
The Contradiction Between Islam and Morality
নবী মোহাম্মদ ও ইসলামের নৈতিকতার দাবি একটি ভ্রান্তিবিলাস ছাড়া কিছুই না
ইসলাম ও নবী মোহাম্মদকে নিয়ে কিছু লিখলেই মডারেট মুমিনরা এসে দাবী করে আমরা ইসলামের কিছুই জানি না, কিছুই পড়ি না। অথচ আমার টেবিলেই বাংলা অনুবাদ, তর্জমাসহ কোরআন আছে। অনলাইনেই এখন সব রিসোর্স বিদ্যমান। এখন এই এআই এর যুগে একটু স্বদিচ্ছা থাকলেই রেফারেন্স চেক করা যায়। ইসলামের ইতিহাসের যেহেতু কোন নিরপেক্ষ সোর্স নেই সেহেতু ইসলামের লোকজন যা লিখে গেছে যেমন কোরআন, সহীস হাদিস, সিরাত, তর্জমা, তাফসির – এগুলোই একমাত্র ভরসা। আপনারা যেহেতু খেটে রেফারেন্স খুঁজবেন না সেহেতু আমি একেবারে নীচে সব লিংকসহ দিয়ে দিয়েছি। একটু দেখে নিবেন দয়া করে। এরপরে আর বলতে আসবেন না, এগুলো আমি মনগড়া কথা লিখেছি।
ইসলাম দাবি করে যে নবী মোহাম্মদ (৫৭০–৬৩২ খ্রি.) শুধু একটি নির্দিষ্ট যুগের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বকালের আদর্শ। কোরানে সরাসরি বলা হয়েছেঃ
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“নিশ্চয়ইই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
— সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২১ | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=33
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
“আমি তোমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।”
— সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:১০৭ | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=21
এই দাবির ভিত্তিতে ইসলামপন্থীরা বলেন, নবীর প্রতিটি কাজ, কথা ও জীবনযাপন কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলমানের অনুসরণযোগ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো — যদি নবীর জীবনে এমন কোনো কাজ থাকে যা আধুনিক সভ্যতার মানদণ্ডে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, তাহলে কি এই ‘সর্বযুগের আদর্শ’-এর দাবি টিকে থাকে?
এই প্রবন্ধে আমরা মূল ইসলামিক সূত্র — কোরান, সহিহ হাদিস ও সিরাত — থেকে সরাসরি রেফারেন্স ও লিঙ্কসহ সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করব। কোনো বিদ্বেষ বা ঘৃণা ছড়ানো নয়, মুক্ত বুদ্ধি ও যুক্তির আলোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি যাচাই করাই এই প্রবন্ধের লক্ষ্য।
১. আয়েশার বিয়ে: শিশুবিবাহ ও যৌন সম্মতির প্রশ্ন
১.১ মূল হাদিস — সহিহ বুখারি
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন।
— সহিহ বুখারি (তাওহীদ পাবলিকেশন) | হাদিস: ৫১৩৩ | hadithbd.com/hadith/link/?id=29696
১.২ সহিহ মুসলিম
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর বয়সে তাঁর ঘরে বধূবেশে নেওয়া হয় এবং তার সঙ্গে তাঁর খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠার বছর বয়সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
— সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ৩৩৫০ | hadithbd.com/hadith/link/?id=12961
১.৩ সুনান আবূ দাউদ
আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ছয় অথবা সাত বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেন। আমরা মদীনায় আগমন করলে একদল মহিলা আসলেন। বর্ণনাকারী বিশরের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমার নিকট (আমার মা) উম্মু রূমান (রাঃ) আসলেন, তখন আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন, আমাকে প্রস্তুত করলেন এবং পোশাক পরিয়ে সাজালেন। অতঃপর আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলো। তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করলেন, তখন অমার বয়স নয় বছর। মা আমাকে ঘরের দরজায় দাঁড় করালেন এবং আমি উচ্চহাসি দিলাম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আমার মাসিক ঋতু হয়েছে। আমাকে একটি ঘরে প্রবেশ করানো হলো। তাতে আনসার গোত্রের একদল মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তারা আমার জন্য কল্যাণ ও বরকত কামনা করলেন।
— সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) । হাদিস: ৪৯৩৩ | hadithbd.com/hadith/link/?id=62301
১.৪ বিশ্লেষণঃ ইসলামপন্থীদের যুক্তি ও তার খণ্ডন
আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যৌন সম্মতির বয়স (Age of Consent) একটি মৌলিক নীতি। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC, 1989) অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সকলেই শিশু এবং তাদের যৌন সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার আইনগত ও মানসিক সক্ষমতা নেই। ৯ বছর বয়সে যৌন সম্পর্ক স্থাপন আধুনিক আইনে শিশু ধর্ষণ (Child Rape) — বিশ্বের ১৮৭টি দেশে এটি ফৌজদারি অপরাধ।
| ইসলামপন্থীদের দাবি | সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি |
| সেই যুগের প্রথা ছিল | কিন্তু ‘সর্বযুগের আদর্শ’ পাঠালে কেন এমন কাজ করালেন যা ভবিষ্যতে অপরাধ হবে? |
| আয়েশা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছিলেন | ৯ বছরে বয়ঃসন্ধি হলেও মানসিক পরিপক্কতা ও সম্মতির সক্ষমতা আসে না |
