
Surviving the Brutality of Islam
এক শিশুর অন্ধকার থেকে বেঁচে ফেরার গল্প, ইসলামের অমানবিকতার বলি ছিল যে শিশুটি
নেগেভ মরুভূমির এক সামরিক ঘাঁটিতে তখন মাঝরাত। ইসরাইলি কমান্ডারের টেবিলের ওপর ম্যাপ আর গোয়েন্দা ফাইলের স্তূপ। হঠাৎ একটি অতি গোপনীয় স্যাটেলাইট বার্তা এসে পৌঁছাল তার কম্পিউটারে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গাজার এক নির্জন, আলো-বাতাসহীন অন্ধকার মাটির নিচের টানেল সংলগ্ন ঘরে বন্দি আছে এক তরুণী – নাম তার ফাওজিয়া, ২১ বছর বয়সী ইয়াজিদি তরুণী ফাওজিয়া আমিন সিদো। ১১ বছর বয়স থেকে তার জীবন কেটেছে ইসলামের অন্ধকার যৌনতার লালসায়, ইসলামের দৃষ্টিতে সে ছিল নিছক এক যৌনতার মাংসপিন্ড।
বার্তাটি পাওয়া মাত্রই কমান্ডারের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। তিনি জানতেন, এই মেয়েটিকে উদ্ধার করা শুধু একটি সামরিক অ্যাসাইনমেন্ট নয়, এটি ইসলামের চাদরে আবৃত একটি চরম মানবিক বিপর্যয় থেকে একটি প্রাণকে ফিরিয়ে আনার লড়াই।
পরিকল্পনা ও যৌথ অভিযান
খবরটি পাওয়ার পর পরই তেল আবিব এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করা হলো। যেহেতু ফাওজিয়াকে উদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর সাথে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি জড়িত, তাই মার্কিন বিশেষ বাহিনী (US Special Forces) এবং ইসরাইলি কমান্ডোদের একটি যৌথ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। অপারেশনের দায়িত্ব নেয় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) ‘কমিউনিকেশনস ডিভিশন’ এবং এর সমন্বয় করেছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (USCENTCOM)।
পরিকল্পনাটি ছিল নিখুঁত। মার্কিন ড্রোনগুলো আকাশ থেকে গাজার সেই নির্দিষ্ট এলাকার ওপর নজরদারি বাড়াল, আর ইসরাইলি এলিট কমান্ডোরা ম্যাপ দেখে সুড়ঙ্গের ভেতরের পথ এবং শত্রুদের অবস্থান চিহ্নিত করল। রাতের অন্ধকারে, সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে শুরু হলো উদ্ধার অভিযান। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং মার্কিন দূতাবাস এটিকে একটি “গোপন এবং জটিল যৌথ আন্তর্জাতিক অভিযান” (Secret and Complex Joint Operation) হিসেবে উল্লেখ করেছে। যেহেতু এটি যুদ্ধ চলাকালীন (Swords of Iron বা তরবারি লোহার যুদ্ধ) অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং একাধিক দেশের (ইসরাইল, আমেরিকা, ইরাক ও জর্ডান) কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযানের সুনির্দিষ্ট কোড নেমটি গোপন রাখা হয়েছে।
অতীত স্মৃতির অন্ধকার পাতা
টানেলের সেই অন্ধকার ঘরে বসে ফাওজিয়া তখন কাঁপছিল। তার মনে পড়ে যাচ্ছিল আজ থেকে এক দশক আগের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র এগারো বছর। ইরাকের সিনজার প্রদেশে নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সাথে শান্তিতেই ঘুমাচ্ছিল সে।
হঠাৎ এক রাতে বাইরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভারী বুটের শব্দ শোনা গেল। ফাওজিয়ারা সবাই ভয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। একটু পরেই দরজায় প্রচণ্ড জোরে কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পড়ল তিনজন ভিনদেশী আইএস (আইএসআইএস) যোদ্ধা। তাদের মাথায় বাঁধা ছিল আরবি লেখা কালো পতাকা, চোখে মুখে ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারের ছাপ। চোখের পলকে তারা ফাওজিয়ার বাবা-ভাইদের আলাদা করে ফেলল এবং নারী ও শিশুদের বন্দি করল।
সেটি ছিল এক ভয়াবহ গণহত্যার শুরু। আইএস যোদ্ধারা ইয়াজিদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুরুষদের নির্বিচারে হত্যা করছিল, আর নারী ও শিশুদের বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিল। যেসব বৃদ্ধা নারী ও শিশু যৌনকর্মের অনুপোযুক্ত ও বাজারে বিক্রি হবে না তাদের জীবন্ত কবর দেয়া হচ্ছিল। ১১ বছরের কিশোরী ফাওজিয়া কারন খুঁজে পাচ্ছিলো না যে তারা কাউকে কোনদিন আক্রমন করেনি, কারো ক্ষতি করেনি, কিন্তু তাদেরকে আক্রমন করে কেন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সে ঐ বয়সে বুঝতে পারছিল না এটাই ইসলামী খিলাফতে বিধর্মীদের পরিনতি, যা ইসলামের নবী মুহাম্মদও করেছে অনেকবার!
