর চুপ থাকা ইসলামকে শান্তির পায়রা বলে দাবি করা ছুপা মুমিনরা চায় জঙ্গিরা তাদেরকে কতল করুক – ইসলামের অধীনে চুপ থাকা মানে ভদ্রতা নয়। তাদের বড় একটা অংশের মানুষ সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, যখনই তাদের সেই সময় আসে তাদের হিংস্র চেহারা তখন দেখা যায়। আমরা যেহেতু কলম দিয়ে যুদ্ধ করি, কথা দিয়ে যুদ্ধ করি – আমরা ইসলামের জিহাদিদের মতো চাপাতি বা তলোয়ার ব্যবহার করি না, সেহেতু আমাদের জানতে হয় এই সমস্ত বইয়ের অমানবিক, উগ্র, অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্দেশের কথা, বিশ্বের অন্য ৬০০ কোটি শান্তিকামী মানুষকে জানাতে হয়।
জুন ২২, ১৮৮৬ সালে জন্ম নেয়া প্রফেসর ফিলিপ খুরি হিট্টি (Philip Khuri Hitti) ছিলেন একজন লেবানিজ-আমেরিকান অধ্যাপক ও পণ্ডিত, যিনি প্রিন্সটন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, ইসলাম এবং সেমিটিক (Semitic) ভাষার একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও দিকপাল ছিলেন। তিনি একক প্রচেষ্টায়ই বলা চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘আরবি শিক্ষা ও গবেষণা’ (Arabic studies)-কে একটি আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বা ডিসিপ্লিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
হিট্টির মতে, কুরআন শূন্য থেকে বা অলৌকিকভাবে এমন কোনো বিষয় নিয়ে আসেনি যা তৎকালীন আরবে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল। বরং এটি তৎকালীন সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন মৌখিক ইতিহাস, ধর্মীয় আখ্যান, এবং সামাজিক নিয়মকানুনের একটি সুশৃঙ্খল সংকলন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সমসাময়িক সময়ে এবং তাঁর পূর্বে আরবে যে জ্ঞান ও ঐতিহ্যের ধারা বিদ্যমান ছিল, কুরআন সেগুলোকে নিজের মতো করে ধারণ ও বিন্যস্ত করেছে।
ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজকে তথাকথিত ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অন্ধকারের যুগ বলা হলেও, সেখানে নিজস্ব কিছু সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কাব্য ঐতিহ্য, মেলা (যেমনঃ উকাজ মেলা), এবং গোত্রীয় আইন ছিল। হিট্টি এবং অনেক পশ্চিমা গবেষকদের মতে – কুরআনের ভাষাশৈলী ও ছন্দ তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের কাব্যরীতির (বিশেষ করে মুআল্লাকাত বা ঝুলন্ত কবিতাসমূহ) দ্বারা প্রভাবিত।
কাবা শরীফ জিয়ারত করা, নির্দিষ্ট কিছু মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকা, এবং হজের কিছু আচার-আনুষ্ঠানিকতা প্রাক-ইসলামী আরবেও বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে পরিমার্জিত রূপে কুরআনে অন্তর্ভুক্ত হয়। হিট্টির সমালোচনার অন্যতম প্রধান জায়গা হলো কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন নবী-রাসূল ও ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি মনে করেন, কুরআন মূলত অব্রাহামীয় (Abrahamic) ধর্মীয় ঐতিহ্যেরই একটি ধারাবাহিকতা, যা তৎকালীন আরবে প্রচলিত ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে মিশ্রিত।
এর সপক্ষে প্রাচ্যবিদরা কিছু যুক্তি দেখান – কুরআনে আদম, নোয়াহ (নূহ), আব্রাহাম (ইব্রাহিম), মোজেস (মুসা), এবং জেসাস (ঈসা)-এর মতো চরিত্র এবং তাঁদের ঘটনার বিবরণ রয়েছে, যা বাইবেল (ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট) এবং ইহুদিদের তালমুদ (Talmud) গ্রন্থের কাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আরবের উত্তর ও দক্ষিণে বাণিজ্য যাত্রার কারণে মক্কার মানুষেরা সিরিয়া বা ইয়েমেনের খ্রিস্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের সংস্পর্শে আসত। হিট্টির মতে, এই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ফলেই বাইবেলের ধারণাগুলো আরবের বাস্তবতায় কুরআনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে।
Related Posts

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities
The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা” আইনের অর্থই হলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন এক বাহানা খোঁজা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এটি একটিRead More

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside
Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

Comments are Closed