Science
The Conflict Between Islam and Nobel Laureates

The Conflict Between Islam and Nobel Laureates

মুসলিম দেশগুলোতে বিজ্ঞানী বা সমাজকর্মী হয়ে জন্মানোই মনে হয় পাপ

পাকিস্তানের মাটিতে জন্মগ্রহন করা তিনজন এ পর্যন্ত নোবেল পেয়েছেন। প্রফেসর ডঃ আব্দুস সালাম ১৯৭৯ সালে নোবেল পেয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে। তবে এই কাদিয়ানীর পরিচয় দিতে সাধারণ পাকিস্তানীরা গর্বের বদলে বরং লজ্জাবোধ করে সম্ভবত। বছর কয়েক আগে ডন পত্রিকায় দেখেছিলাম ডঃ সালামের কবরের এপিটাফটা ভেঙ্গে দিয়েছে তাঁর গ্রামবাসীরা। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর পর অন্তিম ইচ্ছায় তিনি নিজের গ্রামেই সমাধিস্থ হয়েছিলেন। তাঁর এপিটাফে লেখা ছিলো First Muslim Nobel Laureate – মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার গ্রামবাসী তা উপড়ে ফেলেছিলো। পরে কোর্টের আদেশে তা পুনর্বহাল করা হয় – তবে মাঝখানের একটি শব্দ মুছে দিয়েঃ “First ______ Nobel Laureate”

১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনেক আগে থেকেই তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশ ছাড়তে হয়েছিল, মূলত তার কাদিয়ানী পরিচয়ের কারনে জীবন নাশের শংকা ছিল এবং পুরস্কার পাওয়ার পরও সেই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আমৃত্যু তিনি পাকিস্তানে ফিরতে পারেননি।

১৯৯৬ এ ডঃ সালাম একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। আয়রণিকালী, তার ভ্রমণের কিছুদিন পরেই আহমদীয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে কাঠমোল্লারা বায়তুল মোকাররমে প্রচুর হাঙ্গামা করেছিলো।

২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে শান্তিতে নোবেল জয়ের মাধ্যমে মালালা ইউসুফজাই ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীর সাথে যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তরফ থেকে তাঁর ওপর তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায়, তিনি চাইলেই সাধারণ মানুষের মতো যখন-তখন বা দীর্ঘ সময়ের জন্য পাকিস্তানে অবস্থান করতে পারেন না

এছাড়া, পাকিস্তানের ভূমিতে জন্মগ্রহন করা বায়োকেমিস্ট ডঃ হর গোবিন্দ খুরানা ১৯৬৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি মার্কিন নাগরিক হলেও তার জন্ম ছিল অবিভক্ত পাঞ্জাবে, যা বর্তমানে পাকিস্তানের অংশে পড়েছে। পাকিস্তানের ভূমির সন্তান হলেও তিনি পাকিদের গর্বের তালিকায় আসেন না কখনো, এক ধর্মীয় পরিচয়ের কারনেই।

মুসলমানদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন নোবেল পেয়েছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এর মধ্যে ১০ জনকে ইসলামী আইন ও জনতার দেয়া হত্যার হুমকির মুখে তাদের স্বদেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। ইসলামিস্টরা সবসময় সবকিছুর উর্দ্ধে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামের ঈমানকে বিবেচনা করে। এসব দেশে বিজ্ঞানী বা সমাজকর্মী হয়ে জন্মানোই মনে হয় পাপ।

বিজ্ঞান বা সমাজকর্ম কোনো ধর্ম, জাতি বা ভৌগোলিক সীমানা মানে না। ল্যাবরেটরি বা টেলিস্কোপে কোনো ধর্মীয় গ্রন্থের বাণী লেখা থাকে না – শুধু সত্যের অনুসন্ধান থাকে। নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইন বা হকিংকে আমরা খ্রিস্টান/ইহুদি/নাস্তিক বিজ্ঞানী বলে ট্যাগ দিই না। কিন্তু “ইসলামী স্বর্ণযুগ”- নাম দিয়ে মধ্যযুগের অনেক বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই “মুসলিম বিজ্ঞানী” ট্যাগ লাগিয়ে ধর্মীয় মালিকানা দাবি করা হয়।

আজকের দিনে অনেক মুমিন, ধর্মীয় বক্তা বা লেখক বুক ফুলিয়ে ‘মুসলিম বিজ্ঞানী’ নাম দিয়ে ইবনে সিনা, আল-রাজি বা ইবনে রুশদের নাম নেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, এই মানুষগুলো তাদের বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক চিন্তার জন্য তৎকালীন কট্টরপন্থী ইসলামী ধর্মীয় শক্তির চক্ষুশূল ছিলেন। ইমাম গাজ্জালীর মতো প্রভাবশালী ধর্মীয় তাত্ত্বিকেরা এদের অনেকের দর্শন ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে ‘কুফর’ (ইসলামের পরিপন্থী) বলে অভিহিত করেছিলেন। শুধু কুফর বলেই তারা ক্ষ্যান্ত দেননি – অপমানিত করেছে, লাঞ্চিত করেছে, তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে, পাগল বলে গৃহবন্দি করেছে, নির্বাসনে পাঠিয়েছে, জেলেও ভরেছে, হত্যাও করেছে। ইমাম গাজ্জালীর তাহাফুত আল-ফালাসিফা (দার্শনিকদের অসংগতি) এই দ্বন্দ্বের একটি বড় উদাহরণ। যে ইসলাম এক সময় তাদের পথে কাঁটা বিছিয়েছে, এখন সেই ইসলাম দাবী করে তারা নাকি ‘মুসলিম বিজ্ঞানী!’ কি হিপোক্রেসী ইসলামের!

Related Posts

Moon and Islam

People knew that the Moon has no light of its own more than 1,150 years before the births of Muhammad and Allah; the story of the Moon splitting in two is a fanciful myth

Islam’s interest in the Moon seems endless. Months, days, dates, acts of worship, Eid, andRead More

Moon and Islam

মুহাম্মদ ও আল্লাহর জন্মেরও ১১৫০ বছর আগেই মানুষ জানতো চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কেচ্ছা গাঁজাখোরি

চাঁদ নিয়ে ইসলামের আগ্রহের শেষ নেই। মাস, দিন, তারিখ, ইবাদত-বন্দেগী, ঈদ, রোজা সব চাঁদ কেন্দ্রিক।Read More

Are humans the best of creation?

Humans cannot even see 1% of the beauty and colors of Earth and the universe! Are humans really the best of creation?

The human eye can generally detect visible light or color in the wavelength range ofRead More

Comments are Closed