| আরবে আগে বয়ঃসন্ধি হয় | WHO-এর তথ্য অনুযায়ী এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত মিথ |
| আয়েশা নিজেই সুখী ছিলেন | একটি শিশু নিপীড়নকে স্বাভাবিক মনে করতেই পারে — এটি সম্মতির প্রমাণ নয় |
২. যুদ্ধবন্দী নারী ও যৌনদাসত্বঃ কোরান ও হাদিসের নির্দেশনা
২.১ কোরানের আয়াত — দাসী হালাল
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
“এবং নারীদের মধ্যে বিবাহিতারা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তবে যারা তোমাদের ডান হাতের অধিকারভুক্ত (দাসী) তারা ব্যতীত।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:২৪ | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=4&aya=24
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ
“যারা তাদের যৌনাঙ্গ সংরক্ষণ করে, তাদের স্ত্রীদের ও ডান হাতের অধিকারভুক্তদের ব্যতীত।”
— সূরা আল-মুমিনুন, ২৩:৫-৬ | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=23
— সূরা আল-মাআরিজ, ৭০:২৯-৩০ | hadithbd.com/quran/link/?id=5404

২.২ হাদিসে আযল পদ্ধতিঃ যৌনদাসত্বের সরাসরি প্রমাণ
নিচের হাদিসের তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রমাণিতঃ
- যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো;
- তাদের বিক্রির মূল্য ঠিক রাখতে গর্ভধারণ এড়ানো হতো;
- নবী এটি নিষেধ করেননি।
ইয়াহইয়া ইবনু আবূ আইয়ুব, কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবূ সিরমাহ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আবূ সিরমাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ সাঈদ! আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বানু মুসতালিক এর যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধে আমরা আরবের সবচেয়ে সুন্দরী বাঁদীদের বন্দী করলাম। এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সাহচর্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম। অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী। এমতাবস্থায় আমরা বাঁদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং ’আযল করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন। তার নিকট আমরা কি এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করব না! তাই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই।’
— সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) | হাদিস: ৩৪৩৬ | hadithbd.com/hadith/link/?id=50519
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আযল’ করতাম, তখন কুরআন নাযিল হত। অন্য সূত্র থেকেও জাবির (রাঃ) এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
— সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ৪৮৩৩ | hadithbd.com/hadith/link/?id=5135
৩. নবী মোহাম্মদের গণহত্যা ও সাফিয়া বিনতে হুয়াই
সাফিয়া কে ছিল?
সাফিয়া বিনতে হুয়াইয়্যার জন্ম হয়েছিল খায়বারের এক প্রভাবশালী ইহুদি পরিবারে। তাঁর পিতা হুয়াই ইবনে আখতাব ছিলেন বনু নাদির গোত্রের বিখ্যাত নেতা, আর মা বনু কুরাইজা গোত্রের সন্তান। এমন এক রাজনৈতিক ও সম্মানিত পরিবারের কন্যা হিসেবে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন স্বাধীনতা, মর্যাদা আর জাতিগত গর্বের মধ্যে। তাঁর স্বামী কিনানা ইবনে রাবি ছিলেন খায়বারের এক ইহুদি নেতা এবং ধনভান্ডারের রক্ষক। খায়বার যুদ্ধের সময় সাফিয়া ছিলেন সদ্য বিবাহিতা এক তরুণী—বয়স তখন সতেরোর কাছাকাছি। অন্যদিকে নবী মুহাম্মদের বয়স তখন প্রায় সাতান্ন।
বনু কুরাইজা গণহত্যায় নবী মোহাম্মদের নিজ হাতে শিশু জবাই ও যৌনদাসী গ্রহন
বনু কুরাইযা যুদ্ধ (৬২৭ CE) ও পরের বছর খায়বার অভিযানে (৬২৭ CE) মুসলিম বাহিনী বনু কুরাইযা ও বনু নাদিরসহ ইহুদি গোত্রগুলোকে পরাজিত করে গণহত্যা চালায়। শত শত পুরুষকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে জবাই করা হয়, এবং যাদের নিম্নাঙ্গে চুল গজিয়েছিল তাদের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এভাবেই হত্যার কাজ চললো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সেদিন গণহত্যায় নিহত মোট পুরুষের সংখ্যা ছিলো ৭০০ বা ৮০০ এবং মতান্তরে ৮০০ বা ৯০০ পর্যন্ত। নবী মুহাম্মদ নিজে উপস্থিত থেকে এই হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করেছিলেন বলে হাদিসে বর্ণিত আছে। সাফিয়ার পিতা, চাচা, স্বামীসহ অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন এই যুদ্ধগুলোতে নির্মমভাবে খুন হন নবী মোহাম্মদ ও সাহাবীদের হাতে।
Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah (translated by A. Guillaume), P. 464 | archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume/page/n255/mode/2up
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-কে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) নেমে আসে। তাঁকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হল। তিনি গাধায় সাওয়ার হয়ে আসলেন। যখন মসজিদের নিকটে আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি অথবা (বললেন) তোমাদের সরদার আসছেন তাঁর দিকে দাঁড়াও। তারপর তিনি বললেন, হে সা‘দ! তারা তোমাকে সালিশ মেনে বেরিয়ে এসেছে। সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমি তাদের সম্পর্কে এ ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হোক এবং শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করে রাখা হোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহ্ তা‘আলার ফায়সালা মোতাবেক ফায়সালা দিয়েছ অথবা (বলেছিলেন) তুমি বাদশাহর অর্থাৎ আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ।
— সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) | হাদিস: ৩৮০৪ | hadithbd.com/hadith/link/?id=28244
আতিয়্যাহ আল-কুরাযী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বনী কুরাইযার বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তারা দেখতো, যার নাভীর নীচে চুল উঠেছে তাকে হত্যা করা হতো; আর যার উঠেনি, তাকে হত্যা করা হতো না। আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, যাদের তা উঠেনি।
— সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) | হাদিস: ৪৪০৪ | hadithbd.com/hadith/link/?id=61772
বনু কুরাইজার সকল সম্পদ, নারী ও শিশুদের থেকে এক পঞ্চমাংশ নবী মুহাম্মদ রাখার পর বাকিটা ভাগ করে দেয়া হলো সকল মুসলিম যোদ্ধাদের মাঝে। আল্লাহর রাসূল সাদ বিন জায়িদ আল আনসারী কে নাজদা নামক দাস মার্কেটে পাঠিয়েছিলেন সাথে কিছু কুরাইযা যুন্দবন্দী নারীদের দিয়ে, তাদের বিক্রি করে ঘোড়া এবং অস্ত্রসস্ত্র কিনে আনার জন্য। কুরাইযার সকল পুরুষদের কল্লা কাটা হচ্ছে দলে দলে, নারী ও শিশুদের বন্দী ও কতককে বিক্রি করতে পাঠানো হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে অসহায় কুরাইযার কারও মানসিক অবস্থা ঠিক থাকার কথা নয়। সেদিন তেমনি এক কুরাইযা নারীকে দেখেছিলেন হযরত আয়েশা। ঐ মহিলাটি তার কাছাকাছিই ছিলো। যাকে হত্যা করা হয়েছিলো মুহাম্মদকে গালি দেয়ার অপরাধে। যখন হত্যার উদ্দেশ্যে মহিলাটিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখনও মহিলাটা উচ্চস্বরে হাসছিলেন। আয়েশা এই দৃশ্য দেখে সেটি ভুলতে পারছিলেন না। এমন করুণ দৃশ্য দেখলে একজন প্রকৃত মানুষ সে দৃশ্য সহজে ভুলতে পারবেন না এটাই স্বাভাবিক।
Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah (translated by A. Guillaume), P. 466 | archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume/page/n257/mode/2up
’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী কুরাইযার কোনো মহিলাকে হত্যা করা হয়নি। তবে এক মহিলাকে হত্যা করা হয়। সে আমার পাশে বসে কথা বলছিল এবং অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তার নাম ধরে ডেকে বললো, অমুক মহিলাটি কোথায়? সে বললো, আমি। আমি (’আয়িশাহ) বললাম, তোমরা কি হলো, (ডাকছো কেন)? সে বললো, আমি যা ঘটিয়েছি সেজন্য (সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়েছিলো)। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হবে। আমি ঘটনাটি আজও ভুলতে পারিনি। আমি তার আচরণে অবাক হয়েছিলাম যে, তাকে হত্যা করা হবে একথা জেনেও সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিলো।
— সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) | হাদিস: ২৬৭১ | hadithbd.com/hadith/link/?id=60039
বনু কোরায়জার যুদ্ধবন্দী নারীদের মধ্য থেকে নবী মুহাম্মদ বেছে নেন ১৫ বছর বয়সী সুন্দরী কিশোরী রায়হানা বিনতে জায়িদ / রেহানা বিনতে যায়িদ কে। মুহাম্মদ রায়হানা কে প্রস্তাব করেছিলেন বিয়ে করতে। কিন্তু রায়হানা তাতে রাজি না হয়ে বরং তাকে দাসী হিসেবেই রেখে দিতে বলেছিলেন। রায়হানার কাছে নবী মুহাম্মদের বউ হওয়ার চেয়ে দাসী হওয়া অপেক্ষাকৃত কম অসম্মানের বলে মনে হয়েছে। যাহোক, যুদ্ধবন্দিনী নারী যেহেতু ইসলামে হালাল, তাই মুহাম্মদ বাড়াবাড়ি না করে রায়হানাকে দাসী হিসেবে রেখে দিতেই রাজি হলো। মেয়েটাকে ভোগ করাই আসল কথা, বিয়ের মন্ত্র পড়া হোক বা না হোক, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। অবশেষে, রায়হানা নামক মেয়েটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষের সান্নিধ্যে এসে ধন্য হলেন (পড়ুন ধর্ষিতা হলেন)।
Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah (translated by A. Guillaume), P. 466 | archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume/page/n257/mode/2up
খাইবার যুদ্ধের পরে নবী মোহাম্মদ সাফিয়াকে যৌনদাসী হিসাবে বেছে নেন
খাইবার (৬২৮ CE) যুদ্ধের পর সাফিয়াসহ অনেক নারী ও শিশুকে গনিমতের মাল হিসেবে বন্দি করা হয়। হযরত বিলাল তাঁদেরকে আত্মীয়দের ক্ষতবিক্ষত লাশের উপর দিয়ে নিয়ে আসেন, যা এক ভয়াবহ মানসিক আঘাতের সৃষ্টি করে। স্বামী কিনানাকে সম্পদের অবস্থান জানার জন্য প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয় এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইসলামী বিধান অনুসারে এই বন্দি নারীদেরকে যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়—যেন গরু-ছাগলের মতো ভাগাভাগি করা যায়। সহিহ হাদীসে সাফিয়াকে নবীর প্রাপ্য ‘মাল’ হিসাবেই বর্ননা করা হয়েছে। সাহাবী দাহিয়া কালবী সবচেয়ে সুন্দরী সাফিয়াকে নিজের যৌন দাসী হিসেবে চেয়ে বসেন। নবী প্রথমে তা মঞ্জুর করলেও, পরে সাফিয়ার রূপের খবর পেয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নেন। দাহিয়াকে সাতজন দাসীর বিনিময়ে সাফিয়াকে নিজের ভাগে রাখেন।
আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, খণ্ড ৫, মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ, পৃষ্ঠা ২৭২-২৮০ | jamaat-e-islami.org/publication/file/154_ashabe_rasuler_jibon_kotha_5.pdf
দাঊদ ইবন মু’আয (রহঃ) …… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের উপর যুদ্ধ পরিচালনা করেন। আমরা যুদ্ধ করে তা জয় করি। অবশেষে বন্দীদের একত্রিত করা হয় (যাতে মুসলিমদের মাঝে তা সহজে বন্টন করা যায়)।
— সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ২৯৯৯ | hadithbd.com/hadith/link/?id=35106
নাসর ইবন আলী (রহঃ) ….. আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফিয়্যা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পসন্দ করা মালের অংশ।
— সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ২৯৮৪ | hadithbd.com/hadith/link/?id=35091
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধে যান। বর্ণনাকারী বলেন আমরা খায়বারের কাছে অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ তালহা (রাঃ) সাওয়ার হলেন। আমি ছিলাম আবূ তালহা (রাঃ) এর রাদীফ (তাঁর বাহনে তার পশ্চাতে উপবিষ্ট) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের গলি দিয়ে রওনা দিলেন। এ সময় আমার হাটু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উরুদেশ স্পর্শ করছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরু থেকে লুঙ্গী সরে যাচ্ছিল। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উকর শুভ্রতা দেখছিলাম। যখন তিনি বসতীতে প্রবেশ করলেন তখন বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। বস্তুত আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের অঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত হয় কত মন্দা’ একথা তিনি তিনবার বলেন।
বর্ণনাকারী বলেন ঐ সময় লোকজন তাদের কাজে বের হচ্ছিল। তারা বলতে লাগলো, আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ। বর্ণনাকারী আবদুল আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন উস্তাদ বলেছেন, পুরা বাহিনী। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা খায়বার জয় করলাম, এবং বন্দীদের একত্রিত করা হল। তখন দিহয়া (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কায়েদীদের মধ্যে থেকে আমাকে একজন দাসী প্রদান করুন। তিনি বললেনঃ যাও একজন দাসী নিয়ে নাও। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াই কে নিয়ে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া নবী আল্লাহ! আপনি বনু কুরায়যা ও বনু নযীরের সর্দার হুযাইনের কন্যা সাফিয়্যাকে দিহয়াকে দিয়ে দিয়েছেন? ইনি একমাত্র আপনারই উপযুক্ত হতে পারে। তিনি বললেন, তাকে সাফিয়্যাসহ ডাক।
তারপর দিহয়া (রাঃ) সাফিয়্যাসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, তখন তিনি দিহয়া (রাঃ) কে বললেন, তুমি সাফিয়্যা ব্যতীত কয়েদীদের মধ্য থেকে অন্য কোন দাসী নিয়ে নাও। বর্ণনাকারী বলেন তিনি সাফিয়্যাকে আযাদ করলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন।
আনাসকে লক্ষ্য করে সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আবূ হামযা! তিনি তাঁকে কী মাহর দিলেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর সত্তাকে মুক্তি দান করেন এবং এর বিনিময়ে তাঁকে বিবাহ করেন। তারপর তিনি যখন (ফেরার) পথে ছিলেন তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) সাফিয়্যা (রাঃ) কে তাঁর জন্য প্রস্তুত করেন এবং রাতে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর উদযাপনের পর ভোর হলে তিনি ঘোষণা করলেন, যার নিকট যা কিছু আছে তা নিয়ে যেন উপস্থিত হয়। আর তিনি চামড়ার বড় দস্তরখান বিছালেন। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে কেউ পানীয়, কেউ খেজুর ও কেউ ঘি নিয়ে হাযির হল। তারপর এসব মিলিয়ে তারা হায়স তৈরী করেন। আর তাই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওলীমা।
— সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ৩৩৬৬ | hadithbd.com/hadith/link/?id=12977
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আমরা খায়বারে আক্রমণ করি। মহান আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করালেন তখন হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাহর সৌন্দর্যের কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করা হয়। তিনি সদ্য বিবাহিতা ছিলেন এবং তার স্বামী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য পছন্দ করলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ’আমরা সাদ্দুস-সাহবা নামক জায়গাতে পৌঁছলে তিনি মাসিক ঋতু থেকে পবিত্র হন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে নির্জনবাস করেন।
— সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) | হাদিস: ২৯৯৫ | hadithbd.com/hadith/link/?id=60363
নবী মোহাম্মদ কি সাফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন?