আইএসের আদর্শিক ভিত্তি ও ভয়াবহ নির্যাতন
আইএস যখন ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের তথাকথিত ‘ইসলামী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়, তখন তারা এই দাস প্রথা ও নির্যাতনকে কোনো গোপন অপরাধ হিসেবে দেখেনি; বরং তারা একে তাদের মহান ইসলামের আদর্শের অংশ হিসেবে প্রচার করেছিল। সবই ছিল তাদের ভাষায় আল্লাহ ও রাসূলের জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অংশ।
আইএস যোদ্ধারা দাবি করত, তারা ইসলামের আদি ও খাঁটি রূপ প্রতিষ্ঠা করছে। তারা কোরআনের যুদ্ধবন্দি ও দাসী সম্পর্কিত কিছু আয়াতের (যেমনঃ ‘যাদের অধিকারী তোমাদের ডান হাত’ বা যুদ্ধলব্ধ দাসী সংক্রান্ত আয়াতসমূহ) এবং নবী মুহাম্মদের আমলের যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে তৎকালীন আরবীয় জিহাদের নৃশংসতার কিছু হাদিসের আক্ষরিক ও চরমপন্থী ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। তারা তাদের নিজস্ব প্রচারণাপত্র ‘দাবিক’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে লিখেছিল যে, অমুসলিম বা ইয়াজিদি নারীদের বন্দি করে যৌনদাসী (সাবায়া) বানানো ইসলামের শরীয়ত সম্মত বিধান এবং এটি খেলাফত পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ, নবী মুহাম্মদের আদর্শের বাস্তবায়ন।
এই চরমপন্থী ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই অন্য অনেক নারীর মতোই ফাওজিয়ার ওপরও শুরু হয় ধারাবাহিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ। মাত্র এগারো বছর বয়স থেকেই তাকে নিয়মিত চাবুক আর লাঠি দিয়ে পেটানো হতো। আইএসের বিভিন্ন স্তরের যোদ্ধারা তাকে নিজেদের মধ্যে পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করত এবং প্রতিদিন তাকে পাশবিক যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বাধা দিলে মিলত তপ্ত লোহার ছ্যাঁকা কিংবা বন্দি শিবিরের সবার সামনে নির্মম প্রহার। ফাওজিয়ার জন্য প্রতিটি রাত ছিল এক একটি জীবন্ত নরক, যেখানে মেয়েদের শরীরের দাম নির্ধারণ হতো হাটের পশুর মতো।
হাতবদল এবং গাজার অন্ধকার টানেল
ফাওজিয়ার শৈশব সেখানেই থমকে গিয়েছিল। তাকে প্রথমে সিরিয়া, এরপর ইসলামের জিহাদীদের মাধ্যমে মিশরের সিনাই উপত্যকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে গোপনে সুড়ঙ্গ পথে তাকে পাচার করা হয় গাজায়, যেখানে তাকে হস্তান্তর করা হয় এক হামাস যোদ্ধার কাছে।
গাজার মাটির নিচের অন্ধকার টানেলেও তার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আদর্শিক কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও, বন্দি নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা ছিল একই রকম। সবাই তো ইসলামেরই বিধান মেনে চলে! সেখানে তাকে গৃহস্থালির কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত যৌন দাসত্ব করতে বাধ্য করা হতো। সেখানেও তাকে বোঝানো হতো যে, একজন যুদ্ধবন্দি হিসেবে তার কোনো নিজস্ব অধিকার থাকতে পারে না। ফাওজিয়া অবাক হয়ে দেখত, আধুনিক পৃথিবীতে বসেও কিছু মানুষ প্রাচীন প্রথাকে পুঁজি করে কীভাবে দাস-দাসী প্রথাকে টিকিয়ে রেখেছে। ইসলাম, নবী মুহাম্মদ ও আল্লাহর উপর তার হয়তো আকাশসম ঘৃনা তৈরি হয়েছিল।
অবশেষে এসেছিল সেই মুক্তির রাত
হঠাৎ টানেলের ভেতরের নিস্তব্ধতা ভেঙে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ হলো। ফাওজিয়া ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সে ভেবেছিল হয়তো তার জীবনের শেষ মুহূর্ত চলে এসেছে। কিন্তু না, ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল অত্যাধুনিক নাইট-ভিশন গগলস পরা ইসরাইলি এবং মার্কিন কমান্ডোরা। তারা ছিল তার জীবনের উদ্ধারকারী ফেরেশতা বা ঈশ্বর !