যুদ্ধ শেষে ফেরার পথেই নবী সাফিয়ার সঙ্গে বাসর রাত উদযাপন করেন বা বলতে পারেন যৌনকর্ম করেন এবং বাইরে পাহারাদার নিযুক্ত করে তিন রাত তারা এক তাবুতে থাকেন। কারো সম্মতি ছাড়া বা ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করে কারো সঙ্গে যৌনকর্ম করা আধুনিক আইনের সংজ্ঞায় ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করা হয়। সাফিয়া কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিলেন স্বাধীন এক ইহুদি তরুণী, যাঁর পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে যেখানে তার সদ্য বিবাহিত স্বামী, বাবা, চাচা অন্যান্য স্বজনরা ছিল। মানসিকভাবে সুস্থ কোনো নারীর পক্ষে এত বড় শোকের পর রাতারাতি নিজের স্বজনদের খুনিকে বিয়ে করা বা শরীর ও মন সমর্পণ করা কতটা বাস্তবসম্মত? ইসলামের পক্ষে তার হুজুররা যতোই সাফাই দিক, নিজের বিবেক দিয়ে বিচার করে দেখুন। ইসলাম নারীকে ‘মাল’ হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নবী মুহাম্মদের একাধিক যৌনসঙ্গী এবং সমালোচকদের গুপ্তহত্যার ইতিহাসের পাশাপাশি এই ঘটনা আরও প্রশ্ন তুলে—সম্মতি না বাধ্যতা, প্রেম না বিজয়ীর লোভ? সাফিয়ার জীবনের এই অংশ ইসলামের সমালোচকদের কাছে এক অমোঘ প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায় যে, যুদ্ধ ও ক্ষমতার নামে নারীর মর্যাদা কীভাবে লুণ্ঠিত হয়। এবং এই কাজগুলোর উদাহরণ তৈরি করে গেছেন স্বয়ং মুসলমানদের চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ নবী মোহাম্মদ।
ইসলামিস্টরা দাবী করেন, সাফিয়ার সঙ্গে নবী মোহাম্মাদের বিয়ে হয়েছিল। উপরের প্যারায় দেখালাম, বিয়ে হলেও সেটা কি সম্মতিতে হয়েছে? এটা কি সম্ভব? আর বিয়ে হলেই বা কিভাবে হয়েছে? কে বিয়ে পড়িয়েছিলেন, কারা সাক্ষী ছিলেন? ইসলামের রীতিনীতির কিছুই না মেনে নবী মোহাম্মদ মুখ দিয়ে বললেন আর বিয়ে হয়ে গেল? এই বিয়ের কেচ্ছাটা স্রেফ ইসলামের মান বাঁচানোর প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই না। দেখুন সহিহ হাদীস কী বলে।
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদীনার মধ্যস্থলে তিনদিন সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর সংগে কাটান। আমি তার ওয়ালীমার জন্য মুসলিমদের দাওয়াত দিলাম, আর তাতে মাংস ও রুটি কিছুই ছিল না। তিনি চামড়ার দস্তরখান বিছাতে আদেশ করলেন, লোকেরা তার উপর খেজুর, পনির, ঘি রাখতে লাগলো, এটাই ছিল তাঁর ওয়ালীমা। মুসলিমগণ বলতে লাগলো, তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনের একজন না তাঁর দাসীদের একজন? তারা বললোঃ যদি তার সামনে পর্দা লটকান হয়, তবে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি পর্দা না করা হয়, তবে তিনি বাঁদীদের একজন। যখন প্রত্যাবর্তনের সময় হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর হাওদার পেছনে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হলো এবং অন্যান্য লোক ও তার মধ্যে পর্দা ঝুলানো হলো।
— সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ৩৩৮৫ | hadithbd.com/hadith/link/?id=77413
হযরত উমরের খিলাফত সময়কালে নবী মোহাম্মদের বিধবা স্ত্রীদেরকে বারো হাজার মুদ্রা ভাতা প্রদান করা হতো, কিন্তু সাফিয়াকে প্রদান করা হতো ছয় হাজার মুদ্রা। নবী যদি সাফিয়াকে আসলেই বিয়ে করে থাকতেন, তাহলে তাকে কেন ছয় হাজার মুদ্রা ভাতা প্রদান করা হতো? যাইহোক, নিজেরা একটু যাচাই করে নিবেন, বিবেক দিয়ে, যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করবেন।
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৫ | archive.org/details/20200721_20200721_1547/page/%E0%A7%AA%E0%A7%AE%E0%A7%AB/mode/2up
৪. মারিয়া কিবতিয়াঃ নবী মোহাম্মদের দাসী
মারিয়া কিবতিয়া (মারিয়া আল-কিবতিয়া) ছিলেন একজন কপ্টিক মিশরীয় নারী, যাকে মিশরের খ্রিস্টান শাসক আল-মুকাওকিস নবী মুহাম্মদের কাছে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। মিশরের খ্রিস্টান শাসকও এই হতভাগ্য নারীকে যুদ্ধ জয়ের পর প্রতিপক্ষ থেকে দাসী হিসাবে নিয়েছিলেন। তিনি নবী মোহাম্মদের একমাত্র পুত্র সন্তান ইব্রাহিমের মা, যিনি শিশুকালেই মারা যান।
মারিয়া কখনো নবীর আনুষ্ঠানিক স্ত্রীর মর্যাদা পাননি। তিনি ছিলেন উপপত্নী ও দাসী (concubine/slave) এবং নবীর একমাত্র পুত্র ইব্রাহিমের মা। একজন দাসমালিকের তার দাসীর সাথে সম্পর্কে প্রকৃত সম্মতির কোনো সুযোগ থাকে না — কারণ দাসীর ‘না’ বলার শক্তি কার্যত অনুপস্থিত। এই ধরনের শারীরিক সম্পর্ককে আধুনিক আইন ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করে।
মারিয়া কিবতিয়ার সঙ্গে নবী মোহাম্মদের যৌনকর্ম করাকে তার স্ত্রীগণ সহজভাবে নিতেন না। বিশেষ করে স্ত্রীদের অনুপস্থিতে তাদের ঘরে দাসী মারিয়া কিবতিয়াকে নিয়ে যৌনকর্ম করায় স্ত্রীরা খুব ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তখন তার কিছু স্ত্রী মিলে নবীকে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তখন নবী মোহাম্মদ স্ত্রীদের খুশি করতে দাসী মারিয়া কিবতিয়াকে তার জন্য হারাম ঘোষনা করেন। কিন্ত এর পরেও নবী মোহাম্মদের মন পড়ে থাকতো দাসী মারিয়া কিবতিয়ার উপর। তখন আল্লাপাক নবীর খায়েশ পূরন করার জন্য কোরআনে আয়াত পাঠিয়ে দেন। এর পরে নবী মোহাম্মদের সামনে দাসী সহবাসে আর কোন বাঁধা থাকলো না।
ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারামী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ পাক নাযিল করেনঃ
(يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ)
“হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ১) ।
— সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস: ৩৯৬১ | hadithbd.com/hadith/link/?id=77992
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكَۖ تَبْتَغِى مَرْضَاتَ أَزْوَٲجِكَۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবী, আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনায় তুমি কেন তা হারাম করছ? আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
— সূরা আত-তাহরীম, ৬৬:১ | hadithbd.com/quran/link/?id=5230
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِنَّآ أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَٲجَكَ ٱلَّـٰتِىٓ ءَاتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّـٰتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَـٰلَـٰتِكَ ٱلَّـٰتِى هَاجَرْنَ مَعَكَ وَٱمْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِىِّ إِنْ أَرَادَ ٱلنَّبِىُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِىٓ أَزْوَٲجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“হে নবী, আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীদেরকে হালাল করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা দিয়েছ, আর আল্লাহ তোমাকে ফায়* হিসেবে যা দিয়েছেন তন্মধ্যে যারা তোমার মালিকানাধীন তাদেরকেও তোমার জন্য হালাল করেছি এবং (বিয়ের জন্য বৈধ করেছি) তোমার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা, খালার কন্যাকে, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে, আর কোন মুমিন নারী যদি নবীর জন্য নিজকে হেবা করে, নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও তার জন্য বৈধ। এটা বিশেষভাবে তোমার জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়; আমি তাদের ওপর তাদের স্ত্রীদের ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তাদের ব্যাপারে যা ধার্য করেছি তা আমি নিশ্চয় জানি; যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
— সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫০ | hadithbd.com/quran/link/?id=3583
তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩১ | drive.google.com/file/d/12s35xbkPEC0cfTwTIdyO4G8CCnhuIn_O/view
৫. দাসপ্রথাঃ ইসলামের অবস্থান ও নবীর চর্চা
ইসলামের ইতিহাসে দাস হওয়ার প্রধান উৎস ছিল যুদ্ধবন্দী অমুসলিমরা, বিদেশ থেকে কেনা দাস, এবং দাস-সমাজে জন্ম নেওয়া শিশু। দাসত্ব বর্ণভিত্তিক ছিল না, কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্য এশিয়া—সব জায়গা থেকেই মানুষ দাস হিসেবে আনা হতো। এটা ইসলামী সাম্রাজ্য ও বিশ্বের অন্য অনেক অঞ্চলেও তখন প্রচলিত ছিল। কিন্তু ইসলামের নবী তো সর্বকালের সেরা, তাকে দিয়ে আল্লাপাক এমন জঘন্য একটা প্রথা কেন করালেন?