“ভয় নেই, আমরা তোমাকে নিতে এসেছি,” ভাঙা ভাঙা ভাষায় একজন সৈনিক আশ্বস্ত করল তাকে। দ্রুততার সাথে ফাওজিয়াকে সেই অন্ধকার গর্ত থেকে বের করে নিয়ে আসা হলো অপেক্ষারত হেলিকপ্টারে। গাজার আকাশ ভেদ করে হেলিকপ্টারটি যখন ইসরাইলি সীমান্তের দিকে উড়ে যাচ্ছিল, ফাওজিয়া তখন জানালা দিয়ে বাইরের আলো দেখছিল – বহু বছর পর সে মুক্ত বাতাস বুকে টেনে নিল।
ফাওজিয়ার নতুন জীবন
ইসলামের নৃশংসতা, ইসলামের সৈনিকদের যৌন লালসা এবং সেই অন্ধকার সুড়ঙ্গ আর বন্দিদশা থেকে আজ ফাওজিয়া অনেক দূরে। বর্তমানে তার বয়স ২৩ বছর, ২১ বছর বয়সে উদ্ধার পায়, কিন্তু যখন তাকে আইএস যৌনদাসী বানিয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ১১, সেই থেকে ছিল অন্ধকারে, আমরা সেই শিশুটির উদ্ধার হিসাবেই এটাকে দেখতে চাই। এত বড় মানসিক ও শারীরিক ট্রমার পরও সে ভেঙে পড়েনি, ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে সে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। যারা যুদ্ধক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের ওপর হওয়া নির্যাতন এবং আধুনিক দাসত্বের শিকার, ফাওজিয়া এখন তাদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে কথা বলে। নিজের জীবনের গল্প শুনিয়ে সে পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয় – ধর্ম বা রাজনীতির নামে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার এই অন্ধকার খেলা বন্ধ হওয়া কতটা জরুরি। ফাওজিয়া এখন আর কোনো বন্দি কিশোরী নয়, সে এখন বেঁচে থাকার এবং লড়াইয়ের এক জীবন্ত প্রতীক।
ফাওজিয়ার ভিডিও
এই ভিডিওতে ফাওজিয়া নিজে (কণ্ঠ এবং মুখের একাংশ আড়াল রেখে সুরক্ষার স্বার্থে) গাজায় কাটানো তার বন্দিজীবনের ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে চরম মানসিক যন্ত্রণায় তিনি ২১ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। https://youtu.be/s1rVk5TKAO8
ইউটিউবে গার্ডিয়ান, স্কাই নিউজসহ অন্য অনেক চ্যানেলে তার পরিবারের সঙ্গে তার মিলনের দৃশ্যগুলো দেখতে পাবেন। https://youtu.be/pTVpiXBDCYA
এইএস ৬৪০০+ নারী ও শিশুকে যৌনদাসী বানিয়ে দিনের পর দিন না খেতে দিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে গেছে। যখনই টাকার দরকার হয়েছে তাদের বাজারে তুলে বিক্রি করে দিয়েছে। কিনেছিল কারা? মাথা খাটান, কারা কিনতে পারে ঐ এলাকায় – মাথা দিয়ে বের করুন। কমন সেন্স থাকলে তাদের দেখা পাবেন আপনার আশেপাশে, হয়তো আপনারই কোন বন্ধু বেশে।
Related Posts

Government Employees’ Salaries Are Rising by 100% to 142%: Will Corruption Decrease? How Can the Inhumane Living Conditions of Private-Sector Workers End?
When I was at university, I dreamed of getting a job with a salary ofRead More

সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে ১০০-১৪২% পর্যন্ত, দুর্নীতি কমবে? বেসরকারীদের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান কীভাবে হবে?
আমি ইউনিভার্সিটিতে থাকতে স্বপ্ন দেখতাম পাশ দিয়ে ১০০০০ টাকা বেতনের জব নিবো। তখন সবার কাছেRead More

Why is the rate of rape low in Islamic Sharia‑ruled countries? Is it real?
Because of my writing and as an outspoken activist against sexual violence against women, IRead More

Comments are Closed