দাস সংগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল যুদ্ধ জিতে অমুসলিমদের দাস বানানো। অমুসলিম পুরুষদের হত্যার শিকার বা ভাগ্য একটু ভাল হলে দাস, আর নারীদের যৌনদাসী হওয়াই ছিল নিয়তি। ইসলামী ব্যবস্থায় দাস কেনা-বেঁচাও হতো। নবী মোহাম্মদ নিজেও সে প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। ইসলাম দাস মুক্ত করতে উৎসাহ দিলেও দাস-দাসী প্রথা বিলুপ্ত করেনি। এমনকি দাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে ইসলাম নিরুৎসাহিতও করেনি, বরং এর জন্য সওয়াব আছে বলেছে।

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ’তাসবীহ’ অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ’তাকবীর’ অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ’তাহমীদ’ বা আলহাম্দুলিল্লা-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। প্রত্যেক ’তাহলীল’ বা ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নেককাজের নির্দেশ দেয়া, খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নিজের স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে সহবাস করাও সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ যদি নিজের কামভাব চরিতার্থ করে তাতেও কি সে সাওয়াব পাবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে বলো, কোন ব্যক্তি যদি হারাম উপায়ে কামভাব চরিতার্থ করে তাহলে সেকি গুনাহগার হবে না? ঠিক এভাবেই হালাল উপায়ে (স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে) কামভাব চরিতার্থকারী সাওয়াব পাবে।
— মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) | হাদিস: ১৮৯৮ | hadithbd.com/hadith/error/?id=56458
কোরান দাসপ্রথা সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। দাসমুক্তিকে পুণ্যের কাজ বলা হয়েছে, কিন্তু দাস বিক্রি ও রাখার বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। আগেই উল্লেখ করেনি নবী মোহাম্মদ নিজেই দাস-দাসী গ্রহন করেছেন, তাদেরকে বিক্রির জন্য বাজারে তুলতে পাঠিয়েছেন, দাসী উপহার গ্রহন করেছেন।
فَكُّ رَقَبَةٍ
“এটা হচ্ছে দাসকে মুক্তি প্রদান।”
— সূরা আল-বালাদ, ৯০:১৩ | hadithbd.com/quran/link/?id=6036
নবী মোহাম্মদের সাহাবীগণের মধ্যে অনেকেই দাস দাসী কেনাবেচার সাথে জড়িত ছিল। নবী মোহাম্মদ নিজেই দাস ক্রয় করেছেন, বিক্রি করেছেন এমন নজির আছে ইসলামের রেফারেন্সে। এগুলো কী বলে? যিনি সর্বকালের আদর্শ হতে যাচ্ছেন তার জন্য এমন কাজ কতটা যৌক্তিক? যদি বলেন ঐ সময়ে এগুলো সারা বিশ্বে ছিল। এখন সারা বিশ্বের অন্যদের তো এই সময়ে বা ভবিষ্যতে অনুসরণ করতে বলা হয়নি। তাহলে কী এটা মেনে নিবেন নবী মোহাম্মদ ঐ সময়ে যা যা করে গেছে তা এখন সভ্যতা বিবর্জিত অন্যায়, এখন তা আর করা যবে না!
আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৮, ৬১৯ | dn790006.ca.archive.org/0/items/kawmi/MT-Ashraful-hidayah-part-9%5BAlmodina.com%5D.pdf
আবদুল মাজীদ ইবনে ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই পত্র পড়ে শুনাবো না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখেছিলেন? রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। অতএব তিনি আমার সামনে একখানি পত্র বের করলেন, যাতে লেখা ছিলঃ ’’আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের নিকট থেকে যা ক্রয় করেছেন এটা তার দলীল। সে তাঁর নিকট থেকে একটি গোলাম বা বাঁদী ক্রয় করেছে, যার কোন রোগ-ব্যাধি নাই, যা চুরিকৃতও নয় এবং হারাম মালও নয়। এ হলো দু’ মুসলিমের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়’’।
— সুনান ইবনু মাজাহ | হাদিস: ২২৫১ | hadithbd.com/hadith/link/?id=42866
১৯২৬ সালে লিগ অব নেশনস-এ দাসপ্রথা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ হল। যে প্রথা ICC-র রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ — ইসলামি আইন কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তার মানে আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন দাসপ্রথাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গণ্য করলেও ইসলামে সেটা এখনো কোন অপরাধই না। আপনি যে যুক্তিই দেন, এই ইসলামী বিধি এখন পরিত্যাজ্য। সহজ কথা, ইসলামে দাস-দাসী রাখা, বিক্রি করা, কেনা, উপহার দেয়া-নেয়া, অদল-বদল করা সম্পূর্ণ জায়েজ, এই আইন রদ হয়নি কখনো। আর দাসী রাখা যেহেতু জায়েজ সেহেতু দাসীর সঙ্গে যৌনকর্ম করাও ইসলামে বৈধ।
কয়েক বছর আগে বিবিসিসহ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউজ করেছিল যে মধ্যপ্রাচ্যে এখনো বিভিন্ন ফর্মে দাসী কেনাবেচা হয়। সোস্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের মার্কেটও আছে। ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আইসি*স ইয়াজীদী নারীদের গনিমতের মাল হিসাবে দাসী হিসাবে বিক্রি করতো এক সময়। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল প্রভৃতি দেশ থেকে নারীরা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্তার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়, অনেকে বাচ্চা পেটে নিয়ে দেশে ফিরে যান। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে গেলে গৃহকর্তা বলে তাকে কিনে নিয়েছে। আর ধর্ষণের বিচার পাওয়ার সুযোগও খুব সীমিত। কারন ইসলামে চারজন চাক্ষুস পুরুষ সাক্ষী হাজির করতে না পারলে উল্টো ধর্ষিতা নারীকেই ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট পেতে হয়, এমন অনেক উদাহরণ আছে।
বিবিসির অনুসন্ধান: কুয়েতে নারী গৃহকর্মী বেচাকেনার বিশাল অনলাইন ‘দাসীর বাজার’ | bbc.com/bengali/news-50273364
Watch: On “Slave Market Day,” ISIS Trades Women for Cash, Weapons | pbs.org/wgbh/frontline/article/watch-on-slave-market-day-isis-trades-women-for-cash-weapons
৬. ‘সেই যুগের প্রথা’ যুক্তির অসারতা
- যদি নবী শুধু তার যুগের নিয়ম মানলেন, তাহলে তিনি ‘সর্বযুগের আদর্শ’ নন — তিনি শুধু সেই যুগের একজন মানুষ।
- আল্লাহ সর্বজ্ঞ (আল-আলিম) হলে তিনি ভবিষ্যৎ জানতেন — তাহলে কেন তিনি এমন বিধান দিলেন যা এক সময় মানবতার বিরুদ্ধে যাবে?
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলায় বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু তিনি বা অন্য কেউ তাকে কখনো ‘সর্বযুগের আদর্শ’ দাবি করেননি — ইসলামের দাবি ভিন্ন, তাই মানদণ্ডও ভিন্ন। মুমিনরা যে এই উদাহরণ দেন এটা স্রেফ মুর্খামি।
- আধুনিক ইসলামি স্কলাররা আয়েশার বয়স পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করেন — কিন্তু এটি সহিহ বুখারি, মুসলিম, আবূ দাউদ সব প্রধান হাদিস গ্রন্থের বিরুদ্ধে যায়।
৭. ইসলামের নারী-মর্যাদার দাবি বনাম বাস্তবতা
| বিষয় | কোরান/হাদিসের বিধান | লিঙ্ক (hadithbd.com) |
| উত্তরাধিকার | মেয়ে পাবে ছেলের অর্ধেক | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=4&aya=11 |
| সাক্ষ্য | ১ পুরুষের বিপরীতে ২ নারীর সাক্ষ্য | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=2&aya=282 |
| স্বামীর অধিকার | অবাধ্য স্ত্রীকে প্রহারের বৈধতা | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=4&aya=34 |
| তালাক | পুরুষ এককভাবে তালাক দিতে পারে, নারী পারে না | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=2&aya=229 |
| দাসীর মর্যাদা | যুদ্ধবন্দী দাসীর সাথে যৌনতা হালাল | hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=4&aya=24 |
ইসলামে নারীকে শয়তান, কালো কুকুর, অশুভ হিসাবে বলা হয়েছে। ইসলামে নারীর কোন ব্যক্তি স্বাধীনতাই নেই। যারা বলেন ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান – তাদের এ কথা স্রেফ পাগলের প্রলাপ। এ নিয়ে লিখতে গেলে আর এক প্রবন্ধ হয়ে যাবে, আমি আগেই লিখে রেখেছি।
৮. কেন্দ্রীয় যুক্তির সারসংক্ষেপ
| যুক্তিক্রম | বিষয়বস্তু |
| প্রথম প্রস্তাব | ইসলাম দাবি করে নবী মোহাম্মদ সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ (সূরা ৩৩:২১) |
| দ্বিতীয় প্রস্তাব | সর্বযুগের আদর্শ হতে হলে তার কাজ সব যুগে মানবিক ও ন্যায়্য হতে হবে |
| তৃতীয় প্রস্তাব | নবীর জীবনে শিশুবিবাহ, যুদ্ধবন্দী নারীর যৌন শোষণ ও দাসপ্রথা সবই আধুনিক মানবাধিকার আইনে গুরুতর অপরাধ |
| উপসংহার | হয় নবী সর্বযুগের আদর্শ নন, অথবা এই কাজগুলো আদর্শের মতো ভালো — উভয়ই মানবতার বিরুদ্ধে |
শেষের কথা
ইতিহাসকে ন্যায্যভাবে বিচার করতে হলে প্রসঙ্গ বিবেচনা করতে হয় — এটা সত্য। কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে এই যুক্তি কাজ করে না, কারণ ইসলাম নিজেই দাবি করে তার নবী শুধু সেই যুগের নন — তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সকলের আদর্শ। এই দাবি করলে মানদণ্ডও সেই অনুযায়ী হতে হবে।
মূল ইসলামিক সূত্র থেকেই প্রমাণিত হয় যে নবীর জীবনে শিশুবিবাহ, যুদ্ধবন্দী নারীর যৌন শোষণ ও দাসপ্রথার মতো বিষয়গুলো ছিল — যেগুলো আধুনিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে গুরুতর অপরাধ। ইসলামপন্থীরা এই প্রশ্নগুলোর কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেন না — হয় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মানতে হবে (তখন ‘সর্বযুগের আদর্শ’ দাবি ভেঙে পড়ে), অথবা এই কাজগুলোকে আজও আদর্শ বলতে হবে (তখন মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়)।
এই প্রশ্নগুলো তোলা ধর্মবিদ্বেষ নয় — এটি মানবিক চেতনার স্বাভাবিক বিকাশ। প্রতিটি ধর্মীয় দাবিকে যুক্তি ও মানবিকতার ছাঁচে যাচাই করার অধিকার প্রতিটি মানুষের আছে।
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed